1 / 7
2 / 7
3 / 7
4 / 7
5 / 7
6 / 7
7 / 7

Saturday, October 10, 2026

দুর্গা পূজায় আমার গ্রাম ঘুরে আসার কথা

 ছবি :কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা(Artificial Intelligence)

দুর্গা পূজায় আমার গ্রাম ঘুরে আসার কথা

অশোক বন্দ্যোপাধ্যায়

গতকাল সন্ধ্যায় ঘুরে এলাম আমার গ্রাম সানাবাঁধে। এই গ্রামের মা দুর্গার শুধু মুখের বা মুয়া পূজার প্রাচীনত্ব সুবিদিত। এই আদি দুর্গা মন্দির আমার পৈতৃক বাড়ির ঠিক সামনেই। এছাড়া এবারের পূজার বিশেষ আকর্ষণ হলো সানাবাঁধের মিলনী চন্ডী মন্ডপের সার্বজনীন দূর্গা পূজার এবছর ৭৫ তম বার্ষিকী অর্থাৎ প্লাটিনাম জুবিলী। গর্বের বিষয় হলো যে এই পূজার সিলভার জুবিলীর সময় আমি ছোট হলেও নানা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম।

          ঘটনা হচ্ছে গত ১৯৭৬ সালেই সম্ভবতঃ, বলতে গেলে আমাদের হাত দিয়েই এবং সানাবাঁধ মডার্ন ক্লাবের মলয়দা, দিলীপদার তত্বাবধানে "বৈশাখী" নামের একটি দেওয়াল পত্রিকার প্রচলন হয়। তৎকালীন সম্পাদক দিলীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বারংবার তাগাদায় ও প্রেরণায় প্রায় দেড় দশক এই পত্রিকায় আমার লেখা প্রকাশ পেয়েছে। পরে যখন এই দেওয়াল পত্রিকাটি একটি পুর্নাঙ্গ ও মূদ্রিত পত্রিকায় উন্নত হয় তখনও মাঝে মাঝেই আমার লেখা প্রকাশিত হয়েছে।

        সেই মলয়দা ওরফে শ্রদ্ধেয় মলয় মুখার্জীর সঙ্গে মেলায় দেখা হতে কিছুক্ষণ গল্প করলাম একসাথে বসে। মলয়দা কেশরায় যে বি.এড. কলেজ আছে তার প্রাক্তন অধ্যক্ষ এবং এক সংস্কৃতিবান ও শিক্ষানুরাগী মানুষ।ফটো তোলার জন্য গ্রামের ছেলে কিশোর ও সন্দীপ কে ডেকে নিলাম। আমার ছোট বেলায় মলয়দা ছিল আমাদের আইকন বিশেষ। মলয়দার কথায় আমরা মডার্ন ক্লাবের পরিচালনায় এক সময় প্রতি রবিবার রাস্তা পরিষ্কার করতে গ্রামের পথে নেমেছি। ক্লাবের জমিতে গাছ লাগিয়েছি। সরস্বতী পূজা বা দুর্গা পূজার সময় আবৃত্তি, বিতর্ক বা তাৎক্ষণিক বক্তৃতা প্রতিযোগিতার যোগ দিয়ে পুরস্কৃত হয়েছি। অসাধারণ যাত্রা করতো মলয়দা, সমীরদার মতো সিনিয়র দাদারা। আর হতো গুল প্রতিযোগিতা মানে যেভাবে হোক দর্শক শ্রোতাদের হাসানোর চেষ্টা। এবং ঐ প্রতিযোগিতায় সমীরদার মতো কিছু মানুষের তুলনা ছিল না। আর বিখ্যাত ছিল হাসি মজার গান গেয়ে অজয়দার বিশেষ ধরনের নাচ সরস্বতী পূজার ভাসান কালে।আমি তো খুব মন দিয়ে মা দুর্গার সন্ধ্যা আরতি দেখলাম।  সুন্দর ঢাক বাজানো শুনলাম। আমার দেখাদেখি আরতি দেখতে অনেক দর্শনার্থীর ভীড় হয়ে গেল বিশেষ করে মেয়েদের।

        দেখা হলো অনেক পুরানো বন্ধু বান্ধবদের বা ভাইদের সঙ্গে। আমাকে ঐ একটুক্ষণ পেয়েও সবাই খুব খুশি। এই জন্যই বলে, গাঁয়ে ঘরে সমান। তবে কমবয়সী ছেলে মেয়েরা চট করে চিনতে পারে না। এই যেমন দাঁড়িয়ে গল্প করছি সুদর্শন এবং এখনো যুবক গৌতমদার সঙ্গে। দেখি যে সামনে তার বরের পাশে চেয়ারে বসা এক মিষ্টি যুবতী কন্যা আমাদের দিকে তাকিয়ে। অবাক হলাম জেনে যে সে এই গৌতমদারই মেয়ে এবং এম এস সি পাস করে বিয়ে হয়েছে। গতকাল ছিল এক বিশাল ক্যুইজ প্রতিযোগিতা দিদি নং ওয়ানের মতো শুধুই গ্রামের মেয়ে বৌমাদের নিয়ে। যতক্ষণ ছিলাম সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়ে যাচ্ছিলাম গৌতমদাকে, প্রদীপদাকে।

         সপ্তমীর বা বিজয়ার শোভাযাত্রায় আমি তরুণ বা যুবক বয়সে রাস্তায় নেমে গানের তালে অল্প অল্প নেচে হাততালি দিয়ে হেঁটেছি কতবার। এবার প্লাটিনাম জুবিলী উপলক্ষে অনেক রকম আকর্ষণনীয় অনুষ্ঠান হচ্ছে। আমার ভাইয়ের এক বন্ধু বললো যাত্রা দেখতে আসতে। তখন ওকে বললে ঘর থেকে চেয়ার এনে দেবে যাত্রা দেখতে। সত্যিই নিজের গ্রাম একান্তই নিজের।

শৈশবের দেখা শারদীয়া উৎসব

সমগ্র বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব হলো দুর্গা পূজা। আর সেই পূজাকে ঘিরে সারা বাংলা জুড়ে যে সাজো সাজো রব, যে হৃদয় উন্মাদনা -- তার কোন তুলনা নেই।

       ছোট বেলা থেকেই পূজা আসছে, পূজা আসছে করতে করতেই কখন যেন গুটি গুটি পায়ে ঘাড়ে এসে পড়তো পূজা। আমাদের কচি নরম মনে আনন্দের জোয়ার বয়ে যেতো। বিশেষ করে মহালয়ার ভোরে ঘুম জড়ানো চোখে রেডিওতে বীরেন্দ্র কৃষ্ণ ভদ্রের জলদমন্দ্র স্বরে মহীষাসুরমর্দিনীর স্তোত্র পাঠ ও সহ সঙ্গীৎ শিল্পীদের সুললিত কণ্ঠের আগমনী গান ও  মাতৃ বন্দনার ভক্তিগীতি শুনে শিশু মন তোলপাড় হয়ে যেতো। সেদিন থেকেই আমাদের দুর্গা পূজার বিশেষ আনন্দ উপভোগ শুরু হয়ে যেতো।

        ইতিমধ্যে পূজার ছুটি পড়তো ইস্কুলে। পড়াশোনা ফেলে দুর্গা মন্দিরে গিয়ে দেখে আসতাম সাবেকি একচালার প্রতিমা গড়া এবং রং লাগানোর কাজ। সব শেষে মূর্তি গুলিকে পোশাক ও অলঙ্কারে সাজানো হয়ে গেলে ঐ জীবন্ত প্রতিমায় চোখ রেখে চমকে উঠতাম।

 


No comments:

Post a Comment