1 / 7
2 / 7
3 / 7
4 / 7
5 / 7
6 / 7
7 / 7

Saturday, October 10, 2026

সম্পাদকীয়

  

তরুণ চক্রবর্তী
সম্পাদক
বইসই কেন?
এই প্রশ্নটা আমাদের নিজেদেরই মাঝে মাঝে করতে হয়।
আর সত্যি বলতে কী, এর খুব গোছানো উত্তর আমাদের কাছে নেই।
আরও একটা ওয়েবজিন কেন? আট বছর আগে এই প্রশ্নটা আমাদের মধ‍্যেও ছিল।আরও লেখা, আরও ছবি, আরও মতামত—ইন্টারনেটে যার অভাব নেই। দুটো ক্লিক করলেই পৃথিবীর যে-কোনও প্রান্ত থেকে অসংখ্য মানুষ আপনাকে বলে দিচ্ছে কী ভাববেন, কী পড়বেন, কী দেখবেন, কী নিয়ে উত্তেজিত হবেন।
তার মাঝখানে বইসই এসে কী করবে?
সম্ভবত খুব বড় কিছু নয়।
একটু তাকাবে।
এই শহরটার দিকে। এই সময়টার দিকে। আমাদের চারপাশের মানুষগুলোর দিকে। আর মাঝে মাঝে নিজের দিকেও।
আমরা যে সময়ে বাস করছি, সেখানে সবকিছুই যেন খুব তাড়াতাড়ি ঘটে। খবর পুরোনো হয়ে যায় কয়েক ঘণ্টায়। নতুন গান আসার আগেই নতুন গান নিয়ে মতামত তৈরি হয়ে যায়। একটা বই পড়ার আগেই তার রিভিউ পড়ে ফেলি। সিনেমা দেখার আগেই জানি সেটা ভালো না খারাপ। এমনকি কোনও মানুষের কথা শোনার আগেই অনেক সময় তার সম্পর্কে আমাদের ধারণা তৈরি হয়ে যায়।
বইসই সেই তাড়াহুড়োর সঙ্গে একটু বোঝাপড়া করতে চায়।
 
কিছু জিনিসকে সময় দিতে চায়।
একজন লেখককে তাঁর কথা শেষ করতে দিতে চায়। একটি ছবির সামনে একটু বেশি সময় দাঁড়াতে চায়। কোনও শহরের গল্পকে শুধু তার বিখ্যাত জায়গাগুলো দিয়ে নয়, তার গলি, দোকান, বাসস্ট্যান্ড, বাড়ির ছাদ আর মানুষের স্মৃতি দিয়ে গড়তে চায়।
আমাদের কাছে ‘সংস্কৃতি’ শব্দটাও তাই একটু জটিল।
সংস্কৃতি কি শুধু বইমেলা, নাট্যমঞ্চ, প্রদর্শনী আর পুরস্কার?
নাকি রবিবারের দুপুরে বাড়িতে বাজতে থাকা গানটাও তার অংশ? পাড়ার চায়ের দোকানের তর্ক? ঠাকুমার মুখে শোনা একই গল্পের অগণিত পঠন?কলেজ ফেরত দুজনের অকারণ হাঁটাহাঁটি? পুরোনো বাড়ি ভেঙে নতুন বাড়ি ওঠার সময় পাশের বাড়ির জানলা দিয়ে তাকিয়ে থাকা মানুষটিও?
আমরা পরের অংশের বর্ণিত ইশারাগুলোর গল্প শুনতে আগ্রহী।
কারণ বড় ইতিহাসের একটা মুশকিল আছে—সে অনেক সময় ছোট মানুষকে বাদ দিয়ে লেখা হয়।
আর আমরা ছোট মানুষদের বাদ দিতে চাই না।
বইসই-তে তাই সাহিত্য থাকবে, কিন্তু শুধু শুষ্ক সাহিত্য  নয়। সিনেমা থাকবে, কিন্তু শুধু সিনেমার আলোছায়া  নয়। শহর থাকবে, কিন্তু শুধু শহরের মানচিত্র নয়। বরং তাতে ব্যক্তিগত স্মৃতি থাকবে, কারণ ব্যক্তিগত বলেই তা তুচ্ছ নয়। সমাজ থাকবে, কারণ আমরা কেউই সমাজের বাইরে বসে জীবন কাটাই না , আর সমাজ ছাড়া সাহিত্য হয় না।রাজনীতি থাকবে, কারণ কোন মানুষ অরাজনৈতিক নয়।
আমরা খুব ‘নিরপেক্ষ’ হওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিতে চাই না।
কারণ মানুষ নিরপেক্ষ যন্ত্র নয়। প্রত্যেকের দেখার একটা নিজস্ব জায়গা আছে। বরং আমরা চাই, সেই জায়গাটা পরিষ্কার থাকুক। মত থাকুক, কিন্তু কৌতূহলও থাকুক। দ্বিমত থাকুক, কিন্তু অন্যের কথা শোনার ইচ্ছেটা যেন না মরে।
শেষ পর্যন্ত বইসই-কে আমরা কোনও ‘প্ল্যাটফর্ম’ বলতে চাই না।
শব্দটা খুব অফিস-অফিস লাগে।
বরং এটাকে একটা ঘর ভাবা যাক।
যেখানে দরজা খোলা। কেউ বই নিয়ে ঢুকছে, কেউ একটা পুরোনো ছবি নিয়ে, কেউ তর্ক করতে, কেউ গল্প বলতে। কেউ হয়তো চুপ করে বসেও থাকবে।
চা থাকলে ভালো।
না থাকলেও ক্ষতি নেই।
আপনিও আসুন।
আপনার পড়া কোনও বইয়ের কথা বলতে পারেন। আপনার তোলা কোনও ছবি দেখাতে পারেন। আপনার শহরের এমন কোনও গল্প বলতে পারেন, যেটা খুব বেশি মানুষ জানে না। আমাদের কোনও লেখার সঙ্গে একমত না হলে সেটাও বলুন। বরং সেটাই বলুন—কেন একমত নন।
কারণ বইসই শুধু আমাদের কথা বলার জায়গা নয়।
এটা আপনারও ঘর।
ভালো থাকুন,
সমগ্র পাঠক,লেখক ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই শারদ শুভেচ্ছা ।
ধন্যবাদ
সম্পাদক
বইসই


চিরঞ্জিত ঘোষ
প্রধান কার্যনির্বাহী সম্পাদক 

ধ্বংসের পৃথিবীতে শান্তির আবাহন

শরতের নীল আকাশ, কাশফুলের দোলা, শিউলির সুবাস আর ঢাকের শব্দে বাংলার আকাশ-বাতাস যখন মুখরিত, তখনও পৃথিবীর নানা প্রান্তে জ্বলছে যুদ্ধের আগুন। একদিকে মায়ের আগমনী, অন্যদিকে ধ্বংস, হিংসা ও মানবিক বিপর্যয়,এই বৈপরীত্যই আজকের পৃথিবীর নির্মম বাস্তবতা।

বইসই পূজা সংখ্যা ১৪৩৩-এর প্রচ্ছদে সেই দ্বন্দ্বই প্রতীকীভাবে তুলে ধরা হয়েছে। একদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত পৃথিবী, অন্যদিকে দেবী দুর্গার আবাহন, উৎসব ও সম্প্রীতির আলো। মাঝখানে দেবীর মুখ যেন আমাদের মনে করিয়ে দেয় ,শক্তির প্রকৃত পরিচয় ধ্বংসে নয়, সৃষ্টিতে; বিজয়ের প্রকৃত অর্থ প্রতিহিংসায় নয়, শুভবোধের প্রতিষ্ঠায়। প্রচ্ছদের সাদা পায়রাটি তাই শান্তি ও মানবতার এক চিরন্তন বার্তা বহন করে।

সাহিত্য মানুষের বিবেককে জাগিয়ে তোলে, সময়কে প্রশ্ন করে এবং নতুন ভাবনার পথ দেখায়। সেই বিশ্বাসকে সঙ্গী করেই ‘বইসই’-এর পথচলা। এই বিশেষ সংখ্যায় কবিতা, গল্প, প্রবন্ধ, স্মৃতিকথা ও সাহিত্যের নানা শাখার সৃষ্টির মধ্য দিয়ে আমরা বাংলার সংস্কৃতি ও সমকালীন পৃথিবীকে পাঠকের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।

এই সংখ্যাকে সমৃদ্ধ করেছেন যাঁরা, সেই সকল লেখক-লেখিকা এবং আমাদের পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের জানাই আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আপনাদের ভালোবাসা ও সহযোগিতাই আমাদের এগিয়ে চলার প্রেরণা।

আসুন, এই শারদোৎসবে আমাদের প্রার্থনা হোক,যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তি, বিদ্বেষের পরিবর্তে ভালোবাসা এবং বিভেদের পরিবর্তে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠিত হোক। সাহিত্যের আলোয় আলোকিত হোক মানুষের মন।

সকলকে জানাই শারদীয় শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা।

শুভ মহালয়া। শুভ শারদোৎসব।

চিরঞ্জিত ঘোষ

প্রধান কার্যনির্বাহী সম্পাদক

বইসই

www.boisoi.com

ISSN: 2582-3477









কবিতা

ছড়া
গল্প
অণুগল্প
উপন্যাস
ছোটগল্প 
বড়গল্প
রম্যরচনা
স্মৃতিকথা 
ভ্রমণ
নাটক
প্রবন্ধ
কিশলয়
আমার বাগান
আমার অ্যাকোরিয়াম


No comments:

Post a Comment