![]() |
| ছবি :কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা(Artificial Intelligence) |
ত্রয়ী
ভবরঞ্জন বিশ্বাস
এক
চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে অমিতাভ জিজ্ঞেস করল, সিক্তা, তোমার মুখ শুকনো লাগছে কেন?
সিক্তা চায়ের কাপে চুমুক দিতে যাচ্ছিল, একটু থামল। কি ভেবে যেন চায়ের কাপে চুমুক দিল, ও কিছু না।
আমাকে বলতে পারো। এনি প্রোবলেম?
প্রোবলেম! প্রোবলেম কিছু নেই।
তুমি কিছু গোপন করে যাচ্ছ। দেখো আমরা পাশাপাশি ফ্ল্যাটে বাস করছি। একে অপরের পাশে দাঁড়ানো উচিত। অমিতাভ চায়ের কাপ বিছানার উপর রেখে সিগারেট ধরাল, কিছুদিন ধরে দেখছি তোমার মুখে হাসি নেই। কি ব্যাপার?
আংকেল ও কিছু নয়।
কিছু তো আছেই। সমর কোথাও ফেঁসেছে নাকি?
সিক্তা চমকে উঠল। অমিতাভর চোখ এড়ালো না। সিগারেটে টান দিয়ে অপেক্ষায় রইল। সিক্তা শেষে থাকতে না পেরে বলল, বুঝতে পারছি না। অপর আর আগের মত আমাকে ভালবাসে না। কাছে টানে না।
ও এই কথা। হয়তো কর্মক্ষেত্রে ভীষণ চাপে আছে।
না। আংকেল। ও সারারাত হোয়াটস অ্যাপে চ্যাট করে।
বলো কি?
বিছানা আলাদা করে নিয়েছে। পাশের ঘরে শোয়। ওর হোয়াটস অ্যাপ অনেক রাত পর্যন্ত অন থাকে। সিক্তা বলতে বলতে ফুঁপিয়ে উঠল,দরজা বন্ধ থাকে।
এ ব্যাপারে তুমি ওকে কিছু জিজ্ঞেস করেছ?
না। সিক্তা কেঁদে ফেলল। অমিতাভ বিড়ম্বনায় পড়ল। সন্ধে ছ'টা বাজে। দরজা লক করা নেই। তেরোর কুন্তলা আজ নেই। মেয়ের বাড়ি গেছে। এই পনেরো তলায় অন্য কোনো ফ্ল্যাটে এখনো লোক ঢোকেনি। তবু মন খচখচ করে উঠল। সিক্তাকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে কি হবে কে জানে? ভাবতে ভাবতে সিক্তার দিকে তাকাল। কেঁদেই চলেছে।
কেঁদো না। ওকে জিজ্ঞাসা করো। অমিতাভ এক ফাঁকে উঠে দরজা লক করল। সিক্তার পাশে বসে মাথায় হাত রাখল। সিক্তা ডুকরে কেঁদে উঠে অমিতাভকে জড়িয়ে ধরল, আমি আর সহ্য করতে পারছি না আংকেল।
সিক্তার উঁচু বুক অমিতাভর বুকে ডেবে বসল। ওর স্তন বৃত্ত ধীরে ধীরে শক্ত হয়ে খোঁচা মারল। দাঁতে দাঁত চেপে অমিতাভ ডানহাত পিঠে রেখে বুলোতে বুলোতে বলল, সব ঠিক হয়ে যাবে।
অমিতাভ সান্ত্বনা দিতে দিতে টের পেল নিজের মধ্যে ভাঙ্গচুড় হচ্ছে। বয়স পঞ্চাশ। আর্মিতে ছিল। বিয়ে থা করেনি। কখন জঙ্গি আক্রমণে মরে যাবে সেই ভেবে বিয়ে করেনি। একজন বিধবা হোক চায়নি। তাই বলে নারী শরীরের স্বাদ পায়নি তা নয়। ছুটি ছাটায় এলে ছোটভাই তপনের বৌ অদ্রিজা বিমুখ করত না। এটা তপনের ফ্ল্যাট। ওরা এখন দিল্লিবাসী। ওর জন্যই তপন এয়ার ফোর্সে চাকরি পেল। কুন্তলা নার্স। দিব্যি আছে দু'জনে। আর্মি থেকে অবসর নেবার পর ভাঙড়ে এক পঞ্চায়েতে সেক্রেটারি পদে যোগ দিল। বারাসাত থেকে যাতায়াত সম্ভব নয় বলে নিউটাউনের এই আবাসনে উঠেছে। চোদ্দ নম্বর ফ্ল্যাট। আগে থেকেই সমর রা থাকত। নিঃসন্তান দম্পত্তি। দু'জনে স্কুলে পড়ায়। পরিচয় হল। সমরের হাই সুগার। একটা অ্যাক্সিডেন্টের পর রড বসানো। তাই কুন্তলা ঝুকতে দেরি হয়নি। আজও চলছে। সমর জানে। বেশ চলছে। হঠাৎ সিক্তারা এল। ওদের সঙ্গে ভাব হয়ে গেল। অঞ্জন আই টি সেক্টরে। সিক্তা অধ্যাপনায়। দু'জনের বয়স আঠাশ। অপূর্ব সুন্দরী। পাতলা চেহারা। পাঁচ দশ হবে। ডিম্বালো মুখ, টিকালো নাক, পটল চেরা চোখ। মাস খানেক হল ওরা এসেছে। দু'জনেই আংকেল বলে ডাকে। আজ সিক্তা বুকের মাঝে। দু'হাতে পিঠ আঁকড়ে ধরেছে। অমিতাভ ওকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে চোখের জল মুছে বলল, একদম কাঁদবে না। আমি তো আছি।
দুই
রিমি ভিডিওকল করতে কুন্তলা ধরল,বল।
কেমন আছ মাসি?
ভাল। তোরা কেমন আছিস?
আমরাও ভাল আছি। তোমার জামাই একটা প্রোজেক্ট নিয়ে বেঙ্গালুরু গেছে।
তোতন?
নিচে ক্রিকেট খেলছে।
আয় একবার।
পুজোয় যাব। মাসি তুমি খুব সুন্দর হয়েছ। কি ব্যাপার!
যাঃ। পঁয়তাল্লিশেই বুড়িয়ে গেছি। তোর মেসোকে নিয়ে যা টেনশনে আছি। সুগার আর কমছে না। কমবে কি করে। লুকিয়ে লুকিয়ে মিষ্টি খায়।
মেসো কোথায়?
কোথায় আবার অফিসে।
তোমার তো ছুটি। তুমি একবার এসো না।
তোর মেসোকে একা ফেলে কি করে যাই বল? কুন্তলা বলল, মাসে মাসে ওকে চেক আপে নিয়ে যেতে হয়। ওষুধ না খেলে প্রায়ই কোমরে যন্ত্রণা হয়।
মেসোকে একবার এখানে নিয়ে এসো।
বলে দেখব। বলেই কুন্তলা জিজ্ঞেস করল, জামাই কবে ফিরবে?
তিনদিন পর।
সাবধানে থাকিস।
আমাদের এই কোম্পানীর কোয়ার্টারে সিকুরিটি খুব কড়া।
তবু…
তুমি আমদের নিয়ে চিন্তা করো না। তোমরা সাবধানে থাকবে। কলকাতায় প্রায়ই ফ্ল্যাটে খুন হয়। আইহোল দেখে নিয়ে দরজা খুলবে।
আমাদের চোদ্দতলায় ভয় নেই। আমরা একা থাকিনা। পনেরো তলায় তোর অমিতাভ আংকেল আছে। ও আমাদের যথেষ্ট সাহায্য করে। আর্মিতে ছিল। খুব পরোপকারী।
ভাল হলেই ভাল। রিমি হঠাৎ বলল ,মাসি তোমার জামাই ফোন করেছে। ছাড়ি এখন।
কুন্তলা কিছু বলতে যাবে তখনি ডোর বেল বেজে উঠল। রিমি মোবাইল অফ করে দিয়েছে। বলা হল না। কুন্তলা মোবাইল অফ করে আইহোলে চোখ রাখল। অমিতাভ দাঁড়িয়ে। দরজা খুলে বলল, এসো।
ব্যস্ত নাকি?
না না। বলো। কুন্তলা বলল, তোমার দাদাকে খাইয়ে দাইয়ে পাঠিয়ে বোনঝির সঙ্গে বকবক করছিলাম।
অমিতাভ খাটে উঠে চিৎ হল, তোমার স্কুলে ছুটি দিল। কি করে সময় কাটবে?
ও একভাবে কেটে যাবে। এই আমাকে কি খুব সুন্দর লাগছে?
তুমি তো সুন্দরীই।
রিমি বলল। কুন্তলা বলল, ও জানে সমরের অ্যাক্সিডেন্টের পর আমাদের মধ্যে দৈহিক মিলন হয় না। তখন শরীর খারাপ হয়ে গেছিল। পরেরটা জানে না।
পরের ঘটনা বড় লজ্জার। সমযর কুন্তলাকে নিয়ে এক গাইনিকোলোজিস্টের কাছে গেল। সব খুলে বলতে বলল, মিসেসের এখন নিয়মিত যৌন সংগম করা দরকার। তাতে এক ধরনের হরমোন ক্ষরণ হবে। তা হয় না বলেই ওনার শারীরিক অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন।
দু'জনে চিন্তিত হয়ে ফিরে এল। সমর বলল, কাকে ডাকি?
কি বলছ! এ হয় না।
হওয়াতে হবে। নইলে তুমি অসুস্থ হয়ে পড়বে।
অসুস্থ হলে আমাকে দেখবে কে?
কুন্তলা আর না করেনি। সমরের হঠাৎ নজর পড়ল অমিতাভর পর। ওকে ব্যাপারটা বুঝিয়ে রাজি করিয়েছে। সেই থেকে ছয়মাস ধরে চলছে। সমরের সামনেই ওরা মিলিত হয়। প্রথম প্রথম দু’জনেই খুব আড়ষ্ঠ হয়ে থাকত। এখন ওর সামনে দুজনেই সাবলীল ভাবে মিলিত হয়। সমরও ওদের মিলন দেখে উত্তেজিত হয়। একটা তির তিরে আনন্দ সারা মুখে ছড়িয়ে পড়ে।
চা।
অমিতাভর ঘোর ভাঙ্গল। চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে কুন্তলের দিকে তাকাল।
কি দেখছ?
রিমি ঠিকই বলেছে।
যাঃ পঞ্চাশ হতে চলল।
তোমাকে তিরিশ বলে চালানো যায়।
কুন্তলা লজ্জায় রাঙা হয়ে দরজা বন্ধ করে অমিতাভর পাশে বসল।
তিন
অঞ্জন ফোন করল, কেমন আছ?
ভাল। তুমি কবে ফিরবে অঞ্জন?
ও প্রান্তে অঞ্জন একটু চুপ। সিক্তা আবার জিজ্ঞেস করল, তুমি কবে ফিরবে অঞ্জন?
আমি আর ফিরছি না।
মানে।
এখানে বেটার অফার পেয়েছি। কলকাতার চাকরিটায় রিজাইন দিয়েছি।
অঞ্জন এক সপ্তাহ হল গেছে। এর মধ্যে এত কিছু করে ফেলেছে। সিক্তা ভাবল পূর্ব পরিকল্পিত ভাবেই অঞ্জন বেঙ্গালুরু গেছে। সঙ্গে নিশ্চয়ই ওর সেই সহকর্মিণী দিয়াকে নিয়ে গেছে। এমন করল কেন? সেটা জিজ্ঞেস করল, আমি কলকাতা ছেড়ে যেতে পারব না। তুমি দূরে চলে গেলে? এভাবে সংসার করা যায়?
ঠিক বলেছ সিক্তা। আমি আর ফিরব না। তুমি চাইলে ডিভোর্স নিতে পারো। অঞ্জন বলল, ফ্ল্যাট তোমার নামেই কেনা। আমি তোমাকে পনেরো লাখ দেব ক্ষতিপূরণ হিসেবে। মাসে মাসে দিতে পারব না। তুমি আবার নতুন করে জীবন শুরু করবে।
কি বলছ?
তোমাকে মিথ্যে বলব না। দিয়া আছে। হঠাৎ ও প্রেগনেন্ট হয়ে পড়ল। অঞ্জন বলল, ফেঁসে গেলাম।
সিক্তা চুপ করে রইল।
টাকাটা আমি তোমার অ্যাকাউন্টে আজকালের মধ্যে ঢুকিয়ে দিচ্ছি। ডিভোর্স পেপারে সই করে দিও।
ভয় নেই। দেব। সিক্তা দাঁত দিয়ে নিচের ঠোঁট চেপে একটা উদ্গত কান্না চাপার চেষ্টা করল। কেঁদে নিজেকে খেলো করতে চায় না। লোক হাসাতে চায় না। অঞ্জন ডিভোর্স চাইছে সে দেবে। কোনোরকম বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।
কি হল চুপ করে আছ যে?
সিক্তার ভাবনায় ছেদ পড়ল। বলল,কি বলব? কি বলার আছে।
তা ঠিক। শোনো ডিভোর্সের পর পর বিয়ে করে নেবে। তাহলে সম্পর্ক ছেদের যন্ত্রণাটা তাড়াতাড়ি ভুলতে পারবে।
উপদেশ দেবার জন্য ধন্যবাদ।
আমার খুব খারাপ লাগছে। অঞ্জন অনুশোচনা করল, প্রথম ছয়মাস আমরা পরস্পরকে বেশ উপভোগ করেছি। কিন্তু...।
কিন্তু কি?
দিয়াকে দেখার পর তোমার প্রতি কেমন যেন আকর্ষণ হারিয়ে ফেললাম। তোমাকে স্পর্শ করতে ইচ্ছে হত না। তুমি মাঝে মাঝে জোর করতে…
থাক ওসব কথা।
তোমার কোনো দোষ নেই। সব দোষ আমার।
সিক্তা হেসে উঠল।
হাসছ যে?
তোমার দরাজ সার্টিফিকেট পেয়ে হাসি পেল। সিক্তা ও প্রান্ত থেকে চকাম করে একটা শব্দ পেল। বলল, তোমরা এক সঙ্গেই থাকছ?
ওর তিন মাস।
ও। বেস্ট অফ লাক। ছাড়ি। বলেই সিক্তা মোবাইল অফ করে ছুড়ে ফেলল বিছানায়। তারপর গড়িয়ে পড়ে হাউ হাউ করে কাঁদতে লাগল।
অমিতাভ দরজা ঠেলে ঢুকল। সিক্তাকে কাঁদতে দেখে হতভম্ব হয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে দরজা বন্ধ করে খাটে উঠল। ওর মাথাটা কোলে তুলে জিজ্ঞেস করল, কি হয়েছে সিক্তা?
সিক্তা কাঁদতে কাঁদতে বলল, অঞ্জন এখানকার চাকরি ছেড়ে বেঙ্গালুরুতে চাকরি নিয়েছে।
স্কাউন্ডেল।
আংকেল। আমার এমন কেন হল?
তোমাদের বিয়েটাই ভুল ছিল। বিয়েতে পাঁচ দশ বছরের পার্থক্য থাকা উচিত। একটু বেশি হলেও ক্ষতি নেই। অমিতাভ বলল, শরীরের রসায়ন ভাল কাজ করে। বলতে বলতে সিক্তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিল।
আংকেল আমার কি হবে?
তুমি বেঁচে গেছ। আমি তো আছি। অমিতাভ বলল, তোমাকে ভেঙ্গে পড়তে দেব না। আমি তোমার মন থেকে অঞ্জনের সব স্মৃতি মুছে দেব। বলেই পাশাপাশি শুয়ে জড়িয়ে ধরে চুম্বন করল। সিক্তার দিক থেকে কোনো বাঁধা এল না। তারপর দুধ সাদা বিছানায় পরস্পর পরস্পরের শরীরে ডুব দিল। সিক্তা বারে বারে ভিজল। একটা নতুনের স্বাদ পেয়ে অমিতাভর পিঠ আঁকড়ে ধরল।
চার
হাসপাতালের বেডে বসে অদ্রিজা ছেলের মুখে স্তনের বোঁটা পুরে দিয়ে তাকাল তপনের দিকে। শিশু প্রথম দুই ঠোঁট এক করল। অদ্রিজা একটা শিহরণ খেল। দাঁতে দাঁত চেপে চোখ বুজল।
কি হল?
অদ্রিজা চোখ মেলল। একটু হাসল, কিছু না।
তপন চুপ করে গেল।
অদ্রিজা ছেলেকে দোলনায় শুইয়ে বলল, মেজদাকে খবরটা দিও।
আমার লজ্জা করছে। তুমি জানিয়ে দিও।
করার সময় লজ্জা কোথায় ছিল? যত্তসব। বেশ খবরটা জানিয়ে দেব।
তোমাদের বাড়িতে জানাবে। তোমার বড় বৌদিকে খবর দিলেই হবে। আমার মনেই ছিল না।
তোমার কি মনে থাকে?
তপন গায়ে মাখল না। বলল, ছেলে কার মত হয়েছে গো?
চোখ দুটো তোমার। নাক পেয়েছে তোমার বড়দার। আর…..
আর কী?
নাক মুখ থুতনি তোমার মেজদার।
আমার শুধু চোখ। ছেলের গায়ের রঙ কালো। আমি ফরসা। মেজদাও কালো।
অদ্রিজা চমকে উঠল। মনে মনে ভাবল কোনোরকম সন্দেহ করল নাকি? একটু হেসে বলল, আমিও কালো। ছেলে কি করে ফরসা হবে?
তা ঠিক। এই আমি এখন যাই। তপন হঠাৎ বলে উঠল, কাল সকালে আসব।
সাবধানে যেও।
কেবিনের দরজা টেনে তপন চলে গেল। এটা দিল্লির আর্মি হাসপাতাল। এখানেই অদ্রিজা চাকরি করে। দিল্লির মেয়ে। চিত্তরঞ্জন পার্কে বাপের বাড়ি। দিল্লির এক নার্সিং ট্রেনিং স্কুল থেকে নার্সিং করে আর্মি হাসপাতালে চাকরি পেল। দু'বছর পর তপন এল। পরিচয় হল। সেটা ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতায় পরিণত হল। দিল্লিতেই বিয়ে হল। ওদের সংসার গুছিয়ে দিতে অমিতাভ রয়ে গেল। দু'জনের মধ্যে বেশ মিলমিশ হয়ে গেল। একদিন তপন নাইট ডিউটিতে গেল। রাতে অদ্রিজা বলল, মেজদা আমি একা শুতে পারব না।
কেন মামনি?
আমার বড় ভয় করছে।
আমি না থাকলে কি করতে?
সে এক ব্যবস্থা করতে হত।
অমিতাভ চিন্তায় পড়ল।
কি ভাবছেন?
চিন্তায় ফেললে মামনি।
আমি একা ঘরে ভয়ে মরে যাব। অদ্রিজা বলেই সেদিন অমিতাভকে জড়িয়ে ধরল। বুকে ওর স্তনাগ্র খোঁচা মারতে শরীরে আগুন জ্বলে উঠল। সে আগুনে অদ্রিজাও পুড়ল। শেষে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, আপনার ভাইয়ের কাছ থেকে আনন্দ পাই না। যে কদিন আছেন আমাকে বিমুখ করবেন না কিন্তু।
অমিতাভ বিমুখ করেনি। সময় সুযোগ পেয়ে দু'জনে মিলিত হয়েছে। ভাইটাকে ঠকাতে খুব খারাপ লাগত। ওর কিছু করার ছিল না। অদ্রিজার একটা অতৃপ্তি ওকে ভাবাত। তাই এগিয়ে যেত। অদ্রিজা প্রেগনেন্ট হয়ে পড়ল। আসার দিন একান্তে অদ্রিজা পেটে হাত বুলিয়ে বলল, এখানে আপনার সন্তান বাড়ছে।
ছেলেটা কেঁদে উঠতে অদ্রিজা ওকে চাপড় মেরে আবার ঘুম পাড়াল। তারপর মোবাইল হাতে নিয়ে হোয়াটসঅ্যাপে গেল। লিখল, আমরা ছেলের বাবা মা হয়েছি। তারপর সেণ্ট করে চোখ বুজল।
পাঁচ
টুং করে মেসেজ ঢুকল। অমিতাভ মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপ খুলে মেসেজটা পড়ল। আমরা ছেলের বাব মা হয়েছি। পড়েই ডিলিট করে দিল। ওর মোবাইল কেউ ধরার প্রশ্ন নেই। এখন প্রায়ই এই ফ্ল্যাটে আসে। বাথরুমে থাকাকালীন সিক্তা মোবাইল ঘাঁটাঘাঁটি করে মেসেজ দেখলে পরিস্থিতি ঘোরালো হতে পারে। তাই ডিলিট করল এবং লিখল, তুমি মেসেজটা ডিলিট করে দাও। সেণ্ট করে মোবাইল ড্রয়ারে ঢুকিয়ে রেখে ব্যালকনিতে এল।
দরজা ঠেলে সিক্তা ঢুকল। অমিতাভকে দেখতে পেল না। এঘর, ওঘর, কিচেন, বাথরুম দেখে ডাকল, আপনি কোথায়?
ব্যালকনিতে।
সিক্তা দরজা বন্ধ করে ব্যালকনিতে এল। বসে পড়ল। বাইরে অন্ধকার নেমেছে। আকাশে তারারা ঝিকিমিকি করছে। চারদিক কাঁপিয়ে একটা প্লেন পশ্চিমদিকে চলে গেল। অমিতাভ সিগারেট ধরিয়ে বলল, আমাকে কেমন লাগছে?
ভাল।
শুধু ভাল?
কেন বোঝেন না?
বয়স হয়েছে তো।
বোঝাই যায় আপনার বয়স হয়েছে। আপনার কাছে অঞ্জন শিশু।
অমিতাভ সিগারেট ছুড়ে ফেলে সিক্তাকে বুকে টানল, আমাকে বিয়ে করবে?
সিক্তা বুকের মধ্যে মুখ লুকিয়ে অমিতাভকে বলল, এই কথাটাই বহুদিন ধরে বলব বলব ভেবে বলতে পারিনি। কি ভাববেন বলে বলতে পারিনি।
এখন থেকে তুমি বলবে। শোনো। তোমাকে আমার কিছু বলার আছে।
আন্টির ব্যাপারে তো?
অমিতাভ চমকে উঠল।
আমি জানি। সিক্তা মুখ তুলে বলল, আমার কোনো অসুবিধা নেই। ওর গলাটা ধরে এল।
সমরদার অনুরোধে আমি কুন্তলা বৌদির কাছে যাই। আমার খুব খারাপ লাগছে। হয়তো আমাকে লম্পট ভাবছ।
না গো। সিক্তা আবার বুকে মুখ ডোবাল। ঘষতে ঘষতে বলল, আমি ডিভোর্সী হতে চলেছি। ডিভোর্সীদের সমাজে কোনো সম্মান নেই। সবাই বেওয়ারীশ মাল ভাবে। আমি পায়ের তলায় শক্ত মাটি চাই। আমি তা পেয়ে গেছি।
অমিতাভ হঠাৎ সিক্তার মুখটা তুলে ধরল। চুম্বন করল, ঠিক সময়ে বিয়ে করলে তোমার বয়সী ছেলেমেয়ে থাকত আমার। কি করবে? আমাকেই মেনে নাও।
বাবা মা শুনে হয়তো অসুখী হবে। আমি পরোয়া করি না। বিয়ের পর ওদের জানাবো।
আজ আমার বড় সুখের দিন।
কেন?
আমার ভাইপো হয়েছে। এদিকে তোমার সম্মতি পেয়েছি। আমার চেয়ে সুখী আর কেউ নেই।
এত সুখ আমার কপালে সইবে তো?
অমিতাভ সিক্তার মুখ বন্ধ করল, একথা কখনও বলবে না। আমি তোমাকে সুখী করার চেষ্টা করব।
হঠাৎ ডোর বেল বেজে উঠল। দু’জনে ছিটকে দূরে সরে বসল। অমিতাভ তাকাল সিক্তার দিকে। চাঁদের জ্যোৎস্নার আলোয় ওর চোখের ভাষা পড়তে অসুবিধে হল না। ডান হাতটা আঁকড়ে ধরে আছে। আবার ডোরবেল বাজল। অমিতাভ উঠল না। ডোরবেল তৃতীয় বারের জন্য বেজে বেজে থেমে গেল।



No comments:
Post a Comment