1 / 7
2 / 7
3 / 7
4 / 7
5 / 7
6 / 7
7 / 7

Saturday, October 10, 2026

নতুন ভোরের আলো

 ছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা(Artificial Intelligence)

নতুন ভোরের আলো 

মাখনলাল প্রধান

জেরুজালেমের একটি পুরোনো শহর , তাই তার বিকেলগুলো অদ্ভুত শান্ত হয়। প্রতিটি শান্তির আড়ালেই লুকিয়ে থাকে অসংখ্য অদৃশ্য চোখ। প্রতিটি অদৃশ্য চোখ রহস্যময় ইতিহাসের পাতায় পাতায় নিজের স্বাক্ষর রেখে যেতে বদ্ধপরিকর। মানুষ যতই শিক্ষায় , গবেষণায়, উদ্ভাবনে এগিয়ে যায়, তার মন ততই শিশুর মতো সরল সুন্দর হয়ে ওঠে। 

নোয়া ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিভাবান ছাত্রী। ইতিহাস নিয়ে পড়াশোনা করত। তার বাবা সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। নোয়ার বিশ্বাস ছিল , মানুষকে পরিচয় দিয়ে নয়, হৃদয় দিয়ে বিচার করা উচিত। বিশ্বায়নের জগতে মানুষের জাত বলে কিছু হতে পারে না, ধর্ম অল্প শিক্ষিত মানুষের সান্ত্বনা। 

একদিন ক্যান্টিনে সামিরের সঙ্গে পরিচয় হয়, তার হ্যান্ডসাম চেহারার সঙ্গে বাচন ভঙ্গি তাকে ভিন্ন মাত্রার মানুষ বলে বুঝিয়ে দেয় । সামির আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রকল্পের নতুন মেম্বার, তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনশিপের জন্য বহুদিন কাজ করছে --এসব শুনতে শুনতে নেশার মতো আসক্ত হয়ে পড়ে নোয়া । তার কথা, তার ভদ্রতা, তার হাসি—সবকিছু যেন নিখুঁত।

প্রতিদিন তাদের মধ্যে সাক্ষাৎকার ও নানা বিষয়ে আলোচনা আর ক্যান্টিনে বৈঠক চলতে থাকে। কয়েক মাসের মধ্যেই নোয়া নিজেকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করে। পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারে হঠাৎ ভীষণ রকম একটা দূরত্ব তাদের মধ্যে জায়গা করে নিচ্ছে। ইহুদিরা নিজেদের জাতিগত সংস্কার ধরে রাখার চেষ্টায় বিশ্বাসী । কারণ প্রতিটি জাতির বিশেষ বৈশিষ্ট্য ও তার চরিত্রগত বিবর্তন অনিবার্য।

একদিন নোয়ার বাবা লক্ষ্য করলেন, মেয়ে প্রায়ই অচেনা নম্বর থেকে ফোন পাচ্ছে। নোয়া প্রত্যেকটি কলে দীর্ঘ সময় ধরে রেসপন্স করছে। এতজন বন্ধুবান্ধব তথা পরিচিত মহল গড়ে তুলেছে এরই মধ্যে অথচ বাড়ির কেউ কিছু জানে না! বাড়িতে এ নিয়ে জোর অশান্তি শুরু হল। কিন্তু নোয়া কারও কিছু শুনতেই রাজি নয়। সে বড় হয়েছে,‌বাইরের জগতের সম্বন্ধে তার ধ্যানধারণা কম নেই। সে স্বাধীনভাবে জীবন যাপন করতে চায়। তাকে তার মতো ভাবতে দেওয়া হোক। ব্যাপারটা ব্যক্তিগত থেকে সামাজিক পর্যায়ে চলে গেল। 

একদিন একদল স্বেচ্ছাসেবক তাদের বাড়িতে এল। তারা নিজেদের 'লেহানা'র সদস্য হিসেবে পরিচয় দিল। একটা বিশেষ এনজিও, যারা মানুষকে সাহায্য করে। তারা অভিযোগ বা হুমকি দিতে আসেনি। শুধু পরিবারের সঙ্গে নানান রকম কথা বলল। বলল, "সিদ্ধান্ত অবশ্যই নোয়ার । তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব তথ্য বাড়ির লোকজনের জানা দরকার।"

নোয়া তাদের কথায় রীতিমতো বিরক্ত হল , এমনকি উত্তেজিত হয়ে তাদের বেরিয়ে যেতে বলল।

দু'সপ্তাহ নীরবে কেটে গেল। পরিবারের সদস্যরা অসহায়। মানসিকভাবে তারা চিন্তিত, কী করতে পারে তারা ! ঠিক তার পরদিন নোয়া নিখোঁজ।

নোয়ার ঘরে তার টেবিলের উপর শুধু একটি ছোট্ট চিরকুট—

"আমাকে বিরক্ত কর না। আমি আমার নিজের জীবন বেছে নিয়েছি।"

কিন্তু নোয়ার বাবা জানতেন, মেয়ের হাতের লেখায় একটা অদ্ভুত কাঁপুনি ছিল। এ লেখার মধ্যে জীবনের সত্যিকারের সাফল্যের প্রতিফলন নেই।

সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্যেই কোথাও একটা ঘাটতি রয়েছে।

'লেহানা'র অন্যতম সদস্য ইয়োনাতান বহু বছর সেনাবাহিনীতে গোয়েন্দা ইউনিটে কাজ করেছে। অর্থাৎ তিনি এবিষয়ে খুবই অভিজ্ঞ ব্যক্তি । এখন তিনি এই এনজিওতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করেন। তাঁর সংস্থা শকুনের দৃষ্টিতে পরিস্থিতির উপর নজর রেখে ছিল। তিনি দ্রুত পৌঁছে গেলেন নোয়ার বাড়িতে।

তিনি চিঠিটা হাতে নিয়ে বললেন,

"এই লেখাটা স্বাধীন মানুষের লেখা নয়। আমার মনে হয় যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অনুসন্ধান চালাতে হবে । দেশের বাইরে চলে গেলে আমাদের কিছু করার থাকবে না।"

 শুরু হল অনুসন্ধান। নানান সূত্র কাজে লাগানো হল । নোয়ার মোবাইলের সুইচ অফ । সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়ে উঠল । স্বাধীন জীবনের স্বপ্নে যোগাযোগ নষ্ট করে ফেলার কোনো কথা থাকতে পারে না।

নোয়ার ব্যাংক কার্ড ব্যবহার হয়নি। টাকা পয়সার দিকে বোধহয় হিসেব করে হাত বাড়ায়নি।

সামিরের যেসব পরিচয়পত্র পাওয়া গিয়েছিল, পরীক্ষা করে দেখা গেল সেগুলো সব জাল।

নেটে তার ছবির সঙ্গে তিনটি ভিন্ন নাম জুড়ে আছে। সে এদেশের অধিবাসী নয়, গাজা ও তার বাইরের মানুষ , এদের মিশ গাইড করার একটা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে । এটা একটা জিহাদি চক্র।

ইয়োনাতান বুঝল, বিষয়টি সাধারণ প্রেমের গল্প নয়। জিহাদি প্রেমের প্রস্তাব কাজ করছে। তারা ওৎপেতে বসে রইল দিনরাত। এতবড় ব্যর্থতা মেনে নেওয়া যাবে না। চারদিন পরে একদিন গভীর রাতে লেহানার হেল্পলাইনে একটি মাত্র কল আসে।

ওপাশে কাঁপা গলায় নোয়া। "আমি ভুল করেছি... বাবা !"

ফোনটা কেটে গেল। বহুক্ষণ চেষ্টা করেও রিং ব্যাক করা গেল না। 

কলটি মাত্র এগারো সেকেন্ড স্থায়ী হয়েছিল।

নোয়ার বাবা ছুটে এসেছিল। কিন্তু ওরা জানাল লোকেশনও পুরোপুরি নির্ণয় করা যায়নি। তবে এটুকু নিশ্চিত যে সীমান্তের কাছাকাছি একটি এলাকা, ওরা এখনো দেশের বাইরে যেতে পারেনি । তবে দেশের প্রতিরক্ষা বিভাগকে এবিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে । শিগ্ৰি তাকে উদ্ধার করা যাবে।

এসব কথায় পিতৃহৃদয় সান্ত্বনা পায় না। তিনি মাথা নিচু করে বসে থাকেন।

ইয়োনাতান জানায়, নোয়া বোধহয় কিছু বলতে চেয়েছিল , কোনো কারণে কিছু বলতে পারেনি। নাকি বলতে গিয়ে থেমে গেছে। 

নোয়ার বাবা তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে- আপনি কি নিশ্চিত যে --

শুধু ফিসফিস করে বলেছিল, "ওরা আমার ফোন নিয়ে নেবে..."

ঠিক তখনই লাইনটা কেটে যায়।

ইয়োনাতান ব্যাপারটার গুরুত্ব উপলব্ধি করে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি বৈঠক ডাকে।

কিন্তু সে জানে, সীমান্তের ওপারে প্রবেশ করা অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং আইন, সামরিক কর্তৃপক্ষ ও কূটনৈতিক বাস্তবতার সঙ্গে জড়িত বিষয়। তাই কোনো তড়িঘড়ি পদক্ষেপ নয়—প্রথম কাজ হল তথ্য নিশ্চিত করা এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাকে জানানো।

এদিকে নোয়াকে একটি পুরোনো বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে। কোথাও বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। বলেছে তোমার বাবার লোকেরা তোমাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। নোয়া বিশ্বাস না করলেও সামিরের মুখের উপর কথা বলতে পারছে না। সামিরের লোকজন চারদিকে পাহারা দিচ্ছে। বলছে , "না না, তোমার চিন্তার কোনো প্রয়োজন নেই। ওরা আমার নিছক শুভানুধ্যায়ী বন্ধু।"

"কিন্তু সামির আমার আই কার্ডগুলো ---"

-"নোয়া তোমাকে নিরাপত্তা দেওয়া আমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। " নিরাপত্তার স্বার্থে সমস্ত পরিচয়পত্র চেয়ে নেওয়া হয়েছে।

জানালাটা ভীষণ উঁচুতে কেন? জানালায় এত লোহার শিক লাগানো কেন? এসব প্রশ্নের উত্তর পায়নি নোয়া । পায়নি বাইরে এত অস্ত্রধারী পাহারা কার জন্য? সে বুঝতে পারে, যে মানুষটিকে সে ভালোবেসেছিল, সে আসলে ভালোবাসার এক ব্যবসায়ী। অন্যকোনো পরিচয়ের একজন।

স্ক্রিনের সামনে ঠায় বসেছিল ইয়োনাতান । হঠাৎ সেদিন ভোরে একটি সংকেত ভেসে ওঠে। এটা ফোন নয়। স্যাটেলাইটে তোলা একটা ছবি । যেন কোনো নিছক ছবি দেখে সময় কাটাচ্ছে কেউ । কিন্তু 

একটি ছবির মধ্যে লুকানো অবস্থান-সংক্রান্ত গোপন তথ্য ইয়োনাতানের নজর এড়াতে পারেনি।  

যেখানে দেখিবে ছাই উড়াইয়া দেখ তাই ---ইয়োনাতান সঙ্গে সঙ্গে ছবিটা স্ক্রিনে বড় আরও বড় করে ফেলল।

ওরে বাপ ! পেছনে পাহাড়। পাহাড়ের পাশে কটেজ । একটি নীল জলের ট্যাংক। চারদিকে ঘন গাছপালা।

ওই একটা ভাঙা মিনার। মানুষের কোনো চিহ্ন পাওয়া যাচ্ছে না। না না, ওই তো 

একটি সাদা বিড়াল।

তাহলে জায়গাটা জনহীন নয় । জগ্ৰাফি খুলে মিলিয়ে মিলিয়ে সম্ভাব্য অবস্থান চিহ্নিত করার চেষ্টা শুরু হল।

সময় তো বসে নেই। ঘড়ির কাঁটা দ্রুত এগোচ্ছে। নোয়ার বাবা অস্থিরভাবে ঘরের মধ্যে পায়চারি করতে থাকে। একটা দুর্বলতা কতখানি বিপদ ডেকে আনতে পারে। মনে মনে ভাবে যে মানুষের ধৈর্য্য ও আবেগের চিকিৎসা প্রয়োজন।‌ এই আবেগই সমস্ত কিছুকে অস্বীকার করতে প্ররোচিত করে। নোয়ার মা ধীরে ধীরে বলে, "যদি ওকে লুকিয়ে ফেলে বা অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যায়, যেখান থেকে ওকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় ?"

" ইয়োনাতান একজন দেশপ্রেমিক মানুষ, তার থেকে ভালো কেউ করতে পারে না। আমাদের উচিত তার পাশে দাঁড়ানো। "

রাত নামতেই দূরে পাহাড়তলিতে সাইরেন বেজে ওঠে। এখানে আগে কখনো সাইরেন বাজেনি।‌ স্বভাবতই 

বাড়ির লোকজন ছুটোছুটি শুরু করে। তারা বুঝে নেয়, আসন্ন যুদ্ধ তাদের উদ্দেশ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।‌ আত্মরক্ষার যুদ্ধ সবচেয়ে বড়। তারা বাড়ি ফেলে পালানোর চেষ্টা করে।

এই বিশৃঙ্খলার মধ্যেই নোয়াও রান্নাঘরের জানালার রড সাঁড়াশি দিয়ে টেনে টেনে ভেঙে ফেলে ।‌ তারপর বাইরে লাফ দেয়। জঙ্গলের মধ্যে পথ সে জানে না। পাথরে পা কেটে ছুলে যায়। কাঁটা ফুটে রক্ত ঝরতে শুরু করে। শুধু সাইরেন যে দিক থেকে আসছিল , সেদিকেই ছোটার চেষ্টা করে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সেখানে পৌঁছতে পারলে বিপদের থেকে মুক্তি পেতে পারে।

এবার সে শুনতে পায়, পেছনে চিৎকার।

তারপর পর পর গুলির শব্দ। লড়াই শুরু হয়ে গেছে?

অন্ধকার পাহাড়ি পথ , আঁকাবাঁকা পথের সঙ্গে গাছের ভুল ভুলাইয়া আর চড়াই উৎরাই ধরে সে ছুটে চলে। বাঁচতে চাইলে থামার কথা ভুলেও মনে আনা যাবে না। হাঁপিয়ে পড়লেও জীবনের মূল্যে তার আপাত অবস্থান এড়িয়ে যাওয়া চাই । পায়ে অসম্ভব ব্যথা, পাথরের আঘাতে মাংস থেঁতলে যাচ্ছে, হয়তো ছিঁড়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। না , সে সবকে বিষয় না করে জীবনের কথা অকাতরে ভাবতে ভাবতে পথ পাড়ি দিতে হবে।

অবশেষে সে সীমান্তের কাছে পৌঁছে যায় । পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত জঙ্গলমহল ঘোষণা করে রাতের অন্তিম মুহূর্ত । একটা আশার আলো সে দেখতে পায়। কোমরের থেকে লুকানো হ্যান্ডসেট বের করে জরুরি নম্বরে নিজের অবস্থান জানাতে সক্ষম হয়।

ইয়োনাতান উদ্ধারকাজে নিরাপত্তা বাহিনী সমন্বয় করে সীমান্তের নিকট পৌঁছে যায়। মোবাইলের লোকেশন ট্রাক করে নোয়াকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসে। তখন সে জ্ঞান হারা অবস্থায় পড়ে ছিল।

হাসপাতালের সাদা বিছানায় জ্ঞান ফেরার পর নোয়া প্রথমেই বাবাকে দেখে।

সে কিছুই বলতে পারছিল না। শুধু একদৃষ্টিতে বাবার দিকে তাকিয়ে ছিল। সংসারের সব নিরাপত্তার ঊর্ধ্বে বাবার অবস্থান। 

বৃদ্ধ মানুষটি কিছুই বলেননি। বিছানায় বসে কেবল তার মাথায় হাত বুলিয়ে ছিলেন। মেয়ের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিল। বৃদ্ধ শুধু মেয়ের হাতটা শক্ত করে ধরে থাকেন।

ইয়োনাতান দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল।

তার চোখে কোনো বিজয়ের উল্লাস নেই।

শুধু গভীর ক্লান্তি।

সে জানত, প্রতিটি ঘটনা একরকম নয়। প্রতিটি জনগোষ্ঠীর সম্পর্কও একই নয়। কিন্তু প্রতারণা, জবরদস্তি বা সহিংসতার অভিযোগ থাকলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার আগে নোয়া ধীরে ধীরে বলল,"যেদিন তোমরা আমাদের বাড়িতে এসেছিলে, আমি ভেবেছিলাম তোমরা আমার স্বাধীনতা কেড়ে নিতে এসেছ। আজ বুঝলাম, অন্তত আমার কথা শোনার চেষ্টা করেছিলে।"

ইয়োনাতান শান্তভাবে উত্তর দিল,

"স্বাধীন সিদ্ধান্তের জন্যও সত্যকে জানা দরকার।"

জানালার বাইরে তখন নতুন সূর্য উঠছে।

কিন্তু নোয়ার কাছে মনে হচ্ছিল, জীবনের আসল ভোরটি যেন আজই শুরু হল।


No comments:

Post a Comment