1 / 7
2 / 7
3 / 7
4 / 7
5 / 7
6 / 7
7 / 7

Saturday, October 10, 2026

নীল রক্তের কেস

 ছবি :কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা(Artificial Intelligence)

নীল রক্তের কেস

সৌম্য গায়েন


প্রথম অধ্যায়: নীল ঠোঁট

কলকাতার অক্টোবর। শরতের আকাশে পেঁজা তুলোর মেঘ, কিন্তু মর্গের ভেতরটা হিমঘর।   ফরেনসিক টক্সিকোলজিস্ট, NRS মেডিকেল কলেজ, -- ডা. জিনিয়া সেনের নাকে ফর্মালিন আর রক্তের মিশ্র গন্ধ লেগে আছে। ডাক্তার সেনের বয়স চৌত্রিশ, কপালে দুটো ভাঁজ স্থায়ী হয়েছে গত পাঁচ বছরে। ফরেনসিক টক্সিকোলজিতে পিএইচডি, কিন্তু পুলিশের খাতায় নাম “লেডি হোমস”।

টেবিলে শুয়ে আছে রিয়া দত্ত। ২৭ বছর, TCS এর সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, সল্টলেক সেক্টর ফাইভে থাকত। পরনে জিমের পোশাক। মুখটা শান্ত, যেন ঘুমিয়ে আছে। শুধু ঠোঁট দুটো গাঢ় নীল। শুধু ঠোঁট না। নখ, জিভের ডগা, চোখের সাদা অংশের শিরাগুলো পর্যন্ত নীলচে বেগুনি।

জিনিয়া গ্লাভস পরা হাতে রিয়ার চোখের পাতা তুললেন। পেটিকিয়াল হেমারেজ নেই। শ্বাসরোধের চিহ্ন নেই। গলায় দাগ নেই।

“ম্যাডাম, ভিসেরা পাঠাব?” ডোম বিশ্বনাথ জিজ্ঞেস করল।

“হুম। হার্ট, ব্লাড, ইউরিন, স্টমাক কন্টেন্ট, লিভার স্লাইস। আর ব্রেনটাও রাখো। আমি নিজে GC-MS চালাব।”

রিয়ার ফোন আনলক করেছিল পুলিশ। লাস্ট কল রাত ১১:৪২। বয়ফ্রেন্ডকে। “মাথা ঝিমঝিম করছে। এনার্জি ড্রিংকটা খেয়ে কাজ করছিলাম। এখন দম নিতে কষ্ট হচ্ছে।” তারপর লাইন কেটে যায়। ১২:০৭ এ অ্যাম্বুলেন্স। ১২:৩০ এ ডেড।

জিনিয়া ল্যাবে ঢুকলেন। রিয়ার রক্তের ABG রিপোর্ট প্রিন্ট হল। PaO2 95, ভালো। কিন্তু SaO2 62%। অক্সিজেন আছে, কিন্তু হিমোগ্লোবিন ধরতে পারছে না। Co-oximetry চালালেন জিনিয়া। মেথেমোগ্লোবিন 61.8%। নর্মাল ভ্যালু 1% এর কম।

মেথেমোগ্লোবিনেমিয়া। হিমোগ্লোবিনের আয়রন ফেরাস থেকে ফেরিক হয়ে গেছে। অক্সিজেন বাঁধতে পারে না। রোগী নীল হয়ে দমবন্ধ হয়ে মরে।

কারণ? নাইট্রেট, অ্যানিলিন ডাই, ড্যাপসোন, বেনজোকেন, বা কিছু অ্যান্টিম্যালেরিয়াল। রিয়ার প্রেসক্রিপশন হিস্ট্রি ফাঁকা। জিনগত Hb-M ডিজিজ না, তাহলে ছোটবেলায় ধরা পড়ত।

রাত ২টায় অন্বেষা ডায়েরি খুললেন। লাল কালিতে লিখলেন, “Case 01/2026. Riya Dutta. MetHb 61.8%. Exogenous toxin suspected. Agent unknown.”

দ্বিতীয় অধ্যায়: প্যাটার্নের গন্ধ


সাত দিনে তিনটে কেস।

কেস ০২: দীপক মাহাতো, 29, বাইজুসের টিম লিড। নিউটাউন ফ্ল্যাটে মৃত। ঠোঁট নীল। MetHb 58%.

কেস ০৩: শ্রেয়া মুখার্জি, 26, কগনিজ্যান্ট HR। অফিসের বাথরুমে কলাপস। MetHb 64%.

কেস ০৪: অরিন্দম সাহা, 30, উইপ্রো। মারা যাওয়ার ২০ মিনিট আগে অফিস CCTV তে ভেন্ডিং মেশিন থেকে নীল ক্যান খাচ্ছে। ব্র্যান্ড: “নিউরো-বুস্ট XZ”।

চারজনের কমন: ১. বয়স ২৫-৩০, ২. সেক্টর ফাইভ/নিউটাউন, ৩. ডেডলাইন নিয়ে ওভারটাইম করে, ৪. মৃত্যুর আগে এনার্জি ড্রিংক খেয়েছে।

জিনিয়া সাব-ইন্সপেক্টর সুব্রতকে নিয়ে নিউরো-বুস্টের অফিসে গেলেন। কসবা ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট। MD অর্ণব চ্যাটার্জি হাসিমুখে বসালেন।

“ম্যাডাম, আমাদের প্রোডাক্ট FSSAI, FDA অ্যাপ্রুভড। লাখে একটা অ্যালার্জি হতেই পারে।”

“ক্যানের স্যাম্পল চাই। ব্যাচ নম্বর XZ-0926।”

“সরি, ওই ব্যাচ রিকল হয়ে গেছে। কোয়ালিটি ইস্যু ছিল।”

“কোয়ালিটি ইস্যু মানে?”

“টেস্ট সামান্য ভ্যারি করছিল।”

অর্ণবের চোখের পাতা কাঁপছে। জিনিয়া নোট করলেন: মিথ্যা বললে মানুষের ক্যারোটিড পালস বাড়ে। অর্ণবের গলার শিরা দপদপ করছে।

রাতে অরিন্দমের রক্তের GC-MS রিপোর্ট এল। একটা বড় পিক, Retention Time 14.7 min। মাস স্পেকট্রা মিলছে না কোনো কমন ড্রাগের সাথে। Molecular ion m/z 284. NIST লাইব্রেরি বলছে “No match”.

জিনিয়া গুগল স্কলার ঘাঁটলেন “m/z 284 methemoglobin”. একটা পেপার এল 2019 এর। “Novel phenazopyridine analogs as CNS stimulants”. অথর: Dr. Mallar Roy, Ex-IICB. পেপার উইথড্রন। কেন?

তখনই ফোন। বিশ্বনাথের গলা কাঁপছে, “ম্যাডাম, শিগগির আসুন। কেস ০৫। এবার আমাদের PGT ডা. সৌম্যদীপ।”

তৃতীয় অধ্যায়: ঘরের লাশ


সৌম্যদীপের বডি NRS এর রেসিডেন্ট হোস্টেলে। টেবিলে ল্যাপটপ খোলা। স্ক্রিনে মেইল ড্রাফট: “ম্যাডাম, N-284 এর স্ট্রাকচার পেয়েছি। Methylene blue এর analog, কিন্তু NO-scavenging উল্টো। ইনসেটড অফ ট্রিটিং MetHb, এটা তৈরি করে। কোম্পানি ‘ব্রেন-বুস্ট’ নামে 0.5mg দিচ্ছে। কিন্তু ভেন্ডিং মেশিনে 5mg ঢুকছে। আমি FDA তে মেইল করছি।”

মেইল সেন্ড হয়নি। সৌম্যদীপের ঠোঁট নীল। পাশে নিউরো-বুস্টের ক্যান। ব্যাচ XZ-0926।

জিনিয়ার হাত ঠান্ডা হয়ে গেল। সৌম্যদীপ তার স্টুডেন্ট। তিন মাস আগে জিনিয়াই ওকে টক্সিকোলজি প্রজেক্ট দিয়েছিলেন: “Energy drinks and OTC stimulant abuse”.

পোস্টমর্টেমে MetHb 72%. স্টমাক কন্টেন্টে নীল লিকুইড।

ডিন ডা. অমিয় রায় ডাকলেন। “জিনিয়া, তুমি বেশি দূর যেও না। নিউরো-বুস্ট আমাদের কলেজের অ্যানুয়াল ফেস্ট স্পন্সর করে। ৫০ লাখ দেয়।”

“স্যার, পাঁচটা মার্ডার।”

“প্রমাণ কই? এনার্জি ড্রিংক খেয়ে হার্ট অ্যাটাক তো রোজ হচ্ছে।”

“আমি প্রমাণ জোগাড় করব।”

“করো। কিন্তু কলেজের নাম জড়াবে না।”

জিনিয়া বুঝলেন, তিনি একা। স্বামী দেবাংশু ব্যাঙ্গালোরে পোস্টেড। ছেলে ঋক ক্লাস থ্রি, মায়ের কাছে থাকে।

রাতে ঋক জিজ্ঞেস করল, “মা, তুমি নীল ভূত ধরো?”

“হ্যাঁ বাবা। নীল ভূতগুলো খুব খারাপ।”

“তুমি জিতে যাবে তো?”

জিনিয়া ছেলের মাথায় হাত রাখলেন। “জিততেই হবে।”

চতুর্থ অধ্যায়: ভেন্ডিং মেশিনের ভূত

জিনিয়া প্রাইভেট ডিটেকটিভ ভাড়া করলেন না। টাকা নেই। নিজে সেক্টর ফাইভে রেকি করলেন। নিউরো-বুস্টের ভেন্ডিং মেশিন ১২টা। সব কর্পোরেট বিল্ডিংয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে।

সার্ভিস লগ জোগাড় করতে IT পার্কের ইউনিয়ন লিডার রফিককে ধরলেন। রফিক বলল, “দিদি, প্রতি শুক্রবার রাত ২টায় রিফিল হয়। কোম্পানির লোক আসে।”

শুক্রবার রাত ১:৩০। জিনিয়া টেক মাহিন্দ্রা বিল্ডিংয়ের পার্কিং লটে গাড়িতে বসে। সাথে সুব্রত।

২:০৫ এ কালো অ্যাপাচি বাইক ঢুকল। রাইডার হেলমেট পরা, পিঠে নিউরো-বুস্ট ব্যাগ। মেশিন খুলল। ক্যান ঢোকানোর আগে পকেট থেকে ইনসুলিন সিরিঞ্জ বের করল। প্রতিটা ক্যানের ঢাকনার ফুটো দিয়ে কিছু পুশ করছে।

সুব্রত ফিসফিস করল,

“হাতেনাতে ধরব?”

“না। আগে ভিডিও।” - জিনিয়া বললেন।

জিনিয়া ফোন বের করতেই বাইকের হেডলাইট ঘুরে গেল। লোকটা দেখে ফেলেছে। বাইক স্টার্ট দিয়ে ধেয়ে এল। সুব্রত লাফ দিয়ে সরলেন। জিনিয়ার শাড়ি বাইকের সাথে আটকে গেল। ১০ হাত ছেঁচড়ে গেলেন। হাত ছড়ে রক্ত।

লোকটা পালাল। কিন্তু ব্যাগ পড়ে গেল।

ব্যাগে ২০টা ভায়াল। লেবেল: “N-284. Trial Batch. 10mg/ml. NOT FOR HUMAN USE. Property of Neuro-Boost R&D.”

আর একটা ID কার্ড। নাম: প্রবাল দাস, মেডিকেল রিপ্রেজেন্টেটিভ।

জিনিয়া চিনলেন। গত মাসে এই প্রবালই কলেজে এসে স্যাম্পল দিয়ে গেছে। হাসিমুখে বলেছিল, “ম্যাডাম, নাইট ডিউটির জন্য দারুণ। আমি নিজে খাই।”

পঞ্চম অধ্যায়: 284 এর কেমিস্ট্রি

NRS ল্যাবে জিনিয়া ভায়াল টেস্ট করলেন। N-284 হল সাবস্টিটিউটেড ফেনাজিন ডেরিভেটিভ। মিথিলিন ব্লু MetHb কমায় কারণ সে NADPH থেকে ইলেকট্রন নিয়ে MetHb কে Hb তে রিডিউস করে। N-284 উল্টো। সে Hb থেকে ইলেকট্রন কেড়ে নিয়ে MetHb বানায়।

ডোজ রেসপন্স কার্ভ: 0.2mg/kg এ ব্রেনে মাইল্ড হাইপোক্সিয়া। অ্যাডিনোসিন বাড়ে। সাবজেক্টের মনে হয় ফোকাস বাড়ছে, আসলে ব্রেন সারভাইভাল মোডে গিয়ে নন-এসেনশিয়াল ফাংশন বন্ধ করে দেয়। ১০-১২ ঘণ্টা টানা কাজ করা যায়।

2mg/kg ক্রস করলে MetHb 50% পেরোয়। টিস্যু অক্সিজেন পায় না। ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস, সিজার, কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট।

ভেন্ডিং মেশিনের ক্যান 350ml। 5mg ঢুকালে 70kg মানুষের ডোজ 0.07mg/kg। সেফ? না। কর্পোরেটরা রাত জেগে ৩-৪টা খাচ্ছে। ডোজ 0.3mg/kg। তার ওপর খালি পেটে, অ্যালকোহল, স্লিপ ডেপ্রিভেশন। MetHb 60% এ চলে যাচ্ছে।

জিনিয়া Dr. Mallar Roy এর লিংকডইন ঘাঁটলেন। IICB থেকে টার্মিনেটেড 2019. কারণ: “Unethical human trial”. এখন Neuro-Boost এর Chief Scientific Officer.

মোটিভ ক্লিয়ার। 284 দিয়ে মার্কেট তৈরি করো। লোকজন অ্যাডিক্টেড হবে। তারপর Antidote বেচো। Antidote কী? মিথিলিন ব্লু + অ্যাসকরবিক অ্যাসিড + NADH ককটেল। খরচ ২০০ টাকা, MRP ৪ লাখ। “Neuro-Boost Revive Shot”.

সৌম্যদীপ এই ফাইল পেয়েছিল। তাই তাকে খাওয়ানো হয়েছে 15mg ডোজ। ডাইরেক্ট মার্ডার।

ষষ্ঠ অধ্যায়: আদালতের সিঁড়ি

জিনিয়া PIL ফাইল করলেন কলকাতা হাইকোর্টে। বিচারপতি তানিয়া ঘোষ। সব প্রমাণ: ভায়াল, GC-MS, CCTV, সৌম্যদীপের ড্রাফট মেইল, পোস্টমর্টেম রিপোর্ট।

শুনানির ২ দিন আগে রাত ১টায় কল। গলা চাপা। “ডাক্তার, কেস তুলুন। আপনার ছেলে সেন্ট জেভিয়ার্সে পড়ে তো? কাল টিফিনে না ফিরলে বুঝবেন।” জিনিয়া মোটেই ভয় পেলেন না। ঋককে ঘুম থেকে তুললেন। শাশুড়িকে ফোন করে বললেন;-

“মা, কাল ভোরে ঋককে নিয়ে দীঘা চলে যান। আমি না বলা পর্যন্ত ফিরবেন না।”

পরদিন কোর্ট। অর্ণব চ্যাটার্জির উকিল বলল, “মাইলর্ড, এটা বিজনেস রাইভালরি। ডা. সেনের নিজের এনার্জি ড্রিংক লঞ্চ করার প্ল্যান আছে।” জিনিয়া উঠে দাঁড়ালেন। “আমার প্ল্যান একটাই। লাশ গোনা বন্ধ করা।”

তিনি ভায়াল বের করলেন। “এই 10mg N-284। আমি এখন খাব। 70kg, ডোজ 0.14mg/kg। যদি বাঁচি, প্রমাণ হবে এটা সেফ। যদি নীল হই, আপনারা খুনি।”

কোর্টে শোরগোল। বিচারপতি হাত তুললেন, “ডা. সেন, বসুন। আমরা FSSAI কে স্যাম্পল টেস্ট অর্ডার দিচ্ছি। আজই রেড হবে প্ল্যান্টে।”

দুপুর ৩টায় ড্রাগ কন্ট্রোল, পুলিশ, মিডিয়া কসবার প্ল্যান্টে ঢুকল। গোডাউন ২: ৪ লাখ ক্যান, ব্যাচ XZ-0926. সবগুলোয় 5mg N-284. পাশের কোল্ড স্টোরেজে “Revive Shot” ১০ হাজার ভায়াল। লেবেল: MRP 4,00,000.

Dr. Mallar Roy কে পাওয়া গেল সার্ভারে ডেটা ডিলিট করতে করতে। ল্যাপটপে ফোল্ডার: “Project Neel”. ভেতরে স্লাইড: “Phase 1: Create demand via micro-dosing. Phase 2: Media panic. Phase 3: Antidote launch. ROI 1200%.”

সপ্তম অধ্যায়: নীল থেকে লাল

ছয় মাস পর।

নিউরো-বুস্ট ব্যান। অর্ণব, মল্লার, প্রবাল জেলে। 302, 307, 120B ধারায় চার্জশিট। Antidote সরকার অ্যাকোয়ার করে বিনামূল্যে দিচ্ছে। MetHb পেশেন্ট প্রোটোকল সব হাসপাতালে।

রিয়া দত্তের মা জিনিয়ার চেম্বারে এলেন। হাতে মিষ্টি। “দিদি, আমার মেয়েটা তো ফিরবে না। কিন্তু আর কারো মেয়ে যেন নীল না হয়।”

জিনিয়া মিষ্টি নিলেন না। বললেন, “মাসিমা, রিয়ার কেস ফাইলটা বন্ধ করলাম আজ। লিখলাম, Death due to corporate homicide. এটা আপনার মেয়ের জাস্টিস।”

বিকেলে NRS এর ছাদে দাঁড়িয়ে জিনিয়া সিগারেট ধরালেন। ছেড়ে দিয়েছিলেন, আবার ধরেছেন। নিচে ইমার্জেন্সির সামনে অ্যাম্বুলেন্স। নতুন কেস।

ঋক ফোন করল, “মা, কবে আসবে? আজ প্যারেন্টস ডে। আমি বলেছি আমার মা ভূত ধরে।”

জিনিয়া হাসলেন। “আসছি বাবা। ভূতের অফিসে একটু কাজ বাকি।”

তিনি গ্লাভস পরলেন। মর্গের রেজিস্টারে লিখলেন: Case 06/2026. নাম: অজানা। বয়স: ২৪. ঠোঁট: নীল।

সিস্টেমের শিরায় নীল বিষ এখনো বইছে। নাম পাল্টায়, কোম্পানি পাল্টায়, লোভ পাল্টায় না।

তাই ডা. জিনিয়া সেনের ছুটি নেই। স্টেথো গলায়, স্ক্যালপেল হাতে, তিনি আবার নেমে গেলেন লাশঘরে।

কারণ নীল রক্তের হিসেব এখনো বাকি।




No comments:

Post a Comment