1 / 7
2 / 7
3 / 7
4 / 7
5 / 7
6 / 7
7 / 7

Saturday, October 10, 2026

ঘর বদল

 ছবি :কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা(Artificial Intelligence)

 ঘর বদল

সনৎ ঘোষ 

ভর সন্ধ্যেয় যাদবপুর স্টেশন রোডে হঠাৎ মালবিকাকে দেখে অবাকই হয় সুচরিতা । মালিকানা তো ! হ্যাঁ সেই । দীর্ঘদিন কোন যোগাযোগ নেই। পুজোর মুখ , এইট বি বাসস্ট্যান্ড ঢোকার মুখ পর্যন্ত কেনাকাটার ভিড় । ওপারে বাসস্ট্যান্ড ও রাস্তা পারাপারের জন্য ব্যারিকেড পড়ে গেছে , তাতেই আটকে পড়েছে এপারে সমস্ত পথচারী। সুচরিতা, মালবিকার থেকে নজর সরায় না, ভিড়ে মিশে আটকে আছে সে ও । মালবিকা এখন যাবে কোথায়  ! এতো দিন ছিলোই বা কোথায়! চেহারায় একটা বদল এসেছে , একটা ভারিক্কি ভাব । গোলাপি চুড়িদারে গলায় জড়ানো সাদা ওড়না , কানে বেদানা দানার আদলে দুল লেপ্টে আছে । চুলে বাদামী রঙের আভা । লিপিকা বান্টি ঝর্না আর মালবিকাকে নিয়ে সুচরিতাদের ছিল পাঁচজনের একটা গ্ৰুপ , প্রত্যেকের সঙ্গে ছিলো একটা অন্তরাত্মা সম্পর্ক । 

সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ শিয়ালদাগামী যে ট্রেনটা যাদবপুরে এসে থামে , বহু মহিলা যাত্রী নামে এই স্টেশনে। বেশিরভাগই মাঝ বয়সী বা ত্রিশোর্ধ , তার সিংহভাগই কাজের মেয়ে। স্টেশন রোড ধরে এইট বি বাসস্ট্যান্ডের কাছে এসে ছড়িয়ে যায় অলিগলি নানা দিকে । বাড়ির পরিচারিকা থেকে ঠিকে ঝিয়ের কাজে। সোনারপুর থেকে সুচরিতাদের এই পাঁচ জনের গ্ৰুপটাও নামতো এই যাদবপুরেই । সারাদিনে কয়েকটা বাড়ি কাজ সেরে ফিরে যেত বিকেলের ট্রেনে । তাদের এই আসা যাওয়ার ট্রেনটা ছিলো নির্দিষ্ট , অনেক একই কম্পার্টমেন্টে উঠতে না পারলে ও অন্য কম্পার্টমেন্ট থেকে নেমে সবাই একসাথে মিলিত হয়ে তারপর চলে যেত বিভিন্ন দিকে । তবে বিকেলের ফেরাটা ছিল একসাথে এক কম্পার্টমেন্টে , সেখানে অন্যথা হয় নি , আজো একই ভাবে। আর সেই পাঁচ জনের গ্ৰুপ থেকে হঠাৎই হারিয়ে গেল মালবিকা। মোবাইলের সুইচ অফ, আসা যাওয়ার পথে প্রত্যেকে মুখ চাওয়া চায়ি করে জিঞ্জেস করে চলে , কি রে মালবিকা ওরফে মালো র , কোন খবর ফেলি ! কেউ কোন খবর দিতে পারে নি । জানতে পারা যায় নি কোথায় সে । আসলে সোনারপুরের  বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে স্টেশনেই একসাথে দেখা হতো , কেউ কোনদিন কারোর  ঠিকানা ও বাড়ির বিষয় নিয়ে মাথা ঘামায় নি। আসা যাওয়ার মধ্যেই হাসি মজা খুনসুটি আর চটুল রসিকতায় মজে থাকতো সবাই , বাদ যেত না যৌন আলোচনাও । আর তাদের গ্ৰুপে সবচে হৈ হুল্লোড়ে মাতিয়ে রাখতো মালবিকা , পুরো মহিলা কম্পার্টমেন্ট জুড়েই তার গলার শব্দই বেশি পাওয়া যেত , ফ্যাজলামি থেকে যত রকম উদ্ভট ভাবনা ও দুষ্টুমি বুদ্ধি সব উজাড় করে দিতো আমাদের মধ্যে । সেই মালবিকা না থাকায় গ্ৰুপটা  নিস্তেজ, এখন আমাদের তিন জনের গ্ৰুপ , ঝর্না এখন অন্যত্র কাজ করে ঢাকুরিয়া। বাসস্ট্যান্ড ঢোকার মুখে ব্যারিকেড উঠতেই নিশ্চিত হয়ে যায় সুচরিতা। ভিড় পাতলা হয়ে যেতে ডেকে ওঠে  , মালবিকা । ডাক শুনে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ে , সামনে এগিয়ে যায় সুচরিতা । বলে ওঠে কি রে মালো , কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলি ! কোন খোঁজ খবর নেই , কি ব্যাপার তোর ! এখন কোথায় কাজে আসিস ! এভাবেই প্রশ্ন ছুঁড়ে মালবিকার দিকে তাকিয়ে থাকে সুচরিতা। আর এসবের কোন উত্তর না দিয়ে মালবিকা, সুচরিতাকেই প্রশ্ন করে তুই এই সন্ধ্যে পর্যন্ত এখনো কি করছিস ! আজ একটু দেরি হয়েছে , এখান থেকে কটা বাজার করলাম , আজ একাই ফিরবো বলে মালবিকা । আসলে তুই চলে যাওয়ার পর থেকেই আমাদের গ্ৰুপটাই ভেঙে গেছে, এলো মেলো একপ্রকার। 

এখন বল তো তোর কি খবর ? ঐ দিকটা চল , বলে সুচরিতার হাতটা ধরে রাস্তা পার হয়ে ইউনিভার্সিটির গেটের সোজা সার দেওয়া ফুটপাতের দোকানের এক জায়গায় দাঁড়িয়ে যায় দুজন । স্বল্প বসনা দুই মেয়ে , স্টুডেন্টই হবে এক হাতে চায়ের ভাঁড় অন্য হাতে আঙুলের ফাঁকে সিগারেট, চায়ে চুমুক আর সিগারেটের সুখটানে গল্প করছে খোশ মেজাজে, এ ছবি তাদের ভীষণ চেনা। সেখানে দাঁড়িয়ে তারাও চায়ে চুমুক দিতে থাকে, কাছেই নচিকেতার গান বাজছে , যখন সময় থমকে দাঁড়ায়। একসময় সুচরিতা বলে কোথায় কাজ করছিস এখন ? মালবিকা তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিমায় হেসে ওঠে  বলে, কি আর করবো ! সেই একই কাজ করছি , সচরাচর সবাই যা বলে বাড়ির কাজের মেয়ে , বা ঝি গিরি । সুচরিতা তাকিয়ে থাকতে থাকতে বলে , তুই অনেক বদলে গেছিস মালো। এই পোশাক চেহারায় তুই আমাদের মতো ঝি গিরি করিস ! 

বিস্মিত মালবিকা বলে হ্যাঁ , কেন তুই করছিস না ! 

করছি তো , তবে তোকে সম্পুর্ণ অন্য রকম লাগছে তাই বললাম। আসলে তোর এই হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ার মধ্যে একটা রহস্যের গন্ধ পাচ্ছি। 

মালবিক আবারো হেসে উঠে বলে তুই দেখছি গোয়েন্দাগিরি শুরু করেছিস । 

দাঁড়া বান্টিকে ফোন করে তোর কথা বলি। 

সুচরিতা এই কথায় মালবিকা বলে ওঠে দাঁড়া , চা টা শেষ কর , তারপর ফোন করিস। চল ঐ রেস্টুরেন্টায় গিয়ে বসি  খিদে পাচ্ছে। রেস্টুরেন্টে গিয়ে বসে ওরা। একসময় মোমোয় কামড় দিতে দিতে মালবিকাই শুরু করে , কেমন আছিস তোরা দু বছর পর দেখা । তোদের সঙ্গে যোগাযোগ করে উঠতে পারিনি। সবাই কি সেই একই বাড়িতে কাজ করছিস ! নাকি এর মাঝে বাড়ি বদল করেছিস ! মাঝে মাঝে বাড়ি বদল করতে হয় , না হলে একঘেয়েমি আসে । তাছাড়া নতুনত্বে একটা উৎসাহ থাকে ।

না রে কেউ সেভাবে বাড়ি বদল করে নি , এডজাস্ট হয়ে গেছে। তবে আমি একটা বদল করেছি , পোশাচ্ছিল না ঠিক ।

কোনটা ? 

সুলেখা মোড়ের বাড়িটা । 

নিজের বাড়িটা বদল করিস নি তো ! বলেই হা হা করে হেসে ওঠে মালবিকা।

সুচরিতা বলে , তুই একই রয়ে গেলি মালো। নিজেরটার আর কি বদল করবো ! 

তবে আমি কিন্তু বাড়ি বদলে নিয়েছি সুচরিতা , এখন আমি সেই বাড়ির আদরের ঝি । আপাতত যাদবপুরেই আছি , এরপর যা হবে দেখা যাবে । একটা বিরক্তি ভাব নিয়ে বলে সুচরিতা , মালো তুই তখন থেকে হেঁয়ালি করে চলেছিস ।

চুপ কর ! জোরে চিৎকার করে ওঠে মালবিকা। হঠাৎ এই মেজাজে ঘাবড়ে যায় সুচরিতা , তাকিয়ে থাকে মালোর দিকে । এরপর মালো গম্ভীর হয়ে বলে, আচ্ছা বলতো আমরা কোন না কোন বাড়ির ঝি বই আর কি ! এর বাইরে অন্য কাজ আছে নাকি ! মা মেয়ে বউ হিসেবে সকাল থেকে ঘর দালান ঝাড় পোছ বাসন মাজা , বিছানা পরিস্কার কাচা , রান্না স্বামীর সাথে , শোয়া বাচ্চা মানুষ , এর বাইরে আর কি কাজ আছে ! আর সহবাস ছাড়া সেই কাজ যখন অন্যের বাড়িতে করি তখন হয়ে উঠি বাড়ির ঝি , বা কাজের মেয়ে। তাই যেখানে সুবিধে পাই বদলে নিই কাজের বাড়ি । এরপর এক প্রস্থ হেসে ওঠে মালো , বলে তাইতো এবার নিজের বাড়িটাই বদলে নিয়েছি । তা বুঝলি এখনো পর্যন্ত ভালোই মনে হচ্ছে সেই বাড়ির মালিককে । আমায় খুব কেয়ার করে , আগলে রাখে অধিকার গুরুত্ব দুটোই দেয় । বেয়াদপি দেখলে আবারো বদলে নেব ! সুচরিতা এবার গম্ভীর হয়ে জিজ্ঞেস করে , তোর নিজের বাড়িতে কি এমন বেয়াদপি দেখলি ! কিছুক্ষণ চুপ থেকে মালবিকা বলে , প্রথম প্রথম কানাঘুষো শুনতাম , বুঝলি । সে কথায় কান দিই নি , আর বার বার শোনার পর সন্দেহটা তৈরি হলো , একদিন তাই তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরলাম। দেখলাম যা শুনেছি তা মিথ্যে নয়। সকালে আমি বেরিয়ে আসার পর সারাদিন খালি ঘর , আর আমার সেই ঘরে আমার মানুষটা অন্য মেয়ে মানুষ এনে সারাদিন থাকছে , মদ গিলছে । ধরা পড়ে ও কোন সংকোচ নেই , জোর খাটায় অধিকার ফলায়।আমার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলে , অথচ আমার উপার্জনেই খায় । তাইতো রইলো তোর ঘর , বলে বেরিয়ে এলাম। তবে এই মানুষটা খারাপ নয় বুঝলি। তিন বছর এই বাড়িতে মাস মাইনের ঝি ছিলুম । মানুষটার বউ নেই , কবেই তারা হয়ে গেছে। এক মেয়ে , সে ও বাইরে থাকে। বয়স হয়েছে , তবে চেহারায় জৌলুস আছে । চাকরি করতেন , এখন পেনশন পান । সেই বাড়িতেই প্রথম বছর এক বেলা ঘর মোছা রান্না বান্না সেরে , খাবার দাবার ফ্রিজে রেখে দিয়ে চলে আসতাম, নিজেই রাতের বেলা সেই খাবার গরম  করে খেত । হঠাৎ একদিন বললো ফ্রিজের খাবার রোজদিন ভালো লাগে না , যদি বিকেলে এসে রাতের খাবারটা বানিয়ে দাও তো ভালো হয় , মাইনে ডবল করে দেবো । মানুষটার ওপর কেমন একটা মায়া পড়ে গিয়েছিল , তখন একটা বাড়ি ছাড়লাম দু বেলা আসতে হবে বলে । এরপর দেখলাম মানুষটার সকালের চা খেতে বেশ বেলা হচ্ছে , না টার আগে পৌঁছাতে পারতাম না। একদিন বলেই ফেললো , একটু সকাল সকাল আসবে ! মাইনেটা আরো কিছু না হয় , বলেই থেমে যায়। অগত্যা ছাড়তে হলো আরো একটা বাড়ি , এভাবেই ছাড়তে ছাড়তে এখন আমার একটাই বাড়ি। সারাদিন পর ট্রেন ধরতাম সন্ধ্যেয় , বাড়ি ফিরতে রাত হয়ে যেতো আর বইতো না শরীর , এভাবেই শীত গ্ৰীষ্ম বর্ষায় । বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় দেখতাম মানুষটা দরজা বন্ধ করতে এসে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে রয়েছে আমার চলার দিকে , বলতো সাবধান যেও , রাত হয়ে যাবে ফিরতে । একদিন প্রচন্ড বৃষ্টি, থামার নাম নেই ঝরছে তো ঝরছে সন্ধ্যে গড়িয়ে রাত নামলো । বাড়ি ফিরবো কি করে ! বাড়ির মালিক বলে আজ আর কি করে বাড়ি যাবো মালো ! আজ রাতে থেকেই যাও । নিরুপায় হয়ে পাশের ঘরে নিজের জন্য বিছানা করলাম। খাওয়া দাওয়া সেরে চলে গেলাম পাশের ঘরে । সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম কখন , হঠাৎ ঘুম ভাঙলো দরজা খোলার শব্দে । দরজায় ছিটকানি দেওয়া ছিল না । ওপরের ঘর খোলাই থাকে একপ্রকার। আবছা আলোয় ছায়া মুর্তি দেখে ভয় পেয়ে গেলাম । আঁতকে উঠে জিঞ্জেস করলাম কে ? দেখি কাঁচুমাচু হয়ে দাঁড়িয়ে আছে মিনসে , ভাবলাম শরীর খারাপ লাগছে বোধহয় উঠে বসতেই বলে , মালো ঘুমিয়ে পড়েছিলে ! তোমার সঙ্গে কিছু কথা ছিলো , অবাক হলাম সারাদিন গেল , এই রাত দুপুরে কিসের কথা থাকতে পারে! মিনসের হলোটা কি ! ভাবতে ভাবতে বললাম কি কথা ! খাটের ওপর বসে পড়ে এরপর , আমার হাতটা ধরে মাখো মাখো স্বরে বলে মালো, তুমি বাকি জীবনটা এখানেই থেকে যেতে পারো না কি !  তোমায় ভালোবেসে ফেলেছি মালো । চমকে উঠলাম , এ মিনসে বলে কি ? অবাক হই নি , কারণ সচারচর পুরুষের চরিত্র এরকমই হয় সহজেই ভালোবেসে ফেলার প্রবণতা। আবার বহুদিন পর কোন পুরুষের কাছ থেকে এরকম ভালোবাসার কথা শুনে আবেগে ছলছলিয়ে ওঠে চোখদুটো। তার প্রকাশ দেখালাম না  , রাগ দেখিয়ে চিৎকার করে বললাম , এ কি বলছেন ! আপনি শিক্ষিত , ভদ্র সভ্য শহুরে মানুষ । আর আমি আপনার বাড়ির মাস মাইনের ঝি , আপনার মুখে এসব মানায় না। আমারও স্বামী সংসার ঘর আছে , ভাবছি সকালেই ফিরে যাবো , আপনি অন্য কাজের লোক দেখে 

নিন।  কথাগুলো শুনে ঘাবড়ে গিয়ে মুখ কালো করে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল মিনসে । পাশের ঘর থেকে টের পেলাম ছটফট করছে মানুষটা , কখনো ঘর কখনো বারান্দায় পায়চারী করার শব্দ আসছে , ঘুমের বারোটা বাজলো আমারও । ভাবতে লাগলাম আমিও , সোনারপুরের ছোট্ট এক কামরা ঘর , মাতাল লম্পট স্বামী। ভালোবাসাহীন দখলদারিত্বে একসাথে থাকা , এরকম আরো কত কি ! সকালবেলা চায়ের কাপ হাতে ধরাতে গিয়ে বুঝলাম মানুষটা লজ্জাই পেয়েছে , অনুতপ্তও নিরবে বুঝিয়ে দিচ্ছে তা । একসময় চা পর্ব শেষ করে বললাম , আসছি । ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইলো মানুষটা আমার দিকে । কদিন কেটে গেলে সোনারপুরের বাড়িতে , কিন্তু ফিরে গিয়েও  স্থির থাকতে পারলাম না ।  মানুষটার করুণ মুখটা মনে পড়তে লাগলো বার বার , নিশ্চয়ই একাই সব কাজ  করছে । যে বাড়িটা নিজের ভাবতাম বেরিয়ে পড়লাম সে বাড়ি থেকে। বিকেলের ট্রেনে ফিরে এলাম , কলিং বেল টিপতেই দরজা খুলে দিলো মানুষটা , কিছু না বলে সোজা উঠে গেলাম দোতলায় । ঘর দালান মুছে বিছানা ঝেড়ে , চা খেতে খেতে বললাম, ঠিক আছে গো থেকেই গেলাম এখানে । আমাকে দেখে অপলকে তাকিয়ে রইলো মানুষটা আমার দিকে, যেন তার সবকিছু  আমাকেই সঁপে দিলো । সেই থেকে পাকাপাকি ভাবে তিন বছর হলো এই বাড়িতেই আছি । এরপর চীৎকার করে বলে ভাই দু কাপ চা দিয়ে যাও । সুচরিতা তাকিয়ে থাকে মালবিকার দিকে , রুমালে মুখ মুছতে মুছতে একসময় মারবিকা বলে , তবে একটা কথা বুঝিয়ে দিয়েছি ঐ বুড়ো মিনসেকে , ভুলেও বাচ্চার মা হতে পারবো না । ভয় হয় বুঝলি , আবার যদি বাড়ি বদল করতে হয় । 


No comments:

Post a Comment