1 / 7
2 / 7
3 / 7
4 / 7
5 / 7
6 / 7
7 / 7

Friday, October 9, 2026

কাঠামো

 ছবি : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা(Artificial Intelligence)


 কাঠামো

সৌমিক মুখোপাধ্যায়


ছোট থেকেই বাবার হাত ধরে কুমোরটুলি যাওয়া রিমঝিমের রুটিন। যখন প্রথম মাটি আসে, রিমঝিম ওর ছোট্ট চোখ দিয়ে অপার বিস্ময়ে চেয়ে থাকে,

"অত্ত মাটি দিয়ে কি হবে গো? মা তো ছোট্ট"!

বাবা হাসতে হাসতে বলে,"হ্যাঁ আমার মা ছোট্ট,কিন্তু মায়ের তো আরো সন্তান আছে যারা আমার দুগ্গী মায়ের মত,তাদেরও গড়তে হবে না?"

দুগ্গী ওরফে রিমঝিম কি বুঝল কে জানে,খিলখিলিয়ে হেসে উঠল,হাসিটাই ওর বাবার কাছে পরম তৃপ্তি।

রিমঝিমের মা ওর জন্মের পরে পরেই চলে যায় ওদের ছেড়ে,তারপর থেকে রিমঝিম রাত হলেই তারাদের মধ্যে ওর মা কে খোঁজে, রাত হলেই ওদের কুঁড়ে ঘরের পাশে খাটিয়া পেতে দুজনে তারা দেখে, আর রিমঝিম ওর বাবার কাছে ওর মায়ের গল্প শোনে,কখন যে শুনতে শুনতে বাবার কোলেই ঘুমিয়ে পড়ে ,সেটা রিমঝিম নিজেও জানে না।

ওর বাবা কাঠামো কুড়ায়,পুজোর আগে দিয়ে বেশ ভালো দাম পাওয়া যায়,পাশেই কাশী মিত্র ঘাট কিংবা আহরীটোলায় ওর বাবা কাঠামো কুড়োতে যায়,স্কুল না থাকলে রিমঝিম ও সাথে যায়, ছোট রিমঝিম ভাবে যে ওই কাঠ দিয়ে কি হবে? মাটি দিয়েই তো মূর্তি হয়,আচ্ছা কাঠ এর মতো লম্বা জিনিস গুলোই কি মায়ের হাতের ওই বড় বড় অস্ত্র?বহুবার ভেবেছে ও,কিন্তু অনেক ভাবলে মাথা টা কেমন গুলিয়ে যায়, তাই আর বেশি ভাবে না!

রথযাত্রার দিন বাবার কাঁধে চড়ে ঘুরছিল ওরা,হরি দাদা এসে জানাল যে কাশী ঘাটে অনেক গুলো কাঠামো ভেসে আসছে, দুগ্গীর বাবা আর হরি দাদা মিলে তাড়াতাড়ি ওগুলো তুলে কুমোরটুলি তে পৌঁছে দেবে,এতে বেশ কিছুটা টাকা আসবে,এই রথের সময় কাঠামো র চাহিদা খুব,মায়ের মূর্তিতে যে খড়ের কাজ শুরু হবে!

শুনেই দুগ্গী কে কাঁধে চাপিয়ে হরি দাদার সাথে দৌড় দিল ওরা,আজ নদীতে বান এসেছে,সন্ধ্যে হয়েই এসেছে প্রায়।

  "মা তুই ঘাটে থাকবি,একটুও এদিক ওদিক যাবি না,আমি এক্ষুনি আসছি,আজ রাতে তোতে আমাতে মন ভরে তেলেভাজা খাবো কেমন?"দুগ্গীর উত্তর না শুনেই টুপ করে জলে ঝাঁপ দিল ওর বাবা, সত্যিই ওরা অনেকদিন তেলেভাজা খায়নি,রোজ ফ্যান ভাত আর কত ভালো লাগে!

 সময় যায়,আধ ঘণ্টা ,একঘণ্টা...জল থেকে কেউ ওঠে না,দুগ্গীর ভয় লাগে,প্রায় ঘণ্টা তিনেক পর হরি দাদা উঠে এলো,কিন্তু ওর বাবা উঠে এলো না তো! দুগ্গীর প্রায় কাদো কাঁদো মুখ,

"বাবা কই হরি দাদা?" 

"ওঠেনি এখনও?জলেও ছিল না যে"!

তাড়াতাড়ি ডাকা হলো সবাইকে কাশী মিত্র ঘাটে,ওর বাবার সাথে যারা কাঠামো তুলত সবাই জড়ো হয়ে জলের মধ্যে খোঁজাখুঁজি শুরু করল,ছোট্ট দুগ্গী এত কিছু বোঝে না,ও শুধু চায় যেন ওর মায়ের মত ওর বাবা কেও তারার মধ্যে খুঁজতে না হয়,

" দুগ্গা মা,আমার বাবাকে এনে দাও,মায়ের মত বাবা যেন না হারিয়ে যায়,প্লিস দুগ্গা মা"। হঠাৎ ভিড়ের মধ্যে জলে ভেজা রোগা শরীর টা নিয়ে ওর বাবা ওর দিকেই এগিয়ে আসছে,বিধ্বস্ত শরীর,তবুও মুখে একটা হাসি।ওর বাবা কে দেখতে পেয়ে হরিদাদা আর বাকিরা একটু এগিয়ে এল,

"দাদা কি হয়েছিল?"

"কিছু না"

কে যে আলতো করে ঠ্যালা দিয়ে কচুরিপানা টা সরালো,নইলে যে আজ প্রাণে বেঁচে ফিরতে হত না পল্লবকে,এদিকে ছোট্ট দুগ্গী তখনও বলে যাচ্ছে,

"মা দুগ্গা কে ডাকতে ডাকতেই তুমি এলে জানো বাবা!"

কি জানি মা নিজেই স্বয়ং বাঁচাল হয়তো!

আসতে আসতে ভিড় সরে যেতেই,ছোট্ট দুগ্গীকে কোলে নিয়ে ওর বাবা কুমোরটুলি র দিকে রওনা দিল,সাথে দুটো বড় বড় কাঠামো,কদিন বাদে এতেই যে দুগ্গার মৃন্ময়ী রূপ চিন্ময়ী হবে!

                                     


1 comment: