![]() |
| ছবি :কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা(Artificial Intelligence) |
অপূর্ব র কথা
দ্বৈপায়ন সাহা
বাবু ও বাবু, বাবা অপু খেতে আয়! ভাত বেড়ে দিয়েছি ।
- চিৎকার করে অপু কে খেতে ডাকেন মা ।
- দুই হাঁটুর মাঝে মাথা চেপে,মুখ নিচু করে বসে আছে অপু খাটের এক কোনে ।
- কতদিন থেকে বাবাকে বলে আসছে অপু,একটা সুন্দর পেন কিনে দিতে,যেমন ওদের ক্লাসে নিয়ে আসে রতনরা !
- বার বার বলা সত্ত্বেও বাবা বলেন আজ আনব,কাল আনব, মাসের শেষে মাইনে পেলে কিনে আনব কিন্তু আনা আর হয়ে ওঠে না ।
- আসলে অপুর বাবা বীরেন বাবুর অভবের সংসার , নুন আনতে পান্তা ফুরায় এমন অবস্থা , কোনও কিছুর খরচ করার আগে ওনাকে দুই বার ভাবতে হয় । এরকম অবস্থায় দামি পেন কেনা অপুর জন্য বীরেন বাবুর পক্ষে সম্ভব নয় ।
- অনেক সাধ্য সাধনের পর শেষ পর্যন্ত অপু খেতে রাজি হয় । অপুর মা অপুর মুখে ডাল মাখা ভাতের গরস তুলে দিতে দিতে বলে “রাগ করিস নি অপু ! আমি আজকেই তোর বাবাকে বলে তোর পেনের একটা ব্যবস্থা করছি ।”
- অপু জানে মা যতই সান্তনা দিক না কেন, কোনও উপায় নাই ।তার দু গাল বেয়ে অশ্রু ধারা গরিয়া পড়তে থাকে ।
- “ওরকম ভাবে খেতে খেতে কাঁদতে নেই বাবা তাতে সংসারে অভাব আসে ।”
- অপুর কপালে দইয়ের ফোঁটা দিয়ে দিচ্ছেন মা । অপু মা কে প্রণাম করে । আজ অপুর স্কুল ফাইনাল পরীক্ষা ।
- রেজাল্ট বাড়ি বেরিয়েছে , না স্কুল ফাইনাল এর নয় , অপু যে চাকরির ইন্টারভিউ দিয়েছিলো তার !
- বেসরকারি কোম্পানি তে ভালো পোস্টে চাকরি পেয়েছে অপু!
- মোবাইল ফোন টা হাত এ তুলে নেই আপু — সুখবর টা আগে তো “তাঁকে” জানাতে হবে ! বাড়িতে পরে জানালেও চলবে ।
- মোবাইলের অন্য প্রান্ত থাকে নরম গলায় শুভেচ্ছা বার্তা ভেসে আসে অপুর কানে ।
- আম্বুলেন্সে এর ভিতর মাথায় দু হাত চেপে , মাথা নিচু করে নিশ্চুপ বসে আছে অপু ।মুহূর্ত গুলো যেন প্রহর গুনছে!
- পাশে অ্যাম্বুলেন্স এ শুয়ে আছে “সে” । নাকে অক্সিজেন চলছে , লাগানো রয়েছে মনিটর —-রয়েছে দুজন সিস্টার ও একজন ডাক্তার ।এক্সিডেন্ট রোগী কে বড় হসপিটাল এ ট্রান্সফার করা হচ্ছে ।
- না বাঁচানো যাইনি “তাঁকে”। চিরস্মৃতির দেশে পাড়ি দিয়েছে অপুর “সে”।
- একে একে অপুর বাবা , মা ও অপু কে ছেড়ে চিরস্মৃতির দেশে পাড়ি জমায় ।ধীরে ধীরে ভীষণ একা হয়ে যায় অপু !
- অপু কে ঘিরে থাকে তার নানা সুখ- দুঃখের স্মৃতি, সুখের স্মৃতি মানুষকে বেশি মনে করাই না কারণ দুঃখের স্মৃতি ই মানুষের মনে দাগ কাটে ।
- অপুর সুখ- দুঃখের স্মৃতি র মাঝে ই বেঁচে থাকে অপুর সে “স্মৃতিকণা”।
- “স্যার ও স্যার ! বলছি ঘুমিয়ে পড়লেন নাকি ??”
- টেবিল থেকে মাথা না তুলে ই বললেন থানার বড়বাবু “ বলুন নৃপেন বাবু ? কি বলবেন ?”
- “বলছি স্যার , মৃত ব্যক্তি প্রাণকৃষ্ণ র সুইসাইড নোটের সাথে যে ছোট ডায়েরি তা পাওয়া গিয়েছে তাতে কিছু অসংলগ্ন অপুর কাহিনি রয়েছে স্যার । মাথা মুন্ডু তো কিছুই বুজতে পারছি না । আপনি কি কিছু বুঝছেন ?”
- “নৃপেন বাবু প্রাণকৃষ্ণর ডাকনাম হলো অপূর্ব — তাই আমার মনে হয় “অপু” হলো অপূর্ব ওরফে প্রাণকৃষ্ণর অন্তঃসত্ত্বা ।”

.png)
.png)
No comments:
Post a Comment