![]() |
| ছবি :কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা(Artificial Intelligence) |
রথীন্দ্রনাথ রায়
বাঁশিওয়ালার ছেলে বাঁশিওয়ালাই হবে । এতে এতো কথার কি আছে ? এটা হল ভারতবর্ষ । এখানে জন্মের ভবিতব্যই লিখে দেয় সন্তানের ভবিষ্যত । কিন্তু বাঁশিওয়ালা লোকটা ভাবত অন্যরকম । সে ভাবত তার ছেলে বাঁশি তৈরি করে বিক্রির জন্য মেলায় মেলায় , পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়াবেনা । তার ছেলে অনেক লেখাপড়া শিখবে, সমাজের ওপরতলায় উঠবে এবং তার মুখ উজ্জ্বল করবে । সুযোগ পেলেই সে ছেলের পড়াশোনায় মনোযোগের কথা, সাফল্যের কথা পাঁচজনকে শোনাতে । তাতে কেউ কেউ আড়ালে উপহাসও করত । কিন্তু বাঁশিওয়ালা তাতে ভ্রুক্ষেপও করতনা ।
সেবার বুড়োরাজের মেলায় গেল অনেক বাঁশি নিয়ে । ছেলেমেয়েদুটো রাত জেগে তৈরি করে দিয়েছে । ওদের চোখেমুখেও অনেক প্রত্যাশা । বাঁশি বিক্রি করে তাদের অনেক টাকা হবে । তার থেকে মিটবে ওদের অভাব । যাবার সময় বাঁশিওয়ালার ছেলেমেয়েদুটো কাছে এসে বললে , তুমি সাবধানে যেও কিন্তু ।
-- হ্যাঁ রে, যাবো । কিন্তু তোরা সাবধানে থাকিস ।
দেরি করলনা বাঁশিওয়ালা । চলতে থাকে সে ।
কিন্তু সে ওদের জন্য না পারে ভালো খাবার, পোশাকের ব্যবস্থা করতে । না পারে বইপত্তরের ব্যবস্থা করতে । তবু ওরা পরীক্ষায় ভালো ফল করে । মাষ্টারমশায়রা ওদের খুব প্রশংসা করে । এমনকি ছেলেটা বাঁশিতে ভালো সুরও তুলতে পারে । আর মেয়েটাও সেই সুরের সঙ্গে গলা মিলিয়ে গাইতেও পারে । গর্ব হয় বাঁশিওয়ালার ।
মেলায় যাওয়ার কয়েকদিন পর থেকেই বাঁশিওয়ালার ছেলে বিকেলে অপেক্ষা করত তার বাবার জন্য । সেদিনও অপেক্ষা করছিল । হঠাৎ আকাশে খুব ঘন মেঘ জমতে শুরু করল । মনে হল এখনই বোধহয় ঝড়বৃষ্টি শুরু হবে । সে বাঁশিতে একটা সুর তুলল । যে সুরের সে নাম জানেনা ।কিন্তু সেই সুরটা গিয়ে পৌঁছাল এক ধনীর অট্টালিকায় । ওই ধনীলোকটির একমাত্র মেয়ে এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত । কোনও চিকিৎসাতেই কাজ হয়না । ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে চলেছে সে । সেই মেয়েটি আজ এই সুর শুনে বিছানা থেকে উঠে মাকে বলল , মা ওই বাঁশিওয়ালাকে ডাকো । আমি ওর সুর শুনবো ।
বাঁশিওয়ালার ছেলেকে আসতেই হল । ওরা বলল , তোমাদের কোনও অভাব থাকবেনা । শুধু আমার মেয়েটাকে বাঁচিয়ে দাও ।
সেদিন বাঁশির সুর শুনে মেয়েটি তার রোগযণ্ত্রণা অনেকটাই ভুলে গেল । সে বাঁশিওয়ালাকে বলল , তুমি রোজ আসবে । আমাকে বাঁশি শোনাবে ।
বাঁশিওয়ালা ভাবল কি আছে তার বাঁশিতে ? যা শুনে মেয়েটি তার রোগযণ্ত্রণা অনেকটাই ভুলে গেল ? তার বাবা বাড়ি ফিরে বলল , তুমি খুব ভালো করেছ বাবা । তবে টাকাপয়সা নিওনা । কারণ সুর হল সরস্বতীর দেওয়া । তা বিক্রি করতে নেই ।
একটু একটু করে ভালো হয়ে উঠছিল মেয়েটি । ডাক্তার বলল, মিরাকল্ । চিকিৎসাবিজ্ঞানকেও হারিয়ে দিল একটা বাঁশির শব্দ । অনেক সময় মিউজিক থেরাপিতেও কাজ হয় । কিন্তু এ যে অনেকটা অসম্ভবকেও সম্ভব করে দিল । একটা পুঁচকে ছেলের বাঁশির যাদু মেয়েটির মনে রোগযণ্ত্রণার বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি এনে দিয়েছে । তার মধ্যে বাঁচার ইচ্ছে তৈরি হয়েছে । এখন ওষুধগুলোও ঠিকঠাক খাচ্ছে । চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছে । যেটা প্রায় দীর্ঘ তিনমাস দেখা যায়নি । মেয়েটি এখন জানালার ধারে অপেক্ষা করে কখন তার বাঁশিওয়ালা বন্ধুটি আসবে । একদিন আসতে দেরি করলে অথবা না আসলে সে রাগারাগি করে এবং খেতে চায়না । সেদিন মেয়েটির বাবা দীপেনবাবু সোজা গিয়ে উপস্থিত হল বাঁশিওয়ালার ঘরে । বাড়িতেই ছিল ছেলেটির বাবা হরি সাঁতরা । বাঁশি তৈরিতে ব্যস্ত ছিল । দীপেনবাবুর মতো লোক ওদের বাড়িতে যেতেই বড্ড ব্যস্ত হয়ে পড়ল ওরা । কোথায় বসতে তা নিয়েই ভাবনাচিন্তা শুরু হল । তা কুঁড়ে ঘরই বলা চলে । তালপাতার ছাউনি দেওয়া ছোট্ট দুখানি ঘর । বর্ষায় হয়তো এদের কষ্টের শেষ থাকেনা । এমন একটা হতদরিদ্র পরিবারই আজ তার মেয়েকে রক্ষা করতে পারে ।
দীপেনবাবু কোনও ভূমিকা না করেই হরি সাঁতরার হাতদুটো জড়িয়ে ধরে বলল , একমাত্র তুমিই আমাকে বাঁচাতে পারো ।
-- না না, এ কি করছেন ? আপনারা হলেন মান্যিগন্যি লোক । আমাদের মতো গরীবগুর্বোদের হাতে ধরা আপনাদের মানায়না ।
-- না ভাই, তুমি জানোনা তোমার ছেলে আমার কি উপকার করেছে ।
-- আমি সব জানি । ছেলে আমাকে বলেছে ।
-- কিন্তু মেয়ে যে আমার এখনো সম্পূর্ণ সুস্থ হয়নি । তাই আরও ক'দিন যদি -- তার জন্য আমি যতো টাকা লাগে ?
-- টাকার কথা বলবেননি । আমরা গরীব বটে । কিন্তু সুর -- সে তো মা সরস্বতীর দেওয়া । তা আমরা বেচতে পারবনি ।
গ্রামের একপাশে পড়ে থাকা, কুঁড়ে ঘরের বাসিন্দা-- বৃষ্টিতে যাদের মাথা ঢাকার উপায় নেই , দুবেলা অন্নেরও যাদের সংস্থান নেই - সেই তারা কেমন করে অর্থের প্রলোভনকেও এড়িয়ে যেতে পারে ? তার ঘরে অনেক টাকা আছে । তবু আজ সে বড়ো অসহায় । কি ধনে ধনী এই দরিদ্র বাঁশিওয়ালা ?
-- যাবে । আমার ছেলে যাবে-- তাতে আপনার মেয়ে যদি সেরে ওঠে তার থেকে আনন্দের আর কি হতে পারে ?
রান্না করছিল অনুপম-- বাঁশিওয়ালার ছেলে 'বাঁশিওয়ালা' । সে বুঝতে পেরেছে যে মেয়েটিকে সে বাঁশি শোনায় ইনি তার বাবা ।
ওকে কাছে ডাকল দীপেনবাবু । বলল, তুমি যেও বাবা । তোমার বাঁশির যাদু দিয়ে আমার মেয়েটাকে তুমি বাঁচিয়ে তোলো বাবা ।
কথা দিল হরি সাঁতরা ।
অনুপম অর্থাৎ বাঁশিওয়ালার ছেলের ইচ্ছে না থাকলেও বাবার কথা অমান্য করেনি কোনও দিন । সেদিনও করলনা । ওর বোন পায়েল এগিয়ে এসে বলল , মেয়েটা কেমন দেখতে রে । -- তুই বড্ড ফাজিল হয়েছিস ।
সেদিন বিকেলে পায়েলকে নিয়ে ওদের বাড়ি গেল অনুপম । মেয়েটি ওরা আসবে শুনে বেশ চনমনে হয়েছিল । ওরা আসতেই এগিয়ে এল সে । বলল, আমি জানতাম , আমার বন্ধু আসবেই ।
পায়েলের কাছে এসে বলল, তুমিও আমার বন্ধু ।
পায়েল আশ্চর্য হল । এত সুন্দর একটা ফুটফুটে মেয়ে -- তারও কিনা এমন কঠিন অসুখ ? মা সরস্বতীর কাছে প্রার্থনা করল দাদার বাঁশি যেন ওকে সারিয়ে তুলতে পারে ।
তিনজনের জন্যই খাবার নিয়ে এল মেয়েটির মা । তিনি বললেন, আগে সবাই খেয়ে নাও, তারপর না হয় ।
মেয়েটি রাজি হল । আশ্বস্ত হল ওর মা ।
আসলে একাকীত্বই ওই মেয়েটির মধ্যে এমন একটা অবসাদ এনে দিয়েছে যার জন্য ও নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিল সবকিছুর থেকে । এদের সান্নিধ্যে এসে ও স্বাভাবিক হয়তো হোক ।
বললেন , অনামিকা তুমিও খেয়ে নাও মা ।
ততক্ষণে বাঁশিতে সুর তুলল অনুপম । বেশ একটা পরিচিত গানের সুর । আনন্দে হাততালি দিয়ে উঠল মেয়েটি অর্থাৎ অনামিকা । মা চেয়ে চেয়ে দেখলেন, সত্যিই শিশুর কাছ থেকে তার শৈশবটাকে কেড়ে নেওয়া উচিত হয়নি । তার জন্যই হয়তো অবসাদ । পরিণতিতে এক জটিল অসুখের শিকার তার একমাত্র মেয়ে ।
তিনি চলে গেলেন ।
ওরা নাচে গানে হাসিতে মেতে রইল বেশ কিছুক্ষণ । সন্ধ্যে হতে আর দেরি নেই এমন সময় অনুপম তার বাঁশি থামিয়ে বলল, আজ আসি ।
অনামিকা কাছে এসে বলল, তুমি আমার বন্ধু । তোমাকে প্রতিদিন আসতে হবে ।
-- চেষ্টা করব ।
-- না আসবে বলো ।
অনামিকা আবার বায়না জুড়ল । কথা দিল অনুপম ।
পায়েল ফেরার সময় বলল, মেয়েটা খুব সুন্দর নারে দাদা ? তোর সঙ্গে ভারি মানাবে ।
-- তুই বড্ড পাকা হয়ে গেছিস । দাঁড়া বাবাকে বলে তোরই আগে ব্যবস্থা করতে হবে ।
ই - ই - ই, ভেঙচি কেটে মাঠের পথ ধরে পায়েল । অনুপম চলতে চলতে পিছনের দিকে তাকায় । দেখে অনামিকা ছাদের ওপর থেকে তার দিকে চেয়ে হাত নাড়ছে । সেও হাত নাড়ল ।
ক'দিন পরেই সরস্বতী পুজো । চারদিকে সাজো সাজো রব । স্কুলের অনুষ্ঠানে ওদেরকে থাকতে হবে । হেডস্যার বলেছেন । তাই কাজের ফাঁকে ওরা দুজনই তৈরি হয়ে নিচ্ছিল । বাবা যাবে কোনো একটা মেলায় । তার জন্য অনেক বাঁশি তৈরি করে দিল ওরা ।
অনামিকা এখন অনেকটা স্বাভাবিক । কৃতজ্ঞতা জানাতে এসেছিলেন দীপেনবাবু । কথায় কথায় অনেক টাকার কথাও বললেন । কিন্তু হরি সাঁতরা সবিনয়ে তাও ফিরিয়ে দিলেন ।
দীপেনবাবু ভাবছিলেন অন্য একটি আশঙ্কার কথা । একমাত্র মেয়ে । তার জন্য তিনি অনেক কিছু করতে পারেন । কিন্তু মেয়ে অনুপমের প্রতি দুর্বল হয়ে পড়ে ? ওরা গরীব এবং নীচ জাতিও বটে । মেয়ের যদি ভালো লাগে তাহলে তিনি বাধা দেবেন কিভাবে ?
আশঙ্কার মধ্যেই সরস্বতী পুজো এসে গেল । সেদিন খুব সাজল অনামিকা ।
অপরদিকে অনুপম এবং পায়েলের পোশাক যথেষ্ট ম্লান । কিন্তু আগত সবার মনোযোগকেই আকর্ষণ করল ওরা দুই ভাই বোন । পায়েলের গান এবং অনুপমের বাঁশি শুনে সবাই ধন্য ধন্য করল । সবাই ওদের সঙ্গে কথা বলতে চায় । বন্ধু হতে চায় । নীচবর্ণের বলে কেউ ওদের দূরে সরিয়ে রাখলনা ।
সারাদিন ওদের খুব আনন্দে কাটল ।
ক'দিন পরে মায়ের কাছে একটা মাউথ অর্গানের কথা বলল অনামিকা । মা ভাবলেন মেয়ের যদি মাউথ অর্গানের সখ হয় সে তো ভালো কথা । দীপেনবাবুকে বলতেই তিনি বললেন, কালই অফিস থেকে ফেরার পথে শহর থেকে নিয়ে আসব ।
বেশ বড় এবং আওয়াজটাও বেশ মিষ্টি । অনামিকা যদিও ভালো বাজাতে পারলনা । তবু তার বেশ পছন্দ হল । মাকে বলল , এটা আমার বন্ধুর জন্য ।
মা চুপ করে রইলেন । তিনিও একসময় ওর মতো বয়সে এক অসম্ভব স্বপ্ন দেখেছিলেন । যে স্বপ্নটা আছো তাঁকে তাড়া করে ফেরে । তাঁর মেয়ের জীবনেও যদি ? না না, তা অসম্ভব । খুব দয়ালু মেয়েটা । গরীবদের কিছু দিতে পারলে ও খুশিই হয় ।
সেদিন প্রতিমা বিসর্জনের পরে অনুপমকে একটু আড়ালে ডেকে নিল অনামিকা । মাউথ অর্গানটা ওর হাতে দিয়ে বলল , বন্ধু এটা তোমার জন্য ।
-- কি এটা ?
-- মাউথ অর্গান ।
-- কিন্তু আমি তো এটা বাজাইনি ।
-- তুমি পারবে ।
দুই ঠোঁটের মাঝে নিয়ে ফুঁ দিতেই বেজে উঠল অর্গানটা । দুই হাত দিয়ে সুরটাকেও নিয়ণ্ত্রণ করল সে । সে সুর ছড়িয়ে পড়ল আকাশে বাতাসে । সঙ্গীদের থেকে অনেকটাই দূরে চলে গেছিল ওরা । সেদিকেও খেয়াল ছিলনা ওদের । অনামিকার চোখে শুধুই ভালো লাগা । সে বলল , বাঁশিওয়ালা আই লাভ ইউ ।
বাঁশিওয়ালা কিছু বলতে পারলনা । সে গরীব এবং নীচবর্ণের । তাই ' আই লাভ ইউ ' কথাটাও সে বলতে পারলনা । শুধু নির্নিমেষ চোখে চেয়ে রইল অনামিকার দুই চোখের দিকে ।
সেদিন ঘরে ফিরে বাবার কাছে খুব বকুনি খেল অনামিকা । একটা গরীব নীচবর্ণের ছেলের সঙ্গে মেলামেশাটা ভালো দেখায়না ।
ওর মা বললেন , যখন চিকিৎসাবিজ্ঞানও জটিল দুরারোগ্য ব্যাধির কাছে হার মেনেছিল তখন ওই গরীব নীচবর্ণের ছেলেটাই তোমার মেয়েকে সারিয়ে তুলেছিল ।
-- তার জন্য আমি টাকা দিতে চেয়েছিলাম ।
-- এটা তো প্রমান হল টাকা দিয়ে সবকিছু পাওয়া যায়না ।
-- তোমার আস্কারাতেই মেয়েটা ক্রমশ হাতের বাইরে চলে যাবে । এখনো সময় আছে । নাহলে পরে আফশোস করতে হবে ।
সেদিনের মতো বকুনিটা থামলেও অনামিকা বুঝতে পারল বাঁশিওয়ালার কথা ভাবাটা বুঝি অন্যায় হচ্ছে । কিন্তু ওর বাঁশির সুর যে ওকে পাগল করে দেয় । ও ভুলে যায় ওর সমস্ত অস্তিত্ব ।
কয়েকদিন পরে মামা এলেন কলকাতা থেকে । কি একটা বিষয়েবাবার সঙ্গে পরামর্শও চলতে থাকল ।
মামা বললেন, এটা বাল্যের প্রেম । সফল হয়না । কলকাতার একটা নামী স্কুলে ভর্তি করে দিলেই ঠিক হয়ে যাবে ।
অনামিকা অন্ধকারে দাঁড়িয়ে শুনল কথাটা ।
কষ্ট হল তার । বিছানায় শুয়ে অনেক কাঁদল । মা ওর মাথায় হাত বললেন , বাবার কথার অন্যথা করিসনে মা ।
কষ্ট হলেও বেশ কিছুদিন অনুপমের সঙ্গে দেখা করলনা । ভুলে থাকার চেষ্টা করলেও পারলনা । তারপর একদিন ওর বাবা বলল , কলকাতায় তোমার পড়াশোনার ব্যবস্থা হয়েছে । তোমাকে কালই সেখানে যেতে হবে । কোনও কথা বললনা সে । নীরবে সম্মতি দিল । সেদিন সন্ধ্যের সময় বাঁশি বেজে উঠতেই পায়ে পায়ে গিয়ে দাঁড়াল দিঘির ধারে হেলে পড়া বটগাছের নিচে । ওকে লক্ষ্য করেনি অনুপম । একমনে বাজিয়ে চলেছিল বাবার কাছে শেখা মেঘমল্লার । আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছিল সেই অনবদ্য সুরের মূর্ছনা । কাঁদতে কাঁদতে ওর পায়ের কাছে বসে পড়ল অনামিকা ।
বাঁশি থামিয়ে দুহাত দিয়ে ওকে বুকে টেনে নিল অনুপম । বলল , ভেবোনা আমি অপেক্ষায় থাকব ।
চোখের জল মুছে নিল অনামিকা । বলল, বাঁশিওয়ালা আমিও একসময় বড় হবো । তখন কেউ আমাকে বাধা দিতে পারবেনা । আর যখনই আমার কথা মনে পড়বে অর্গানটা বাজিও তাহলে আমার ছোঁয়া পাবে ।
-- তাই হবে ।
-- তুমি না আমার বন্ধু ? তাহলে তোমার চোখে জল কেন ? তুমি না বাঁশিওয়ালা । আমার বাঁশিওয়ালা হয়েই থাকবে চিরকাল ।



No comments:
Post a Comment