![]() |
| ছবি :কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা(Artificial Intelligence) |
উৎসবের আলো, আড়ালের অন্ধকার
অনীশ ঘোষ
নজরকাড়া প্রতিমা আর
থিমের মণ্ডপ, চোখ ধাঁধানো আলোর
রোশনাইের সঙ্গে ঢাকের বোল আর শিশু থেকে বয়স্ক নারী-পুরুষের নতুন পোশাকের গন্ধ মিলে
গড়ে ওঠে বাঙালির সেরা পার্বণ শারদোৎসব। অথচ দুর্গাপুজো বা উৎসবের সেই ঝলমলে আলোর নিচেই
জমা থাকে কিছু অন্ধকার গল্প। যাঁদের হাত ধরে একটা শহর বা রাজ্য এমনতর দিলখোলা উৎসবে
মেতে ওঠে, প্রাণের স্ফূরণ ঘটে
উৎসবের অঙ্গনে, তাঁদের অনেকেরই জীবনে
পুজো আসে বিপ্রতীপ বাস্তবতার রূপ নিয়ে। উৎসবের আলোর আড়ালে থাকে সেই কালো অন্ধকারের
ছেঁড়া ছেঁড়া ছবি।
কুমোরটুলির স্যাঁতসেঁতে
গলিজুড়ে যখন প্রতিমার শরীরে রঙের কাঁচা গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে, তখন বোঝা যায় পুজো এসে গেছে। কয়েক মাস সময় ধরে
দিনরাত এক করে প্রতিমা গড়ে তোলার কাজে মগ্ন থাকেন মৃৎশিল্পীরা। তাঁদের হাতে গড়া মা
দুর্গার চোখ টানা রূপ দেখতে মণ্ডপে লাখো মানুষের ভিড় হয়। কিন্তু উৎসবের দিনগুলোয় যখন
মণ্ডপে মণ্ডপে ঢাক বাজে, তখন কুমোরটুলি থেকে
বাংলার বিভিন্ন্ প্রান্তের জীর্ণ কুমোরঘরে নেমে আসা অদ্ভুত নীরবতার আড়ালেই থেকে যান
মৃৎশিল্পী ও কারিগরেরা।
বিদেশের পুজো বা কলকাতার
বড় বাজেটের প্যান্ডেলে প্রতিমা পাঠিয়েও অনেক ক্ষুদ্র শিল্পীর ঘরে পরিবারের ছোটদেরও
একটা নতুন পুজোর জামা জোটে না। চড়া সুদে ধার নেওয়া টাকা শোধ করতেই চলে যায় সব রোজগার।
চোখের জলে আর মনখারাপের আবহেই কেটে যায় তাঁদের পরিবারের উৎসবের দিন। ঘর ফাঁকা করে
প্রতিমা চলে যাওয়ার পর কারখানা বা স্টুডিওয় বসে থাকা ক্লান্ত শিল্পীর চোখ দুটোই তখন
বলে দেয়, উৎসব সবার জন্য সমান
আনন্দ নিয়ে আসে না।
উৎসবের মূল আকর্ষণ
নিজেদের হাতে গড়ে তুললেও, উৎসব চলাকালীন এবং
তার ঠিক আগে মৃৎশিল্পীদের পরিস্থিতি মানবিক সংকটের রূপ নেয়। কলকাতার কুমোরটুলি থেকে
জেলার বিভিন্ন প্রান্তের মৃৎশিল্পীদের উৎসবকালীন বাস্তব পরিস্থিতি হল, উৎসবের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত প্রতিমা তৈরি ও রঙের
কাজ চলায় তাঁদের স্যাঁতসেঁতে, অন্ধকার ও ঘিঞ্জি
ঘরেই দিন-রাত কাটাতে হয়। রঙের তীব্র রাসায়নিক গন্ধের মধ্যেই তাঁরা ঘুমোন বা খাওয়া-দাওয়া
সারেন। বিশেষ করে কুমোরটুলির মতো এলাকার বহু কারখানায় নিজস্ব কোনও শৌচাগার নেই। উৎসবের
ঠিক আগে ও উৎসবের দিনগুলোতে সাধারণ শৌচাগার ব্যবহার করতে গিয়ে চরম ভোগান্তি হয়। মহালয়া
থেকে শুরু করে চতুর্থী-পঞ্চমী পর্যন্ত প্রতিমা সরবরাহের শেষ সময় পর্যন্ত দিনগুলোয় শিল্পী
এবং সহকারীরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হয়তো মাত্র ২-৩ ঘণ্টা ঘুমোনোর সুযোগ পান। এর পরেও অনেক
পুজো কমিটি প্রতিমা নেওয়ার সময় পুরো টাকা মেটায় না। উৎসবের মধ্যেও বকেয়া টাকার জন্য
পুজো কমিটির কর্মকর্তাদের পেছনে ঘুরতে হয় মৃৎশিল্পীদের। বাঁশ, খড়, মাটি এবং রঙের দাম প্রতি বছর বাড়লেও প্রতিমার দাম সেই অনুপাতে বাড়ে না। ফলে লাভের
মুখ দেখার পরিবর্তে দেনা শোধ করতেই সিংহভাগ টাকা চলে যায়। পুজো আসার ঠিক আগে বা উৎসবের
দিনগুলোতে অসময়ের বৃষ্টি মৃৎশিল্পীদের কাছে চরম বিপর্যয়ের শামিল। কাঁচা মাটির প্রতিমা
নষ্ট হলে বা রঙ ধুয়ে গেলে অনেক পুজো কমিটিই প্রতিমা নিতে অস্বীকার করে। তার উপর আছে
রঙের জন্য নতুন করে খরচা বাড়া। দর্শনার্থীরা মণ্ডপে এসে থিম এবং আলোর প্রশংসা করেন,
কিন্তু যে মৃৎশিল্পী দিনের
পর দিন ঘাম ঝরিয়ে প্রতিমার অনন্য রূপ দিলেন, উৎসবের দিনগুলোতে তাঁর শ্রমের কোনও স্বীকৃতিই দেওয়া
হয় না। লাইমলাইট থেকে তাঁরা সম্পূর্ণ দূরে থেকে যান।
বড় বড় পুজোমণ্ডপের
আকাশছোঁয়া বাজেটের থিম পুজো দেখে আমরা বিস্মিত, চমৎকৃত হই। গাল ভরা তারিফ করি। কিন্তু যাঁরা দিনের
পর দিন রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে এই
থিমগুলো তাঁদের শৈল্পিক অভিজ্ঞতা ও প্রতিভা দিয়ে সাজিয়ে তোলেন, নিখুঁতভাবে গড়ে তোলেন চোখ টানা মণ্ডপসজ্জা,
তাঁরা প্রায় সকলেই দূরদূরান্ত
থেকে আসা প্রায় দুঃস্থ শ্রমিকের দল। মেদিনীপুর, বাঁকুড়া বা মুর্শিদাবাদ থেকে এসে শহর ও শহরতলির
বিভিন্ন মণ্ডপ গড়ে তোলেন তাঁরাই। বাঁশ বাঁধেন, কাপড় খাটান। তাঁদের হাতের সূক্ষ্ম জাদুতে যখন মনোরম
এক-একটি শিল্পকর্ম গড়ে ওঠে, তখন সবাই উচ্ছসিত
হয়ে বাহবা দেন। কিন্তু যখন লোকমুখে বিখ্যাত হয়ে ওঠা অপরূপ সৌন্দর্যময় সেই মণ্ডপটির
উদ্বোধন করতে আসেন কোনও সেলিব্রিটি বা বিনোদন জগতের কোনও জনপ্রিয় তারকা, তখন কিন্তু ভিড়ের মধ্যে এই শ্রমিকের দল প্যান্ডেল
থেকে দূরে সরে থাকতে বাধ্য হন। নিজেদের গড়া সেই আলোকিত মহলে তাঁদেরই ঢোকার অনুমতি থাকে
না। উৎসবের রাতে দূরে কোনও অস্থায়ী প্লাস্টিকের ছাউনির নিচে বাড়ির লোকগুলোর জন্য মন
কেমন করা রাত কাটানোর মধ্যে দিয়েই অনাদরে কেটে যায় তাঁদের পুজোর দিন।
উৎসবের নেপথ্যে থাকা
প্যান্ডেল নির্মাণকর্মী, আলোকশিল্পী,
ঢাকি এবং সাফাইকর্মীদের পরিস্থিতিও
অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। উৎসবের দিনগুলোতে তাঁদের
জীবনের চরম ঝুঁকি থাকে।মণ্ডপ নির্মাণ শ্রমিকদের প্রায় ২০ থেকে ৫০ ফুট উঁচুতে উঠে কাজ
করতে হয়। উদ্বেগের বিষয় হল, কোথাও কোনও সেফটি
বেল্ট, হেলমেট বা সুরক্ষার ব্যবস্থা
থাকে না। সেসব ছাড়াই তাঁরা বিপজ্জনক কাজ করেন। ফলে প্রতি বছরই উঁচু বাঁশের কাঠামো থেকে
পড়ে মৃত্যুও ঘটে। দূরদূরান্তের গ্রাম থেকে আসা এই শ্রমিকদের উৎসবের দিনগুলোতে থাকার
কোনও নির্দিষ্ট জায়গা থাকে না। মণ্ডপের নিচে বা খোলা ফুটপাথে চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে
রাত কাটাতে হয়।
গ্রামীণ এলাকার বহু
ঢাকি সামান্য কিছু উপার্জনের আশায় উৎসবের দিনগুলোতে শহরে আসেন। কিন্তু আধুনিক ডিজে
বা রেকর্ডেড মিউজিকের দাপটে তাঁদের চাহিদা এবং পারিশ্রমিক দুই-ই আগের চেয়ে অনেক কমেছে।
বর্তমানে ভিনরাজ্যের পুজোর বায়না পেয়ে যাওয়ার সময় ঢাকি-সহ বিভিন্ন পেশার কারিগরদের
মনে এক অদ্ভুত ভয় কাজ করে। ভাষাগত সমস্যা এবং পরিচয়পত্র সংক্রান্ত কড়াকড়ির কারণে অনেক
সময় তাঁদের হেনস্থার শিকার হতে হয়। উৎসবের ৪-৫ দিন একটানা ভারী ঢাক কাঁধে নিয়ে মণ্ডপে
মণ্ডপে বা শোভাযাত্রায় ঘোরার ফলে ঢাকিদের পিঠ ও কাঁধে দীর্ঘমেয়াদী ব্যথা শুরু হয়। সেসব
লুকিয়েই শুধুমাত্র পেটের কথা চিন্তা করে তাঁদের মুখ বুজে ঢাকে বোল তুলতে হয়।
উৎসবের দিনগুলোতে
মণ্ডপ বা সংলগ্ন এলাকার আলোকসজ্জা ঠিক রাখাও অত্যন্ত কঠিন কাজ। কোথাও কোনও লাইট কাটলে
বা তার ছিঁড়ে গেলে তা সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করতে হয়। ফলে উৎসবের দিনগুলোতে এই টেকনিশিয়ানদের
রাতের পর রাত না ঘুমিয়ে প্যান্ডেলের এক কোণে বসে কাটাতে হয়। ভিড়ের মধ্যে হুটহাট বৈদ্যুতিক
লাইনের সমস্যা মেরামত করতে গিয়ে এবং সুরক্ষাবিধি না মেনে কাজ করায় শর্ট সার্কিট বা
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঝুঁকি সবসময় তাড়া করে বেড়ায় এঁদের। অন্যদিকে, লাখ লাখ দর্শনার্থীর ফেলে যাওয়া প্লাস্টিকের বোতল,
খাবারের প্যাকেট এবং বর্জ্য
পরিষ্কার করতে দিন-রাত এক করে খাটেন সাফাইকর্মীরা।
সাধারণ মানুষ যখন মণ্ডপে আনন্দ করেন, তখন তাঁদের নোংরা পরিষ্কার করতেই ব্যস্ত থাকেন তাঁরা। কোনও হ্যান্ডগ্লাভস বা মাস্ক
ছাড়াই পচা, নোংরা আবর্জনা পরিষ্কারে
হাত লাগাতে হয়, যা বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে
ফেলে দিতেই পারে। অথচ উৎসবের দিনগুলোতে তাঁদের এই অবদান সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত থাকে।
দুর্গাপুজো বা অন্যান্য
বড় উৎসবের সময় যখন ছোট-বড় প্রায় সকলেই নতুন পোশাকে সেজে মণ্ডপে মণ্ডপে আনন্দে মেতে
ওঠেন, ঠিক সেই সময় উৎসবের নেপথ্য
কারিগরেরা থেকে যান চরম বৈপরীত্যে ভরা বেদনাময় জীবনে। আলোর নিচে অন্ধকারের সেই দিনগুলোর
বাস্তব পরিস্থিতি প্যান্ডেল নির্মাণকর্মী, ডেকরেটর ও আলোকশিল্পী বা সাফাইকর্মী এবং ঢাকিদের একটা বড় অংশের কাছেই বিরূপ হয়ে
দেখা দেয়। এঁরা আসেন মূলত গ্রাম বা মফসসল থেকে। উৎসবের দিনগুলোয় তাঁদের কারোর কোনও
ভাল থাকার জায়গা থাকে না। নির্মীয়মাণ মণ্ডপের পিছনে, কোনও ক্লাবঘরের এক কোণে বা খোলা ফুটপাথেই তাঁবু
খাটিয়ে, প্লাস্টিক বিছিয়ে রাত কাটাতে
হয়। তাঁদের জন্য থাকে না কোনও ভাল শৌচাগার বা পরিচ্ছন্ন স্নানাগার। ফলে উৎসবের মাস
দুই-তিন আগে থেকেই উৎসব চলাকালীন ৫-৬টা দিন জুড়েও তাঁদের চরম অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির
মধ্যে দিন কাটাতে হয়। পুজো শুরু হয়ে গেলেও কারিগরদের ছুটি থাকে না নানা কারণে। মণ্ডপশিল্পী
থেকে আলোকশিল্পীদের চব্বিশ ঘণ্টা সতর্ক থাকতে হয়। ভিড়ের কারণে মণ্ডপ বা রাস্তা নোংরা
হলে তা সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার করার জন্য সাফাইকর্মীদের উৎসবের দিনগুলোয় স্বাভাবিকের
চেয়ে দ্বিগুণ খাটতে হয়। দর্শনার্থীরা যখন রেস্তোরাঁয় দামি খাবার খাচ্ছেন, তখন মণ্ডপের পেছনে এই কারিগরেরা অনেক সময় ঠিকাদারের
দেওয়া অত্যন্ত নিম্নমানের সাধারণ খাবার বা মুড়ি-বাতাসা খেয়েই দিন কাটান। পুজো কমিটির
এলাহী আয়োজনের খুব কম অংশই তাঁদের পাত পর্যন্ত পৌঁছায়। পুজো চলাকালীনও উঁচু বাঁশের
কাঠামোয় উঠে কাজ করা বা বিপজ্জনক বিদ্যুতের তার মেরামতের কাজ করতে হয় এঁদের। সেফটি
বেল্ট বা হেলমেট ছাড়াই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা কাজ করে যান। কেউ অসুস্থ বা আহত হলে
উৎসবের মরশুমে তৎক্ষণাৎ ভাল চিকিৎসা পাওয়া
কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। যে উৎসবে সবাই পরিবারের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেন, সেই সময় এই কারিগরেরা নিজের সন্তান ও পরিবারকে গ্রামে
ফেলে রেখে দূর শহর-মফসসলে অন্যদের আনন্দের জোগান দিতেই ব্যস্ত থাকেন।
পুজো ও উৎসবের আলোকোজ্জ্বল
রূপের আড়ালে কিছু গভীর সামাজিক অন্ধকারও লুকিয়ে থাকে। অর্থনৈতিক বৈষম্য ও চাপ,
পরিবেশ দূষণ, যানজট ও অব্যবস্থাপনা, শ্রমিক শোষণ, অনলাইন ও সাইবার অপরাধ ইত্যাদি যার অন্যতম। পুজোর
ঠিক আগে ধর্মতলা বা গড়িয়াহাটের শপিং মলগুলোয় ভিড় উপচে পড়ে। কিন্তু সেই সব মলের বাইরের
ফুটপাথে বসে থাকে কিছু চেনা মুখ। বেলুন বিক্রেতা শিশু বা ফুল বিক্রি করা মেয়েটি ফ্যাল
ফ্যাল করে তাকিয়ে দেখে সামনে দিয়ে চলে যাওয়া উৎফুল্ল মানুষজনের ঝকমকে নতুন পোশাকের
বাহার।
উৎসবের এই বিপুল অর্থনৈতিক
লেনদেনের মাঝেও এক শ্রেণির মানুষের কাছে পুজো মানে দুটো বাড়তি রোজগারের আশা। যা তাঁদের
সংসারে গরম ভাত বা রুটির স্বাদ-গন্ধের জোগান দেয়। মণ্ডপের ভোগের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা
অসহায়, ক্ষুধার্ত মুখগুলোর সঙ্গে
পুজো আর দামি রেস্তোরাঁর বাইরে অপেক্ষারত ভিড়ের দূরত্ব উৎসবের দিনগুলোয় তাই আরও বেশি
করে যেন স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
শহরের আবাসনগুলো যখন
উৎসবের আলোয় ঝলমল করে, তখন কিছু ফ্ল্যাটের
জানালা থেকে যায় অন্ধকারের আড়ালে। বহু প্রবীণ মানুষের ছেলেমেয়েরা জীবিকার তাগিদে দূরপ্রবাসী।
ভিডিও কলেই তাঁদের পুজোদর্শন শেষ হয়। পাশাপাশি শহরের বৃদ্ধাশ্রমগুলোয় পুজোর দিনগুলো
আসে ভারী বাতাস আর নীরবতাকে সঙ্গে নিয়ে। ঢাকের বাদ্যি যখন কানে আসে, তখন সেখানকার আবাসিকদের মনে পড়ে যায় পুরনো দিনের
যৌথ পরিবারের চণ্ডীমণ্ডপের অন্তরঙ্গ পুজোর দিনগুলোর অসামান্য রূপছবি, গল্পকথা। তুমুল কোলাহলের মাঝেও তাই একাকীত্ব এই
উৎসবের অন্যতম একটি ট্র্যাজিক দিক।
দুর্গাপুজো শুধু ধর্মীয়
উৎসবই নয়, সামাজিক ও অর্থনৈতিক
মিলনক্ষেত্র। কিন্তু উৎসব তখনই সম্পূর্ণ হয়, যখন আলোর বৃত্তে থাকা মানুষগুলো তাঁদের হাত বাড়িয়ে
দিকে পারবেন অন্ধকারের আড়ালে থাকা মানুষগুলোর দিকে। পুজোমণ্ডপের জাঁকজমকের আড়ালে থাকা
এই সব মানুষের গল্পই আসলে উৎসবের আসল চালিকাশক্তি।



No comments:
Post a Comment