1 / 7
2 / 7
3 / 7
4 / 7
5 / 7
6 / 7
7 / 7

Saturday, October 10, 2026

ব্রিটিশ কলকাতার শারদ-আখ্যান: সাহেবি তোষণ থেকে বিপ্লবের বারুদ : এক বিস্মৃত অধ্যায়

 ছবি :কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা(Artificial Intelligence)

ব্রিটিশ কলকাতার শারদ-আখ্যান: সাহেবি তোষণ থেকে বিপ্লবের বারুদ : এক বিস্মৃত অধ্যায়

সঞ্চারী ভট্টাচার্য্য

লালমুখো সাহেবদের ‘দেবী বন্দনা’ এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পূজা

 

ভূমিকা:

ইতিহাসের ধূসর পাতায় শারদীয়া

শরতের নীল আকাশ আর কাশবনের দোল আজও বাঙালির মনে উৎসবের আমেজ বয়ে আনে। কিন্তু বর্তমানের এই আলোকোজ্জ্বল থিম আর জনজোয়ারের অন্তরালে চাপা পড়ে আছে ব্রিটিশ আমলের কলকাতার এক অন্যরকম দুর্গাপূজার আখ্যান। সেই সময়কার পুজো কেবল ভক্তি বা আরাধনার মাধ্যম ছিল না, তা ছিল ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কূটনীতি, উদীয়মান বাবু সংস্কৃতির দম্ভ এবং অবহেলিত শ্রেণির অস্তিত্ব রক্ষার এক সংঘাতময় দলিল।

 আঠারো এবং উনিশ শতকের কলকাতা ছিল এক অদ্ভুত বৈপরীত্যের শহর। একদিকে গঙ্গার পাড়ে ফোর্ট উইলিয়ামের কঠোর সামরিক শাসন, অন্যদিকে দেশি জমিদারদের অন্দরমহলে ঝাড়লণ্ঠনের আলোয় সাহেবি খানাপিনা আর বাইজি নাচ। এই পটভূমিতেই গড়ে উঠেছিল এমন কিছু ইতিহাস, যা আজ আমাদের কাছে প্রায় অবিশ্বাস্য মনে হয়। লর্ড ক্লাইভের মণ্ডপে উপস্থিতি থেকে শুরু করে নিষিদ্ধ পল্লীর মাটির অধিকার আদায়ের লড়াই, কিংবা পরবর্তীকালে দেবী দুর্গাকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র বিপ্লবের বারুদ—প্রতিটি মোড়েই লুকিয়ে আছে এক একটি বিরল সত্য।

ইতিহাসের ধুলো ঝাড়লে দেখা যায়, দুর্গাপূজা সেই সময় হয়ে উঠেছিল এক অলিখিত রাজনৈতিক হাতিয়ার। সাহেবদের সন্তুষ্ট করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার প্রচেষ্টা যেমন ছিল, তেমনই ছিল বিদেশি শাসনের শৃঙ্খল ভাঙার এক নিঃশব্দ প্রস্তুতি। সমসাময়িক দলিল, পুলিশের গোপন নথিপত্র এবং লুপ্তপ্রায় পারিবারিক ডায়েরি থেকে উঠে আসা এই কাহিনীগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আজকের সর্বজনীন উৎসবের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল এক অস্থির এবং বৈপ্লবিক সময়খণ্ডে। এই প্রবন্ধের পরবর্তী তিনটি পর্বে আমরা সেই বিস্মৃতপ্রায় সত্য ঘটনাগুলোর গভীরে প্রবেশ করব, যেখানে দেবী দুর্গার আরাধনা হয়ে উঠেছিল শোষিত মানুষের মেরুদণ্ড আর শাসকগোষ্ঠীর এক বিচিত্র কৌশল।

আঠারো শতকের মধ্যভাগ। পলাশীর যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পতনের পর কলকাতার আকাশ-বাতাস তখন এক নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সাক্ষী হচ্ছে। গঙ্গার পাড়ে ফোর্ট উইলিয়ামের প্রাচীর তখন কেবল সামরিক শক্তির প্রতীক নয়, বরং তা ছিল এক উদীয়মান সাম্রাজ্যের নাভিকেন্দ্র। সেই সময়ে কলকাতার দূর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ঘটে যাওয়া এক বিস্ময়কর সত্য ঘটনা আজও ইতিহাসের পাতায় ধুলোমাখা অবস্থায় পড়ে আছে। সেটি হলো—ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সরাসরি দূর্গাপূজা পরিচালনা এবং ব্রিটিশ রাজপুরুষদের মূর্তিপূজায় সক্রিয় অংশগ্রহণ।

পলাশীর যুদ্ধ এবং একটি ঐতিহাসিক মানত

১৭৫৭ সাল। পলাশীর যুদ্ধের পর লর্ড ক্লাইভ তখন কলকাতার দণ্ডমুণ্ডের কর্তা। লোকশ্রুতি এবং কিছু সমসাময়িক দলিল অনুযায়ী, যুদ্ধের পর লর্ড ক্লাইভ মনে করেছিলেন যে তাঁর এই অভাবনীয় জয়ের পেছনে কোনো এক অলৌকিক শক্তির হাত আছে। কিন্তু কলকাতায় তখন কোনো গির্জা বা চার্চ ছিল না যেখানে তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারেন (পুরনো সেন্ট জনস চার্চ তখনও নির্মিত হয়নি)।

এই সুযোগটি গ্রহণ করেছিলেন শোভাবাজারের তৎকালীন দেওয়ান নবকৃষ্ণ দেব। তিনি ক্লাইভকে প্রস্তাব দেন, "আপনি যদি ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাতে চান, তবে আমাদের বাড়ির দেবী দুর্গার চরণে অর্ঘ্য প্রদান করুন।" ১৭৫৭ সালের সেই শরৎকালে শোভাবাজার রাজবাড়িতে যে পূজা হয়েছিল, তা ইতিহাসের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। লর্ড ক্লাইভ নিজে সেই পুজোয় উপস্থিত হয়ে দেবীকে সোনা ও জহরতের অলঙ্কার উৎসর্গ করেছিলেন। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর একটি দল রাজবাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে দেবী দুর্গাকে তোপ দেগে ‘রয়্যাল স্যালুট’ বা গার্ড অফ অনার প্রদান করেছিল। এটিই ছিল কলকাতার প্রথম ‘অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান’ পূজা, যা পরবর্তী এক শতাব্দী ধরে এক অদ্ভুত প্রথার জন্ম দিয়েছিল।

 কোম্পানির খাতা এবং পুজোর বাজেট

আজকের দিনে দাঁড়িয়ে আমরা ভাবতে পারি না যে, একটি ইউরোপীয় বণিক গোষ্ঠী বা একটি খ্রিস্টান সরকার মূর্তিপূজার জন্য সরকারি তহবিল থেকে টাকা খরচ করছে। কিন্তু ব্রিটিশ আমলের আদি পর্বে এটাই ছিল ধ্রুব সত্য। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির তৎকালীন হিসাবরক্ষণ নথিপত্র বা 'অ্যাকাউন্ট বুক' ঘাঁটলে দেখা যায়, প্রতি বছর দূর্গাপূজার সময় কোম্পানির পক্ষ থেকে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করা হতো।

 ১৭৬৫ সালে যখন কোম্পানি দেওয়ানি লাভ করল, তখন তারা নিজেদের হিন্দু রাজাদের উত্তরসূরি হিসেবে প্রমাণ করতে চাইল। ফলে কলকাতার বিভিন্ন নামকরা পরিবারের পুজোয় কোম্পানি সরকারিভাবে অর্থ সাহায্য পাঠাত। শুধু তাই নয়, কোম্পানির বড় সাহেবরা বিশ্বাস করতেন যে বাংলার প্রজানুরঞ্জন করতে হলে তাদের ধর্মীয় ভাবাবেগে শরিক হতে হবে। তাই বড়লাট বা গভর্নর জেনারেলের নির্দেশে ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ থেকে তোপ দেগে দেবীর মহাসপ্তমীর বোধন ঘোষণা করা হতো। গঙ্গার ঘাটে যখন প্রতিমা আসত, তখন ব্রিটিশ সিপাহিরা কুচকাওয়াজ করে প্রতিমাকে অভিবাদন জানাত। এই ঘটনাগুলো আজ অবিশ্বাস্য মনে হলেও সমসাময়িক পত্রিকা ‘ক্যালকাটা গেজেট’-এ এর বিশদ বিবরণ পাওয়া যায়।

সাহেবদের ‘ভক্তি’ না কি রাজনৈতিক কূটনীতি?

প্রশ্ন উঠতে পারে, গোঁড়া প্রোটেস্ট্যান্ট বা ক্যাথলিক ব্রিটিশরা কেন হঠাৎ দেবী দুর্গার ভক্ত হয়ে উঠলেন? এর পেছনে ছিল নিখাদ বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক কূটনীতি। আঠারো শতকের কলকাতায় তখন নব্য ধনিক শ্রেণীর উদ্ভব ঘটছে—যাদের আমরা ‘বাবু’ হিসেবে চিনি। এই বাবুরা ছিলেন ব্রিটিশদের ব্যবসায়িক অংশীদার। তাঁদের খুশি রাখা মানেই ছিল ব্যবসার পথ মসৃণ করা।

শোভাবাজার রাজবাড়ি, জোড়াসাঁকো রাজবাড়ি বা হাতিবাগানের মিত্তির বাড়িতে যখন পুজোর আসর বসত, তখন সেখানে ব্রিটিশ আমলাদের জন্য আলাদা গ্যালারি তৈরি করা হতো। সাহেবরা আসতেন তাঁদের মেমসাহেবদের নিয়ে। সেখানে মদ্যপান, নাচগান আর খানা-পিনা চলত মধ্যরাত পর্যন্ত। অনেক সাহেব আবার হিন্দু শাস্ত্র নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছিলেন। শোনা যায়, জন হোলওয়েল বা ওয়ারেন হেস্টিংসের মতো শাসকরা ব্যক্তিগত জীবনেও হিন্দু দর্শনের প্রতি অনুরক্ত ছিলেন। ওয়ারেন হেস্টিংস তো রীতিমতো কাশীর পণ্ডিতদের দিয়ে শান্তি স্বস্ত্যয়ন করাতেন নিজের রাজনৈতিক বিপদমুক্তির জন্য।

বিলেতি ফতোয়া এবং একটি যুগের সমাপ্তি

তবে এই 'সাহারেনী পূজা' বা সাহেবদের পুজোর মধুচন্দ্রিমা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। উনিশ শতকের শুরুর দিকে ইংল্যান্ড থেকে মিশনারিরা ভারতে আসতে শুরু করেন। উইলিয়াম কেরি বা আলেকজান্ডার ডাফের মতো মিশনারিরা ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নালিশ জানান যে, ভারতের খ্রিস্টান শাসকরা ‘পৌত্তলিকতা’ বা মূর্তিপূজাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। তাঁদের মতে, এটি ছিল বাইবেলের পরিপন্থী।

১৮৩০-এর দশকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এই নিয়ে উত্তাল বিতর্ক হয়। শেষ পর্যন্ত ১৮৩৩ সালে লর্ড বেন্টিঙ্কের আমলে একটি সরকারি নির্দেশ জারি করা হয়, যেখানে বলা হয় যে কোম্পানির কোনো সরকারি কর্মচারী বা সেনাবাহিনী আর কখনও কোনো ধর্মীয় উৎসবে সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারবে না। এমনকি দুর্গা প্রতিমার সামনে তোপ দাগাও নিষিদ্ধ করা হয়। এই নির্দেশের পর থেকেই কলকাতার পুজো থেকে ‘সাহেবিয়ানা’র আনুষ্ঠানিক বিদায় ঘটে।

কিন্তু ততদিনে কলকাতার পুজোর গায়ে ইউরোপীয় সংস্কৃতির ছাপ স্থায়ীভাবে লেগে গেছে। আজও আমরা যে পুজোর সাজে ‘ঝাড়লণ্ঠন’ বা ‘সাহেবি কারুকাজ’ দেখি, তা আসলে সেই আঠারো শতকের কোম্পানির আমলের অবশিষ্টাংশ।

এই কাহিনী আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, দূর্গাপূজা কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান ছিল না; এটি ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের শুরুতে এক অদ্ভুত মিলনমেলা। যেখানে ক্ষমতার দম্ভ আর আধ্যাত্মিকতা একাকার হয়ে গিয়েছিল। একদিকে যখন সাধারণ মানুষ দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছে, তখন কলকাতার জমিদাররা ইংরেজ সাহেবদের তুষতে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে পুজোর আয়োজন করতেন। এই বৈপরীত্যই ছিল ব্রিটিশ আমলের কলকাতার আসল রূপ।

নিষিদ্ধ পল্লীর পুণ্য মাটি ও ভিক্টোরিয়ান নৈতিকতার সংঘাত

উনিশ শতকের মধ্যভাগ। কলকাতা তখন এক অদ্ভুত সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে রামমোহন রায়, বিদ্যাসাগরদের নেতৃত্বে নবজাগরণের জোয়ার, অন্যদিকে ব্রিটিশদের প্রবর্তিত ইংরেজি শিক্ষা আর ভিক্টোরিয়ান নীতিবোধের কঠোর শৃঙ্খল। এই দুইয়ের মাঝখানে পড়ে কলকাতার সনাতন দূর্গাপূজা এক অদ্ভুত সংকটের সম্মুখীন হয়েছিল। সেই সংকটের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এক আদিম প্রথা—প্রতিমা নির্মাণে ‘নিষিদ্ধ পল্লী’ বা বারাঙ্গনাদের গৃহের মাটি ব্যবহারের আবশ্যকতা।

পূণ্য মৃত্তিকা: যখন অপবিত্রই হয়ে ওঠে পবিত্র

আজও কুমারটুলিতে প্রতিমা তৈরির সময় যে নটি জায়গার মাটি বা ‘নবমৃত্তিকা’ লাগে, তার মধ্যে সবচেয়ে বিতর্কিত অথচ গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘বেশ্যাদ্বার মৃত্তিকা’ বা যৌনকর্মীদের আঙিনার মাটি। শাস্ত্রীয় মতে, এই মাটি ছাড়া দেবী প্রতিমা অসম্পূর্ণ। কিন্তু উনিশ শতকের কলকাতার ‘ভদ্রলোক’ সমাজের কাছে এটি ছিল এক চূড়ান্ত অস্বস্তির কারণ।

এই প্রথার নেপথ্যে থাকা বিরল সত্যটি হলো—ঐতিহাসিকভাবে বিশ্বাস করা হতো যে, কোনো পুরুষ যখন কোনো যৌনকর্মীর গৃহে প্রবেশ করেন, তখন তিনি তাঁর জীবনের সমস্ত সঞ্চিত ‘পুণ্য’ সেই ঘরের দরজায় ফেলে রেখে ভেতরে যান। ফলে সেই দরজার মাটি হয়ে ওঠে বিশ্বের সবচেয়ে পবিত্র মাটি বা ‘পুণ্য মৃত্তিকা’। আবার অন্য একটি তত্ত্বে বলা হয়েছে, দেবী দুর্গা যেহেতু ‘নবকন্যা’র (নয় প্রকার নারী শক্তির প্রতীক) আরাধনা স্বীকার করেন, যার মধ্যে নর্তকী এবং বারাঙ্গনারাও অন্তর্ভুক্ত, তাই তাঁদের বাদ দিয়ে দেবীর পূর্ণতা সম্ভব নয়।

ভিক্টোরিয়ান নীতিবোধ ও মিশনারিদের আক্রমণ

১৮৪০-এর দশক। কলকাতায় তখন মিশনারিদের দাপট তুঙ্গে। আলেকজান্ডার ডাফ বা উইলিয়াম কেরি-র মতো মিশনারিরা হিন্দুধর্মের এই ‘অদ্ভুত’ রীতিনীতিকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ‘বর্বরতা’ এবং ‘অশ্লীলতা’র প্রমাণ হিসেবে পেশ করতেন। ব্রিটিশ রাজপুরুষরা, যাঁরা একসময় ঘটা করে পুজোয় অংশ নিতেন, তাঁরাও তখন এই প্রথাকে ‘পাপ’ বলে গণ্য করতে শুরু করলেন।

ব্রিটিশ আমলার স্ত্রীরা, যাঁরা ভিক্টোরিয়ান শুচিবায়ুগ্রস্ততায় ভুগতেন, তাঁরা প্রশ্ন তুলেছিলেন—যে উৎসবে বারাঙ্গনাদের ঘরের মাটি ব্যবহৃত হয়, সেই উৎসবের মণ্ডপে কোনো ‘ভদ্র’ ব্রিটিশ পরিবারের যাওয়া উচিত কি না। এর ফলে এক সময় ব্রিটিশ পুলিশ প্রশাসন গোপনে কুমোরদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করে যাতে তারা এই মাটির ব্যবহার বন্ধ করে। কিন্তু কুমোররা ছিল অনড়। তাঁদের কাছে এটি কেবল প্রথা নয়, এটি ছিল ‘মায়ের’ আদেশ।

এক গোপন অভিযানের সত্য কাহিনী

এই পর্বের সবচেয়ে বিরল সত্য ঘটনাটি ঘটেছিল ১৮৬০-এর দশকের কোনো এক মেঘলা রাতে। কলকাতার এক প্রখ্যাত প্রতিমা শিল্পী (যাঁকে ইতিহাসে ‘পটুয়া’ বলা হতো) কুমারটুলি থেকে রাতের অন্ধকারে ছদ্মবেশে সোনাগাছির গলিতে গিয়েছিলেন মাটি সংগ্রহ করতে। সেই সময় ব্রিটিশ পুলিশের কড়াকড়ি ছিল যে, কোনো ‘নিষিদ্ধ’ এলাকা থেকে কিছু সংগ্রহ করে প্রকাশ্য রাস্তায় আনা যাবে না, কারণ তাতে শহরের ‘নৈতিক স্বাস্থ্য’ বিঘ্নিত হতে পারে।

সেই শিল্পী এক বৃদ্ধা যৌনকর্মীর দরজায় গিয়ে নিয়ম অনুযায়ী মাটি ‘ভিক্ষা’ চেয়েছিলেন। শাস্ত্র অনুযায়ী, এই মাটি কেনা যায় না, এটি ভিক্ষা হিসেবে গ্রহণ করতে হয়। সেই বৃদ্ধা যখন এক আঁজলা মাটি সেই শিল্পীর হাতে তুলে দেন, তখন ব্রিটিশ পুলিশের এক টহলদারি দল তাঁকে ধরে ফেলে। অভিযোগ ছিল ‘অসামাজিক যোগাযোগ’। কিন্তু কলকাতার তৎকালীন কিছু ‘বাবু’ বা জমিদার, যাঁরা ঐতিহ্যের পূজারী ছিলেন, তাঁরা এগিয়ে আসেন সেই শিল্পীর সাহায্যে। তাঁদের যুক্তি ছিল, ব্রিটিশ আইন যদি ভারতীয়দের ধর্মে হস্তক্ষেপ না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে, তবে এই মাটি সংগ্রহে বাধা দেওয়া আইনত ভুল। শেষ পর্যন্ত ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেট এই বিচিত্র মামলার কোনো কূলকিনারা করতে না পেরে শিল্পীটিকে মুক্তি দেন। এই ঘটনাটি সেই সময় কলকাতার বাজারে মুখে মুখে ‘মাটির লড়াই’ নামে পরিচিতি পেয়েছিল।

বারাঙ্গনাদের আত্মসম্মান ও উৎসবের অধিকার

এই উৎসবের অন্তরালে আরেকটি সত্য হলো—ব্রিটিশ আমলের কলকাতার যৌনকর্মীরা কেবল মাটি দিয়েই ক্ষান্ত হতেন না। তাঁরা নিজেরা চাঁদা তুলে গোপনে দেবীর অলঙ্কার তৈরি করে পাঠাতেন বড় বড় জমিদার বাড়িতে। যদিও তাঁদের সেই মণ্ডপে প্রবেশের অধিকার ছিল না, কিন্তু দেবীর অঙ্গে শোভা পেত তাঁদেরই দেওয়া গয়না।

ব্রিটিশ আমলের শেষ দিকে যখন কলকাতায় দাঙ্গা বা মহামারী দেখা দিত, তখন এই অবহেলিত নারী সমাজই এগিয়ে আসত অন্নছত্র খুলতে। দূর্গাপূজার এই ‘নিষিদ্ধ মাটি’ আসলে এক নীরব প্রতিবাদের প্রতীক ছিল—যেখানে সমাজ যাদের ‘অস্পৃশ্য’ বলে দূরে সরিয়ে রাখত, স্বয়ং আদ্যাশক্তি তাঁদেরই গৃহের মাটি দিয়ে নিজের দেহ নির্মাণ করতেন। এটি ছিল পিতৃতান্ত্রিক ভিক্টোরিয়ান সমাজের গালে এক সপাটে চড়।

এই কাহিনী আমাদের দেখায় যে, দূর্গাপূজা কেবল ভক্তি নয়, বরং এটি ছিল সামাজিক রক্ষণশীলতা এবং ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে এক নীরব বিপ্লব। ব্রিটিশরা চেয়েছিল কলকাতাকে ‘সভ্য’ করতে তাদের নিজস্ব নৈতিকতার ছাঁচে, কিন্তু কলকাতার মাটি ও মানুষের শিকড় ছিল অনেক গভীরে। সেই শিকড় আজও আমাদের কুমারটুলির প্রতিমায় মিশে আছে।

বিপ্লবের বারুদ ও দশভুজার ডাক: পরাধীন ভারতের দুর্গাপূজা

বিশ শতকের শুরু। বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনের আগুনে তখন জ্বলছে বাংলা। কলকাতার রাজপথ তখন কেবল মিছিলের নয়, বরং ব্রিটিশ বিরোধী গোপন ষড়যন্ত্র আর সশস্ত্র বিপ্লবের চারণভূমি। এই উত্তাল সময়ে দুর্গাপূজা তার ধর্মীয় খোলস ছেড়ে এক শক্তিশালী রাজনৈতিক হাতিয়ারে রূপান্তরিত হলো। এই পর্বের বিরল সত্যটি হলো—কীভাবে দেবী দুর্গার আরাধনার আড়ালে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের এক বিশাল অংশ পরিচালিত হয়েছিল এবং কীভাবে খোদ নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এই উৎসবকে বিপ্লবের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন।

বারোয়ারি থেকে সার্বজনীন: ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ

উনিশ শতকের শেষ পর্যন্ত পূজা ছিল মূলত বিত্তবান জমিদারদের ‘পারিবারিক’ উৎসব। কিন্তু ১৯১০ সালের পর থেকে কলকাতায় এক নতুন জোয়ার এল— ‘বারোয়ারি’ বা ‘সার্বজনীন’ পূজা। এই পরিবর্তনের নেপথ্যে ছিল সাধারণ মানুষের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা। ১৯১৯ সালে বাগবাজারে প্রতিষ্ঠিত হলো ‘সনাতন ধর্মোৎসাহিনী সভা’ (যা আজ বাগবাজার সার্বজনীন নামে পরিচিত)। এই পুজোর লক্ষ্য কেবল দেবীর আরাধনা ছিল না, বরং এর লক্ষ্য ছিল হিন্দু সমাজের ভেদাভেদ ভুলে মানুষকে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে একজোট করা।

নেতাজি এবং বাগবাজারের বীরত্বগাথা

এই পর্বের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সত্য ঘটনাটি ঘটেছিল ১৯৩৮-৩৯ সালের দিকে। তখন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলন চরম শিখরে। বাগবাজার সার্বজনীন দুর্গাপূজার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নিলেন স্বয়ং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। ব্রিটিশ গোয়েন্দা দপ্তরের নথিপত্র (আইবি ফাইল) অনুযায়ী, সেই সময় দুর্গাপূজার মণ্ডপগুলো ছিল বিপ্লবীদের গোপন আস্তানা।

নেতাজি বুঝতে পেরেছিলেন যে, ব্রিটিশরা ধর্মীয় জমায়েতে সহজে বাধা দিতে পারবে না। তাই তিনি পুজো মণ্ডপের পাশে ‘স্বদেশী মেলা’র আয়োজন করলেন। সেখানে বিলেতি কাপড়ের বদলে খাদি প্রচার করা হতো। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, দেবী দুর্গার মূর্তির পায়ের নিচে থাকা অসুরকে অনেক সময় এমনভাবে তৈরি করা হতো, যার অবয়বের সাথে ব্রিটিশ শাসনের কোনো না কোনো অনুষঙ্গ মিলে যেত। এটি ছিল শিল্পীর তুলিতে এক নীরব বিদ্রোহ।

অস্ত্রের পূজা ও বিপ্লবী প্রশিক্ষণ

একটি বিরল ঐতিহাসিক তথ্য হলো, ১৯৩০-এর দশকে কলকাতার বহু সার্বজনীন পুজোয় মহাসপ্তমী ও মহাষ্টমীর সকালে ‘বীরষ্টমী’ পালন করা হতো। ব্রিটিশ পুলিশ যখন রাজনৈতিক সভা বা লাঠি খেলা নিষিদ্ধ করেছিল, তখন বিপ্লবীরা পুজোর মণ্ডপকে ব্যবহার করতেন শরীরচর্চা এবং অস্ত্র চালনার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে।

শোনা যায়, উত্তর কলকাতার একটি নামকরা পুজোর মণ্ডপের পেছনে গুপ্ত কুঠুরিতে লুকিয়ে রাখা হতো আগ্নেয়াস্ত্র। পুজোর ঢাকের আওয়াজে চাপা পড়ে যেত বিপ্লবীদের শলাপরামর্শ। ব্রিটিশ গোয়েন্দারা মণ্ডপে ঘুরে বেড়াতেন ‘সিভিল ড্রেস’-এ, কিন্তু ভক্তদের ভিড়ে তাঁরা মিশে যেতে পারতেন না। মা দুর্গার দশ হাতের দশটি অস্ত্র তখন পরাধীন ভারতের যুবকদের কাছে কেবল পৌরাণিক রূপক ছিল না, তা ছিল শৃঙ্খল ভাঙার বাস্তব প্রেরণা।

১৯৩০-এর সেই ঐতিহাসিক সংঘাত

১৯৩০ সালে যখন মহাত্মা গান্ধীর আইন অমান্য আন্দোলন চলছে, তখন কলকাতার দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ পুলিশ এক অদ্ভুত নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তারা বিসর্জনের শোভাযাত্রায় দেশাত্মবোধক গান গাওয়া এবং ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি দেওয়া নিষিদ্ধ করে। কিন্তু কলকাতার মানুষ সেই রক্তচক্ষু উপেক্ষা করেছিল।

বিসর্জনের দিন গঙ্গার ঘাটে হাজার হাজার মানুষ জমায়েত হয়ে ব্রিটিশ পুলিশের সামনেই ‘বন্দে মাতরম’ ধ্বনি দিয়ে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে তুলেছিলেন। পুলিশ লাঠিচার্জ করলেও বিসর্জনের মিছিল থামেনি। সেই বছর দেবী দুর্গা বিসর্জন কেবল এক প্রতিমা নিরঞ্জন ছিল না, তা ছিল ব্রিটিশ আইনের প্রকাশ্য অবমাননা এবং বাঙালির আত্মশক্তির প্রদর্শন।

শেষ কথা: উৎসব যখন ইতিহাস

ব্রিটিশ আমলের কলকাতার দুর্গাপূজা আমাদের শিখিয়েছে যে, ধর্ম যখন মানুষের অধিকারের সাথে মিশে যায়, তখন তা এক অদম্য শক্তিতে পরিণত হয়। প্রথম পর্বে আমরা দেখেছিলাম সাহেবদের তোষামোদ, দ্বিতীয় পর্বে সামাজিক লাঞ্ছনার বিরুদ্ধে মাটির লড়াই, আর এই শেষ পর্বে আমরা দেখলাম স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্র।

১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্ট ভারত স্বাধীন হওয়ার পর কলকাতার প্রথম দুর্গাপূজা ছিল এক অন্যরকম আবেগের। সেই বছর বহু মণ্ডপে দেবী দুর্গার সাথে ভারতমাতার ছবি রাখা হয়েছিল। ব্রিটিশরা চলে গেলেও রেখে গিয়েছিল এক বিশাল ইতিহাস, যার প্রতিটি ইটের ভাঁজে, প্রতিমার সাজে আর ঢাকের বাদ্যিতে আজও সেই পরাধীন আমলের লড়াইয়ের গন্ধ পাওয়া যায়। আজকের জৌলুসপূর্ণ থিমের পুজোর আড়ালে যেন হারিয়ে না যায় সেই সত্য ঘটনাগুলো—যেখানে একটি উৎসব হয়ে উঠেছিল একটি জাতির মেরুদণ্ড।

উপসংহার

কলকাতার দুর্গাপূজা কেবল একটি বার্ষিক উৎসব নয়, বরং এটি ব্রিটিশ আমলের বাংলার রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানসিক বিবর্তনের এক জীবন্ত আর্কাইভ। আঠারো শতকের সেই ‘সাহেবি পূজা’ থেকে শুরু করে বিশ শতকের ‘বিপ্লবী পূজা’—এই দীর্ঘ যাত্রাপথে উৎসবটি বারবার নিজের চরিত্র বদলেছে, কিন্তু তার কেন্দ্রবিন্দুতে সবসময় ছিল বাঙালির আত্মপরিচয় রক্ষার লড়াই।

আমরা দেখেছি কীভাবে লর্ড ক্লাইভ বা ওয়ারেন হেস্টিংসের মতো শাসকরা এই উৎসবকে ব্যবহার করেছিলেন ঔপনিবেশিক ক্ষমতা সুসংহত করতে। আবার দেখেছি, ভিক্টোরিয়ান নীতিবোধ যখন সমাজকে বিভক্ত করতে চেয়েছিল, তখন ‘নিষিদ্ধ পল্লীর মাটি’ কীভাবে হয়ে উঠেছিল প্রান্তিক মানুষের অস্তিত্বের জয়গান। শেষ পর্যন্ত, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে দেবী দুর্গা যখন মণ্ডপ ছেড়ে রাজপথে বিপ্লবীদের অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়ালেন, তখনই এই উৎসব প্রকৃত অর্থে ‘সার্বজনীন’ হয়ে উঠল।

ব্রিটিশরা কলকাতা ছেড়েছে বহু দশক আগে, কিন্তু তাদের রেখে যাওয়া সেই ইতিহাসের ধূসর পদচিহ্ন আজও কুমারটুলির প্রতিটি প্রতিমায় আর বনেদি বাড়ির ঠাকুরদালানে লুকিয়ে আছে। আজকের আলোকোজ্জ্বল থিম আর আধুনিকতার আড়ালে যে দুর্গাপূজাকে আমরা দেখি, তার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল সেই সব বিরল ও সত্য ঘটনার ওপর ভিত্তি করে—যেখানে ভক্তি মিশে গিয়েছিল বিদ্রোহে, আর সংস্কৃতি হয়ে উঠেছিল প্রতিরোধের ভাষা।

 উপসংহারে বলা যায়, ব্রিটিশ আমলের কলকাতার দুর্গাপূজা আমাদের শিখিয়েছে যে, কোনো বড় উৎসবই কেবল আচার-সর্বস্ব নয়। তার অন্তরালে থাকে সময়ের চাকা ঘোরানোর গল্প। এই ইতিহাসগুলো জানা কেবল কৌতূহল মেটানো নয়, বরং নিজের শিকড়কে চেনার এক অনিবার্য প্রয়াস। দশভুজা দেবী যখন অশুভ বিনাশ করেন, তখন তিনি আসলে সেই সময়ের অন্যায়, বৈষম্য আর পরাধীনতাকেই বারবার আঘাত করে গেছেন। সেই সংগ্রামের রেশ আজও আমাদের উৎসবের প্রতিটি ঢাকের আওয়াজে স্পন্দিত হয়।

তথ্যসূত্র -

১. কলিকাতা দর্পণ (১ম খণ্ড), রাধারমণ মিত্র, সুবর্ণরেখা, ১৯৫৮, ৮৩২ পৃষ্ঠা, ব্রিটিশ আমলের কলকাতার সমাজ, স্থাপত্য এবং বিবর্তনের প্রামাণ্য ইতিহাস।

২. কলকাতা: এক পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস, অতুল সুর, জেনারেল প্রিন্টার্স অ্যান্ড পাবলিশার্স, ১৯৮১, ২৭৪ পৃষ্ঠা, কলকাতার গোড়াপত্তন থেকে আধুনিক শহর হয়ে ওঠার ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিক বিবর্তন।

৩. কলকাতার দুর্গাপূজা: বিবর্তনের ইতিহাস, চণ্ডী মুখোপাধ্যায়, দে'জ পাবলিশিং, ২০০৪, ১৯২ পৃষ্ঠা, পারিবারিক পুজো থেকে বারোয়ারি পুজোর বিবর্তন ও ব্রিটিশ শাসনের প্রভাব।

৪. কলকাতার বাবু কালচার, বিনয় ঘোষ, প্রকাশ ভবন, ১৯৫৩, ২০০ পৃষ্ঠা, উনিশ শতকের কলকাতার বাবু সমাজ ও তাঁদের জীবনযাত্রার এক তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ।

৫. হুতম প্যাঁচার নকশা, কালীপ্রসন্ন সিংহ, চ্যাটার্জি অ্যান্ড কোং (সংকলিত সংস্করণ), ১৮৬২, ১৬০ পৃষ্ঠা, ব্রিটিশ আমলের কলকাতার আমোদ-প্রমোদ এবং সামাজিক দ্বিচারিতার ব্যঙ্গাত্মক চিত্র।

৬. কলকাতার সেকাল ও একাল, হরিসাধন মুখোপাধ্যায়, পি. এম. বাগচী অ্যান্ড কোং, ১৯১৫, ১১০৪ পৃষ্ঠা, প্রাচীন কলকাতা থেকে ব্রিটিশ আমলের সমৃদ্ধ ইতিহাসের বিশদ বিবরণ।

৭. সেকালের দারোগার কাহিনী, প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়, গুরুদাস চট্টোপাধ্যায় অ্যান্ড সন্স, ১৮৯২, ৩০০ পৃষ্ঠা, ব্রিটিশ আমলের কলকাতার অপরাধ জগত এবং তৎকালীন পুলিশের কাজের রোমাঞ্চকর বিবরণ।

৮. পুরাতনী, হরিপদ ভৌমিক, মিত্র ও ঘোষ পাবলিশার্স, ১৯৯৫, ২৪০ পৃষ্ঠা, কলকাতার হারিয়ে যাওয়া উৎসব এবং বনেদি বাড়ির অন্দরমহলের অজানা কাহিনীর সংকলন।

৯. অষ্টাদশ শতাব্দীর কলকাতা, নিখিল সরকার (শ্রীপান্থ), আনন্দ পাবলিশার্স, ১৯৮৬, ১৫২ পৃষ্ঠা, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শুরুর সময়কার কলকাতা ও সাহেবদের যাপনের প্রামাণ্য ইতিহাস।

১০. কলকাতার রাজপথ: সমাজে ও ইতিহাসে, অজিত কুমার বসু, আনন্দ পাবলিশার্স, ১৯৭৯, ১৮৪ পৃষ্ঠা, কলকাতার বিভিন্ন রাস্তার নামকরণ এবং সেই রাস্তার সাথে জড়িয়ে থাকা ঐতিহাসিক ঘটনার ইতিহাস।

 



No comments:

Post a Comment