1 / 7
2 / 7
3 / 7
4 / 7
5 / 7
6 / 7
7 / 7

Showing posts with label সন্দীপ যাযাবর দত্ত. Show all posts
Showing posts with label সন্দীপ যাযাবর দত্ত. Show all posts

Sunday, September 21, 2025

রোবোটিকতা

 

ছবি : ইন্টারনেট

রোবোটিকতা

সন্দীপ যাযাবর দত্ত

--- সরি, বেশ দেরি হয়ে গেল। খারাপ আবহাওয়া। প্লেনটা এতটা ডিলে হবে বুঝতে পারিনি।

--- একাই এলি? বৌমা আর বাচ্চারা…

--- ওদের টার্ম এক্সাম চলছে, এই শর্ট নোটিশে কিচ্ছু করা গেল না। এদিকে কি সব রেডি? শুধু শুধু বডি ফেলে রেখে লাভ নেই!

অনিমেষ ভেতরে ঢুকলো। পেছন পেছন প্রতিবেশী রমেন কাকুও। এসি রুমের মধ্যে বরফের চাইয়ের উপর শোয়ানো মায়ের মৃতদেহ। অনি সেদিকে এক নজর তাকিয়ে গেল অন্যদিকটায়। সেখানে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রবি। তালেগোলে তার এ আই মোডটা অফ করতে ভুলে গেছে অনি। সেটা করতে যেতেই রমেন কাকা আপত্তি করেন,

--- ও যেমন আছে থাক, তোমার মায়েরও তাই ইচ্ছে ছিল। তুমি বরং অন্ত্যেষ্টির জন্য প্রস্তুত হও।

অনি ব্যাগটা রেখে বাইরে চলে যায়। রবি কাঁপা কাঁপা গলায় বলে,

--- কাল রাত্তিরে ওষুধ দিতে যেতেই ধমক দিলেন। “তুই আর মানুষ হলি না। শুধু দেখতেই যা মানুষ মানুষ! এখানটায় বস। রামায়ণ পড়ছি শোন!” সকালে চানের জল রেডি করে ডাকতে গিয়ে বুঝলাম ...! এবার আমার কি হবে রমেন কাকা? মা চলে গেলেন। এবার আমাকেও নিয়ে চলে যাবে ফার্মে। ফরম্যাট করে রিপ্রোগ্যামিং করে দেবে আমাকে। মায়ের রবি থেকে আবার রোবো হয়ে যাবো। আর কিছুই মনে থাকবে না, কাউকে চিনতেও পারব না।  

রমেনবাবুও জানেন বৌদি অসুস্থ শরীর নিয়েও যে এতদিন টিকে ছিলেন সে শুধু রবির সেবা শুশ্রূষায়। অনিমেষই অনেক খরচ করে ইনস্টল করিয়েছিল। এখন ওর কাজ আর প্রয়োজন দুইই ফুরিয়ে গেছে। ওকেও কি সান্ত্বনা দেবেন? অথচ যাকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য মনে মনে প্রস্তুত ছিলেন তাকে দেখে ...। সব কেমন গুলিয়ে যাচ্ছে…

বাইরে শবদাহের প্রস্তুতি চূড়ান্ত। শুধু অনিমেষ এলেই..

সে চারটে জরুরি কল সেরে নেয়। একটা বাড়িতে, একটা সিঙ্গাপুরের অফিসে,একটা ফ্লাইট বুকিংয়ের জন্য ট্রাভেল এজেন্টকে আর শেষ কলটা রোবোটিক ফার্মে।

আওয়াজ ওঠে,

বলো হরি, হরি বোল...

...(সমাপ্ত)...

Wednesday, October 2, 2024

কুম্ভকর্ণ সিনড্রোম

ছবি : ইন্টারনেট


কুম্ভকর্ণ সিনড্রোম

সন্দীপ যাযাবর দত্ত

--- আপনার সমস্যা কি বলুন!

--- সেটাই তো ঠিক বুঝতে পারছি না, ডাক্তারবাবু!

--- কি অসুবিধা হচ্ছে এখন?

--- বড্ড ঘুম পায় আজকাল। উঠতে ইচ্ছে করে না একদম।

--- কতদিন ধরে এরকম লাগছে?

--- অনেকদিন। জানেন, কথা বলতেও কেমন আড়ষ্ট লাগে। যা বলতে চাইছি, ঠিক বলে উঠতে পারছি না। সেদিন পার্টির ছেলেরা এসে জুলুম বাজি করলো, চুপ করেই থাকলাম। নাতনিকে রাস্তায় কিছু চেংড়া ছোঁড়া উত্যক্ত করলো, আমি কিছু বলতে পারলাম না। আমি তো এরকম ছিলাম না।

ডাক্তারবাবু চশমাটা ঠিক করতে করতে বললেন,

--- আর কিছু?

--- সব সময় খুব শীত করে আজকাল। জুবুথুবু, জড়সড় হয়ে থাকি। কুণ্ডলী পাকিয়ে শুয়ে থাকি। শিরদাঁড়া বরাবর খুব যন্ত্রণা। একটা MRI করা হয়েছে। দেখুন।

ডাক্তারবাবু, মনোযোগ দিয়ে দেখলেন। মুখটা গম্ভীর করে বললেন,

--- অসুখটা কিন্তু বেশ পুরনো।একটা মজার নাম আছে, ক্রনিক কুম্ভকর্ণ সিন্ড্রোম।

মানব বাবুর মুখটা হাঁ হয়ে গেল, এরকম কোনো রোগের নাম তিনি আগে শোনেননি। ডাক্তারবাবু বলে চলেন,

--- এটি একটি সামাজিক, রাজনৈতিক ব্যাধি। অনেকেই আক্রান্ত। তবে প্রথম পর্যায়ে ঠিক বোঝা যায় না।আস্তে আস্তে রোগী তার স্বাভাবিক চেতনা, মূল্যবোধ হারিয়ে ফেলে। সমগ্র প্রতিবাদী সত্ত্বা ঘুমিয়ে থাকে যেন। রক্তের তাপমাত্রা কমতে থাকে। সে কারণেই সবসময় শীতের অনুভূতি আপনার। আপনার MRI থেকে বোঝা যাচ্ছে আপনার মেরুদন্ড ক্ষয়ে ক্ষয়ে শীর্ণ হয়ে যাচ্ছে। পরের দিকে মেরুদণ্ডের অস্তিত্বই থাকবে না। তখন কুণ্ডলী পাকিয়ে শুতে কষ্ট হবে না আর। শেষমেশ চিরকালীন শীতঘুম ।

--- কোনো প্রতিকার নেই এই অসুখের?

--- একটিই প্রতিবিধান আছে। পলিটিকোথেরাপি। দুষ্প্রাপ্য, খরচও অনেক! পারবেন কি?

--- বলুন শুনে রাখি, যদি সম্ভব হয়...

--- দেখুন, সামনের নির্বাচনে যদি কোনো পার্টি থেকে একটা টিকিট ম্যানেজ করতে পারেন! ওতে রোগ না সারলেও, অসুখ নিয়ে বাঁচার অভ্যাসটা রপ্ত হয়ে যাবে।

...(সমাপ্ত)...