.. সুচেতা অধিকারী
দিনটা ছিল
সরস্বতী পূজোর দিন
স্কুল লাইফ থেকেই আমার একজনকে ভালো লাগে।
ভালো লাগে বললে ভুল বলা হবে। বলতে পারো ভালোবাসি। তার সাথে স্কুল-স্কুলের বাইরে
দেখা হলেই কথা বলতাম। জিজ্ঞাসা করত- “কাকু কাকিমা কেমন আছেন?” আমি বলতাম- “ভালো আছেন”।
সেই বন্ধুর সাথে আবার ১বছর পর দেখা।
তাও অনিচ্ছাকৃত।
তাকে দেখামাত্র আমি কি রিঅ্যাকশন দেব বুঝে উঠতে পারলাম না। চেষ্টা করলাম তাকে
এভয়েড করতে। সেই সময় আমি যেতে গিয়েও দাঁড়িয়ে পড়লাম। দাঁড়াতে বাধ্য হলাম। কারণ
ততক্ষণে সে আমার শাড়িতে যে কী একটা বিকট টানের সৃষ্টি করেছে। তাই পিছন ফিরে দেখি
সেই নিষ্পাপ, ভালো বন্ধু,
পড়াশোনায় ভালো, যাকে কিনা আমি আমি স্কুল লাইফ থেকে ভালোবাসি
সেই ‛ভাস্কর’ আমার শাড়ির আঁচলটা ধরে আছে। বললাম- “কী হচ্ছে এটা?” উত্তর এলো-“তোকে কীভাবে ডাকব বুঝতে পারছিলাম না
তাই।”
আমি চুপ করে
শুনেই গেলাম তার কথাগুলো। হতে পারে আমার যাওয়ার কোনো তাড়া ছিল না বলে। আমি ওকে
শুধু একটাই প্ৰশ্ন করলাম- “তুই কি কাউকে
ভালোবাসিস?” উত্তরে সে চুপ
করে রইল। কিছুক্ষণ পর বলল- “আয় বলছি” গেলাম ওর সাথে। যেখানে নিয়ে গেল, সেটা ছিল ওদের শরশুনা কলেজ।
তখন আমায় ভাস্কর কলেজভর্তি স্টুডেন্ট এর
সামনে ১টা নয়, ২টো নয়, ৩টে নয়, ১টা লাল গোলাপ ফুলের বোকে দিয়ে আমায় প্রপোজ
করল। বলল, “স্কুল লাইফ থেকে
একজনকেই ভালোবেসে এসেছি। তাকে প্রপোজ না করে থাকতে পারি?” এরপর কি আমার আর কিছু বলার থাকতে পারে? যাকে চেয়ে এসেছি তার কাছ থেকে এগুলো পাওয়ার পর
আনন্দে, ভয়ে লজ্জায় আমার মুখটা
নীচে হয়ে গেল। ওর শেষ কথা হলো- “মাকে অঞ্জলি দিবি আয়।” মাকে অঞ্জলি দিয়ে আমরা যে যার নিজেদের নতুন
অধ্যায় শুরু করলাম।
“জয় জয় দেবী চরাচরসারে
“কুচযুগশোভিত
মুক্তাহারে”
Suchetaadhikari01@gmail.com
