(ধারাবাহিক রহস্য কাহিনী )
পূর্ব কথন ১
...তরুণ চক্রবর্তী
(তিন)আজ পরমা আইল্যান্ড থানা সকাল দশটা বাজতে না বাজতেই সরগরম । থানার এরিয়া ছোট , কর্মচারী কম ।এই এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থা অনুযায়ী , রোজই খুন খারাবি হওয়ার কথা । কিন্তু , সৌভাগ্যবশত সেরকম ঘটনা খুব কমই ঘটে । দুএকটা যা খুন খারাবির ঘটনা ঘটে , তা এলাকা দখলের লড়াইয়ের জন্য । যেসব দলের মধ্যে হয় , তারা নিজেরাই মিটিয়ে নেয় । পুলিশের কাজ থাকে শুধু পোস্টমর্টেম করে বাড়ির লোকের হাতে বডি তুলে দেওয়া । নাহলে এতো কম স্টাফ নিয়ে সবকিছু সামলানো খুব মুস্কিল হতো । সবই ঠিক আছে । কিন্তু কাল , অনেকদিন বাদে থানা এলাকায় এমন একটা খুন হয়েছে , যার মধ্যে রহস্য আছে । মাথা খাটানোর ব্যাপার আছে । এরচেয়ে বড় খবর আর কি হতে পারে ! তাই বড়বাবুর ঘরে সবাই ব্যস্ত পরবর্তী প্লান অফ অ্যাকসান নিয়ে ।
বড়বাবুর সামনে, চেয়ারে বসে আছে , নকুর , জনার্দন , আর থানার ফটোগ্রাফার পরেশ । টেবিলের ওপর পড়ে আছে কালকের ঘটনাস্থল আর ভিক্টিমের ছবি ।
দিবাকর ভট্টাচার্য একটা ছবি চোখের সামনে ধরে মন দিয়ে দেখছিলেন ।
- নকুর , একটা জিনিস খেয়াল করেছো , ভিক্টিমের মুখে কোন যন্ত্রণার ছাপ নেই ।
দিবাকর ছবিটা নকুরের দিকে বাড়িয়ে দিলেন ।
নকুরও মন দিয়ে ছবিটা দেখে সম্মতি সূচক ঘাড় নাড়ল ।
- তার মানে স্ট্র্যাঙ্গুলেট করার আগে , ভিক্টিমকে হয়তো ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়েছিলো । পি .এম রিপোর্ট কখন পাওয়া যাবে ?
দিবাকর নকুরকে জিজ্ঞেস করেন ।
- সনাতনকে পাঠিয়ে দিয়েছি স্যার । রেডি হলেই নিয়ে আসবে ।
সনাতন বিশ্বাস হলো পরমা আইল্যান্ড থানার হেড-কনস্টেবল।
- বডি আইডেন্টিফায়েড হয়েছে?
- না , স্যার । কেউ আসেনি খোঁজ নিতে । কোন মিসিং ডায়েরিও কেউ করেনি ।
- সোর্সদের কাজে লাগিয়েছ ?
- হ্যাঁ স্যার । কিন্তু এখনো কোন খবর নেই ।
- এলাকার বাইরের মানুষও হতে পারে । আশেপাশের সব থানায় ছবি পাঠিয়ে দ্যাও । খোঁজ নাও কোন মিসিং ডায়েরি হয়েছে কিনা । বডি আনক্লেমড হলে , কাজ কিন্তু আরও বাড়বে । কিরে, জনার্দন ? তোর চেনা নয়তো ?
হটাতই দিবাকর জনার্দনের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করেন । জনার্দন লজ্জায় মুখ নামায় । অন্যদের মুখেও স্মিত হাসি ।
এইসব আলোচনার মধ্যেই , সনাতন ঢোকে । হাতে সিল করা খামে পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট । সনাতন খামটা দিবাকরের দিকে বাড়িয়ে দেয় ।
দিবাকর খামটা খুলে ভেতর থেকে রিপোর্টটা বের করলেন । দু- তিন পাতার রিপোর্ট , পড়তে সময় লাগলো । সবাই নিঃশব্দে দিবাকরের দিকে তাকিয়ে ছিল । দিবাকর গম্ভীর মুখে রিপোর্টটা টেবিলের ওপর রেখে , নকুরের দিকে তাকালেন ।
- রিপোর্টে কি আছে স্যার ।
নকুর জিজ্ঞেস করলো ।
- সুসংবাদ আর দুঃসংবাদ দুটোই ।
দিবাকর হেঁয়ালি করলেন ।
- প্রথমত আমাদের অনুমান ঠিক , গলায় ফাঁস দিয়েই খুন করা হয়েছে ।
অ্যান্টিমরটেম স্ট্র্যাঙ্গুলেসান । পাকস্তলিতেও কিছু অবশিষ্ট খাদ্যবস্তু পাওয়া গেছে। ভিসেরা, অ্যানালিসিশের জন্য গেছে । আমাদের দ্বিতীয় অনুমানটা , অর্থাৎ খুন করার আগে ঘুমের ওষুধ খাওয়ান হয়েছিলো কিনা , জানার জন্য ভিসেরা পরীক্ষার রিপোর্ট আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে । হ্যাঁ , আরেকটা কথা , মেয়েটা প্রেগন্যান্ট ছিল । তিনমাস ।
অনেকক্ষণ একটানা কথা বলে দিবাকর থামলেন ।
সবাই এর ওর দিকে মুখ চাওয়া- চায়ি করে বুঝতে চাইছিল , দিবাকর কখন মূল প্রসঙ্গে আসবেন । অর্থাৎ এই খুনের তদন্তটা নিজের হাতে রাখবেন , না কোলকাতা পুলিশের হোমিসাইড শাখার হাতে তুলে দেবেন ।
- নকুর , তাহলে ফাইল খুলে ফেলো । আমার এই থানায় পোস্টিং হওয়ার পর প্রথম বড় কেস । ছারা যাবেনা । তুমিই হবে ফার্স্ট ইনভেস্টিগেটিং অফিসার। সনাতন তোমাকে সাহায্য করবে । সেকেন্ড ইনভেস্টিগেটিং অফিসার । জনার্দন , তুই ওদের সাথে সবসময় থাকবি । যাতে গাড়ির জন্য ওদের কোন অসুবিধা না হয় । টিম তৈরি করে দিলাম ঠিক কথা , কিন্তু নকুর আমাকে তদন্তের অগ্রগতি সবসময় জানাবে । নকুর , কিছু বলবে ?
দিবাকর নকুরের দিকে জিজ্ঞাসু চোখে তাকায় ।
- স্যার, হোমিসাইড শাখাকে সাথে নেবনা ?
নকুর জিগ্যেস করে ।
- আপাতত নয় । যদি দেখা যায় জাল অনেকদূর ছড়ানো , বড় মানুষ কেউ জড়িত , তাহলে তো ওদের সাহায্য নিতে হবেই । শুরু থেকেই ওদের ওপর নির্ভর করলে , ওরাই নেপো হয়ে সব দৈ খেয়ে নেবে ।
নকুর বুঝদারের মতো ঘাড় নাড়ে ।
অন্যদের দিকে তাকিয়ে দিবাকর বললেন ,
- তোমরা সব যে যার কাজে যাও । সনাতন ,কেস নাম্বার দিয়ে একটা ফাইল খুলে ফেলো । নকুর তুমি শুধু থাক । তোমার সাথে আমার কথা আছে ।
নকুর ছারা সবাই ঘর থেকে আস্তে আস্তে বেরিয়ে যায় ।দিবাকর নকুরের দিকে তাকিয়ে বলতে শুরু করেন,
- কেসটা কিন্তু বেশ ডিফিকালট্। কোন সাক্ষী নেই , এখন পর্যন্ত । এবং কেউ ঘটনাটা দেখে
থাকলেও , স্বেচ্ছায় আমাদের কাছে আসার সম্ভবনা কম । কে আর যেচে ঝামেলায় জড়াতে চায় ! ফলে খুনির চেহারার কোন বর্ণনা আপাতত আমাদের কাছে নেই ।
নকুর একমনে দিবাকরের কথা শুনছিল ।
- আমাদের অন্ধকারে হাতড়ানো ছারা আপাতত কিছু করার নেই । সি সি ক্যামেরার ফুটেজ , কিংবা কোন প্রত্যক্ষদর্শী থাকলে কেসটা খুব জলভাত হয়ে যেত হে নকুর । কি বলো ?
নকুর সম্মতি সূচক ঘাড় নাড়ে ।
- এখন আমাদের সামনে তিনটে প্রধান কাজ । এক ,তাড়াতাড়ি ভিসেরা রিপোর্ট জোগাড় করা । দুই , খুনির কোন ফিঙ্গার প্রিন্টের রিপোর্ট পাওয়া যায় কিনা , সেটা দেখা । তিন , মেয়েটার পরিচয় বার
করা ।তুমি এক কাজ করো । নিউজ চ্যানেল গুলোকে , মেয়েটার ছবি দিয়ে রগরগে করে ঘটনাটা দেখাতে বল । যদি কেউ সেটা দেখে আমাদের সাথে যোগাযোগ করে । মেয়েটার সম্বন্ধে কোন তথ্য দেয় । নকুর কিছু বলতে যাচ্ছিল।কিন্তু, কিছু বলার আগেই একজন ব্যক্তি দরজা দিয়ে উঁকি মারে ।
- স্যার , আসতে পারি ?
দিবাকর ও নকুর , দুজনেই অবাক হয়ে দেখে , ব্যক্তিটি আর কেউ নয় , এই থানার ই প্রাক্তন সিভিক ভলেন্টিয়ার , সতু ওরফে সত্যবান চৌধুরী ।
tchak1961@gmail.com
কলকাতা
ভালোই এগোচ্ছে। তবে গল্প শুরুর আগে 'আগে কি ঘটেছে' সেটা ছোট করে উল্লেখ করে দিলে পাঠকের সুবিধা হয়।
ReplyDeleteধন্যবাদ।তবে ওপরে পূর্বকথন বলে আগের লেখাগুলোর লিংক্ দেওয়া আছে।তবে ,তার চেয়ে ছোট করে লিখে দিলেই মনে হয় ভাল হবে।
Deleteখুব ভালো
ReplyDelete