1 / 7
2 / 7
3 / 7
4 / 7
5 / 7
6 / 7
7 / 7

Showing posts with label চন্দন দাশগুপ্ত. Show all posts
Showing posts with label চন্দন দাশগুপ্ত. Show all posts

Wednesday, October 2, 2024

সাথী

ছবি : ইন্টারনেট

সাথী

চন্দন দাশগুপ্ত 

        ভোরবেলায় ঘুমটা ভেঙে গেল। চোখ জ্বালা করছে, মাথাতেও বেশ ব্যথা। গতকাল প্রায় সারারাত আমি দুচোখের পাতা এক করতে পারিনি। করতে পারার অবশ্য কথাও নয়। আসলে দীর্ঘ বিয়াল্লিশ বছর ধরে আমি আর মিলি স্বামী-স্ত্রীর চেয়েও বেশি পরস্পরের বন্ধু হয়ে উঠেছিলাম। আমরা নিঃসন্তান। একজন ওষুধ খেতে ভুলে গেলেও অন্যজন মনে করিয়ে দিয়েছি। দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত পরস্পরের খেয়াল রেখেছি।

         গতকাল পর্যন্ত সব ঠিকই চলছিল। লাঞ্চের পর আমি খবরের কাগজ পড়ছিলাম, মিলি মন দিয়ে টিভি দেখছিল। তারপরেই ঘটল সেই সাংঘাতিক ঘটনাটা। হঠাৎই মিলি বলল যে, ওর খুব শরীর খারাপ লাগছে। কি করব, বুঝে ওঠার আগেই সব শেষ হয়ে গেল।

         ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক।

         আমাকে একা করে দিয়ে মিলি চিরকালের মত চলে গেল না-ফেরার দেশে। শ্মশানের সব কাজকর্ম শেষ করে গতকাল বাড়ি ফিরেছিলাম রাত এগারোটার পর। খাবার দূরে থাক, জল পর্যন্ত স্পর্শ করার ইচ্ছে তখন আমার আর ছিল না।

         অতিরিক্ত ক্লান্তিতে কখন যে শেষ রাতের দিকে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম, খেয়ালই নেই আমার। 

         খাট থেকে নেমে বেডরুমের জানালাটা খুলতেই চমকে গেলাম ! মিলির খুব ফুলগাছের শখ ছিল। অনেকগুলো টবে অজস্র ফুলগাছ লাগিয়ে ছাদে রেখেছিল সে। একটা ছোট্ট টবে মাসকয়েক আগে বসিয়েছিল একটা পিটুনিয়ার চারা। কিন্তু কিছুতেই সেই গাছে ফুল ফুটছিল না। তাই ভাল করে যত্ন করার জন্য মিলি দিন দশেক আগে পিটুনিয়ার টবটা আমাদের বেডরুমের জানালার ঠিক বাইরে এনে রেখেছিল।

          দেখতে পেলাম, টবের গাছটায় একটা টকটকে লাল পিটুনিয়া ফুটেছে। সকালের রোদ লেগে ফুলটা ঝলমল করছিল।

          ভাবছিলাম, মিলি আর কখনো ফিরবে না। এই ঘর......সাজানো সংসার......সবকিছু ছেড়ে সে চলে গেছে চিরকালের মতো। আজ শুধু তার প্রিয় পিটুনিয়া আমার একমাত্র সাথী হয়ে রয়ে গেছে........

...(সমাপ্ত)...