1 / 7
2 / 7
3 / 7
4 / 7
5 / 7
6 / 7
7 / 7

Showing posts with label রম্য রচনা. Show all posts
Showing posts with label রম্য রচনা. Show all posts

Saturday, October 10, 2026

আগমনী

 ছবি :কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা(Artificial Intelligence)

আগমনী

সুকন্যা মিত্র

" বলছি, কেউ আছেন ? "

" কি দরকার বলুন তো, কি চাই ? "

" ইয়ে, আমি এসেছি। "

" অসাধারণ ইন্ট্রো, বলি চোর-ছ্যাঁচোড় নাকি ?"

" এসব কি কথা ! জানেন লোকজন আমার প্রতীক্ষায় দিন গোনে ? আগেকার দিনে আমার আগমনে আগমনী গাওয়া হত। "

" ছেঁদো কথা রাখুন তো দাদা, কাজের সময় যত্ত ভ্যানতাড়া...... ।"

" কেউ চিনছে না, কি জ্বালা। আরে আমিই সেই, যে আপনার একঘেঁয়ে জীবনে জ্বালে উৎসবের মঙ্গলদ্বীপ। শহর-গ্রাম সেজে ওঠে, ছেলে বুড়ো মেতে ওঠে। ..."

" পাশের ক্লাবের ছেলেগুলো ফ্রি বসে গ্যাঁজাচ্ছে, হাঁক পাড়লে স্রেফ এসে হালকা করে কেলিয়ে যাবে। আপনার এই ফঙ্গবনে শরীর নিতে পারবে তো ? "

" আহা, আমিই সেই যার জন্যে রোজ দুবেলা ব্যাঙ্ক ব্যালান্স আর মানিব্যাগের খুচরো চেক করছো ভাই। এবার লাগছে না একটুও চেনা ? "

" অ, আপনি। কি জ্বালা, সাদা কথা বললেই হয়। তা এত ঘটা করে, রাস্তা আটকে ইন্ট্রো দিয়ে কি লাভ হল। ওই অ্যানুয়াল ফেস্টিভ্যালের ব্যাপারটা এবার এট্টু লেটে। তো আপনার আসা নিয়ে আলাদা করে আর কি। শুদুমুদু সময় নষ্ট। কত্ত মন দিয়ে বোতল উল্টোনো রিল দেখছিলাম। "

" ওমা পার্বনটাই কি সব নাকি ? আমার আগমনটাই তো উৎসব। জানেন আমার ' মধুর মুরতি ' কিংবা ' হিমেল পরশ ' কিংবা ' শিশিরের রেখা ' নিয়ে যা সাহিত্য হয়েছে, প্রায় বসন্তের সাথে কম্প্যারেবল, অত কোকিল-টোকিল সত্ত্বেও। নেহাৎ ম্যাক্স ফুটেজটা বর্ষাটা খেয়ে যায় তাই................"

" রাখুন ! হিমেল পরশ ! শিশিরের রেখা ! চ্যাংড়ামি হচ্ছে ? একটু আগে ছ্যাড়ছ্যার করে বৃষ্টি হয়ে গেল। যদিও আজকাল এসবের জন্যে বর্ষা আলাদা করে কোনো ফুটেজ পায় না। নিম্নচাপ, ডিপ্রেশন মশাই ডিপ্রেশন। গানও বেরিয়েছে , ' মনে মেঘ জমতে থাকে ....' ।"

" আপনি কিন্তু জোর করে আমার মার্কেট ভ্যালু টেনে নামাচ্ছেন । এ 'নবআনন্দে' জেগে ওঠার সময়। আমলকি বনে শিহরণ, দুরুদুরু বক্ষে পাতা খসানোর প্রতীক্ষা। "

" নেমে আসুন দাদা, গ্যাস বেলুন থেকে নেমে আসুন। আশে পাশে কয়েকশো কিলোমিটারের মধ্যে কোথায় আমলকি বন দেখতে পাচ্ছেন বলুন তো ? আর আপনার দুটো মেন অ্যাসেট-ইকুইটি - কাশ আর আকাশ - দুটোই বাড়ন্ত। অথচ গ্রীষ্মের ক্যাপিটালটা দেখুন। কোনও কমতি আছে? সারা বছর মার্কেট দাপাচ্ছে। বর্ষার অবস্থা বিশেষ ভালো না হলেও সময়-অসময়ে ডিপ্রেশন থেকে রিসোর্স জোগাড় করে নেয়। আর আপনার বড়দা, হিমবাবু, সেতো বেশ কয়েক বছর দেশছাড়া। তো আর আপনি ......."

" এসব কি কথা, কম থাকে বলে দেশ ছাড়া করবেন। শুধু হিম দাদা কেনো , হেমন্ত দাদাও তো........."

" ইয়েস, ইয়েস , শরৎবাবু ভেরি ভেরি সরি। আপনার ওই মেজদার মারা যাওয়ার খবরটা ......."

" চোপড়াও, কে মরেছে? সব্বাই আছে। অকৃতজ্ঞ, নরাধম ...."

" কেদার চাটুজ্জের মতো আছে আছে করলেই হবে শরৎবাবু ? সত্যি কি আর তারা আছে ? গ্রীষ্ম- বর্ষাই আছে, বছরভর ওদেরই একটু কম বেশি রকমফের। বোঝেনই তো। আপনার ছোট ভাইটাও তো কতদিন দেখা দেয় না। তবে ওই খোকাখুকুরা ভ্যালেন্টাইন ডে করবে বলে থাকার গুজবটা রাখতে হয়। গানটা শুনেছেন তো, 'বসন্ত এসে গেছে '। আমি তো সারাবছর শুনি, তবুও কেউ জোটে না......"

" বসন্তটা পালিয়ে বেঁচেছে। বসন্ত মানে পর্ণমোচন, বোঝেন ? নিজের মেটামরফোসিস। তা না যত্তসব কুঁতিয়ে প্রেম..........."

" এখন তো সবই মেটা দাদা। তা বিলেত হলেও হতো। লাল - হলুদ পাতার ছবি দিতুম। ফলিং ফল বলে। এ পোড়াদেশে শুধুই কর্মফল দাদা। পুজোর মাস, হাফ-ইয়ার্লি মার্কেট এসেসমেন্ট। রাস্তায় আর জীবনে এন্তার বাঁশ। "

" হুম , বুঝলুম সবই.....আচ্ছা চলি। তবে যাওয়ার আগে বলে যাই, গ্রীষ্ম আর বর্ষাকে যতই ফুটেজ দিন, আপনি জানতেন আমি আসবো। প্রস্তুতও ছিলেন। বিছানার পাশের পুজোবার্ষিকীটা চোখ এড়ায়নি। যেমন চোখ এড়ায়নি আই আর সি টি সি আর ইন্ডিগোর খোলা ওয়েবপেজটা। আর বাপের জম্মে রেডিও না শোনা পাবলিক যে দিন কতক ধরে খুঁচিয়ে এফ এম ধরার চেষ্টা করছে, সেটা ওই মহালয়ার জন্যেই তো ? "

" কি আর বলবো দাদা। সত্যি বলতে কি, সারাবছর যখন যেই থাকুক না কেন, ক্যালেন্ডার হাতে এলে আপনার আসার হিসাবটাই সবার আগে হয়, আপনিও জানেন। একমাত্র আপনি যাওয়ার পরের দিন থেকেই বলা হয়, এবার শরৎবাবুর আসতে আর এগারো মাস। আট থেকে আশি, আর মাস থেকে মাসি, আর্সলানের চাপ কিংবা সাইজ করা প্রেমিকার বাপ, আপনার আবেদন বিয়ন্ড দা মার্কেট।"

" তাহলে...."

" আপনি থাকছেন স্যার। "

 


Sunday, September 21, 2025

শিবানী এলো বাপের বাড়ি

 

ছবি : ইন্টারনেট

শিবানী এলো বাপের বাড়ি

সবিতা রায় বিশ্বাস

 


সকাল থেকে শিবানী চরকি পাক খাচ্ছেন| আর মাত্র তিনটে দিন বাকি| চার দিনের নাম করে বাপের বাড়ি গেলেও ফিরতে ফিরতে দিন দশেক লেগে যায়| মা, বাবার থেকেও কাকা, পিসিরা বেশি ভালবাসে| আর কাকার ছেলেমেয়ে মানে পিসির অন্য সব ভাইপো ভাইঝিরা যা করে! ছাড়তেই চায়না|

আজ নয় কাল, কাল নয় পরশু এই করতে করতে চতুর্থী থেকে শুরু করে দশদিন কোথা দিয়ে যে কেটে যায়! এখন তো ষষ্ঠীতে গেলে হয়না| পিসি বলে আগে আসবি, কলকাতার রাস্তায় যা জ্যাম| শেষে না হাওড়া ব্রিজেই আটকে থাকলি দুদিন| উমা তাই আগেই যায়| আসার সময় লক্ষ্মীটাকে রেখে আসতে হয়| মামা, মামী আবার লক্ষ্মীটাকে খুব ভালবাসে|

ওই দেখো সে লক্ষ্মীটা আবার কোথায় গেলো? একটা ছেলেমেয়েকেও যদি হাতের কাছে পাওয়া যায়| কৈলাসের পাহাড়ের খাঁজে লুকিয়ে থাকলে কার সাধ্যি খুঁজে বের করে| বড্ড জ্বালাচ্ছে ছেলেমেয়েগুলো| কতদিন আর সামলে সুমলে বয়স লুকিয়ে রাখা যায়| আর ফি বছর মামা বাড়ি গিয়ে কুসঙ্গে পড়ে একেবারে উচ্ছন্নে যাচ্ছে|

কেতোটা, সেদিনের ছেলে, বায়না জুড়েছে ওসব নাগরা জুতো নাকি আজকাল কেউ পরেনা| নাইকের জুতো কিনে দিতে হবে| আর ময়ূর! ছো: ওটা বাহন হলো! হিরো গ্লামার বাইক চাই|

সরোটাও হয়েছে তেমনি, কেতোর বাইক নেবার কথা শুনে সেও জেদ ধরেছে, স্কুটি কিনবে| ওই হাঁসের পিঠে চেপে আর যাবে না| বলে কিনা  Disgusting. বীনা নিয়ে হাঁসের পিঠে চেপে সাদা শাড়ি পরে পোজ দেওয়া আর পোষাচ্ছে না| এবার জিন্স টপ পরে স্কুটি চেপে কাঁধে গীটার ঝুলিয়ে মামাবাড়ি যাবে|

সরোর কথা শুনে হাঁসটা টা –টা- করে উড়ে গেল মানস সরোবরের দিকে| যাবেই তো? সেই পৌরাণিক যুগ থেকে কলি যুগ পর্যন্ত নিয়মিত ডিউটি করছে| প্যাঁক প্যাঁক আওয়াজটুকুও করেনা| ঠায় বসে থাকে সরস্বতীর পায়ের কাছে| তাকে কিনা অগ্রাহ্যি! ওই স্কুটি না ফুটি যখন বিগড়ে যাবে তখন বুঝবে!

বোঝাই যাচ্ছে কেতো, সরো দুজনের গায়েই মামাবাড়ির দূষিত হাওয়া লেগেছে| লক্ষ্মীমন্ত মেয়ে হল লক্ষ্মী| কি সুন্দর ধানের ছড়া হাতে, লাল বেনারসী পরে, পেঁচার পিঠে চেপে যায়| ওই জন্যেই বলে, বড় মেয়েরা শান্ত হয়| ছোটগুলোর মতো চতুরামি করেনা|

শিবানী একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে যাবে, তখনি ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করে কান্নার শব্দ পেলো| নিঃশ্বাস আটকে রইলো অর্ধেক হয়ে| কি মুশকিল! কে কাঁদছে? এদিক ওদিক তাকিয়ে কাউকে দেখতে না পেয়ে ঘরে ঢুকে দেখে সিঁদুর কৌটো মাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে| লক্ষ্মী পা ছড়িয়ে কাঁদছে| মাকে দেখে মেয়ের কান্না আরো বেড়ে গে | আঁচল দিয়ে চোখ মুছিয়ে দিলেন উমা| তারপর যা শুনলেন, তাতে হার্ট ফেল করার মতো অবস্থা| সিঁদুর কৌটো পড়ে যায়নি| লক্ষ্মী নিজেই ফেলে দিয়েছে| বললো ওসব সিঁদুর টিঁদুর আজকাল কেউ পরেনা| যদিবা দু-একজন পরে, চুল দিয়ে ঢেকে রাখে | যাতে কেউ দেখতে না পারে| কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানে ছবি তুলে ফেবুতে পোস্টাবার জন্যে মানে বিয়েবাড়ি, বিজয়া দশমীর সিঁদুর খেলা তখন সবাই পরে|

এসব শুনে উমার সব রাগ গিয়ে পড়লো মহেশ্বরের উপর| স্মশানে মশানে পড়ে থাকলে কি আর ছেলেমেয়ে মানুষ হয়? পার্বতী একা কতদিক সামাল দেবে| তখনকার মতো লক্ষ্মীকে বুঝিয়ে সুজিয়ে দুটো ডালভাত খাইয়ে, ঘুম পাড়িয়ে দিল|

আচ্ছা গণুটা গেল কোথায়? সকাল থেকে তার শুঁড় ও দেখা যাচ্ছেনা| ভুঁড়িও না| ঘন্টায় ঘন্টায় খিদে পায় যে ছেলের, আজ তার সাড়া পাওয়া যাচ্ছেনা| ওর জন্যে নাড়ু বানাতে বানাতে পার্বতীর হাতের তালু ক্ষয়ে গেছে|

গণু –গণু –গণসা করে কয়েকবার হাঁক পাড়লো শিবানী| গণু এলোনা, সাড়াও দিলোনা| এলো নেংটি| বললো মা, গণপতি বাপ্পা বলেছেন তিনি আপনার সাথে বাংলায় যাবেন না| বাঙালিরা বেওসা করতে পারেনা| নিজেরা গণেশ উল্টায়, আর দোষ দেয় আমার প্রভুর| প্রভু বলেছেন মুম্বই ভালো| টাটা, আম্বানি এরা গণপতি বাপ্পাকে খুব খাতির করে| আহা! কি খাওয়া, দাওয়া| সব খাঁটি ঘিয়ের| সচিন তেন্ডুলকর, বিগ বি এরা যা খাতির করে সেতো বিশ্বসুদ্ধ সবাই জানে|  বাঙালিগুলো পয়লা বৈশাখে কিপ্টের মতো পুজো করে| দু-চারটে ফলের টুকরো, একটু সন্দেশ ব্যাস্ হয়ে গেল| একটা লাড্ডু পর্যন্ত দেয়না| না: আমার গুরুদেব আর বাংলায় যাবেন না| এইতো ভাদ্রমাসে গণেশ চতুর্থী গেল| মুম্বইতে প্রচুর খাওয়া হয়েছে| এখন প্রভু কিছুদিন পাহাড়ের সুশীতল হাওয়া সেবন করবেন| আমার অপরাধ নেবেন না মা জননী, প্রভু আমাকে বলতে বললেন, তাই-- |

এইবার গণেশ জননী আর সহ্য করতে পারলেন না| গণু তার প্রথম সন্তান| সেও মায়ের কথা শুনছে না| গণুর মা বেশ একটা চওড়া পাথর দেখে তার উপর বসে লম্বা চুল এলিয়ে কাঁদতে বসলেন| নন্দী চরতে চরতে এসে এই দৃশ্য দেখে শিং বাগিয়ে ছুটলো মহাদেবকে খবর দিতে| মহাদেব তখন ভৃঙ্গীর সাথে মৌতাতে বসেছিলেন শ্মশানে| নন্দী এসে মায়ের কথা যেই না বলা মহাদেব অমনি ত্রিশূল হাতে বোম্ ভোলা বলে উঠে দাঁড়ালেন|

ভৃঙ্গী দেখলো মহা বিপদ| প্রভু কিছুতেই শিবানীর চোখের জল সহ্য করতে পারেন না| এখন যদি আবার ক্ষেপে যান, তাহলে এই শরত্কালে ধরাধামে প্রলয় কান্ড ঘটে যাবে| এদিকে ভৃঙ্গী আবার শিবানীকে মোটে দেখতে পারেনা| তার একমাত্র উপাস্য শিব| তাই শিব শিবানীর জন্য উতলা হয়ে মৌতাত ভঙ্গ করছেন এ ভৃঙ্গীর সহ্য হলনা| নন্দীকে খুব খানিকটা বকে দিল, মাথামোটা ষন্ড বলে|

তারপর তিন পায়ে কোনরকমে দাঁড়িয়ে করজোড়ে মহাদেবকে বললো, প্রভু উত্তেজিত হবেন না| ছেলে মেয়েরা বড় হয়েছে, এটা তো মা শিবানীকে বুঝতে হবে| এই তো কটা দিনের ব্যাপার| ওরা একটু আনন্দ করুক| আর গণুকে বুঝিয়ে বললে নিশ্চয় মায়ের সাথে যাবে| আপনি চিন্তা করবেন না প্রভু| উত্তেজিত হবেন না| আপনি কুবেরকে বলুন  পুষ্পক রথ পাঠিয়ে দিতে| সে আপনার ধনরক্ষক| আপনার কথা অগ্রাহ্য করতে পারবে না| এবার আর নৌকা, ঘোড়া ওসবে মাকে পাঠাবেন না| পুষ্পক রথে গেলে মায়ের মনটা ভালো হয়ে যাবে, স্টেটাস ও বাড়বে|

 সিংহ ব্যাটাও খুব ঝামেলা পাকাচ্ছে| বন্যপ্রাণী আইন এখন ওদের পক্ষে| পশুক্লেশ নিবারণী সমিতি আছে| তারা যদি মায়ের নাম কেস ঠুকে দেয় তাহলে কেলেঙ্কারী| সিংহটার ও রেস্ট দরকার| ও এখানেই থাকুক| পাহাড়ে ঘুরুক, ফিরুক|

উমা দেখলেন, ভৃঙ্গীটার বেশ বুদ্ধি আছে তো! যদিও পার্বতীর অভিশাপেই ভৃঙ্গীর অমন কঙ্কালসার চেহারা| ভৃঙ্গী শিবের ভক্ত| পার্বতীর পুজো করে না| সেইজন্য পার্বতী কূপিতা হয়ে ভৃঙ্গীকে অভিশাপ দিয়েছিলেন| এখন সেই ভৃঙ্গী সমস্যার সমাধান করে দিল!

যাই হোক, শেষ পর্যন্ত সব ছেলেমেয়েরা রাজি হয়েছে মামাবাড়ি যেতে| তবে ওদের কথাও রাখতে হচ্ছে| একটা কথা বলে রাখি, সবাই প্যান্ডেলে ঠাকুর দেখতে গিয়ে যদি সরস্বতী ঠাকুরকে গীটার নিয়ে দেখো ঘাবড়ে যেও না| মোদ্দা কথা হল, কোনো দেবতাকেই সাবেকি পোজে দেখতে পাবেনা| এমনকি মা দুর্গাও একটু অন্যরকম সেজেই প্যান্ডেলে যাবেন| ছেলেমেয়েদের হাওয়া মায়ের গায়েও লেগেছে যে!

...(সমাপ্ত)...




Saturday, April 15, 2023

ভুতের রাজা ও পরিবেশ রক্ষা

ছবি : ইন্টারনেট


ভুতের রাজা ও পরিবেশ রক্ষা 

শিবাঙ্গণ 


সকালে ঘুম ভেঙে উঠে রাজামশাই একবার রাজপ্রাসাদের ব্যালকনিতে এসে দাঁড়ান, সেই ছোট্ট বেলা থেকে, এরকমটাই অভ্যাস। সামনের দিগন্ত বিস্তৃত ঘন সবুজ বন দেখলে নাকি চোখের দৃষ্টি ভালো হয়, ওনার ঠাকুমা বলতেন। কিন্তু এখন তো আর ওনার সেই ছোটবেলা নেই, বয়স প্রায় তিন কুড়ি পার। কিন্তু ঠাকুমার কথা মতো অভ্যাসটা রয়ে গেছে। আর সত্যি বলতে কি, আর সেই বনভূমিও নেই। বড়ো গাছ বলতে টিকে ছিল সবেধন নীলমণি, একটা পাকুড়, বাকি সব আগেই সাবাড়, কিন্তু তাও ওখান দিয়ে রাস্তা নিয়ে যেতে হবে বলে সেটাও কাটা হবে ঠিক হয়, আর সেই কাজের দস্তাবেজে সই করা থেকেই রাজামশাই এর মুখখানা বেশ গোমড়া, আর আজ সকাল থেকে তো কথাই বলছেন না, যেনো রাত থেকে কোনো একটা চিন্তা ওনার মাথায় কিছু একটা গাঢ় দুশ্চিন্তার কালো মেঘের সঞ্চার করছে, তারই ফল এই গোমড়া মুখ আর খিটখিটে স্বভাব। মুখে এক চিলতে হাসি নেই, মনে যেন সুখের বড়ো অভাব। তা এই সব নিয়েই ধানাই পানাই করতে করতে সকাল নয়টা বাজতে চলল, মন্ত্রী আমাত্যরা সবাই রাজদরবারে এসে গেছেন, এবার যে রাজকার্য শুরু না করলেই নয়। মিছিমিছি বেলা যে বয়ে যায়।

তাই সাহস করে মন্ত্রী মশাই এগিয়ে আসেন, রাজামশাইয়ের কাছে, আমতা আমতা করে জিজ্ঞেস করেই বসেন, "বলছি কি জাঁহাপনা, সুপ্রভাত, কিছু কি সমস্যা এসে হাজির হয়েছে?"

রাজামশাই: সমস্যা, মানে মস্ত সমস্যা, সবাই তো সেই সমস্যার ভিতরেই রয়েছে।

মন্ত্রীমশাই: হুজুর, কোন সবাই, আর সবাই মানে?

আর যারা রয়েছে, তারা কি সেটা জানে?

রাজামশাই: এতো মস্ত গেরো, বাকিদের কথা যদি নাও ধরি, তুমি তো দেশের মহামন্ত্রী, তুমি কি জানো?

নিয়ে কত্ত মস্ত মস্ত ডিগ্রি।

আর যারা গরীব মানুষ, দিন মজুর, নেই যেখানে অনেক অনেক শিক্ষা, তারা যে জানবে না, তাতে তাদের আর দোষ কি?

মন্ত্রীমশাই: হুজুর, একটু যদি বিস্তারিত বলেন।

কোনো শত্রু আক্রমণ, মহামারী, আর্থিক দুরবস্থা, এরকমই কি কিছু?

মাথায় ঠিক আসছে না যে, মন্ত্রী বললেন মুখ করে কাঁচুমাচু।

রাজামশাই: সেসব নয়, মন্ত্রী সেসব নয়, ভাবো অনেক গভীরে,

আমাদের এই পৃথিবীটা...... এই তো মোদের লালন পালন করে।

কিন্তু আমরা....... শুধু লোভ, ক্ষোভ, আর হিংসা ছাড়া, আর কি তাকে দি?

সব প্রাকৃতিক সম্পদ ধ্বংস করে, আর কি বাকি কিছু রেখেছি?

মন্ত্রীমশাই মাথা নাড়েন, কথাটা সত্যি, প্রাকৃতিক সম্পদ প্রায় যে নিঃশেষ,

ভবিষ্যতের চলবে কি করে, যেটুকু আছে বাচা কুচা অবশেষ?

রাজামশাই: সেতো ঠিকই মন্ত্রী, সেটাই তো ভেবে চিন্তা হচ্ছে ঢের।

মন্ত্রী মশাই: কেনো রাজামশাই, এতে চিন্তা কিসের?

রাজামশাই: রাজপুত্র তো ছোটো, ওর জন্য কি যে রেখে যাবো, সেটাই ........

মন্ত্রীমশাই: কেনো? সোনা দানা, মণিমানিক্য, রাজকোষ তো প্রায় উপচাই.....

তারসাথে এই দেশ মস্ত, 

এপাশে যখন সূয্যি ওঠে, ওপাশে যায়নি তখনও অস্ত।

রাজামশাই: আর বিশুদ্ধ বাতাস, কাঁচের মত ঝকঝকে জল, যা খেলে জুড়াবে প্রাণ মন?

ঊর্বরা মাটি, উৎকৃষ্ট বনজ সম্পদ, থাকবে কিছু, যাতে থাকবে না কীটনাশক মণ মণ।

মন্ত্রীমশাই: একথাটা ঠিক, তবে....

রাজামশাই: কি তবে, এতগুলো মানুষ, শুধু মিটিং করে, মিছিল করে, কিন্তু এর সমাধান করবে কবে?

ভাবো মন্ত্রী, মেরুতে বরফ গলছে, বাড়ছে বিশ্ব উষ্ণায়ন,

তাতে কারো টনক নড়েছে, শুধু চলছে গাছ কেটে নগর সম্প্রসারণ।

কি বল হে, বাকিরা সব,

কি হে, পূর্ত মন্ত্রী, কেটেছ এ বছর কটা গাছ যেন?

পূর্তমন্ত্রী: আজ্ঞে হুজুর, এভাবে লজ্জা দিচ্ছেন কেনো?

সবার সামনে..... খারাপ লাগে না এভাবে বললে........?

বিদুষক : যাববাবা, দোষ করবে, অথচ গোঁসা হবে, মুখে বললে?

রাজামশাই: জানো মন্ত্রী, এই গাছই একমাত্র উপায়, আমাদের এই ভীষণ পরিস্থিতির একমাত্র ত্রাতা।

আর তাকেই আমরা কেটে ছেঁটে, করেছি একেবারে যা তা।

পূর্তমন্ত্রী: হুজুর, জানি, হয়েছে মস্ত ভুল, কিন্তু, উপায়......

আমি যে নিরুপায়।

রাজামশাই: হমম, তারই তো ফল ভুগছি এখন,

বাতাসে বাড়ছে ক্ষতিকারক দূষিত গ্যাস মণ মণ।

একটা তবু যেমন তেমন, তবু বাতাসে আর এক ব্যাটাও বাড়াচ্ছে উষ্ণায়ন। তাই নয় কি?

মন্ত্রীমশাই: কার্বন-ডাই-অক্সাইড, আর কি?

রাজামশাই: আর একটা তার দোসর ও আছে, যখন কার্বন পুরোটা না পোড়ে।

গাছে লাগলেই, পাতা কুঁকড়ে, অসময়ে যাবে ঝরে।

ওইটা আবার বেজায় বিষাক্ত, বলছে নাকি মরবে লোকে নাক দিয়ে ঢুকলেই।

মন্ত্রীমশাই: হ্যাঁ হুজুর, কার্বন মনোক্সাইড, পাজির পাঝারা, আর আপনি ধরেছেন, ঠিকটাই।

বিদুষক: জ্ঞানপাপী, সবজান্তা বিদ্যেধরি,

মন্ত্রীমশাই চোখ পাকান, বিদুষকের দিকে তুই চুপ করবি, নাহলে দেখ তোর কি করি?

ধমক খেয়ে বিদুষক চুপ করে গেলেও, চুপ করেন না, রাজামশাই, মন্ত্রী এ তোমার অন্যায় ভারী, চোখ রাঙিয়ে ওকে যদিবা চুপ করাও,

ভাবো তো, কি উত্তর দেবে, যখন আজকের কচিকাঁচার দল হবে আমাদের ওপর চড়াও।

মন্ত্রীমশাই জানেন, তিনি ও নিরুপায়, ভ্রান্ত আর অবৈজ্ঞানিক শিল্পকরণ, গিলে ফেলেছে পরিবেশের নির্মলতা।

চিমনির ধোঁয়া, গাড়ির ধোঁয়া, চারদিকে দূষণের ব্যাপকতা।

অপরিমিত আর অপরিশোধিত বর্জ্যজল আজ ভরেছে নদী নালা।

মাটির তলায় জল তলানিতে, গ্রীষ্মে ভিজবে না তৃষ্ণার্তের গলা।

কিন্তু, প্রশ্ন একটাই, তবে উপায় কি বা, কেউ কি তার খোঁজ জানে?

বাস্তবায়িত হয়নি কিছুই, যা উপায়, সবই রয়েছে মনে মনে।

রাজামশাই: কি মন্ত্রী , কি ভাবছো এতো? একদম চুপ মেরে গেলে যেন?

আরে বাবা দোষের ভাগীদার আমরা সবাই, তুমি একা মন খারাপ করো কেনো?

মন্ত্রীমশাই: না হুজুর, মন খারাপ নয়, ভাবছি কি আর করা যায়।

কলকারখানা, গাড়িঘোড়া সব বন্ধ করে দিলে, সেটা কি হবে এর উপযুক্ত উপায়?

রাজামশাই: ক্ষেপেছ নাকি? তাই হয় নাকি?

এতো মানুষের রুজিরুটি, যারা সবে কাজে ঢুকেছে, তাদের এখনও গোটা জীবন বাকি।

মন্ত্রীমশাই: তবে পরিবেশ, প্রাকৃতিক সম্পদের ভারসাম্য, তার কি হবে?

রাজামশাই: ভাবো মন্ত্রী, ভাবো, এখনই একটা মধ্যপন্থা ভাবতে হবে।

মন্ত্রীমশাই:হুজুর আমরা যদি কথা বলি এমন একজনের সাথে,

যার মাথায় বিদ্যাবুদ্ধি ঘড়া ঘড়া ভরা আছে।

সাথে আছে, অসীম শক্তি, হাতে শতেক হাতির বল।

যার দাপটে, বাঘ আর গরু, একঘাটে খায় জল।

রাজামশাই: কি বলছ, মন্ত্রী, এমন কি কেউ আছে?

কোথায় থাকেন, কোন দেশেতে, এখুনি যাই চলো তার কাছে।

উপায় যদি তিনি বাতলে দেন, তবে প্রণমি শত শত।

অর্ধেক রাজ্য তাঁকেই দেব, আর মনিমানিক্য চাইবেন যত।

মন্ত্রীমশাই: হেসে ফেলেন রাজামশাই এর কথায়, মহারাজ, তার নেই কোনো কিছুরই অভাব।

তবে কেউ চাইলে সাহায্য, ফেরান না তিনি, সেটাই তাঁর স্বভাব।

আস্ত রাজ্যপাটের মহারাজ তিনি, সকলে মান্যগণ্য করে।

দাঁড়ান একটু ভেবে দেখি, আমি আপনাকে জানাচ্ছি দুপুরের পরে।


*********


দেখতে দেখতে দুপুর হলো, কাটা পরা পাকুড় গাছটার দিকে তাকিয়ে বিমর্ষ রাজামশাই মুখখানা ভার করে তখনও বসে,

মন্ত্রীমশাইকে দেখে বললেন একটু কাষ্ঠ হেসে,

মন্ত্রী, তোমায় সবই তো বললাম, এখন ভেবেছো কিছু, কি যে করি?

পৃথিবীটা আমার বাঁচুক, এটাই চাই, তাতে আমি যদি মরি,......মরি।

মন্ত্রীমশাই: হ্যাঁ, মহারাজ, এ কথা ঠিক, বিপদ তো মস্ত,

দূষণ রাক্ষস এসেছে, আমাদের পৃথিবীটাকে গিলতে আস্ত।

আর বড়ো বড়ো সব রাষ্ট্র নেতা এক্কেবারে এক একটা পাগল.....

রাজামশাই: শুধু পাগল নয়, বুদ্ধিতেও এক একটা রামছাগল।

কত দেশের মানুষ পায় না খেতে,দারিদ্রতার ভারে জর্জরিত,

রোগ ভোগে লোক মরছে রোজ কতো শত শত।

অন্যদেশের থেকে ভিক্ষা করে খায়।

তবু দেখো, লোভের পাহাড়, শুধু যুদ্ধ করতে চায়।

বুঝিনা, নিজের দেশ না সামলে, এসব বুদ্ধি কোথায় পায়?

মন্ত্রীমশাই: জানেনই রাজামশাই, সবার ভাবনা আর কাজে বিস্তর অমিল,

আর অনেকে উপায় ভাববে কি, প্রতিপদে পদে গড়মিল।

কিন্তু সেসব আছে, থাকবে, আলোচনা ভুরি ভুরি।

আগে তো আমাদের বাঁচতে হবে, সেথায় নেই অন্য জারিজুরি।

রাজামশাই: সেতো ঠিকই মন্ত্রী, তাই তো ডাকলাম তোমায়,

বুদ্ধি তোমার বেজায় জানি, বাতলাও দেখি একটা জব্বর উপায়।

মন্ত্রীমশাই: আমার মতে....

রাজামশাই: কি...... তোমার মতে?

মন্ত্রীমশাই: এ ব্যাপারে আমাদের, করতে সাহায্য.....

তবে জানি না, তাঁর কাছে হাত পাতা, কতটা ন্যায্য?

রাজামশাই: কে সেই লোক, নামটা বল, আমি নিজে যাবো তাঁর কাছে.......বেঁচে থাকলে তবে তো ন্যায্য-অন্যায্য, এখন কি আর সে সব ভাববার যো আছে?

তুমি নামটা বলো, আর ঠিকানাটা....যদি জানা থাকে.... কোন অলিতে কোন গলিতে, কোথায় সে লোক থাকে?

মন্ত্রীমশাই: চলুন তবে রাজামশাই, একসাথে যাই তবে,

দেশের বিপদ, তিনিই ভরসা.....

রাজামশাই: কিন্তু, তুমি কার কথা যে বলছো, করোতো বাপু একটুখানি খোলসা।

মন্ত্রীমশাই: তিনিও এক রাজামশাই, আজব দেশের অধিপতি।

শেওড়াবনের দক্ষিণ-পশ্চিমকোণে তাঁর বিশাল রাজ্যপাতি।

এমনি কাউকে দেন না দেখা, তবে যদি মন থেকে ডাকা হয়।

ভালোবেসে, শ্রদ্ধা করে, আর না পেয়ে ভয়।

তবেই তিনি সামনে আসেন, যারা সরল মনে চায়,

এই রকমের ঝামেলা থেকে, একমাত্র তিনিই দেখাতে পারেন উপায়।

রাজামশাই: তরাক করে লাফিয়ে ওঠেন, তুমি বলেছ ভুতের রাজার কথা.....

ইশ, কেনো যে মাথায় এলো না, ওনার গুনোগাথা।

একদম ঠিক, উনিই পারেন, করতে মোদের ত্রান।

নইলে বেঘোরে মরব মোরা, উনিই পরিত্রাণ।

চলো চলো, তবে যাই, শেওড়াবনের দিকে, হাতে পায়ে ধরে ওনাকে শুধাই, আর চাই সাহায্য।

মন্ত্রীমশাই: চলুন তবে, এখুনি, করতে সে শুভকার্য।

রাজপ্রাসাদ থেকে বেরিয়ে রাজামশাই এর মন্ত্রীমশাই হাঁটা দেন, শেওড়াবনের দিকে, তার ঠিক দক্ষিণ পশ্চিম কোণে এক মস্ত নিম গাছ, কোনোকালে পরা বাজে, একদম ন্যাড়াবোঁচা। সেটাই ভুতের রাজামশাই এর রাজপ্রাসাদ। আসে পাশের বাঁশের ঝার, শেওড়া গাছ আর সজনে গাছে থাকেন ওনার সব মন্ত্রী আমলারা। সামনে এক চিলতে জমি, লোকে বলে ওখানে নাকি আগে মড়া পোড়ানো হতো।  সেখানেই প্রতি অমাবস্যায় বসে রাজামশাইয়ের রাজদরবার। মানুষ রাজামশাই আর মন্ত্রীমশাই সেখানে পৌঁছে, নতজানু হয়ে বসেন, ভয়ে গা ছম ছম করছে, কিন্তু কি আর করবেন? ওনারা এসেছেন, সাহায্যের আশায়।

ডানদিকের নিম গাছ থেকে হুমদো, মগডালের মামদোকে জিজ্ঞেস করে, “ও মামদো দা, দেখেছো, মানুষ এসেছে গো।“

জিভ দিয়ে ওপরের ঠোঁটটা একবার চেটে নেয় মামদো, “দেখেছি, দেখেছি, আজ মনে হচ্ছে, বিকালের টিফিনটা জম্পেশ হবে।“

হুমদো: কিন্তু এরা এখানে এসেছেই বা কেনো, তার কিছু জানো?

মামদো: একটু দেখি কি হালচাল, মেছোকে বলেছি, কি চায় ওরা, সব খবর আনো।

হুমদো: তবে সেই কথাই থাক, একটু দেখো, তারপর না হয়, দুটোর ঘাড় মটকাই।

মামদো: আমারও তো সেটাই ইচ্ছা, দেখি সন্ধ্যেয় ওদের যদি খেতে পাই।

এদিকে রাজামশাই আর মন্ত্রীমশাই, ভুতের রাজার দরবারে এসে নিজেদের উষ্ণিশ খুলে রেখে পাশে, হাঁটু গেড়ে মাটিতে বসে, হাতজোড় করে ডাক দেন, রাজামশাই..... রা....রাজামশাই। বড়ো বিপদে পরে আমরা এসেছি, আপনার স্মরণে, যদি একবার আপনার দেখা পাই।

ভুতের রাজামশাই ধীরে ধীরে ওনাদের সামনে প্রকট হন, সেই মিশমিশে কালো গায়ের রং, একটু পাংশুটে, ঠিক যেনো অমাবস্যার ঘুটঘুটে কালো রাত, সেই কুতকুতে ছোটো ছোটো চোখ, হাতির মতো, যা থেকে নীল আলো ঠিকরে বেরোচ্ছে, মাথায় সাদা ধবধবে টোপর, নাকের মাথায় লাল গোল বল। আর গায়ে লম্বা আলখাল্লা, তাতেও চিকমিক করে তারাবাতি জ্বলছে, ওনাকে দেখে অবাক বিহ্বল চোখে তাকিয়ে থাকেন রাজামশাই আর মন্ত্রীমশাই।

ভুতের রাজা: কি হয়েছে তোদের, দূষণের ভয়ে তোদের একি হাল? এই কে আছিস, আন দেখি, দুই গেলাস জল।

রাজামশাই: ভয় নয়, রাজামশাই, দুশ্চিন্তায় কাটছে দিন কাল।

ভুতের রাজা: শিল্পায়ন হলে, নগরায়ন হলে, দূষণ হবে, এতে এতো দুশ্চিন্তার কি আছে?

রাজামশাই: সেটা ঠিক, তবে প্রাকৃতিক সম্পদ সব যে প্রায় শেষ..... চলবে কদিন, কি করেই বা, অন্যের থেকে কিনে...... আমাদের কি আর সে সামর্থ্য আছে?

ভুতের রাজা: নেই যখন.... তবে দেশটাকে কি করে বাঁচাবি, কিছু ভেবেছিস?

রাজামশাই: তাই তো আমরা.... আপনার কাছে......

ভুতের রাজা: তোদের সমস্যা আমরা মেটাবো, তুই কি খেপেছিস?

রাজামশাই: রাজামশাই, আসলে.....

ভুতের রাজা: যা চ্চলে।

মন্ত্রীমশাই: রাজামশাই, যদি অভয় দেন, তবে করি একটা অনুনয়।

ভুতের রাজা: দিলাম, তবে একটাই, তার একটাও বেশি নয়।

মন্ত্রীমশাই: যে আজ্ঞে, তবে বলি কি....

ভুতের রাজা: ভনিতা নয়, সিধে সিধে বল, চাস কি?

মন্ত্রীমশাই: আপনি তো সদা “ভালোর” পক্ষে, যেথা মানবতার জয়গান..... পাছে....

ভুতের রাজা: সেতো বটেই, “ভালো” ছাড়া আর সব মিছে।

মন্ত্রীমশাই: তাই তো বলি, একবার দেখুন গিয়ে আমাদের দেশ, তারপর আপনার যা সিদ্ধান্ত.....

ভুতের রাজা: তোদের দেশ আমি ভালই চিনি, এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্ত।

রাজামশাই: তাই তো মোরা, আপনার কাছে.....একটু সাহায্যের আশায়....

ভুতের রাজা: দেখ, দূষণের ব্যবস্থা তো করতেই হবে, তোরা ফিরে যা তোদের বাসায়।

কিন্তু, মনে রাখিস, আমি তোদের উপায় বাতলে দেব,

কিন্তু, সেটা প্রয়োগ করতে হবে তোদেরকেই।

রাজামশাই: অনেক ধন্যবাদ, রাজামশাই। হলাম নিশ্চিন্ত।

ভুতের রাজা: ভোর হলে দেখবি জগৎ পাল্টে গেছে,

কিন্তু ওই এক দিন, যা পারবি শিখে নিস, হারিয়ে ফেলিস না পাছে।

চব্বিশ ঘন্টা পর সব আগের মত হয়ে যাবে।

এই চব্বিশ ঘন্টাই তোদের হাতে সময়, তারপর আর সময় পাবি না যে।

রাজামশাই আর মন্ত্রীমশাই ফিরে আসেন ওনার রাজপ্রাসাদে, এখন অনেকটা নিশ্চিন্ত লাগছে। ভুতের রাজামশাই কথা দিয়েছেন, সাহায্যের। তবে দুশ্চিন্তা কি একেবারে যায়....... প্রজাদের রক্ষা করা, সে যে বড়ো দায়।

ওদিকে ভুতের রাজামশাই তখন জোর তলব ডাকেন ওনার ভূতেদের নিয়ে। ওনার মূল উপদেষ্টা বেম্মদত্তি ততক্ষণে একটা পরিকল্পনা করেছেন। ওদিকে সন্ধ্যে নামছে ধীরে ধীরে, এটাই ভূতেদের কাজ করার উপযুক্ত সময়।


********


পরদিন সকাল হলো, পুব আকাশে আলোয় আলোময়। রাজামশাই তড়াক করে লাফিয়ে উঠে ছুটে আসেন বাইরের বারান্দায়, কিন্তু একি, এ কি করে হলো?

বাতাসে যত ধুলো ছিল, রাতারাতি কোথা গেলো?

আআআহ, বুক ভরে একটা নিঃশ্বাস নেন রাজামশাই, যেনো মন প্রাণ জুড়িয়ে যায় তাঁর, এ যে অবিশ্বাস্য, অভুতপূর্ব। তৎক্ষণাৎ ডেকে পাঠান মহামন্ত্রীকে। খবর পেয়েই ছুটে আসেন মন্ত্রীমশাই।

মন্ত্রীমশাই: ডেকেছেন, রাজন, সুপ্রভাত।

গেছিলাম একটু হাঁটতে সকালে, প্রহরী বললে, আপনি ডেকেছেন ততক্ষণাত।

রাজামশাই: আরে মন্ত্রী, দেখেছো কি হয়েছে? আকাশ বাতাস কি নির্মল, নেই কালো ধোঁয়া, কার্বনের কণা।

আমার তো ভীষণ আনন্দ হচ্ছে, যেনো রাতারাতি গুটিয়ে গিয়েছে দূষণের বিষাক্ত ফণা।

মন্ত্রীমশাই: হ্যাঁ মহারাজ, দেখেছি, দেখেছি হাঁটতে গিয়ে,

কি পরিষ্কার জল, একদম স্ফটিকের মতো, বইছে নদী দিয়ে।

রাজামশাই: বলো কি মন্ত্রী, তাই নাকি, সব কিছু ঝকঝকে,

কিন্তু রহস্যটা কি, জানো কিছু? এসব করল কে?

মন্ত্রীমশাই: হুজুর, এ অসাধ্য করতে সাধন, একজনই তো পারে।

সাহায্যের আশ্বাস তো উনি কালই দিয়ে ছিলেন, আপনারে।

রাজামশাই: সত্যিই তো, একাজ তিনি ছাড়া আর কারো সাধ্য নয়।

চলো মন্ত্রী, আজই গিয়ে তার সাথে কথা বলি, কৃতজ্ঞতা যে না জানলেই নয়।

মন্ত্রীমশাই: হ্যাঁ, সেতো যাবো নিশ্চয়ই, তবে তার আগে.....

রাজামশাই: কিছু সমস্যা, ঝেড়ে কাশো ভাই, আগে ভাগে।

মন্ত্রীমশাই: চলুন আগে ঘুরে ঘুরে কৌশল গুলো দেখি,

একটু বুঝি, একটু শিখি, যেটুকু পারি খাতায় লিখে রাখি।

শিক্ষার কোনো শেষ নেই তো, আমাদের ভালোই হবে,

নিজের মতো চলবে পরে, যখন যেমন লাগবে।

রাজামশাই: তবে, তাই ভালো মন্ত্রী, চলো তাই করি।

ঘুরে ঘুরে আগে শিখি চলো, ওনাদের কারিকুরি।

আমাদের সব থেকে বড়ো চিন্তা.... কোথায় যেন, কোথায় যেন?

বিদুষক: জ্বালানি হুজুর। কয়লা আর তেল, তলানিতে ঠেকেছে ভান্ডার, সাথে সেটাই পুড়ে এতো ধোঁয়া.......

রাজামশাই: আরে ঠিক বলেছো বিদুষক, আর এখানে দেখো, সব যেনো ছেলের হাতের মোয়া।

মন্ত্রীমশাই: চলুন রাজামশাই, তবে গিয়ে দেখি,

এতো মেশিন চলছে, কল চলছে, চলছে কারখানা।

জ্বালানি তবে কোথায় আছে, জলে চলছে নাকি?

রাজামশাই: তাই চলো তবে, আজও যদি না শিখতে পারি তবে আর শিখবো কবে?

বিদুষক: মহারাজ, ওই গুলো কি বলুন তো, দূরে ওই মাঠের পর,

নীল চাদরে যেনো ঢেকেছে দেখুন, মাঠের পর মাঠ, ঘরের পর ঘর।

রাজামশাই: তাই তো বটে, ওইগুলো কি?

চলো তো গিয়ে দেখি।

হটাত করে একটা ঠান্ডা শনশনে হাওয়া এসে ওনাদের সামনে থামে, চোখের পলক পরতে না পরতেই সেটা থেকে একজন মানুষের মতো দেখতে লোক বেরিয়ে আসে।

লোকটা: আপনারা কে, কোথায় যাবেন, কার কাছে?

রাজামশাই: না কারো কাছে নয়, দেখছিলাম একটু এদিক ওদিক ঘুরে,

ওই নীল নীল ওই গুলো কি গো, যেনো মাঠ টা নিয়েছে পুরো মুড়ে।

লোকটা: ওই গুলো হলো সোলার প্যানেল।

বিদুষক: আজব তো, আমরা কি শোলা চিনিনা নাকি?

অতো শক্ত শোলা হয়, আমাদের দিচ্ছে ফাঁকি?

রাজামশাই: চোখ কটমটান, চুপ কর বলছি।

লোকটার দিকে ফিরে বলেন, মানে, আমরা তো ঠিক জানিনা, তাই এদিক ওদিক ঘুরে ঘুরে দেখছি।

তা এই সোলার প্যানেলে কি হয়, কোন কাজে এটা আসে?

মন্ত্রীমশাই: হ্যাঁ, সেটাই জিজ্ঞাসিব ভাবছিলাম, কুলাচ্ছিল না সাহসে।

লোকটা: এটা থেকে বিদ্যুৎ শক্তি তৈরি হয়, এর ভিতরে থাকে ফটো ভোল্টাইক সেল, যা সূর্যের আলোর সাহায্যে বিদ্যুৎ শক্তি উৎপন্ন করে।

রাজামশাই: ও তারমানে আমরা যেমন করি কয়লা পুড়িয়ে,

জল ফুটিয়ে বাষ্প বানিয়ে, তাই দিয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে।

লোকটা: না, একেবারেই নয়, এই শক্তির কোনো শেষ নেই, এতে কোনো ধোঁয়া তৈরি হয় না, কোনো বিষাক্ত গ্যাস তৈরি হয় না। তাই তো দেখুন, আমাদের আকাশ বাতাস কত শুদ্ধ, কোথাও কোনো কালো ধোঁয়া দেখছেন?

রাজামশাই: বলেন কি, সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ তৈরি,

কয়লা নেই, তেল নেই......কিন্তু এতে বড়ো বড় গাড়ি, কলকারখানা চলবে?

লোকটা: নিশ্চয়ই চলবে, কেনো চলবে না? তবে আমরা এই বিদ্যুৎ দিয়ে গাড়ি চালাই না, এই সৌর বিদ্যুৎ দিয়ে আমাদের দেশের স্কুল কলেজ অফিস কল কারখানা সব চালাই, তবে গাড়ি ঘোড়ার জন্য অন্য উপায় আছে।

বিদুষক: কি আর উপায়, সেই তো পেট্রোল আর ডিজেল, আর সেগুলো পুড়ে গাদা গাদা সালফার অক্সাইড। আমরা সেসব জানি।

লোকটা: নো স্যার, নো পলিউট্যান্ট সালফার নো নাইট্রোজেন, কোনোটার কোনো অক্সাইড নয়, একেবারে নির্ভেজাল বিশুদ্ধ নির্মল সবুজ জ্বালানি।

রাজামশাই: সবুজ জ্বালানি, মানে লাল নয়, নীল নয়,

আচ্ছা ওতে কি কোনো সবুজ রং মেশানো হয়?

সেই লোকটা: হো হো করে হেসে ওঠে, সবুজ জ্বালানি মানে সবুজ রঙের জ্বালানি নয়, আসলে গ্রিন ফুয়েল। মানে যেটা পোড়ানো হলে বাতাসের বা পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয় না।

রাজামশাই এর চোখ তখন ছানাবড়া, বলেন: বলেন কি মশাই, এরকম আবার জ্বালানি হয়?

বিদুষক: যা খুশি বলে গেলেই হলো? করে নয় কে হয়।

মন্ত্রীমশাই: একটু যদি বলেন বিস্তারিত,

বুঝতেই তো পারছেন, এই ব্যাপার গুলোয় আমরা নই যথেষ্ট অবগত।

লোকটা: চলুন তবে, আপনাদের নিয়ে গিয়েই দেখাই, কিভাবে আমরা জ্বালানি তৈরি করি। জ্বালানি মূলত তৈরি হয় উদ্ভিজ সম্পদ থেকে, আমরা বলি বায়োডিজেল। তবে আপনাদের মতো মাটির তলায় জমে থাকা তেল আমরা তুলি না।

রাজামশাই: এতে গাড়ি চলে, আর গাড়ির ধোঁয়া?

তারপর দাম, থাকবে কি সেসব মানুষের ধরা ছোঁয়া।

লোকটা: নো স্যার, এতে নো ধোঁয়া। সম্পূর্ণ দাহ্য এই জ্বালানিতে কোনো অবশিষ্ট কার্বন থাকে না। তাই ধুলোর প্রশ্ন নেই। আর দাম? আপনাদের মতো পেট্রোলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে যায় না। এককথায় একদাম, আপনাদের দামের তিনভাগের একভাগ কি বড়োজোর অর্ধেক ধরুন।

রাজামশাই: দারুন।

একি শুনছি মন্ত্রী? এ যে অবিশ্বাস্য।

তোমারও দেখছি মনে ধরেছে বেশ, আইডিয়া অতি উৎকর্ষ।

মন্ত্রীমশাই: হেসে ফেলেন, সত্যি বলতে কি জাহাঁপনা ,

এই পদ্ধতির কোনো উপযুক্ত বাহবা, ঠিকঠাক মাথাতেই আসছে না।

দেশের সবথেকে বড়ো সমস্যা, জ্বালানিতে,

কয়লা, পেট্রোলিয়ামের সম্ভার এমনিতেই ঠেকেছে তলানিতে,

সেখানে এরকম যদি সমাধান হাতে পাই,

ভবিষ্যতের জন্য উত্তম ভরসা, তাতে কোনো সন্দেহ নাই।

কিন্তু.......

বিদুষক : আবার কিসে কিন্তু......?

রাজামশাই: কিসে কিন্তু আছে কি আরো কোনো সন্দেহ?

মন্ত্রীমশাই: না না, হুজুর সন্দেহ নয়,

এতো নিজেই নিজের কাছে, আস্ত একটা বিস্বয়।

তবে এই সব টেকনোলজি, শিখতে, চালাতে, লোক তো লাগবে।

একদিনে তো হবে না, যে রাতারাতি মানুষের চেতনা জাগবে।

রাজামশাই: জানি মন্ত্রী, সময় লাগবে।

ধীরে ধীরে মানুষের মধ্যে বোধ জাগবে।

তবে সব কিছু শুরুর ও একটা শুরু থাকে,

আর সেটাই এখন করতে হবে মিলে তোমাকে আমাকে।

ঠিক কিনা?

বিদুষক : সাথে আমিও আছি হুজুর।

মন্ত্রীমশাই: তাতো ঠিকই, তবে আমরা তো বুড়ো......

রাজামশাই: উদ্যোগ হবে আমাদের, তবে এগিয়ে আসতে হবে আগামী প্রজন্মকে,

মানুষ নতুন করে চিনতে শুরু করবে আমাদের এই সুন্দর পৃথিবীটাকে, ভালোবাসতে শুরু করবে আমাদের এই পৃথিবীটাকে, সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গাইবে বেঁচে থাকার গান। তবেই হবে আমাদের উদ্যোগের বাস্তবায়ন। তাই ভেবো না, আমাদের কাজ শেষ, আমাদের কাজ সবে শুরু, বুঝলে মন্ত্রী সবে শুরু।

মন্ত্রী মশাই: যে আজ্ঞে, আপনি গুরু। 

সেইদিন থেকে দেশে চালু হলো এক নতুন ধারণা, শুধু নিজে বাঁচলেই হবে না, বাঁচাতে হবে পরবর্তী প্রজন্মকে। ভুতের রাজা মশাই পথ দেখিয়ে দিয়েছেন, এবার চলতে শুরু করা সবুজের পথে।

আজ এই এতো বছর পর সেই রাজামশাই, মন্ত্রীমশাই কেউ নেই, কিন্তু মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বেড়েছে, মানুষ আজ চিরাচরিত শক্তি ভান্ডার ভুলে মন দিয়েছে অচিরাচরিত্ শক্তি ভাণ্ডারের দিকে, আর সবার অলক্ষ্যে থেকে রাজামশাই আর মন্ত্রীমশাই আশীর্বাদ করেন, ওনাদের শুরু করা কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। যাই হোক, আজকের মানুষজন বোধহয় কেউ ওই রাজামশাইদের কথা জানেইনা, তাই আমি ভাবলাম, আমিই বলে যাই। বুঝলেন? যাক সবাই ভালো থাকবেন, আর একটা সবুজ পৃথিবীর জন্য সবাইকে আগাম অভিনন্দন জানিয়ে আমি আপাতত চললাম, ও এখনো বুঝতে পারেন নি, আমি কে বলছি। যদিও আমাদের রাজামশাই বলতে বারণ করেছিলেন, তাও বলে যাই, আমি মামদো, যাই হোক, এখনো তবে যাই, থুড়ি থুড়ি যাই বলতে নেই, আসি তাহলে। কেউ আবার ভুল করে দুগ্গা দুগ্গা বলে বসবেন না যেন, চললাম, গুড বাই, সবাই ভালো থাকবেন।

...(সমাপ্ত)...



অলৌকিক অন্তর্দৃষ্টি

ছবি : অর্কজ্যোতি চক্রবর্ত্তী


 অলৌকিক অন্তর্দৃষ্টি

অর্কজ্যোতি চক্রবর্ত্তী


আজ শনিবার সকালে শ্যামবাজারের পাকড়াশী পরিবারে খুব হৈচৈ পড়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে এই নিয়ে সামান্য কৌতূহল দেখা দিয়েছে। অবনী (পাকড়াশী) বাবুকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করায় উনি উচ্ছ্বসিত কন্ঠে বলে উঠলেন, “আরে, আমাদের কৌলিক আমেরিকার বস্টন ইউনিভার্সিটিতে পদার্থবিদ্যায় পিএইচডি গবেষণার সুযোগ পেয়েছে। যে ভদ্রলোক ওকে তাঁর ল্যাবরেটরীতে সুযোগ দিয়েছেন, তিনি বিশ্বের একজন বড় মাপের পদার্থবিদ্ ।“ এটা শোনার পর যিনি জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তার একটা মিশ্র অনুভূতি হলেও, অবনীবাবুর কিন্তু আনন্দের সীমা-পরিসীমা ছিল না।

যাইহোক, সবার কাছ থেকে অনেক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা কুড়ানোর পর কৌলিক আগামী আমেরিকা যাত্রার জন্য নিজেকে তৈরী করতে লাগল। চটজলদি ভিসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে সে খোঁজ খবর নিল এবং কাগজপত্র ঠিকঠাক থাকায় শীঘ্রই আমেরিকান ভিসা পেয়ে গেল । মাস খানেক পর তার যাওয়ার দিন ঠিক হল, নতুন বছরের জানুয়ারী মাসের মাঝামাঝি । প্রথম বিদেশ যাত্রা হিসেবে তার যদিও কিছুটা স্নায়ুচাপ অনুভূত হচ্ছিল, কিন্তু মোটের ওপর নিজেকে বেশ লাগছিল। তাই একদিন বেরিয়ে পড়ল আমেরিকা যাত্রার জন্য জুতো আর ছাতা কিনতে, ধর্মতলার মোড়ে নিউ মার্কেটে। ভিড় রাস্তায় খানিকক্ষণ ঘোরাঘুরি করার পর বাটার দোকানে ঢুকল। তারপর যেই পিঠের ব্যাগের কম্বিনেশন লক্-টা খুলতে যাবে, দেখল ব্যাগের মুখটা হাঁ হয়ে আছে। ব্যাগ থেকে ওয়ালেট উধাও হয়েছে, নিশ্চিৎ পকেটমার ! 

এরপর কিছুক্ষনের জন্য কৌলিকের বাক্-রোধ হল। সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে থপ্ করে রাস্তার ধারের বেঞ্চিটাতে বসে পড়ল ৷ সময়টা যদিও ডিসেম্বর মাসের শীতকাল, তবুও তার কপালের ঘাম হাই-পাওয়ারের চশমা বেয়ে নাকের ওপর দিয়ে গোটা চিবুকে নেমে আসল। সে ভাবতে লাগল, তার কত টাকার ক্ষতি হয়েছে- বাবা-মা বা অন্যরা কী বলবে? বাড়ি ফিরে গেলে, ইত্যাদি...ইত্যাদি। তবে, মনে মনে তার একটা প্রবল জেদ ছিল এবং তার বশবর্তী হয়েই স্থির করল: জুতো কিনতে এসেছি, জুতো কিনেই ফিরব ৷ যদিও সে জুতোটা কিনল, ‘ডিজিটাল’ ওয়ালেটের মাধ্যমে।

বাড়ি ফেরার পর তুলকালাম কান্ড বেধে গেল। বাড়ীর প্রত্যেকটা লোক তাকে প্রতি মুহূর্তে জানান দিতে থাকল, সে কতখানি ‘কেবলরাম’,- শুধু মুখ বুজে পড়াশুনা করলেই হয় না, দুনিয়ার লোকজন সম্পর্কে সচেতন হওয়ারও বিশেষ দরকার রয়েছে। অবনীবাবু তখন খানিক ব্যাঙ্গাত্মক ভঙ্গীতে বললেন, "তোর আর আমেরিকা-টামেরিকা যাওয়ার দরকার নেই, তুই ঘরেই থাক! মায়ের আঁচলের নিচে।“ যাইহোক, এরপরে আরও কিছুদিন সময় ছিল কৌলিকের হাতে । তাই সে নিজেকে যথাসম্ভব সামলে নিয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হল, যেন এরকম ঘটনা ভবিষ্যতে আর না ঘটে।

এরপর কৌলিকের আমেরিকা গমন; বাড়ির লোকেদের ভাবাবেগ, আনন্দাশ্রু ও হাজারো শুভকামনা মাথায় নিয়ে সে পৌঁছে গেল সুদূর আমেরিকার বস্টন প্রদেশে। চারিদিকের ঝাঁ চকচকে ভবনগুলি তাকে বিস্মিত করল। তারপর যখন সে বস্টন ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে পৌঁছল, তার বিস্ময় আরও দ্বিগুণ হল। তার আমেরিকান বস্ পৃথিবীর অন্যতম সেরা পদার্থবিদ্ প্রফেসর জাস্টিন ম্যাক্ কোয়্যারি ৷ কৌলিককে তিনি তাঁর ল্যাবরেটরীতে স্বাগত জানালেন৷ কৌলিক সব কিছু ভুলে গিয়ে, তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করতে গিয়ে ফ্যাসাদ বাধাল। সাহেব তার এই বাঙালি কায়দায় সম্মান জানানোতে খানিক অপ্রস্তুত হয়ে পড়লেন। তবে মনে মনে বুঝতে পারলেন, ছেলেটিকে ঠিকমত কাজ করাতে পারলে হয়ত, সোনার ডিমপাড়া হাঁসে পরিণত হতে পারে।  ভারতের মতো তৃতীয় বিশ্বের বিকাশশীল দেশের একজন খুবই মেধাবী ছাত্রের প্রতি পৃথিবীর অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে শক্তিশালী দেশের এক স্বনামধন্য বিজ্ঞানীর এহেন মনোভাব হয়ত সমীচীন। যাইহোক, কৌলিকের মনে যে গুরুর প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধার প্রলেপ আশৈশব ছিল, তা হটিয়ে আমেরিকান ভদ্রলোকের আসল চেহারাটা অনুধাবন করা তার পক্ষে সম্ভব ছিল না। সে কোনোভাবেই সামনের সময়টা দেখতে পারেনি, যে সময়টা তার কাছে অভাবনীয়রূপে কঠিন হতে চলেছিল।

           কৌলিকের সঙ্গে ল্যাবরেটরীর অন্যান্য লোকজনের আলাপ হল। সে প্রভূত উৎফুল্ল হলেও, বিশেষ করে দুই ব্যক্তির বোধহয় তাকে পছন্দ হল না। একজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত রিভু রামাস্বামী ও অন্যজন তার সহচর ঐদেশীয় স্টিভেন্স ৷ কৌলিকের বাচনভঙ্গী ও হাবভাব লক্ষ্য করে রিভু ফিসফিস করে স্টিভেন্সকে বলল, "ব্যাটা বাঙালী ও রীতিমতো আন্-স্মার্ট! কোনো আদব-কায়দা জানেনা। চোখের হাই-পাওয়ারের চশমাটা একটু দেখ। একে নিয়ে ভালো মজা করা যাবে।" 

যাইহোক, প্রথম কয়েকমাস গবেষণাগারের সতীর্থদের সঙ্গে ভালোভাবে কাটালেও, কৌলিকের জীবন ধীরে ধীরে জটিল থেকে জটিলতর হয়ে উঠল। প্রফেসর ম্যাক্-কোয়্যারি কৌলিকের ‘কর্মোৎপাদন’ বাড়ানোর জন্য রিভু ও স্টিভেন্সকে তার পিছনে ছিনে জোঁকের মতো লাগিয়ে দিলেন ৷ তাদের নিরন্তর বিদ্রূপ ও অমার্জনীয় কথাবার্তা কৌলিককে ক্রমশঃ অতিষ্ঠ করে তুলল ও তার রাত্রের সুখনিদ্রা যেন বহুদিনের জন্য কোথায় হারিয়ে গেল। একদিন রিভু অতর্কিতে কৌলিককে বলল, "ডিয়ার! অনেক দিন থেকে তোমার এসব হাস্যকর কাজকর্ম আমরা দেখে চলেছি। মনে রেখো এটা এখানকার অন্যতম সেরা ল্যাবরেটরী, তাই তোমার এই উল্টপাল্টা কাজকর্ম কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রফেসর ম্যাক্-কোয়্যারিও তোমার কাজকর্মে রীতিমতো অসন্তুষ্ট। তিনি খোদ স্টিভেন্সকে একথা বলেছেন।" একথা শোনার পর কৌলিক হতচকিত ও আরেকবারের জন্য তার বাক্-রোধ হল। সে ভেবেছিল প্রফেসর তাকে খুবই পছন্দ করেন এবং তার কাজকর্মের মধ্যে একটা আগামীর প্রতিশ্রুতি রয়েছে, এরকম মনে করেন ৷ কিন্তু রিভু রামাস্বামীর এহেন সতর্কীকরণের সঙ্গে কৌলিক তার ‘মনে হওয়াটাকে’ কিছুতেই মেলাতে পারছিল না।

অতএব, এই জরুরী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আশায় কৌলিক তার গবেষণার কাজকর্ম প্রচুরমাত্রায় বাড়িয়ে দিল, একরকমভাবে নাওয়া-খাওয়া প্রায় ভুলে গিয়ে ৷ কিন্তু রিভু আর স্টিভেন্সের কারসাজিতে সে একদম পেরে উঠছিল না। তার প্রস্তাবিত থিওরি প্রফেসর অপ্রাসঙ্গিক ও অবাস্তব বলে বারংবার নাকচ করে যেতে থাকলেন। এতে কৌলিকের উপর চাপ আরও বাড়ল বইকি।

এরকমই একটা দিন। সে দেখল তার বানানো নমুনাটিকে, কে বদল করে দিয়েছে ৷ তার এক্সপেরিমেন্টের রেজাল্ট তো সব ভুল আসবে এবার ! তারপর হয়তো প্রফেসর তাকে ল্যাবরেটরী থেকে বিদেয় করবেন। ফিরে যেতে হবে আবার বাংলায়; তার  শ্যামবাজারের বাড়িতে সেই কালিমালিপ্ত অভিজ্ঞতা, হয়তো তাকে এবং তার পরিবারকে বড়ই বিপদে ফেলতে পারে। এসব আকাশ-কুসুম কল্পনা তার মনের মধ্যে দানা বাঁধছিল। ঘটনাচক্রে সে তখন নিজের ভুল শুধরানোর উদ্দেশ্যে তীব্র গতিতে দৌড় দিল তার ল্যাবরেটরির অন্য একটি বিভাগের দিকে। নামতে গিয়ে পায়ে পা জড়িয়ে গড়াতে গড়াতে পড়ে গেল সোজা নীচের-তলায়। এতে তার মাথায় আঘাত লেগেছিল ও সে হুঁশ হারিয়েছিল।

তারপর যখন তার জ্ঞান ফিরল, তখন সে একটি হাসপাতালের বেডে শায়িত। কিন্তু হায় রে হতভাগ্য! তার চোখের দৃষ্টি একেবারে ক্ষীণ হয়ে এসেছে। সে কিছুই ভালো করে ঠাওরাতে পারছে না। আবছা করে দেখতে পেল এক মহিলা নার্সকে। 

নার্সটি মিষ্টি গলায় জিজ্ঞাসা করলেন, “হাউ আর ইউ ফিলিং নাও?” 

কৌলিক বলল, "ম্যাডাম্, আই ক্যাননট্ সি !” 

এটা শোনার পর নার্সটি খুব দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে গেলেন ও সঙ্গে করে একজন ডাক্তারবাবুকে নিয়ে এলেন। ডাক্তারবাবু কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেন ও একটি ইন্জেকশন দিতে কৌলিক ঘুমিয়ে পড়ল। কৌলিকের ল্যাবরেটরীর লোকজন ব্যাপারটি সম্বন্ধে অবগত হওয়ার পর তারা খুব ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ল। বিশেষ করে রিভু এবং স্টিভেন্স; তারা ভাবল তাদের কুটকচালির কথা ফাঁস হয়ে গেলে বিপদ। রিভু কাঁপাকাপা গলায় বলল, “ফ্রেন্ডস উই উইল নট টেল দিস টু আওয়ার প্রফেসর ৷ লেটস সি হোয়াট উই ক্যান ডু আওয়ারসেল্ভস ৷" যেহেতু তারা গবেষণাগারের সবচেয়ে অভিজ্ঞ সদস্য, তাই তাদের কথা সবাই চুপ করে শুনল ও সম্মতি জানাল। অবশ্য তারা বিশেষ কিছু প্রচেষ্টা চালাল না, বরং ব্যাপারটি যাতে ধামাচাপা পড়ে, সেই চেষ্টাই তারা করল।

এদিকে কৌলিক হাসপাতালের বেডে কাতরাতে থাকল, তার যে অসহ্য মাথার যন্ত্রণা। ডাক্তারবাবু দেখে বললেন, মস্তিষ্কে আঘাত পাওয়ায় ওর অপটিক্ স্নায়ু বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে - ও আর দৃষ্টি ফিরে পাবে না বোধহয়। পুরোপুরি অন্ধও হয়ে যেতে পারে। নার্সটি বিদেশিনী হলেও একাকী বঙ্গসন্তানের ওপর এযাবৎ তার খানিকটা মায়া পড়ে গেছে। তাই ডাক্তারবাবুর এহেন ভবিষ্যদ্বাণীতে তিনি রীতিমতো ভয় পেয়ে গেলেন । কিন্তু এরপর যা ঘটল তা নিতান্তই অলৌকিক ঘটনা বা দৈবী কৃপা বলা চলে। পরের দিন সকালে কৌলিকের যখন ঘুম ভাঙল, দেখল তার মাথার অসহ্য যন্ত্রণা একেবারে চলে গেছে এবং তীব্র আলোকে তার চোখদুটি ভরে গেছে। সে এখন সবকিছু দেখতে পারছে - আরও স্পষ্টভাবে! চোখের হাইপাওয়ারের চশমাটার আর দরকার নেই। হ্যাঁ, গতকাল রাত্রিতেই তার স্বপ্নে আবির্ভূতা হয়েছিলেন দেবীদশভূজা, তাঁর দশ বাহুতে দশ-প্রকারের পদার্থবিদ্যার নথি। তিনি কৌলিককে তার এই দৃষ্টি ফিরিয়ে দিয়েছেন, আরও তীক্ষ্ণতর করে। সে বিছানা থেকে উঠে চলাফেরা করতে গেলে নার্সটি পাশের ঘর থেকে দৌড়ে এসে বললেন, 

-"সরি! প্লিজ, ডোন্ট ট্রাই দিস্! ইউ হ্যাভ লস্ট ইয়র আই পাওয়ার ডিউ টু কনকাসন।“ 

এবার আর কৌলিক আনন্দ ধরে রাখতে পারলনা। সে উৎফুল্লভাবে বলে উঠল, 

- “নো ম্যাডাম নার্স! আই ক্যান সি এভরিথিং ইভেন মোর ক্লিয়ারলি!”

তারপর ডাক্তারবাবু এলেন ও সব দেখে বিস্ময়াভিভূত হয়ে বললেন, তাঁর কুড়ি বছরের অভিজ্ঞতায় বস্টনে এই ধরনের কেস তিনি দেখেননি।

কৌলিক এরপর যথারীতি ল্যাবরেটরীতে ফিরে গেল। তাকে দেখে রিভু ও স্টিভেন্স ছাড়া বাকিরাও হতবাক। তারা শুনেছিল কৌলিক আর কোনোদিন দেখতে পাবে না। কৌলিকের চশমাহীন হাসিখুশি মুখটি দেখে রিভু কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বাঁচার ভঙ্গীতে বলল, “সো, ইউ ক্যান সি এভরিথিং ? ক্লিয়ারলি?” কৌলিক খানিক অবজ্ঞার সুরে গর্জাল, "ও ইয়েস, অফ কোর্স!”

কৌলিক কিছুদিনের মধ্যেই বুঝতে পারল যে, তার কাছে ঈশ্বরপ্রদত্ত ক্ষমতা চলে এসেছে। সে একশো কোটি ভাগের একভাগ ক্ষুদ্র জিনিসও দেখতে পারছে। তার চোখ এখন পরিণত হয়েছে উচ্চ রেজল্যুশনের অনুবীক্ষণযন্ত্রে৷ এর দরুণ সে ল্যাবরেটরীর একের পর এক পরীক্ষায় সফল হতে থাকল এবং তার গবেষণার কাজ বিভিন্ন বিশ্বখ্যাত পত্রিকায় ছাপা হতে থাকল। প্রফেসর ম্যাক্-কোয়্যারি এতে অভিভূত হয়ে সবার সমক্ষে একদিন ঘোষণা করলেন, "ও মাই গড! দিস ফেলো হ্যাস মিরাকুলাস ভিসন!” স্বভাবতঃই তার পিএইচডি হতে খুব বেশী সময় লাগল না। রিভু, স্টিভেন্স ও আরও অনেককে পিছনে ফেলে কৌলিক পাকড়াশীর নামের আগে ‘ডক্টর’ যুক্ত হল। বস্টন প্রদেশের গভর্নর স্বয়ং তাঁর বাসভবনে কৌলিককে সম্বর্ধনা জানানোর উদ্দেশ্যে আমন্ত্রণ পাঠালেন। গভর্নরের সঙ্গে কৌলিকের নিজস্বী পরের দিন এক আমেরিকান সংবাদপত্রে প্রকাশ পেল। সেই ছবিটা কৌলিক তার বাবা অবনী বাবুকে পাঠাল, আর সেটা পাওয়ার পর গোটা পাড়া-মহল্লায় খুশীর জোয়ার বয়ে গেল।

ডক্টর কৌলিক পাকড়াশী এখন ভারতের প্রখ্যাত তথ্য ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যার উচ্চমানের গবেষক। তার গবেষণার কাজ বিশ্বের প্রায় সমস্ত দেশে সমাদৃত ৷ তার এই আমূল পরিবর্তনের পিছনে সেই বিস্ময়কর রাত্রের অভিজ্ঞতা ও দৈব হস্তক্ষেপের কথা তার মনে স্বর্ণাক্ষরে লেখা হয়ে গেছে। তা মোছা কারুর পক্ষে সম্ভব নয়, স্বয়ং কৌলিকের পক্ষেও নয়।

...(সমাপ্ত)...