1 / 7
2 / 7
3 / 7
4 / 7
5 / 7
6 / 7
7 / 7

Showing posts with label সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়. Show all posts
Showing posts with label সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়. Show all posts

Saturday, October 21, 2023

ছুটন্ত মানুষ

ছবি : ইন্টারনেট

 ছুটন্ত মানুষ

সুশীল বন্দ্যোপাধ্যায়

মানুষ এখন ছুটছে।উদভ্রান্তের মতো ছুটছে।কেন ছুটছে,কোথায় ছুটছে,কার জন্য ছুটছে তাও হয়তো ভালো করে জানে না,ছোটা কিন্তু অব্যাহত।নচিকেতার গান আছে না-অন্তবিহীন পথ চলাই জীবন।যেন না ছুটলে অন্য কেউ ছুটে দেবে, সব কিছু নিয়ে নেবে,আমি বাদ পড়ে যাবো।কি পাবো ঠিক জানি না,তবে পাওয়ার অনেক কিছু আছে এটা শুনেছি।কখন কোথায় কিভাবে সুযোগ আসে বলা যায় না।পরিশ্রমের যেমন কোন বিকল্প নেই, দুরন্ত বেগে ছোটারও তেমন কোন বিকল্প নেই।যে বসে গেল সে ফেঁসে গেল।বৃষ্টির সময় হেঁটে গেলে যতগুলি বৃষ্টির ফোঁটা গায়ে পড়ে,দৌড়ে গেলে তারচেয়ে বেশি ফোঁটা পাওয়া যায়।তাই বেশি সুযোগ পেতে হলে ছুটতে হবে,সম্ভাব্য সব জায়গাগুলোতে পৌঁছাতে হবে।এবং শুধু ছোটা নয় সবার থেকে আগে ছোটা।তাতে আলাদা মজা।আজকাল মানুষ ছুটন্ত অবস্থায় কিছু বলতে চায় না,উদ্দেশ্য সফল হয়ে গেলে তখন সব বলে।সে আরেক রকম ছোটা।ছোটার মধ্যে ছোটা।তাতে আনন্দ দু রকম।প্রথমতঃ লক্ষ্যে পৌঁছনোর আনন্দ।দ্বিতীয়তঃ অন্যকে প্রথমে বঞ্চিত করার আনন্দ।এই ছোটা হলো একেবারে কিনারা ঘেঁষে ছোটা,হয় এস্পার না হয় ওস্পার-'হতো বা প্রাপ্স্যসি স্বর্গং জিত্বা বা ভোক্ষ্যসে মহীম্'।

ছুটন্ত মানুষ বড় সাংঘাতিক।ছুটন্ত ঘোড়ার মতো।দিকবিদিক জ্ঞান শুন্য। মানুষের যে সাধারণ বৈশিষ্ট্যগুলো থাকে  তখন তা লোপ পায়।অন্যকিছু ভর করে। অস্বাভাবিক শ্বাস,শ্যেনদৃষ্টি।পেয়েছে কি খুবলেছে।মারকাট চেহারা।কিসের জন্য ছোটা? আনন্দের জন্য।কি সেই আনন্দ? তা এখন বলতে পারবো না,পেলে পরে বলবো।পৃথিবীতে কতরকম আনন্দ আছে।নিত্য নতুন আনন্দ সৃষ্টি হয়েই চলেছে।ঐসব গতানুগতিক আনন্দের দিন শেষ।কাউকে বাঁশ দিয়ে আনন্দ,কাউকে টুপি পরিয়ে আনন্দ আবার কাউকে সর্বশান্ত করে আনন্দ।আনন্দরূপমৃতং যদ্ বিভাতি।আনন্দ সতত বিরাজমান,নিংড়ে নিতে জানতে হয়। না ছুটে তা জানা যায় না।এখন তো আবার ডিজিটাল ছোটা।শরীর এক জায়গায় রেখেও ছোটা যায়।শুধু ছোটা নয় একেবারে বনবন করে ছোটা।এই ভারতে তো এই সাউথ আফ্রিকায়।এই খেলার মাঠে তো এই মানি মার্কেটে।এখনই চ্যাটবোট  তো এখনই চ্যাটজিপিটি।আঙ্গুল দৌড়াচ্ছে শরীর নয়।তার সাথে দৌড়াচ্ছে মগজ।কতরকম কারসাজি, কতরকম কারচুপি,সব আনন্দের জন্য।আনন্দের জন্য নিরানন্দ পথে ছোটা।জ্ঞানের জন্য অজ্ঞান হয়ে ছোটা।ফুল দরকার নেই।সৌন্দর্য চর্চা অনেক হয়েছে।এখন ডাইরেক্ট ফল চাই।ফলন্যেবা অধিকরস্তু মা কর্মেষু কদাচন।কর্ম বাদ দিয়েও যদি ফল পাওয়া যায় সেই চেষ্টা।শর্টকাট জিন্দাবাদ।

...(সমাপ্ত)...