1 / 7
2 / 7
3 / 7
4 / 7
5 / 7
6 / 7
7 / 7

Showing posts with label জয়নাল আবেদিন. Show all posts
Showing posts with label জয়নাল আবেদিন. Show all posts

Wednesday, October 2, 2024

ঋণ

ছবি : ইন্টারনেট

ঋণ

জয়নাল আবেদিন  


-- বাবু , আমার কিছু টাকা চাই । বললে নজু।
-- কেন, টাকা নিয়ে আবার কি করবি ? বললে মনিব।
-- মেয়েটার অবস্থা খুব খারাপ। ডাক্তার দেখাবো।
-- হাসপাতালে জানা। বিনা পয়সায় দেখবে তো। পরামর্শ মনিবের।
-- গিয়েছিলাম ভালো হয়নি। বাইরে দেখাবো। অনুনয় নজুর।
-- কত টাকা ?
-- দু'হাজার।
-- শোধ করবে কি করে ?
-- সে ঠিক দিয়ে দেব। আশার আলো দেখে নজু।
-- দেখ, আমি তো সুদের ব্যবসা করি না। হারাম পথ।ছ'মাসের মধ্যে কিন্তু মিটিয়ে দিতে হবে। ভেবেচিন্তে কথা দে কিন্তু।
 -- বাবু, আমি যে কোন ভাবে দেনা মিটিয়ে দেবো ।ওয়াদা খেলাপ হবে না। নম্র নজু।   
      টাকা হাতে বাড়ি ফিরল নজু। ডাক্তার বদ্দ্যি হল। যমে- মানুষে টানাটানি হল। ঠিক বারো দিনের         মাথায় মেয়েটা দুনিয়ার মায়া ছেড়ে চলেও গেল।
  শোকে বিহ্বল পরিবার। সংসারে টান। মেয়েটা চলে গেল, মাথায় দেনার মজা বোঝা দিয়ে।
   কাজে বের হলো নজু। দিন যায়। রাত যায়। তিনটে মাস কেটে গেল।
 -- কিরে নজু, দেনা কিছু কিছু মেটা এবার। অনেকগুলো দিন চলে গেল যে। বললে মনিব।
-- আরেকটু সময় দাও বাবু। বিনয়ী নজু
-- তোর বাড়ির দলিলটা কাল একবার নিয়ে আসবি তো।
-- কেন গো বাবু দলিল কি হবে ? বিস্ময়ে নজু।
-- দেখব, কার নামে আছে ?
-- আমার নামেই আছে। অসুবিধে নেই।
-- নিয়ে আসবি একবার। ভুল আছে কিনা দেখবো...

...(সমাপ্ত)...

Saturday, October 21, 2023

স্বভাবের অভাব

 

ছবি  : ইন্টারনেট 

স্বভাবের অভাব

জয়নাল আবেদিন


  বাপন কদিন হলো বেশ মনমরা করে আছে। চনমনে ছেলেটার হঠাৎ এমন দশা কেন। বন্ধুরা বেশ চাপাচাপি করলেও মনটা ভালো নেই বলে দায় সেরেছে।

    লেখাপড়া শিখেও আজ পর্যন্ত একটা চাকরি জোটাতে পারলে না। বাবার আর সাকুল্যে তিন বছর চাকরি আছে। পরের পর দায়িত্ব বাপনের নেওয়া উচিত। কিন্তু কি করবে সে। মাথার উপর দিদি ।সেও এমএ পাস করার মুখে। ওর বিয়ে দিতে হবে। চিন্তার পোকাগুলো আজ বড্ড কুরে কুরে খাচ্ছে তাকে। হয়তো সকলেই তাকে অকর্মন্য ভাবে।

  সেদিন রাতে খাওয়া শেষে মা বলেছিল, - হ্যাঁরে, এবার কিছু একটা করতে হবে তো তোকে। তোর বাবার তো...

 - আমি জানি মা, সব জানি। চেষ্টার কোন ত্রুটি রাখিনি।

 - তোর দিদির একটা ভালো সম্বন্ধ আসছে ।ছেলেটা ব্যাংকে চাকরি করে। তুই বাড়িতে থাকলেও এবার কিন্তু কোন কথা বলবি না।

 - অন্যায় আচরণ করলে প্রতিবাদ করতে হবে মা, মেয়ে পক্ষ বলে সব মেনে নিতে নেই। পরে পরে মেয়ের জন্য ভালো হয় না।

   সকাল সকাল বাবা বাজার করে আনলে ।ছেলের দিদি- জামাইবাবু আসছে। বাবা-মা, ছেলে তার একটা বন্ধু। একটু খাইয়ে তুষ্ট করতে চায় বাবা-মা। হাজার হোক ব্যাঙ্কে চাকরি করে।

লুচি- মাংস- মিষ্টি- সন্দেশ- দই- রাবড়ি এলাহী আয়োজন।

  সন্ধ্যা মুখে অতিথিবৃন্দ এলেন । সাদরে বসানো হলো। তারিয়ে তারিয়ে খেলেন সকলে। দিদি সামনে এসে বসলে, ছেলের বাপ- মাকে প্রণাম করে। খুঁতিয়ে খুঁতিয়ে দেখলেন সকলে।

  ছেলের দিদি বললে, - সব ভালো রংটা বড্ড চাপা।

   ছেলের মা বললে, - তুমি রান্না বান্না কিছু জানো ?

- না, রান্না তেমন করি না বাড়িতে। আমার দিদি বললে।

 ছেলের বন্ধু বললে, - আমরা বাড়িতে গেলে একটু চা করে খাওয়াবেন তো ? তাতেই হবে।

ছেলের বাবা বললে, - তোমার এ বছরই এম, এ  টা  হয়ে যাবে। সংসারে থাকলে সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে। তো, আপনারা সোনাদানা- দান সামগ্রী যা দেবার তা তো দেবেনই। ছেলের একটা শখ আছে ।একটা চার চাকার গাড়ি দিতে হবে। ভেবেচিন্তে মতটা দেবেন । আজ তাহলে আমরা উঠি।

 বাবা বেশ আমতা আমতা করে বললে, - দেখা যাক কি করা যায়।

  আমি আর সইতে পাচ্ছিলাম না। বললাম, - দাঁড়ান - দাঁড়ান । একেবারেই যাবেন । ছেলে তো ব্যাংকে চাকরি করে না। ভিকিরি তো নয় ?

 - তার মানে ? ছেলের বাবা কপট রাগে বললে।

 - সোনা- দানা, দান- সামগ্রী, একটা গাড়ি, বাজেট কত জানেন? অসহ্য হয়ে বললাম।

 ছেলের দিদি বললে, -  এখনই এমন কথা, পরে কি হবে ?

 আপনাদের আর পরে আসতে হবে না। যতটুকু গিলেছেন অতটুকুই আপনাদের। আসুন। নমস্কার ।

 ছেলেটা একেবারেই চুপ ছিল।

...(সমাপ্ত)...