1 / 7
2 / 7
3 / 7
4 / 7
5 / 7
6 / 7
7 / 7

Showing posts with label প্রতাপ হাজরা. Show all posts
Showing posts with label প্রতাপ হাজরা. Show all posts

Wednesday, October 2, 2024

গোলে যোগে গোল

ছবি : ইন্টারনেট

গোলে যোগে গোল

প্রতাপ হাজরা

সেবারের ঝামেলাটা শুরু হয়েছিলো কিংকর্তব্য বিমুর নিয়ে যতই হোক একজনের কাজ আরেকজনের চাপালে সে ঝামেলার পরিনতি সবাই জানে কি হতে পারে, অগত্যা সেবারও তাই হল,

শ্রেয়াঃ এই যে মিস্টার নিজের বাবাকে সামলা, লজ্জ্যা করেনা একটা অসহায়ে মহিলার উপর কাজ চাপিয়ে দ্যায়।

সপ্তর্ষিঃ অসহায়ে মহিলায়ই যখন ঘরের ভিতর বসিয়ে রাখ না বাইরে বেরোতে দিস কেনো।

শ্রেয়াঃ তোর বাবাকে ঘরে বসিয়ে রাখ বেটা ভাম আর হুলোর দল।

সপ্তর্ষিঃ হ্যাঁ, আর তোরা কি বেজি আর মিনির দল।

অনেক কষ্টে পাড়ার লোকেরা মিলে অনেক বুঝিয়ে শেষে যুদ্ধ বিরাম ঘটলো।

আরে সবাই ভাবছেন কি ঝগড়া শুরু হয়েছে কিছুই বুঝতে পারছিনা কি হচ্ছে মাথামুণ্ডু, একটু দাঁড়ান সব বুঝতে পারবেন। আমাদের গল্পের নায়ক হল এই সপ্তর্ষি আর নায়িকা মানে টমবয় শ্রেয়া এখন টমবয় মানে না জানলে একটু গুগল করে নেবেন। এদের বাড়ির ঝগড়া যুগ যুগান্তর ধরে চলে আসছে বাপ ঠাকুরদার আমল থেকে পাড়ার লোকে তো একটা নামও দিয়েছে ডি ডি এল মানে দাস অ্যান্ড দে লিগ। আজকের এই ঝগড়াটা আসলে সপ্তর্ষি আর শ্রেয়ার মধ্যে নয়ে এটা ওদের বাবা আর মায়ের মধ্যে ঝগড়া যেটা অফিস থেকে এখন বাড়িতে এসে পৌঁছেছে। সপ্তর্ষির বাবাকে মানে সঞ্জয়বাবুকে একটা কাজ দেওয়া হয়ে অফিস থেকে সে সেটা খুব সন্তর্পণে উনি সিঞ্জিনিদেবি মানে শ্রেয়ার মায়ের উপর চাপিয়ে দ্যায়। তারপর আর কি শুরু হয়ে ঝামেলা আর সেটা অফিস থেকে ক্রমাগত সরতে সরতে এই দাসপাড়াতে ঢুকে পড়েছে করোনা নয়ে ঝামেলা। তারপর থেকে এই শান্ত পাড়াটি কুরুক্ষেত্র ময়েদান হয়ে উঠেছে।

সঞ্জয়বাবুঃ আপনি লিফট থেকে নামার আগে সব ফ্লোর কেন সিলেক্ট করে রেখেছেন?

সিঞ্জিনিদেবিঃ আমি কেনো টিপতে যাবো?

সঞ্জয়বাবুঃ আমি কেন টিপতে যাবো! লিফটে কি আপনার ভুত টিপেছিল আপনি একাই ছিলেন লিফটে।

সিঞ্জিনিদেবিঃ একদম বাজে কথা বলবেন না, যদি সন্দেহ হয়ে যান গিয়ে লিফটের সিসিটিভি দেখে আসন গিয়ে, হুম বুড়ো মিনশে কোথাকার।

সঞ্জয়বাবুঃ ইয়ার্কি হচ্ছে, লিফটে সিসিটিভি লাগানো থাকে

সিঞ্জিনিদেবিঃ তা আমি কি করতে পারি, তাহলে কোম্পানিকে বলুন আপনার সিকুরিটির জন্য একটা ক্যামেরা লাগাতে।

এবার কিন্তু সঞ্জয়বাবু একটু দমে গেলেন বললেন,

সঞ্জয়বাবুঃ দেখে নেবো, আপনাকে দেখে নেবো।

এরপর কিছুদিন কোন ঝামেলা ছিলনা সবাই ভাবলো হয়েতো আর ঝামেলা হবেনা নিজেদের বংশানুক্রমিক ভুলটা হয়েতো বুঝতে পেরেছে ওরা। কিন্তু সুখ যেমন সব মানুষের কপালে চিরস্থায়ী হয়েনা তেমনি দাসপাড়াও হল না।

সেবার পাড়ার চন্দ্রিমার জন্দিন ছিল আর সেখানে আমন্ত্রিত ছিল শ্রেয়া আর সপ্তর্ষি দুজনেই সবই ঠিকঠাকই ছিল হটাৎ কেক কাটার সময়ে হল এক কাণ্ড।

চন্দ্রিমা কেক কেটে আগে সপ্তর্ষিকে একটুকরো খাওয়াতে গেছে এমন সময়ে পিছন থেকে এক ঠ্যালা মারলো কে যেন আর পুরো মুখে কেক লেগে একাকার অবস্থা।

সপ্তর্ষিঃ ঠ্যালা মারলি কেন?

শ্রেয়াঃ যাহহহ... শালা আমি কখন মারলাম ঠ্যালা।

সপ্তর্ষিঃ আমি বুঝতে পারিনি ভাবছিস তুই তো থালা মারলি।

শ্রেয়াঃ প্রমান দেখা কোথায়ে ঠ্যালা মারলাম।

শ্রেয়াঃ বাপেও অন্যের ঘারে দোষ চাপায়ে ছেলেও চাপায়ে।

সপ্তর্ষির এবার ভিশন রেগে গেলো

সপ্তর্ষিঃ তবে রে, ধিঙ্গি মেয়ে কোথাকার

বলে এক খাবলা কেক নিয়ে মুখে মাখিয়ে দিলো শ্রেয়ার আর তারপর শুরু হল দুজনের মধ্যে চুলচুলি যুদ্ধ আর জন্মদিন রইলো না সবাই সেদিন না খেয়েই বাড়ি ফিরে গেছিলো আর প্রতিজ্ঞ্যা করেছিলো আর কোনোদিন কারোর কিছু অনুষ্ঠানে ওই দুই পরিবারকে নিমন্ত্রন করা হবে না।

এরপর কখন সপ্তর্ষি রাস্তা দিয়ে যেতে যেতে শ্রেয়ার চুল ধরে টান মারে কখনো আবার শ্রেয়া সপ্তর্ষিদের বাড়িতে ধিল ছুরে মেরে কাঁচ ভেঙে দ্যায়ে তো আবার কখনো শ্রেয়ার স্কুটির চাকার লিক করে দ্যায়ে আবার কখনো শ্রেয়া রকেটবাজি সপ্তর্ষিদের বাড়িতে ছোড়ে। এইভাবে চলতে থাকে হিন্দুস্থান আর পাকিস্থানের লড়াই। কিন্তু সেই ঝামেলা এমনি মোর নিলো যা পাড়ার লোক স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি।

একদিন শ্রেয়া অফিসের পার্টি থেকে ফিরছিল একটু রাত হয়ে যাওয়ায়ে কোনো গাড়ি পায়নি এদিকে মোবাইলের চার্জটাও শেষ হয়ে যাওয়ায়ে ক্যাবও বুক করতে পারেনি। রাস্তার ফুটপাথ ধরে হাটতে হাটতে আসছিলো পার্টিতে হুইস্কিটা একটু বেশি খেয়ে ফেলেছিল আজ শ্রেয়া তাই হাটতেও খুব অসুবিধা হচ্ছিলো। এদিকে আজ একটু দেরিতে ফেরায়ে সপ্তর্ষি রাস্তাতে শ্রেয়াকে দেখতে পায়ে সপ্তর্ষি নিজের বাইকটাকে একটা পাশে রেখে একটা কিছু করবে ভাবছে, অনেকদিন ধরে এই ধিঙ্গি মেয়েটা তাকে জ্বালাচ্ছে এইতো সেদিন সপ্তর্ষি ওদের ব্যাল্কনিতে বসে একটা বই পরছিল এই মেয়েটা ওর ছবি তুলে সেটাকে হাস্যকর বানিয়ে ফেসবুকে ছেড়ে দিয়েছিলো কিছুদিন তাঁর বন্ধুদের কাছে মুখ দেখাতে পারেনি সে, আজ সব বদলা নেবে এইভেবে একটু এগিয়ে গিয়ে একটা গাছের পিছনে লকালো সপ্তর্ষি। এদিকে শ্রেয়া হাটতে হাটতে খুবই ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলো সামনে একটা বাসস্ট্যান্ড দেখে ওখানে বসে পড়লো গিয়ে। সেখান থেকে আরও ২০মিনিট হেটে যেতে হয়ে শ্রেয়াদের বাড়ি। সপ্তর্ষি কিছু একটা করতে যাবে এমন সময়ে শ্রেয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে উঠে আবার হাঁটা শুরু করবে এমন সময়ে পায়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে যায়ে আর হাতের অনেকটা জায়গা কেটে যায় তা দেখে কেন জানি না সপ্তর্ষির মনটা নরম হয়ে এলো সে আসতে আসতে করে এগিয়ে গিয়ে শ্রেয়াকে ধরে বাড়ি নিয়ে যেতে লাগলো কিন্তু কিছুটা দূর এগিয়ে যাওয়ার পর শ্রেয়া সপ্তর্ষির গালে একটা কিস করে বসে নেশার ঘরে তাতেই সপ্তর্ষি ছেলেটা বেচারা কুপকাথ। সপ্তর্ষির শরীর বেয়ে নেমে গেলো এক অদ্ভুত অনুভুতি সপ্তর্ষি কোনোমতে শ্রেয়াকে বাড়িতে ছেড়ে দিলো। সপ্তর্ষি রাস্তা দিয়ে শুনতে পেলো শ্রেয়ার মা তাকে খুব বোকছে আর মারছে সপ্তর্ষির খুব খারাপ লাগলো আহারে মেয়েটাকে কিভাবে মারছে। পরক্ষনেই আবার ভাবলো ঠিক করছে মারছে ওর মার খাওয়াই উচিত কেনো রাত অব্ধি পার্টি করবে ধিঙ্গি মেয়ে কোথাকার আমার কি। এই ভাবতে ভাবতে সপ্তর্ষি বাড়ি চলে গেলো। কিন্তু বাড়ি গিয়েও সপ্তর্ষি ঠিক ভাবে ঘুমাতে পারলো না।

কিন্তু এরপর থেকে শ্রেয়ার উৎপাত জারি থাকলেও সপ্তর্ষির দিক থেকে কোন বিপরীত প্রতিক্রিয়া মিলল না, তাঁর জন্য শ্রেয়াও যেন কেমন মুষড়ে যেতে লাগলো। কিন্তু একদিন একটা ঘটনা হল

শ্রেয়াঃ কি বলবি বল, আমাকে এখানে ডাকলি কেন?

সপ্তর্ষিঃ আমার কিছু কথা বলার ছিল তোকে।

শ্রেয়াঃ দেখ তোর এই সব নাটক না অনেক দেখা আছে আমার কিছু তো একটা ঘোটালা পাকিয়েছিস তুই আর এখন সেটা আমার ঘাড়ে চাপাবি বলে ডেকে পাঠিয়েছিস।

সপ্তর্ষিঃ তেমন কিছুই না তুই আগে শোন তো আমার কথা

শ্রেয়াঃ শোনার কিছুই নেই, তোর আর তোর বাড়ির ধরন না সব জানি আমরা বুঝলি তো...

আরও কিছু বলতে যাচ্ছিলো শ্রেয়া এমন সময়ে সপ্তর্ষি বলে উঠলো

সপ্তর্ষিঃ আই লাভ উ, শ্রেয়া

কিছুক্ষনের জন্য যেন কোমায়ে চলে গেছিলো শ্রেয়া তারপর দৌড়ে বাড়ির দিকে পালিয়ে গেলো। সপ্তর্ষিও কিছু না বুঝতে পেরে চলে গেলো।

তারপর থেকে শুরু হল মারামারি নয় ঝাকাঝাকি, মানে শ্রেয়ার বাড়িতে সপ্তর্ষির উকি মারা।

কিন্তু যতই হোক শ্রেয়া কিন্তু পাল্টালো না। যখনই শ্রেয়াকে সপ্তর্ষি পিছু করে তখনি নাহয়ে পাড়ার ছেলেদের দিয়ে মার খাওয়ায়ে নাহলে কলার খোসা পায়ের কাছে ফেলে দ্যায়। কতবার সপ্তর্ষি কিছু বলার জন্য শ্রেয়ার কাছে যায় কিছুনা কিছু একটা শ্রেয়া করে ওখান থেকে পালিয়ে যায়। কিন্তু একদিন অনেক কষ্টে দেখা করেছিলো সপ্তর্ষি।

সপ্তর্ষিঃ একটাবার শোন শ্রেয়া তোর সাথে আমি কথা বলতে চাই কিছু কিন্তু তুই শুধু কিছু না কিছু করে বোসিস।

শ্রেয়াঃ শোন সপ্তর্ষি তোর সাথে কথা বলার ইচ্ছা একফোঁটাও নেই বুঝলি তো, তোকে আমি ঘৃণা করি, আই হেট উ।

সপ্তর্ষিঃ কেন সেটা কি জানতে পারি যদি আমাদের ঝামেলা এখানে শেষ হয়ে যায় তাহলে অসুবিধা কোথায়ে?

শ্রেয়াঃ আমাদের ঝামেলা কোনোদিন শেষ হবেনা বুঝলি, ইনফ্যাক্ট যদি আর কোনোদিন আমার সামনে আসিস তাহলে তোকে মেরে তোর হাড় গোড়ভেঙে গঙ্গায়ে ফেলে দিয়ে আসবো বুঝেছিস। আর কেন জিজ্ঞ্যেস করছিস কি এমন চাকরি করিস যে আমাকে নিজের বৌ বানাবি জানিস আমার ১ সপ্তাহের খরচা কত তুই তো কিছুইনা তোর মতো আরেক্তা সপ্তর্ষি আসলেও আমার ১ সপ্তাহের খরচা জোগাতে পারবেনা।

এই কথাটা সপ্তর্ষির খুব গায়ে লেগেছিল সম্মানে লেগেছিল।

সপ্তর্ষিঃ আর যদি জোগাতে পারি তাহলে তাহলে কি করবি বল

শ্রেয়াঃ আমি নিজে এসে তোর হাত ধরে বিয়ে করবো।

সপ্তর্ষিঃ চ্যালেঞ্জ একসেপ্টেট

তারপর থেকে সপ্তর্ষি ছেলেটা কোথায়ে যেন উবে গেলো। যে ছেলেকে সবসময়ে রাস্তায়ে কিছু না কিছু কাণ্ড করতে দেখা যায়, কারোর বাড়িতে কোন গণ্ডগোল করতে দেখা যায়, রকে বসে আড্ডা মারতে দেখা যায়, তাকে বছর এক - দের দেখায়ি গেলোনা। কিন্তু তারপরের ঘটনার জন্য কিন্তু কোনোভাবেই প্রস্তুত ছিলনা গোটা দাসপাড়া। একদিন খবর পাওয়া গেলো সপ্তর্ষি নাকি নিজের এক ব্যাবসা খুলেছে দুবায়িতে সেখানে নাকি ওদের এক আত্মীয় থাকতো সে হেল্প করেছিলো এই ব্যাবসা দার করাতে, কিন্তু কিভাবে যেনো ১ বছরের মধ্যে সপ্তর্ষি এস অ্যান্ড ডি প্রাইভেট লিমিটেড এর একছত্র মালিক হয়ে উঠলো। এখন সে খুবই ব্যাস্ত থাকে আর সেই ব্যাস্ততার মধ্যে সে একটা প্রতিজ্ঞ্যার কথাটা বেমালুম ভুলেই গেলো। এদিকে শ্রেয়াকেও খুব একটা দেখা যায়না মাঝে মাঝে শোনা যায় বিয়ের সম্বন্ধ আসে কিন্তু কোনো সম্বন্ধই মেয়েকে তাদের ছেলেদের সাথে বিয়ে করাতে অনিচ্ছুক। সপ্তর্ষি বেশ কয়েকবছর পর দেশে ফিরল ব্যাবসার একটা কাজে সে বাইরে গেছিলো একদিন সে পাড়া রকে বসে আড্ডা মারছিল বন্ধুদের সাথে তারাই কথায়ে কথায়ে পুরনোদিনের আলোচনা করতে করতে হটাৎ তাদের সেই ঝামেলার কথা বলছিল যদিও সপ্তর্ষির সেসব কথা মনে ছিল কিন্তু তাঁর সাথে মনে পড়লো তাঁর সেই চ্যালেঞ্জ একসেপ্টেটের কথাটা। তাই তো শ্রেয়াকে দেওয়া চ্যালেঞ্জের কথা ভুললে মটেও হবেনা। সপ্তর্ষি জিগ্যেস করলো,

সপ্তর্ষিঃ হ্যাঁ রে, পোলটু তুই শ্রেয়াদের বাড়িতে যাতায়াত আছেনা।

পোলটুঃ হ্যাঁ, যাই তো। কেনো বলতো?

সপ্তর্ষিঃ নাহ, তেমন কিছু না দেখলাম তোর চাকরিটা আছে কিনা।

বলে হাসলো সপ্তর্ষি আর ওর বন্ধুরা। কিন্তু সপ্তর্ষির মন থেকে হাসিটা এলো না।

পরেরদিন বাজারে যাওয়ার সময়ে সপ্তর্ষির সাথে পোলটুর দেখা হয়ে তো পোলটুর সাথে গল্প করতে করতে সপ্তর্ষি জিগ্যেস করলো এই ওই শ্রেয়ার খবর কিরে মানে এখন আর দেখা যায়না।

পোলটুঃ আরে আর বলিস না। ওর তো অবস্থা খুব একটা ভালো না, তুই তো এখানে ছিলিস না তুই জানিস না তাই।

সপ্তর্ষি খুব অস্থির হয়ে বলল,

সপ্তর্ষিঃ কি হয়ে ভাই ওর।

পোলটুঃ ও নাকি কোন ছেলেকে খুব ভালোবাসে তাঁর সাথেই বিয়ে করবে, কিন্তু সমস্যাটা হল ওই মেয়ে নামি বলেনা ঠিক করে। সবাই বলে ওই মেয়ের নাকি মাথা খারাপ হয়ে গেছে।

সপ্তর্ষিঃ শোন ভাই একটা কাজ করতে পারবি?

পোলটুঃ বল বলনা কি করতে হবে।

সপ্তর্ষিঃ তুই কিছু করে শ্রেয়ার ফোন নাম্বারটা জোগাড় করে দেনা।

পোলটুঃ কিন্তু তুই নিয়ে কি করবি?

সপ্তর্ষিঃ কাজ আছে তোকে যেটা বলছি সেটা কর।

পোলটুঃ আমার কাছেই আছে।

এই বলে পোলটু সপ্তর্ষিকে শ্রেয়ার ফোন নাম্বার দিয়ে চলে গেলো।

সপ্তর্ষি এবার নাম্বারটাতে ফোন করলো ওপার থেকে ভেসে এলো এক বেদনা ও অবসাদগ্রস্থ গলার স্বর ভেসে এলো তাই শুনে সপ্তর্ষির বুকটা একটু হলেও কেপে উঠলো। সপ্তর্ষি বলল,

সপ্তর্ষিঃ হ্যালো, শ্রেয়া...

শ্রেয়া কিছুক্ষন চুপ করে থেকে বলল,

শ্রেয়াঃ কে বলছেন?

সপ্তর্ষিঃ আমি সপ্তর্ষি শ্রেয়া

শ্রেয়াঃ এতদিন পড়ে কিসের জন্য ফোন করেছ, মরে গেছি কিনা জানার জন্য।

সপ্তর্ষিঃ এরম কেন বলছ শ্রেয়া তোমার সাথে একটু দেখা করতে চাই শ্রেয়া।

শ্রেয়াঃ কিসের জন্য দেখা করবে, দেখা করার মতো আর কি কিছু বাকি আছে

সপ্তর্ষিঃ তুমি এরম ভাবে কেন বলছ শ্রেয়া, প্লিজ শ্রেয়া একটিবার দেখা করো আমার সাথে আজকে বিকেলে আমি গঙ্গার কাছে দাড়িয়ে থাকবো।

তারপর সপ্তর্ষি কিছু কাজের জন্য বেরিয়ে যায় আর তারপর বিকেলে দেখা করতে যায়ে শ্রেয়ার সাথে। অনেকদিন পর তাদের আবার দেখা হচ্ছে কত কথা, কত ঝগড়া, কত দাবি, কত বোঝাপড়া বাকি সব কিছু মিটে তাদের মধ্যে দূরত্ব শেষ হবে। এতো কিছু ভাবতে ভাবতে হটাৎ দেখল কিছু দূরে শ্রেয়া আসছে। তাকে দেখে সপ্তর্ষির বুকটা একটু অজানা ভয় চেপে ধরল যদি শ্রেয়া না করে দ্যায় আবার। এমন সময়ে শ্রেয়া এসে দাঁড়ালো সপ্তর্ষির সামনে তাঁর মুখে একটা ক্লান্তি ভাব লক্ষ্য করছিলো সপ্তর্ষি।

শ্রেয়াঃ কি হয়েছে বোলো।

সপ্তর্ষিঃ তুমি এতো পালটে গেলে কি করে আগে তুই ছাড়া কথা বলতে না, এখন তুমি করে বলছ আর তাঁর থেকেও বড় হল আমার সেই টমবয়টা কথায়ে গেলো মনের কোনো কোনায়ে হয়েত লুকিয়ে পড়েছে।

শ্রেয়াঃ ফালতু কথা বোলো না তুমিও তো তুই বোলতা এখন তো বোলোনা তাহলে।

সপ্তর্ষিঃ শ্রেয়া আমি ফিরে এসেছি সেই চ্যালেঞ্জ নিয়ে মনে পড়ে সেটার কথা।

শ্রেয়াঃ কি হবে সেটা মনে করে তুমি তো বিয়ে করে ফেলেছো।

সপ্তর্ষিঃ কি! তোমাকে কে বলল আমি বিয়ে করে ফেলেছি।

শ্রেয়াঃ আর নাটক করো না সপ্তর্ষি তোমার বাড়ির থেকেই বলল তুমি নাকি বিয়ে করে বিদেশে সেটেল হয়ে গেছো।

সপ্তর্ষিঃ মিথ্যে বলেছে তোমাকে আমার বাড়ি লোক তোমাকে পছন্দ করতো না বলে তোমাকে সেটা বলছে কিন্তু এখন তোমাকে আমার বাড়ির থেকে মেনে নিয়েছে শ্রেয়া আমি বলে রাজি করিয়েছি এভেন আমার বাড়ির থেকে তোমার বাড়িতে আমাদের জন্য সম্বন্ধও নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

এই শুনে শ্রেয়া লাফিয়ে সপ্তর্ষির কোলে উঠে গেছে।

সপ্তর্ষিঃ এই যে আবার শুরু হয়ে গেলো ধিঙ্গি পনা

শ্রেয়াঃ এটা তোমাকে এবার সারাজীবন সামলাতে হবে জানু

সপ্তর্ষিঃ যথা আগ্যা মহারানি।

বংশানুক্রমিক যুদ্ধর অবশেষে অবসান ঘটলো, তাই না!

...(সমাপ্ত)...

Saturday, October 21, 2023

অত্যাশ্চর্য হত্যাকাণ্ড

ছবি : ইন্টারনেট 

অত্যাশ্চর্য হত্যাকাণ্ড

প্রতাপ হাজরা

এই যে রণজিৎ বলে আহ্বান করলেন ইন্সপেক্টর প্রদ্যুত দাস। তারপর কি নিয়ে আলোচনা চলছে? (বললেন রণজিৎ)

প্রদ্যুতঃ আজ সকালে বাঁকুড়ার এক ধনী পরিবারে এক হত্যা হয়। বিখ্যাত ব্যাবসায়ী মনোহর মালব্যকে হত্যা করা হয়। পুলিশের সন্দেহ তার তৃতীয় পুত্র তাকে হত্যা করে।

রণজিৎঃ পুলিশ কি করে বুঝলেন যে তার পুত্র হত্যাকারী?

প্রদ্যুতঃ তার তৃতীয় পুত্র মানে সমর মালব্যের সাথে তার বাবার সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না।

রণজিৎঃ কেন?

প্রদ্যুতঃ সমর মালব্য হলেন এক দাগি আসামি যদিও তার বাবা ছিলেন খুব নামি ব্যাবসায়ি এবং খুব বিচক্ষণ লোক। তাই তাদের মধ্যে মাঝে মাঝেই ঝগড়া-ঝামেলা চলতো।

রণজিৎঃ আর তার বাকি সন্তানদের বিস্তারিত কিছু জানেন?

প্রদ্যুতঃ তার তিন পুত্র তৃতীয় পুত্রের কথা তো শুনলেন, বাকি তার প্রথম পুত্র ও দ্বিতীয় পুত্র বাবার মতোই বিচক্ষন। কিন্ত অস্বাভাবিক ব্যাপার এই যে তৃতীয় পুত্র সমরের পক্ষে কোন প্রমান এখনো পর্যন্ত মেলেনি এবং তার বাবা কে কোন ছুরি বা বিশ দিয়ে বা শ্বাস রোধ করেও মারা হয়েনি, এদিকে পোস্টমর্টেম অনুযায়ী তার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তার বাবার মৃত্যুর কারন খুঁজতেই তোমাকে এখানে ডাকা।

রণজিৎঃ সে তো আগেই বুঝেছি, যে সেই সুদুর কলকাতার থেকে এতদুর ডাকার কারন। কিন্ত আমাকে আগে সম্পূর্ণ তথ্য দিতে হবে।

প্রদ্যুতঃ কনস্টেবল আপনাকে সব কাগজ দিয়ে আসবে।

(শুনে রণজিৎ বেরিয়ে গেলো, বাইরে দাঁড়িয়েছিলো তার বন্ধু প্রহ্লাদ)

প্রহ্লাদঃ আবার নতুন কেস নাকি?

রণজিৎঃ হ্যাঁ, মনে হচ্ছে এবার সেই নর্মাল একটা কেস এসেছে।

প্রহ্লাদঃ এমন কোন কেস, যেটা তোমার জানা নেই বলতে পারো রণজিৎ?

রণজিৎঃ তুমি মনে হয়ে ভুলে যাচ্ছ যে কেস স্টাডি না করে আমি কোথাও যাই না।

প্রহ্লাদঃ আচ্ছা, এইটা করে তোমার লাভ কি হয়ে রণজিৎ। একেবারে গিয়েও তো শুনতে পারো।

রণজিৎঃ এটা যদি তুমি বুঝতে পারতে তাহলে আমি সবথেকে বেশি খুশি হতাম প্রহ্লাদ। কোনো কেস আমি সবার আগে পড়ি সেটা থিওরি আর পুলিশের থেকে যেটা শুনি সেটা আংশিক প্র্যাক্টিক্যাল বাকিটা আমার কল্পনা আর তথ্যের উপর নির্ভর করে কোনো কেস সম্পূর্ণ হয়।

প্রহ্লাদঃ এবারো খুব অল্পই বুঝতে পারলাম।

রণজিৎঃ যেটুকু বুঝেছ সেটাই অনেক বুঝলে। চলো এবার ব্রেকফাস্টটা সেরেনি।

(প্রহ্লাদ একটু অপ্রতিভ মুখে হাসল, তারপর ব্রেকফাস্ট শেষ করে প্রহ্লাদ চলে গেলো তার কোন বন্ধুর অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে তাকে দেখতে চলে গেলো। আর রণজিৎ চলে এলো নিজের বাসায়ে। রণজিৎ একটু বিশ্রাম করতে করতে ঘুমিয়ে পড়েছিলো এমন সময়ে দরজার কোড়া নোরে উঠলো দরজা খুলতেই দেখে প্রহ্লাদ)

প্রহ্লাদঃ এই অসময়ে ঘুমাচ্ছিলে তুমি!

(এই বলে প্রহ্লাদ একটা চেয়ারে গিয়ে বসলো)

রণজিৎঃ আর বোলোনা কেসটা নিয়ে ভাবতে ভাবতে একটু ঘুম চলে এসেছিলো।

প্রহ্লাদঃ তাও ভালো আমি ভাবলাম শরীর খারাপ হল নাকি।

রণজিৎঃ না না, কেসটার কোনো প্রমান নেই খুব বাজে ধরনের কেস একটা।

প্রহ্লাদঃ এইযে তুমি সকালে বললে খুব সাধারন কেস।

রণজিৎঃ হ্যাঁ, বলেছিলাম। কিন্ত একটা জিনিস পরিস্কার যে মনোহরবাবুকে হত্যা করেছেন সে কোনো সাধারন মানুষ নয় আর টার পরিকল্পনাও খুব অদ্ভুত ধরনের।

প্রহ্লাদঃ তোমার কি মনে হয় রণজিৎ, কে করেছে এই হত্যা?

রণজিৎঃ হত্যা কে করেছে এটা বুঝতে গেলে কি ভাবে হয়েছে সেটা জানা বেশি জরুরি।

(এই বলে রণজিৎ ফোন করলো প্রদ্যুতকে)

রণজিৎঃ হ্যালো, ইন্সপেক্টর প্রদ্যুত দাস। আমি রণজিৎ বলছি, বলছি যে কালকে একবার মনোহরবাবুর বাড়িতে তদন্ত করতে যেতে হবে, আপনি যাবেন?

প্রদ্যুতঃ হ্যাঁ, অবশ্যয়ই যাবো। আমি কাল সকালে আপনার বাড়ি চলে যাবো, তারপর সেখান থেকে রওনা হবো।

রণজিৎঃ বেশ, তাহলে তাই হোক।

(পরেরদিন সকালে যথাসময়ে প্রদ্যুতবাবু এসে হাজির হলেন)

রণজিৎঃ আসুন প্রদ্যুতবাবু, ব্রেকফাস্ট হয়েছে?

প্রদ্যুতঃ না, সকালে একটা কেসের জন্য বেরিয়েছিলাম তাই সময়ে পাইনি।

রণজিৎঃ তাহলে ভালই হল নিন একটু ব্রেকফাস্ট করে নিন, তারপর বেরোনো যাবে।

(রণজিৎ প্রহ্লাদ, ইন্সপেক্টর প্রদ্যুত আর দুটো কনস্টেবলকে নিয়ে ২০মিনিট পর রওনা হলো মনোহর মালব্যের বাড়ির উদ্দ্যেশে। মনোহর মালব্য ধনী ব্যাবসায়ী হলেও তাঁর বাড়ি বাঁকুড়া জেলার ঠিক শহরে নয়ে মফস্বল এলাকায়, বাঁকুড়া জেলাশহর থেকে প্রায় ১৩ মাইল দূরে। তারা যখন পৌঁছালো তখন প্রায় দুপুর ১২টা বেজে গেছে। বাড়িতে লোকজন বলতে দুই পুত্র এবং তাদের স্ত্রী আর চাকর তিনজন আর তৃতীয় পুত্র সমর মালব্য সব মিলিয়ে ৬জন মতো ছিল মনোহর মালব্যের স্ত্রী অনেকদিন আগেই মারা গেছে। বাড়িতে ঢুকতেই ইন্সপেক্টর প্রদ্যুত পরিচয় করিয়ে দিলেন মনোহরবাবুর প্রথম পুত্রের সাথে তার নাম মনিময় মালব্য এবং তার দ্বিতীয় পুত্র মৃন্ময় মালব্য)

প্রদ্যুতঃ এনি হলেন রণজিৎ আর এনি হলেন প্রহ্লাদ এনারা তোমার বাবার খুনের তদন্ত করতে এসেছেন।

মনিময়ঃ এতো খুব ভালো কথা। আসুন, আসুন আপনারা। এমনিতেও ফোনে প্রদ্যুতবাবু বলেছিলেন আপনাদের কথা।

রণজিৎঃ আচ্ছা মনিময়বাবু আপনার বাবার হত্যাটা ঠিক কোথায়ে হয়েছিলো, আমাদের সেদিকে নিয়ে চলুন।

মনিময়ঃ আসুন এদিকে।

(সামনে গিয়ে দেখলাম ঘরটির দরজা বন্ধ। পিছন থেকে প্রদ্যুত দাস বললেন)

প্রদ্যুতঃ আমি বন্ধ করে রেখে গিয়েছিলাম দরজাটা

রণজিৎঃ তা খুব ভালই করেছিলেন, প্রদ্যুতবাবু।

(ঘরে ঢুকতেই রণজিৎ বলে উঠলো)

রণজিৎঃ কি বুঝতে পারছো প্রহ্লাদ?

প্রহ্লাদঃ ঠিক একই ভাবে জিজ্ঞ্যাসু চোখে রণজিৎের দিকে সেও তাকিয়ে আছে।

রণজিৎঃ আরে বাবা খুঁজে দেখো কোথাও কিছু পাও নাকি।

(প্রহ্লাদ নিজেকে একটু ইতস্তত বোধ করলো। তারপর অনেকক্ষণ এদিক ওদিক তল্লাশি করার পরও কিছুই মিলল না)

হত্যাকারী কিছুই প্রমান রাখেনি দেখছি ’ভেরি শার্প অ্যান্ড ক্লিয়ার মাইন্ডেড কিলার’। 

(এই বলে যখন রণজিৎ মেঝের কার্পেটের উপর দিয়ে উঠতে যাবে এমন সময়ে তার কার্পেটের দিকে চোখ গেলো ঠিক যেখানে মনোহরবাবুর মৃত্যু হয়েছে তার তিন কদম আগে। সেখানে একটি ছোট ছুচাক্রিতি জিনিস পাওয়া যায়, ব্যাস আর কি! রণজিৎ সেটি সবার নজর এড়িয়ে তুলে নিয়ে রুমালে জড়িয়ে পকেটে ভরে নিয়ে আসতে আসতে বলল)

শিকার নাগালের মধ্যে এসে গেছে প্রহ্লাদ। চলুন তাহলে যাওয়া যাক প্রদ্যুতবাবু।

প্রদ্যুতঃ কিছু পেলেন নাকি রণজিৎবাবু?

রণজিৎঃ নাহ, তেমন কিছুই তো পাওয়া গেলো না।

প্রদ্যুতঃ তাহলে আর কি! চলুন তাহলে।

(এই বলে তারা বেরিয়ে গেলো)

(বিকেলে রণজিৎের ঘরে এসে দেখি সে সেটা নিয়েই পরীক্ষা করছে প্রহ্লাদকে দেখে সে বলল)

রণজিৎঃ কি প্রহ্লাদ! কি বুঝঝো?

(তারপর জিনিসটা নিয়ে কিছুক্ষন দেখার পর)

প্রহ্লাদঃ এটা একটা ছুঁচের মতন লাগছে তো!

রণজিৎঃ আর কিছু মনে হচ্ছেনা তোমার?

প্রহ্লাদঃ আর কি মনে হতে পারে ছুঁচ দেখে হাতি, ঘোড়া মনে হওয়ার তো কোনো কারন নেই।

রণজিৎঃ এটাই তো ভুল করে ফেললে প্রহ্লাদ। এটা ছুঁচের মতন দেখতে তাই কেও এটার গ্রাজ্য করেনি, পুলিশও না তাই কেসটা পুলিশ শলভ করতে পারেনি। এবার বুঝতে পেরেছো।

প্রহ্লাদঃ না বুঝিনি।(খুব ধূর্ততার সাথে বলল)

রণজিৎঃ দেখো প্রহ্লাদ এটা খুব ভালো করে লক্ষ্য করো এটা ছুঁচের মতন হলেও এটার গায়ে ছোট্ট মিলি. দাগ দেওয়া আছে আর নীচে অল্প ধরো ০.৫মিলি. টানার একটা ছোট্ট প্লাঞ্জার আছে, মানে এটি মাইক্রো ইনজেকশন বুঝলে প্রহ্লাদ।

প্রহ্লাদঃ তাহলে তুমি কি বলতে চাও মনোহরবাবুর শরীরে বিষ দেওয়া হয়েছে? 

রণজিৎঃ বিষ দেওয়া হয়েনি বিষের মতন জিনিস দেওয়া হয়েছে।

প্রহ্লাদঃ মানে?

রণজিৎঃ দেখো প্রহ্লাদ আমি মনোহরবাবুর রিপোর্ট অনুযায়ী মৃত্যুর পর তার শরীরে সবথেকে বেশি তিনটে জিনিস ছিল একটি ডাইবেটিকস, দ্বিতীয় কোলেস্টেরল, তৃতীয় আর্সেনিক। প্রথম ডাইবেটিকস বাড়ানো যায়না খাওয়ার ছাড়া আর তিনি খাওয়ার খাওয়ায়ে খুব সচেতন ছিলেন, দ্বিতীয় কোলেস্টেরল সেটাও একি জিনিস, তিন নাম্বার এক মাত্র আর্সেনিক শরীরে পুশ করা সম্ভব। প্রহ্লাদ আর্সেনিক এমন এক জিনিস যা শরীরে বেড়ে গেলে বিষ সমতুল্য হয়ে পরে।

প্রহ্লাদঃ হ্যাঁ, বুঝলাম।

রণজিৎঃ এর থেকে কোন সন্দেহ নেই যে তার বাড়িরলোক ছাড়া আর কেও এই খুন করেনি।

আমি আজকে মনিময়বাবুকে ডেকে পাঠিয়েছি সে হয়েতো এখনি চলে আসবে।

(এমন সময়ে দরজার করা নোরে উঠলো ঐ যে এসে গেছে মনে হয়ে এইবলে দরজা খুলতেই ঘরে ঢুকলেন মনিময় মালব্য)

রণজিৎঃ বসুন মনিময়বাবু।

মনিময়ঃ রণজিৎবাবু, বাবার খুনি কি ধরা পড়লো?

রণজিৎঃ না কিন্ত মনে হচ্ছে ধরা পড়তে বেশিদিন নেই। আচ্ছা মনিময়বাবু আপনার বাবা যেদিন মারা যান আপনি কোথায় ছিলেন?

মনিময়ঃ আমি একটা কাজে বাইরে গেছিলাম বাবা মারা যাওয়ার আগেরদিন চলে আসি

রণজিৎঃ আপনি আসার পরেরদিনেই আপনার বাবা মারা যায়।

মনিময়ঃ আসলে যেদিন আমি ফিরি সেদিন আমার বাবার সাথে আমার ভাইের ঝগড়া হয় প্রায় মারকাট অবস্থা।

রণজিৎঃ আচ্ছা কি নিয়ে ঝামেলা হয়েছিলো জানতে পারি?

মনিময়ঃ টাকা নিয়ে, ও বেশ কিছু টাকা রেস কোর্সে লাগিয়ে নিঃস্ব হয়ে বাড়ি ফেরে তার জেরেই ঝগড়া।

রণজিৎঃ আচ্ছা মনিময়বাবু আপনার বাবাকে কি দিয়ে হত্যা করা হয়ে আপনি বলতে পারবেন?

মনিময়ঃ আমি কি করে বলবো রণজিৎবাবু।(একটু ইতস্তত ভাবে বলে উঠলেন)

রণজিৎঃ আপনি তো ভালো জানবেন, কার্পেটের নীচে মাইক্রো ইনজেকশনটা তে কি দিয়েছিলেন আর্সেনিক নাকি? সত্যিটা যতো তাড়াতাড়ি বলে দেবেন ততই আপনার মঙ্গল।

(এতক্ষনে মনিময় মুখ খুললেন)

মনিময়ঃ আমাকে ক্ষমা করে দেবেন রণজিৎবাবু, আমি লোভে পরেই এই অপরাধ করে বসি।

রণজিৎঃ আমি প্রথম থেকেই জানতাম যে বাড়ির কেও খুন করেছে কিন্ত আজকে আমি সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত হই যে খুনটা আপনি করেছেন। কিন্ত হত্যাকারী এতো তাড়াতাড়ি নিজেই অপরাধ শিকার করে নেবে আমি বুঝতে পারিনি। এবার আপনার সম্পূর্ণ পরিকল্পনাটা ঠিক ভাবে বলুন তো মনিময়বাবু।

মনিময়ঃ ছোটোর থেকেই আমি খুব মেধাবী ছাত্র ছিলাম যার জন্য বাবা আমাকে খুব ভালোবাসতো, কয়েক বছর ধরে আমি প্রচুর পরিশ্রম করে বাবার ব্যাবসাটাকে আরও ভালো করে তুলি আমার দ্বিতীয় ভাই বাংলাদেশের এক কোম্পানিতে কাজ করে ভালো বেতন পায় সে সেখানেই নিজের পরিবার নিয়ে থাকে। আমি আর আমার স্ত্রী আর আমার ছোট ভাই আর আমার বাবা এখানেই থাকি। কিছুদিন ধরে আমি শুনছিলাম যে বাবা নাকি উইল করছে কিন্ত ভাগে ছোট ভাইও আছে, আচ্ছা ওই অপদার্থটাকে দেওয়ার কি আছে, ওর যোগ্যতাই বা কি! আমার মনে শুধু এটা চলতে থাকে যে কিভাবে এই সম্পত্তি হাতানো যায় তখন আমার মাথায় বাবাকে হত্যার চিন্তা আসে। এরপর আমি এক কাজের বাহানায় কোলকাতাতে আসি সেখানে আমি এক নামী ইনজেকশন কোম্পানির হদিশ পাই তাদের আমি এক মাইক্রো ইনজেকশন বানিয়ে দেওয়ার কথা বলি তার বদলে মোটা টাঁকাও দি তাদের তারা সেটাকে জার্মানি থেকে ইমপোর্ট করিয়ে এনে আমাকে তার কার্যকারিতা বুঝিয়ে দ্যায়।

(এবার রণজিৎ মনিময়বাবুকে থামিয়ে বলল)

রণজিৎঃ আর আপনি তাতে আর্সেনিক ভরে আপনার বাবার শরীরে প্রবেশ করালেন এদিকে যাতে কেও বুঝতেই না পারে কারন আপনাদের এলাকায় আর্সেনিকের প্রভাব অনেক বেশি এর ফলে পুলিশ কোনো প্রমান না পেয়ে আপনার ভাই সমরবাবুকে ধরে নিয়ে যাবে আর যেহেতু আপনি বড় ছেলে তার জন্য আপনি হবেন সম্পত্তির প্রথম উত্তরাধিকারী, কি তাই তো?

মনিময়ঃ হ্যাঁ, রণজিৎবাবু।

রণজিৎঃ আর তাই আপনি হত্যাটি করে বসলেন?

প্রহ্লাদঃ কিন্ত রণজিৎ তুমি কি করে জানলে যে মনিময়বাবুই খুন করেছে?

রণজিৎঃ তুমি চলে আসার পর আমি বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয় যাই যেখান থেকে মনোহরবাবুর তিন পুত্র পাসআউট হয়েছিলো তোমাকে আমি আগেই বলেছি এইকাজ কোনো সাধারন ব্যাক্তির নয়। সেখানে গিয়ে আমি শুনলাম তার ছোট ছেলে পড়াশোনায় খুব একটা ভালো ছিল না, আর তার দ্বিতীয় পুত্র পড়াশোনায় ভালই ছিল কিন্ত সে ম্যাথ অনার্স নিয়ে পাসআউট করেছিলো, কিন্ত তার প্রথম পুত্র ছিল খুব মেধাবী আর সে বায়োলজিতে অনার্স নিয়ে পাসআউট করেছিলো। আর তখনি আমি দুয়ে দুয়ে চার হিসাব মিলিয়ে দিলাম।

আর সকালে মাইক্রো ইনজেকশন পেয়ে আমি নিশ্চিত হয়ে গেছিলাম যে এটা বাড়ির কেও করেছিলো আর তাদের কলেজে গিয়ে বাকিটা নিশ্চিত হয়ে গেছিলাম যে এটা কে করেছিলো। এখন শুধু একটা আন্দাজে টোপ দিয়ে দেখলাম হত্যাকারী ধরা দিয়ে দিলো।

(এতক্ষণে ইন্সপেক্টর প্রদ্যুত দাস চলে এসেছিলেন সেও ঘটনাটা শুনে অবাক হয়ে গেলেন)

রণজিৎঃ সব সময় সবার বায়োগ্রাফি ঘেঁটে তার বাস্তবিক রূপ বোঝা যায়না প্রদ্যুতবাবু।

(প্রদ্যুতবাবু হেসে ফেললেন। প্রহ্লাদও সাথে রণজিৎও হেসে উঠলেন)

“বিষ যেমন সমগ্র জিনিসকে বিষায়

লোভও মানুষের মনকে লালসায়”

...(সমাপ্ত)...