1 / 7
2 / 7
3 / 7
4 / 7
5 / 7
6 / 7
7 / 7

Showing posts with label ডাঃ দীপক কুমার রায়. Show all posts
Showing posts with label ডাঃ দীপক কুমার রায়. Show all posts

Saturday, October 10, 2026

একান্নবর্তী

 ছবি :কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা(Artificial Intelligence)

একান্নবর্তী

ডাঃ দীপক কুমার রায়


পথের ধারে ছোট্ট মতন  পুরাতন একটা বাড়ি

সব মিলিয়ে আবাসিক প্রায় আমরা জনা কুড়ি। 

আমরা সবাই সত্তরোর্ধ একটাই পরিণতি

ঘর সংসার ফেলে রেখে বৃদ্ধাশ্রমই গতি। 


কারও সংসার শূন্য দেউল পত্নীও হয়েছেন গত 

কারও আবার সবই আছে নেই পরিবেশ থাকার মত। 

অনেক ভেবে নিয়েছিনু ফ্ল্যাট মনে ছিল বড়ো আশা 

নাতিপুতি নিয়ে সংসার হবে জীবন চলবে খাসা। 


নামী পল্লীতে দামি ফ্ল্যাট তবু মন নাই সংসারে

ছেলেময়ে সব এদেশ ছেড়ে ভিনদেশে বাস করে। 

শুনেছি যে হায় সাগর শুকায় অভাগা যেদিকে চায়

সব থেকেও আজ রিক্ত জীবন হৃদয় মরুর প্রায়। 


সিদ্ধান্ত তাই নিতেই হলো বৃদ্ধাশ্রমের পক্ষে

নিজেকে তাই মানিয়ে নিলাম এক কামরার কক্ষে। 

পনেরশো ফুটের অত বড় ফ্ল্যাট জন মানব হীন   

একা একা আর কত জেগে থাকি সকাল সন্ধ্যা দিন। 


মাসে মাসে তাই খরচ পাঠায় বৃদ্ধ বাপের সেবায়

দিন তো আর থাকেনা বসে কেটে যায় ঠিক ই হেলায়। 

জানিনা এটা আশ্রম কিনা নামটি বড়ই ভালো

তবুও জানি দিবা শেষে এটাই আঁধারের মধ্যে আলো। 


খুব আছি ভালো একা একা সংসার থেকে দূরে

ভাবনা নাই চিন্তা নাই স্পৃহা নাই কোনো খবরে। 

আবাসিক সবাই এক সাথে থাকি যে যার মত করে 

অনৈক্যের মাঝে একটাই মিল সবাই কাঁদি ভিতরে ভিতরে। 


সঙ্গের সাথিরা সব পরম সুহৃদ কিন্তু সবার গল্প ভিন্ন

পার্শবর্তী দূরবর্তী যাই বা হই, বর্তী কিন্তু এক অন্ন।। 


Sunday, September 21, 2025

পৌরুষহীনতার গ্লানি

ছবি : ইন্টারনেট

পৌরুষহীনতার গ্লানি

ডাঃ দীপক কুমার রায়

মাকে সকাল হতেই রেখে এলাম ও পাড়ার বৃদ্ধাশ্রমে 

বাড়িতে কান পাতা দায় চলছে লড়াই উচ্চ গ্রামে। 

এটা ওটা সব ব্যাপারেই শাশুড়ি বৌয়ের মতবিরোধ 

খিটির মিটির লেগেই থাকে ধুলায় মিলায় সন্মানবোধো। 

ছোট মোট তুচ্ছ জিনিস ওদের কাছে বিরাট কিছু

সোরগোল বেড়েই চলে কেউ ছাড়ে না কারোর পিছু। 

এ যদি যায় বাঁদিক পানে অন্যজনে ডাইনে

মুখোমুখি হলেই বিপদ একেবারেই যেটা চাইনে। 

কিন্তু উপায় কি, ছোট্ট ফ্ল্যাটে এক বাড়িতেই থাকা

সব সময়ই বৌ শাশুড়ির মুখোমুখি দেখা।  

মন্ত্র শুধু এই কটা দিন শান্ত হয়ে থাকা 

আর রণং দেহি বৌ শাশুড়ির মেজাজ ঠিক রাখা। 

সকাল হলেই মায়ের মুখে নালিশ  হাজার হাজার

রাতের বেলা বৌয়ের জ্বালায় পাগল হওয়ার জোগাড়। 

মাকে রাখি না বৌকে রাখি কার কথাই বা শুনি

কেই বা বলে সঠিক কথা কারটা বেঠিক মানি। 

অনেক কষ্টে ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিলাম পরে

মা যাবে বৃদ্ধাশ্রমে থাক ঘরের লক্ষী ঘরে। 

সারাদিন ব্যস্ত থাকি কাজের বোঝা মাথায়

মাকে নিয়ে ভাববো, সময় আছে কোথায়। 

ভাবনা শুধু এক কেন্দ্রীক বৌ বাচ্চা নিয়ে

কি করলে শান্তি পাবো স্বস্তি পাবো কি দিয়ে। 

তাই সকাল হতেই পৌঁছে গেলাম ও পাড়ার বৃদ্ধাশ্রমে

মাকে নির্দ্বিধায় সঁপে দিয়ে বিদায় নিলাম সসম্ভ্রমে। 

গৃহযুদ্ধ এড়িয়ে গেলাম  কায়দা কানুন করে

পৌরুষহীনতার গ্লানি থেকে মুক্তি পাই কি করে। । 

...(সমাপ্ত)...


Wednesday, October 2, 2024

সাগরের কাছাকাছি

ছবি : ইন্টারনেট

সাগরের কাছাকাছি

ডাঃ দীপক কুমার রায়

আমি কখনো দেখিনি হীরে নীল সাগরের তীরে,

নোনা বালি ঘেঁটে সহস্র ঝিনুকের বুক চিরে। 

শুধুই ফিরেছি খুঁজে একা হেঁটে হেঁটে হাঁটু ভর জলে,

সিক্ত শরীরে দিনরাত এক করে অতলাতলের তলে। 

এখনো চলেছি খুঁজে উদ্ভ্রান্তের মত দ্বীপ দ্বীপান্তরে,

তবুও হয়নি শেষ চলেছি অসীম সাগর প্রান্তরে। 

খুঁজেছি বেলায়, শঙ্খ চিলের ডানায় ডানায়,

স্বপ্ন দেখেছি হাতে পাওয়ার বৃথাই কিন্তু হায়। 

তবুও তো মানিনি কো হার এখনও খুঁজেই চলেছি,

বারেবারে তাই ফিরে ফিরে আসি সাগরের কাছাকাছি। 

...(সমাপ্ত)...



Saturday, October 21, 2023

আসছে বছর আবার হবে

ছবি : ইন্টারনেট

আসছে বছর আবার হবে

ডাঃ দীপক কুমার রায়

গজে নয় তো নৌকায় দেবীর আগমন। 

দশভূজার দশটি হাতে দশ প্রহরণ ।। 

সঙ্গে গণেশ কার্তিক আর লক্ষী সরস্বতী। 

বাহনরাও এই সুযোগে মায়ের সঙ্গে সাথী ।। 

মায়ের বাহন সিংহ জানি গণপতির ইঁদুর। 

লক্ষ্মীর বাহন পেঁচা আর কার্তিকের ময়ূর ।। 

সাদা হাঁসও নেমে এসেছে সরস্বতীর সঙ্গে। 

এভাবেই পূজিতা হোন দূর্গা মাতা বঙ্গে ।। 

দশভূজার ছোট্ট এই পাঁচ দিনের সফরে । 

পূজিতা হন কণ্যা রূপে বাঙালির ঘরে ঘরে।। 

উৎসবের এই পাঁচটি দিনই মহানন্দে কাটে । 

গাড়ি ঘোড়া চলে না তেমন সবাই পথে হাঁটে ।। 

নূতন নূতন জামা কাপড় নূতন নূতন সাজ । 

বাচ্চা বুড়ো সবার কেমন ফুরফুরে মেজাজ ।। 

ষষ্ঠীর দিনে প্রতিমা এনে দূর্গা মায়ের বোধন । 

সপ্তমীতে কলাবৌ এর গঙ্গায় অবগাহন ।। 

অষ্টমীতে সন্ধি পূজা খুব সাজো সাজো রব । 

আরতি দেখার ভীড়ে ঠাসা সন্ধি পূজা মণ্ডপ ।। 

নবমীতে মনটা খারাপ কাঁদো কাঁদো প্রায় ।

কালকে মা চলে যাবেন বুকটা ফেটে যায় ।। 

নবমী রাতে সবার সাথে ঠাকুর দেখতে যাই । 

ভীড়ের ঠেলায় দম বন্ধ প্রাণ করে আইঢাই ।। 

দশমীর দিনে সবার মনে বিষাদের ছায়া । 

বিকাল হলেই শুরু হবে মায়ের বিজয়া ॥ 

সন্ধ্যার পরে নদীর ধারে সার সার প্রতিমা । 

একে একে ভাসান  হবে বিদায় নেবেন মা ।। 

মা যাবেন ফিরে সপরিবারে হিমালয়ের কোলে । 

আমরা মা কে বিদায় দেবো জয় মা দূর্গা বলে ।। 

বিজয়ার পর প্রণাম আশীর্বাদ কোলাকুলির রীতি । 

মিষ্টি বিনিময় বাড়ি বাড়ি যাওয়া বাড়ায় সম্প্রতি ।। 

বছর ভর অপেক্ষা রবে এই কটা দিন আসবে কবে । 

বল দূর্গা মাই কি জয় আসছে বছর আবার হবে ।। 

...(সমাপ্ত)...

Monday, July 24, 2023

নিঃসঙ্গ জীবন

ছবি : ইন্টারনেট

নিঃসঙ্গ জীবন

ডাঃ দীপক কুমার রায়

হৃদয়ে মরুর তৃষা নয়নে প্লাবন

অন্তর বেদনা ভরা  সহাস্য বদন,

সঙ্গী বিহীন এই নিঃসঙ্গ জীবন

অলস মস্তিষ্কের বিক্ষিপ্ত বিচরণ। 

হেথা হোথা ছুঁয়ে আসে কোথাও ঠেকেনা

ছন্নছাড়া মাত্রাহীন  বাধাও মানেনা,

অবাধ্য অবুঝ মন সাদা মেঘের ভেলা

উড়ে চলে ভেসে যায় রচে কত খেলা। 

বাঁধন হারা শিকল ছেঁড়া বেপরোয়া

সব কিছুর উর্দ্ধে যায় না ধরাছোঁয়া,

যতই করি আদর যতন কি উপায় পাই

শাসন করে এমন সাধ্যও যে কারো নাই। 

কখনো বা উচ্ছাসে ভরা কখনো বেদনায়

কখনও বিচরণ করে রঙিন আঙ্গিনায়,

শান্তি নাই স্বস্তি নাই ঠিকানা বিহীন

মুহূর্তে নিজের বসে মুহূর্তে বিলীন। 

অশান্ত অধীর বিক্ষিপ্ত পাগল মন

স্থিতধী হবে পেলে তোমার পরশন। । 

...(সমাপ্ত)...

Sunday, April 17, 2022

বিদায়ের লগ্ন

 

ছবি : ইন্টারনেট 

বিদায়ের লগ্ন

 ডাঃ দীপক কুমার রায়

সেদিনও জানালাটা খোলা ছিল রোজ দিনের মত

পাখিরা ভোরের রেওয়াজ সেরে উড়ছিল ইতস্তত

সকালের এক চিলতে রোদ এসে পড়ে ছিল মুখে

ও চেয়েছিল আকাশ পানে চোখ দুটো খোলা রেখে

সোনালী রোদের আভা মুগ্ধ করে মোহিনী মায়ায়

ক্ষণিকের তরে হলেও স্মৃতির বেদনা ভুলায়

প্রকৃতিস্থ হয়ে ধীরে ধীরে ফিরে আসে সম্বিত

স্থিতধী মনন আমার উদ্বেল হয়ে ওঠে আচম্বিত

চোখ দুটো খোলা ওষ্ঠাধর কেমন যেন লাগে ফেকাসে

টান টান চাদরে ঢাকা অনাবৃত মুখ, হাত দুটো দুপাশে

ঠিক যেন বড়সড় মোমের চীনা পুতুলের মত

শুইয়ে রেখেছে খুকু, ফিরে এসে আদর করবে কত

পড়শিরা যত নিঃশব্দ নিশ্চুপ আসে আর ফিরে যায়

জল ভরা চোখে প্রিয় সারমেয় হতাশ নয়নে তাকায়

আগরবাতির সুবাসে ভরা ঘরে ফুল রাখা গাদা গাদা

বেমানান আগরবাতি, জানিনা কেন ফুলের রঙ সাদা

সাজালো বিয়ের সাজে, নেই শুধু মাথায় টোপর

অঞ্জনাবৃত নীমিলিত দু নয়ন রক্তিম ওষ্ঠাধর

সাজের পর্ব শেষে এবার বিদায়ের লগ্ন আসে

ডুকরে কেঁদে ওঠে মন,বুক চোখের জলে ভাসে

...(সমাপ্ত)...

Tuesday, January 4, 2022

মন

 


মন

 ডাঃ দীপক কুমার রায়


‌ভূমিতে থেকেও তুমি আকাশ ছুঁয়ে আস

কখনো মেঘের ভেলায় হাওয়ার মত ভাস

 

দৃপ্ত ক্ষিপ্র বেগে  যাও বিদ্যুতের ও আগে

দূর্বার আবাধ তবু বিচলিত অনুরাগে

 

নিজেকে দিতে জানো বিলিয়ে সদাই

সুপাত্র অপাত্র কিনা কোন বিচার নাই

 

মরুভূমির বালু কণায় স্ফটিকের মত

হিমাদ্রি শিখরে তুমি শান্তিতে শায়িত

 

ভাসতে জানো অনায়াসে সফেন সাগরে

ডুবতে পার অতলাতলের একান্ত গভীরে

 

মূহুর্তে দীপ্ত যে তুমি অশনির ন্যায়

কভূ ধ্যান মগ্ন স্থিতধী মুক্ত ঋষি প্রায়

 

কৈশোরে চঞ্চল মতি অস্থির সদা

যৌবনে উত্তাল মানেনা কোন বাধা

 

বার্ধক্যে স্মৃতির ভারে সদা জর্জরিত

তবুও চঞ্চল তুমি অবাধ্য যৌবনের মত


তুমি যে মন তোমায় কত নামেই জানি

পাওয়ার অসাধ্য তুমি দাও হাতছানি

dipakkumarrayonly@gmail.com    
    কলকাতা