1 / 7
2 / 7
3 / 7
4 / 7
5 / 7
6 / 7
7 / 7

Showing posts with label কবিতা. Show all posts
Showing posts with label কবিতা. Show all posts

Sunday, September 21, 2025

রূপসী সে নদী

ছবি : ইন্টারনেট

রূপসী সে নদী

সর্বানী বন্দোপাধ্যায়

তোমাদের সাথে কথা হলে বলে দিও মেঘ মন ভালো নেই  

যে পথের শেষে কিছু নেই সেই পথও একলা দাঁড়িয়ে 

ঝিম ধরা দুপুরের ভাঁজে ফেলে আসা গল্পের বই

ভুলে যাওয়া কবিতার ভিড়;

অবসাদ ঘিরে আসে ঘুণ ধরে ইচ্ছের গায়

তুমিও কী ভেবেছ কখনও, যদি দেখা হয়

পথ ভুলে যাওয়া ঝর্ণার পারে বিষাদ তিমিরে

স্যাঁতসেঁতে মন নিয়ে, ভিজে যাওয়া বৃষ্টি পাহাড়ে

কি প্রশ্ন, কতটুকু জমে থাকা কথা

বলে দেবে স্বপ্নের ঘোরে!

সবজে উপত্যকা জুড়ে যদি রোদ ওঠে,

ফুলসাজে সেজে ওঠে রূপকথা ও রূপসী সে নদী

তবে সাজি নিয়ে শিউলি কুড়িয়ে নৌকা ভাসিও

আমি সেই ঘ্রাণে খুঁজে নেব হারানো অতীত। 

...(সমাপ্ত)...


আমার মা-মা দুগ্গা

ছবি : ইন্টারনেট

আমার মা-মা দুগ্গা

সন্দীপ ঘোষ

এই ছেলেটা মন্দিরেতে

কেন রে তুই একা একা                          আসিস চলে?

দুই হাত জোড় করে তুই

কী এত ভাবিস মগ্ন ধ্যানে                        নিষ্ঠা বলে? 

হাপুস নয়নে কেঁদে কেঁদে

ছেলেটা জানায় করছি দিদি                    মায়ের সেবা

মা যে আমার বড়ই দুখী

আমায় নিয়ে বড়ই ব্যকুল                        জানে কেবা।

জগৎজননী মা দুগ্গা আমায় বলে,

মুছে ফেল মনে আছে যত কালো

যা ঘরে তুই দেখবি কত মায়ের আলো    মুক্ত আকাশ

কাশের বনে চামর দোলে

মণ্ডপে ঢাক কাঁসর বাজে

স্বপ্নে আমার মা, মা দুগ্গাই তাঁর                দেখি প্রকাশ।

...(সমাপ্ত)...


দিনলিপি


ছবি : ইন্টারনেট

দিনলিপি

রুদ্র

হাঁটছিলাম, অথচ চলছিল না কিছুই।

রাস্তাগুলোর পায়ের নিচে ছিল স্মৃতির ছাই,

একটা নাম, যেটা বহু বছর আগে মুখস্থ করেছিলাম,

আজ কেবল ঠোঁট ছুঁয়ে চলে যায়—

দ্রুত, যেমন করে ভুলে যেতে চায় কেউ আত্মহত্যার পরিকল্পনা।


ঘড়ির কাঁটাগুলো সময় না, বরং কাঁটা হয়ে আছে গলার কাছে।

দূরে একটা ট্রেন চলে যায়, ধোঁয়ার ভিতর গলে যায় শৈশব।

আমার জ্যামিতিতে কোনদিন আঁকা হয়নি ‘ঘর’ শব্দটা,

সবখানে অজুহাত, ভাঙা দরজা, আর ধুলোমাখা ঠান্ডা বিছানা।


তুমি বলেছিলে—

"যা হারায়, তারও একটা ঠিকানা থাকে,

শুধু খুঁজে নিতে হয় হারানোর পদ্ধতি।"


আমি এখনও খুঁজি।

অন্ধকারে হাত বাড়িয়ে দেখি,

বুকপকেটে কেবল বাতিল হয়ে যাওয়া মানচিত্র।

...(সমাপ্ত)...


ভালোবাসার গীতিকাব্য

 

ছবি : ইন্টারনেট

ভালোবাসার গীতিকাব্য

অসীম ভুঁইয়া

রূপসার বুকের দাগটি

এখনও আছে আগের মতোই

অথচ-

কত কত নখের আঁচড়

আলো খুঁজেছে যুগ যুগ 

আশ্চর্য এই দাগের রহস্য

যতবারই ক্ষত হয়ে ওঠে

ততবারই মিলিয়ে যায়-

সমুদ্রের বালিতে আঁকা যন্ত্রণাকে যেমন

ধুয়ে দেয় অবুঝ ঢেউ, ঠিক তেমনি

এভাবে আরও কতটা পথ হয়তো

পেরিয়ে যাবে স্বপ্নের উলটো উড়ানে

ভেঙে যাবে সমস্ত দুর্গ ও প্রাচীর

আকাশটা ফেটে চুইয়ে পড়বে

বিচিত্র জলরাশি...

প্রতীক্ষার মাত্রাগুলো একে একে

জুড়ে যাবে অক্ষরের গায়ে

তবু সবকিছু ভেদ করে দাগের ভেতর

সংগোপনে যে প্রাণ-কণাটি

বেঁচে থাকবে কয়েকটি আয়ু

তার নামই তো অপেক্ষা আর ভালোবাসার নীরব গীতিকাব্য।

...(সমাপ্ত)...




পৌরুষহীনতার গ্লানি

ছবি : ইন্টারনেট

পৌরুষহীনতার গ্লানি

ডাঃ দীপক কুমার রায়

মাকে সকাল হতেই রেখে এলাম ও পাড়ার বৃদ্ধাশ্রমে 

বাড়িতে কান পাতা দায় চলছে লড়াই উচ্চ গ্রামে। 

এটা ওটা সব ব্যাপারেই শাশুড়ি বৌয়ের মতবিরোধ 

খিটির মিটির লেগেই থাকে ধুলায় মিলায় সন্মানবোধো। 

ছোট মোট তুচ্ছ জিনিস ওদের কাছে বিরাট কিছু

সোরগোল বেড়েই চলে কেউ ছাড়ে না কারোর পিছু। 

এ যদি যায় বাঁদিক পানে অন্যজনে ডাইনে

মুখোমুখি হলেই বিপদ একেবারেই যেটা চাইনে। 

কিন্তু উপায় কি, ছোট্ট ফ্ল্যাটে এক বাড়িতেই থাকা

সব সময়ই বৌ শাশুড়ির মুখোমুখি দেখা।  

মন্ত্র শুধু এই কটা দিন শান্ত হয়ে থাকা 

আর রণং দেহি বৌ শাশুড়ির মেজাজ ঠিক রাখা। 

সকাল হলেই মায়ের মুখে নালিশ  হাজার হাজার

রাতের বেলা বৌয়ের জ্বালায় পাগল হওয়ার জোগাড়। 

মাকে রাখি না বৌকে রাখি কার কথাই বা শুনি

কেই বা বলে সঠিক কথা কারটা বেঠিক মানি। 

অনেক কষ্টে ভেবে চিন্তে সিদ্ধান্ত নিলাম পরে

মা যাবে বৃদ্ধাশ্রমে থাক ঘরের লক্ষী ঘরে। 

সারাদিন ব্যস্ত থাকি কাজের বোঝা মাথায়

মাকে নিয়ে ভাববো, সময় আছে কোথায়। 

ভাবনা শুধু এক কেন্দ্রীক বৌ বাচ্চা নিয়ে

কি করলে শান্তি পাবো স্বস্তি পাবো কি দিয়ে। 

তাই সকাল হতেই পৌঁছে গেলাম ও পাড়ার বৃদ্ধাশ্রমে

মাকে নির্দ্বিধায় সঁপে দিয়ে বিদায় নিলাম সসম্ভ্রমে। 

গৃহযুদ্ধ এড়িয়ে গেলাম  কায়দা কানুন করে

পৌরুষহীনতার গ্লানি থেকে মুক্তি পাই কি করে। । 

...(সমাপ্ত)...


আসুন পৃথিবীর কথা ভাবি

ছবি : ইন্টারনেট


আসুন পৃথিবীর কথা ভাবি

কাকলি ভট্টাচার্য

আসুন এবার সময় হয়েছে পৃথিবীর কথা ভাবি 

দূষনের ভারে জেরবার ও-যে খোঁজে মুক্তির চাবি । 

 বাতাসে দূষণ ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর ফুসফুসে

 রন্ধে রন্ধ্রে ক্ষয়রোগ ওর প্রশ্বাসে বিষ শুষে। 

সবুজ ধরমী রুক্ষ হয়েছে উষ্ণায়নের ফলে

 মারণ এ বিষ ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর জলে-স্কুলে। 

মাটিতে দূষণ যখন-তখন কী অনায়াসে মিশে

 প্রাত্যহিকের জীবন যাতনা খাদ্য-পানীয় বিষে।

 প্রতিক্ষনে ক্ষনে শব্দ দূষনে পৃথিবী পাগলপারা 

দূষণের চাপে ধরিত্রী যে কাঁপে অসহায় দিশেহারা। 

দৃশ্য দূষণে মনের গোপনে যে বিকৃতি জন্মায় 

প্রতি মুহূর্তে যত অঘটন কে নেবে তার দায়? 

মানুষ আমরা বুঝেও বুঝিনা স্বার্থ-দ্বন্দ্বে মত্ত 

চেতনা দৈন্যে অন্ধ হয়েছি হিংসায় উন্মত্ত। 

মনের দর্ষন ঝেড়ে ফেলে দিয়ে পৃথিবীকে ভালবেসে

 স্বস্তির সাথে শান্তি আসক ঘরে র ঘরে দেশে দেশে।

 যতে হাত রেখে পাশাপাশি থেকে ভুলি সব বিদ্বেষ 

প্রার্থনা করি নির্মল হোক পৃথিবীর পরিবেশ।

 আমন আমরা আমাদের মাকে সাজাই সবুজ করে

 দূষনমুক্ত অনাবিল রাখি সযত্বে সমাদরে। 

প্লাস্টিক ফেলে গড়তেই পারি সুস্থ এ পরিবেশ

 নির্মল আর সুন্দর হবে আমাদেরই প্রিয় দেশ। 

জলই জীবন, জল সম্পদ, মহার্ঘ সবসময় 

মাটির গভীরে যেটক রয়েছে আর অপয়ে নয়। 

উজাড় করেই পৃথিবী, দিয়েছে অমূল্য ধন 'যত

 দুই হাত ভ'রে অবাধে নিয়েছি, দূষিত করেছি তত । 

সাজানো প্রকৃতি তছনছ ক'রে উঠিছেই ছিনিমিনি 

সর্বংসহা ধরিত্রীর কাছে আমরা যে চিরঋণী। 

পৃথিবীর নিরুপায় আজ জানায় বাঁচার দাবি 

ফুরোনোর আগে আসুন না সবাই পৃথিবীর কথা ভাবি।

...(সমাপ্ত)...





নিজেকেই এখনো চিনতে পারিনি

ছবি : ইন্টারনেট

 

নিজেকেই এখনো চিনতে পারিনি

অজিত কুমার জানা


দখিনা বাতাস গায়ে লাগতেই,

তোমার ভূগোল মুখস্থ হয়ে গেছে।

চোখ বন্ধ করেই মানচিত্র আঁকতে পারি,

ক্যাসবাক্স খুলে দেখাতে পারি,

ব্যান্ডিল ব্যান্ডিল মোহ।

ফোনের বারান্দা জুড়ে,

রক্তিম গোলাপের মিছিল,

সাদা জোছনার রিমঝিম আলপনা।

 

তবুও প্রশ্নপত্রে জটিল পাটিগণিত,

সিলেবাস বর্হিভূত জ্যামিতি,

মেঘলা আকাশ ঘামঝরা উপন্যাস।

ফোন টেবিলে বসে থাকে,

মুখে স্যালোটেপ এঁটে,

বৃত্ত হয়ে গেছে সম্পর্ক।

আসলে তোমাকে মুখস্থ করতে গিয়ে,

নিজেকেই এখনো চিনতে পারিনি।

...(সমাপ্ত)...


রোদ্দুরের কলম

 

ছবি : ইন্টারনেট

রোদ্দুরের কলম

 তুষার ভট্টাচাৰ্য

পুবালি ভোর রোদ্দুরের স্বপ্নীল তুলি, কলম দিয়ে

 আমি ঠিক এই মুহূর্তে

মুছে দিতে চাই -

 দেশজুড়ে জেগে ওঠা

সমস্ত ধর্মীয় গোঁড়ামি, বিদ্বেষ,

 হিংসা,  আর বিভেদের  পাঁচিল ;

টাপুর টুপুর বৃষ্টি জলে ভেজা এই দেশের নরম মাটি তৃণঘাসে

দু'হাতে করে  নীরবে ছড়িয়ে দিতে চাই

সম্প্রীতির অক্ষর বীজ  ;

ধর্মান্ধদের রক্তাক্ত অস্ত্র মাখা   হাতে

পরিয়ে দিতে চাই   ভালবাসার রাখি  ;

ধস্ত, বিপন্ন এই দেশের উদার আকাশে

বাতাসে আবার নিশ্চয়ই

ধ্বনিত হবে অমল বন্ধুতার জয়গান  ;

ভোরের আলোর  পাখিরা  নীরবে

শোনাবে - 'সবার উপর মানুষ সত্য ' গান l

...(সমাপ্ত)...



মানসিকতা

ছবি : ইন্টারনেট

মানসিকতা

ভূদেব মাহাত


মাটির দূর্গা পূজিত হয়

মন্দিরে ও ঘরে,

ঘরের দুর্গা নিলাম হয়

লক্ষ টাকা দরে।

 

মায়ের গর্ভে জন্ম ছেলেটা

মায়েরই কাপর টানে,

ছেলে হয়ে কলঙ্ক সে

এই সমাজের মনে,


কলঙ্কের দাগ মোছা যায়না

নদী সমুদ্রের জলে,

জীবনটাকে শেষ হয়ে যায়

সামান্য একটা ভুলে।


সেই মা দেখাল পৃথিবীর আলো

দশমাস গর্ভে ধারন করে,

সেই মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠায়

ষাট বছর পরে।


হারিয়ে যাচ্ছে কত মেয়েরা

অন্ধকারের ওই রাতে,

বারবার কেন একই ঘটনা

হয় মায়েদের সাথে।


স্বাধীন দেশে আজও কেন

হয় ধর্ষন শ্রীলতাহানি,

দিনে রাতে মেয়েদের সুরক্ষা

নেই কেনো শুনি?


যেদিন সবাইকে মা বোনের চোখে

দেখবে সব পুরুষ,

সেদিন থেকে এই সমাজে

থাকবে না কোনো কাপুরুষ।




চাঁদের নিচে হেঁটে যাই

ছবি : ইন্টারনেট


চাঁদের নিচে হেঁটে যাই

রোসামা হাফিজ


প্রতি রাতে একটু চুপ হয়ে যাই,

ঘরের আলো নিভিয়ে

শুধু চাঁদের আলোয় দেখি —

পথ আছে কি, যে পথে হারিয়ে যাই?


মোবাইলটা নিঃশব্দে পড়ে থাকে,

চা ঠান্ডা হয়,

বইয়ের পাতা খুলে থাকে

একটা অসমাপ্ত বাক্যের মত।


আমি খুঁজি এমন এক আলো

যেখানে ছায়াও কথা বলে না,

শুধু হাঁটা যায় —

ধীরে ধীরে, স্তব্ধ হয়ে।


না, এই আলো বালিকার চোখে নেই,

না, কবির কলমে নেই —

এই আলো একা রাতের,

যে আলো দেখলেই মনে হয় —

সব ছেড়ে কোথাও চলে যাই।


কোথাও মানে কোথাও না,

শুধু একটু দূরে,

এই শহরটার শব্দের বাইরে

এই শরীরটার অভ্যাস ছেড়ে।


চাঁদ ডাকে না,

কিন্তু আমিই নিজেই হাঁটি,

প্রতিবার কিছুদূর গিয়ে ফিরি —

ভাবি, আজ না হয় থাক,

তবু একদিন যাবোই।




একদিন রাষ্ট্রই আদর্শ হবে

ছবি : ইন্টারনেট

একদিন রাষ্ট্রই আদর্শ হবে

তাপস রায়

আজ আমি সাধারণ দিনের ভেতর বসে ভাবব উল্কা বৃষ্টি হবে 

আমের পল্লবে সিঁদুর লেগেছে যদি আমার পাপ চোখে 

তক্ষুনি ভেসে উঠবে নগ্ন কোনো চাঁদ, তার কান্না চেপে রাখা যাচ্ছে না 

আজ আমি নিজেকে পাগল ভেবে মন্ত্রীসভার কাছে একান্তে দাঁড়াব। 


--- আমাদের ক্ষয় রোগ হোক, হে আর্য , আমাদের নরকে নিক্ষেপ করো

সেই সব সাপের পিঠে উঠে ভারত ভ্রমণে গিয়ে আজ আমার শীৎকার হবে

আমার সাহসে হেসে কুটিপাটি সার্কাসের জোকার সকল, দেখো গ্রীষ্ম হলো না

আ্মি সেই তীব্র মরে যাবার ভেতর বসন্ত রেখে আসব আজ, ক্রোধ হবে ক্রোধ হবে। 

 

যেকথা বলছিলাম, তোমার নাগর এসে আমাকেও এক পেট মদ দিয়ে যাবে

রাস্তা সুনসান, ভাষা ফুটে উঠতে চাইছে না, সে শুধু নরম চিন্তা নিয়ে

আমাদের দমকল থেকে জল পেড়ে আনে দেখি, আজ আমি তুলি হাতে

বাংলার গাঁয়ে গাঁয়ে মরক লাগাব, যেন পালাতে না পারে, ধানের দুধের ভেতর

কার্ফু জারি করে দেব, যেন বারোমাস নিজেরই মুখোমুখি তীব্র ঘুমোতে হয়। 


আজ আমি হাজার হাজার বছর নীচে নেমে গোঁজ প্রার্থীদের খুঁজে এনে পার্কে বসাব। । 


চরৈবেতি

ছবি : ইন্টারনেট

চরৈবেতি 

মণিমোহন বন্দোপাধ্যায় 

তোমায় ছেড়ে যাবো বলেই তোমার কাছে আসা,

বাঁধন ছেঁড়ার শর্ত নিয়েই তোমায় ভালোবাসা l

ঝরতে হবে জেনেও আজো শিউলি ফোটে ভোরে,

ক্ষণিক পলের জীবন, তবু মৌমাছিরা ওড়ে l

ভাসান দিতে হবে জেনেও মৃন্ময়ীকে ডাকি,

রাত পোহানোর স্বপ্ন বুকে আজও বেঁচে থাকি ll




শরৎ আকাশ


ছবি : ইন্টারনেট

শরৎ আকাশ

তুহিন কুমার চন্দ

চতুর্দিকে স্থলপদ্ম শিউলি বেলীর শাখা

পেঁজা তুলোর আসমানী রং অভ্র দিয়ে আঁকা।


শারদ আকাশ মুখ তুলে চায় সূক্ষ্ম তুলির টানে,

রাত বাড়ে যেই পরীর শিশু মেঘকে টেনে আনে।


দোহাকোষের চরন ভেঙ্গে পাহাড় চূড়োয় নাচে,

আজও তারা বেঁচে আছে কেন্দু বনের কাছে।


মোরগ পুচ্ছ নাইবা থাকুক গুঞ্জা ফুলের মালা,

শালের পাতায় গরম ভাতে ঘি মাখানো থালা।


এসব কিছু দেখতে পাবে ভাগনাডিহির টিলায়

মেঘের সাথে তীরধনূকের শিকার করার খেলায়।


ধামসা মাদল ঢাকের তালে পুজোর শব্দাবলী,

সেই সেকেলে বনদুর্গার নিশান নিয়ে চলি।


চতুর্দিকে স্থলপদ্ম শিউলি বেলীর শাখা

আসমানী রং শরৎ আকাশ অভ্র দিয়ে আঁকা।


পুজোর আকাশ মুখ তুলে চায় সূক্ষ্ম তুলির টানে,

রাত বাড়ে যেই কুক্কুরী পাদ মেঘকে টেনে আনে।


গোলাপ-ঘর

ছবি : ইন্টারনেট

গোলাপ-ঘর 

ভাস্বতী নাথ

বকুল শাখায় ঝুলন  বেঁধে

ময়নামতী  দোল খেলে

ছোটোবেলার ফুলচুরি দিন

ইতিহাসে মুখ ডোবায়


গুছিয়ে  বলা কঠিন কথা

সিন্দুকে থাক একটা রাত

ত্যক্ত পথের অলিগলি

পালানো মন হারিয়ে যাক


ভাঙাগড়ায় উদাস নদী

বুক পেতে নেয় রুখু বালি

মন-পাতালে পুষে রাখে

দুখানা হাত গভীরে যাক 

 

জড়িয়ে গলা লতানে জুঁই

ইঁট-পাঁজরে ঠোঁট ছোঁয়ায়

গেরুয়া দিন গান গেয়ে যায়

গোলাপ-ঘরেই  জীন-প্রদীপ ।

...(সমাপ্ত)...


Wednesday, October 2, 2024

হে আমার বার্ধক্য

ছবি : ইন্টারনেট

হে আমার বার্ধক্য

মলয় সরকার 

হে আমার বার্ধক্য,

তোমাকে ঘুরিয়ে আনতে পারি

প্রতিটি বৃদ্ধাশ্রমের ঘরে ঘরে,

প্রতিটি সমুদ্রের ঢেউয়ের মাথায়

যেখানে সমুদ্র-ঈগলেরা বিঁধিয়ে দেয় তীক্ষ্ণ নখর

হাপিত্যেশ করে বসে থাকা জীর্ণতার

প্রতিটি কুঞ্চিত মরা বাকলের দীর্ঘশ্বাসে

জেগে ওঠে হতাশার বিষবাষ্প-


একটা পালতোলা নৌকার

সুদীর্ঘ যাত্রাপথের শেষে বাদামী মেঘের ঝড়

তছনছ করে নীল আকাশের হাতছানি

আর স্বপ্ন দেখে ফেলে আসা

হাঁসের পালকের মত চকচকে রৌদ্রদিনের-


একটা পড়ন্ত বিকেল

জানিয়ে দিতে চায় শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত

আপ্রাণ চেষ্টায়- আমি ছিলাম, আমি হারব না।

আকাশে উড়ন্ত পাখী তার পাখায় পাখায় লিখে যায়

চূড়ান্ত পরিণতির করুণ বিদায় সঙ্গীত,


আকাশে ছড়ায় রক্তিম আর্তনাদ-

হে আমার বার্ধক্য

মেনে নিতে শেখো, এখনও রয়েছে সময়-

মেনে নিতে শেখো-

তুমি শেষ নৌকার শেষ পথযাত্রী

বলো বিদায়,

বলো অনেক তো হল দেওয়া নেওয়া,

আর নয় আর নয়–

...(সমাপ্ত)...