1 / 7
2 / 7
3 / 7
4 / 7
5 / 7
6 / 7
7 / 7

Showing posts with label ডাঃ রণধী দাশ. Show all posts
Showing posts with label ডাঃ রণধী দাশ. Show all posts

Wednesday, October 2, 2024

তুতেনখামেনের সমাধি

ছবি : ডাঃ রণধী দাশ 

তুতেনখামেনের সমাধি

ডাঃ রণধী দাশ 

প্রাচীন মিশর নিয়ে আমাদের জানার আগ্রহের কোনো শেষ নেই। মিশর কথাটা শোনামাত্র চোখের সামনে যা ভেসে ওঠে... তার প্রথমটি যদি পিরামিড হয়, দ্বিতীয়টা নিশ্চয়ই হবে কিশোর ফারাও তুতেনখামেন। যদিও তিনি একজন বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ রাজা ছিলেন না, কিন্তু তার সমাধি ছিল একমাত্র রাজকীয় সমাধি যা আধুনিক সময়ে অক্ষত অবস্থায় পাওয়া যায়। সমাধিটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল কারণ এটি প্রত্নতাত্ত্বিকদের একজন মিশরীয় রাজার সমাধি কেমন হতো তা রেকর্ড করতে এবং প্রাচীন মিশর সম্পর্কে ধারণা দিতে প্রভূত সাহায্য করেছিল। 

ফারাও Tutankhamun/ তুতানখামুন/King Tut প্রায় 1333 থেকে 1323 খ্রিস্টপূর্বাব্দ পর্যন্ত প্রাচীন মিশর শাসন করেছিলেন প্রাচীন মিশরীয় ইতিহাসের একটি বিদ্রোহের সময়ে মাত্র নয় বছর বয়সে তিনি রাজা হন। তার বাবা ছিলেন Akhenaten ও Ankhesenamun তার সৎ বোন ছিল। 

টুটের বাবা আখেনাতেন দেশের ধর্মীয় বিশ্বাস পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছিলেন। আমর্না সময়কালে: তিনি প্রাচীন মিশরীয় ধর্মের ঐতিহ্যগত বহুঈশ্বরবাদী রূপ কে বদল করতে চেয়েছিলেন, যা অ্যাটেনিজম নামে পরিচিত। তিনি চেয়েছিলেন যে মিশরীয়রা 2,000 দেবতার পরিবর্তে কেবলমাত্র একটি দেবতার পূজা করুক - সূর্য, যাকে বলা হয় রা বা আটেন, অর্থাৎ ফারাওকে ভগবান হিসাবে পুজো করতে বাধ্য করা হয়েছিল। 

পুরোহিত, অভিজাত এবং সাধারণ লোকেরা সম্ভবত এই পরিবর্তনটি অপছন্দ করেছিল, কিন্তু তাদের ফারাওয়ের আদেশ অনুসরণ করতে বাধ্য হয়েছিল।

আখেনাতেনের মৃত্যুর পর নয় বছর বয়সী টুট সিংহাসন গ্রহণ করেন। তিনি পুরানো মন্দিরগুলি মেরামত করেছিলেন এবং দেবতাদের নতুন মূর্তির জন্য অর্থ প্রদান করেছিলেন, ধর্মীয় রীতিগুলিকে আগের মতো করে পরিবর্তন করেছিলেন। এমনকি তিনি তার নাম পরিবর্তন করেছিলেন: তার জন্মের নাম ছিল তুতানখাতেন (শেষ দুটি শব্দাংশ সূর্য দেবতাকে সম্মান করে), কিন্তু সিংহাসন গ্রহণের পর তিনি তুতেনখামুনে পরিবর্তিত হন। ওর জন্মের সময়তেই মা কিয়া মারা যান আর বাবাও মারা যাবার পর এই ছোট রাজা কে সিংহাসনে বসিয়ে রাজত্ব চালাতে থাকে মন্ত্রী আই, যে কিনা ছিলো ভয়ানক ষড়যন্ত্রী। 

রাজা হিসাবে, টুট ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং উৎসবে অংশগ্রহণ করতেন, শিকার ভ্রমণে যেতেন, ঘোড়ায় চড়তে এবং রথ চালানো শিখতেন এবং সামরিক দক্ষতায় প্রশিক্ষণ নিতেন।

কিন্তু Tutankhamun শাসন করার জন্য খুব বেশি সময় পান নি —তিনি মাত্র 19 বছর বয়সে মারা যান। 

বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত নন যে তার কি ভাবে মৃত্যু হয়... তার মৃত্যু একটি রথ দুর্ঘটনা, মশাবাহিত অসুস্থতা, হাড়ের রোগ বা কিছু সংমিশ্রণে আঘাতের কারণে হতে পারে ।পরে পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, Tutankhamun এর জন্মগত হাড়ের রোগ ছিলো, যার জন্য উনি ভালোভাবে ঘাড় ঘোরাতে পারতেন না এবং ভালোভাবে হাঁটতেও পারতেন না। তাই ওনার সমাধি থেকে বেশ কিছু সোনার ওয়াকিং স্টিক পাওয়া গিয়েছিল। 


তবে খুব সম্ভবত রথ চালাবার সময় তার অ্যাক্সিডেন্ট হয়, তাতেই পায়ের থাইয়ের femur হাড় ভেঙে যায় এবং সেখান থেকেই রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়। এছাড়াও তার খুলির পেছন দিকে চোট ছিল, যা দেখে মনে করা হয় যে তুতেনখামেন কে হত্যা করা হয়েছিল। 

কারণ যাই হোক না কেন, রাজা কোনও সন্তানকে রেখে যাননি, Tutankhamun এর কফিনের পাশে দুটি ছোট বাক্স পাওয়া যায়, সেটি খোলার পর তার মধ্যে থেকে দুটি ছোট্ট ছোট্ট কফিন পাওয়া যায় এবং তার মধ্যে ছিল 30 সেন্টিমিটার লম্বা দুটো মমি। জানা যায় তুতানখামেনের স্ত্রী দুজন মৃত সন্তান প্রসব করেছিলেন (25 wks ও 37 wks বয়েস), এগুলো তাদেরই। তারাই তার বাবার কাছে শুয়েছিল প্রায় সাড়ে তিন হাজার বছর ধরে। Tutankhamun এর স্ত্রী, রাজার মৃত্যুর পর মিশর ছেড়ে পালিয়ে যান, কিন্তু শোনা যায় তিনি মন্ত্রী আই এর পাঠানো গুপ্তঘাতকের হাতে মরুভূমির মধ্যে মারা যান। তার শরীর অথবা মমি, কোন কিছুই পাওয়া যায়নি।

যাইহোক Tutankhamun এর মৃত্যুর পর তাই সিংহাসনটি তার উপদেষ্টা আই দখল করে। আই চেয়েছিল যাতে এই ফারাওকে কেউ মনে না রাখে, তাই বিভিন্ন জায়গা থেকে তার খোদাই করা ছবি এবং নাম, সে নষ্ট করে দিয়েছিল। কিন্তু অদৃষ্টের পরিহাসে ইতিহাসে সবথেকে বিখ্যাত মমি এবং সমাধিস্থলটি Tutankhamun এর, বরং আইয়ের সমাধি থেকে সেইরকম কিছুই খুঁজে পাওয়া যায়নি, আর তাই খুব কম দর্শকই তার সমাধিস্থল চেনে এবং পরিদর্শন করে। বেশিরভাগ ফারাওদের সমাধিগুলি পাথরের গভীরে কাটা হয়েছিল এবং এতে অনেকগুলি কক্ষ ছিল। কিন্তু টুট-এর মমি করা দেহটি…

আজ আমরা খুব ভোরবেলায় বেরিয়ে পড়েছি.... উনিশতম রাজবংশ: রামিসেস দ্য গ্রেটের বংশের এক অনন্য সুন্দর সৃষ্টি 'দ্য গ্রেট রামোসেস II' এর আবু সিম্বলের মন্দির দেখবার জন্য।

অষ্টাদশ রাজবংশের শেষ তিনজন ফারাও- তুতানখামুন, আইয়ি এবং হোরেমহেবের কোনো সন্তান ছিল না, তাই কোনো উত্তরাধিকারী ছিল না। যখন ফারাওয়ের উত্তরাধিকারী থাকে না, কিংবা ফারাও শক্তিশালী হন না, তখন মিশরে বিপর্যয় দেখা দেয়। 


কিন্তু ফারাও হোরেমহেব এবার সেটা হতে দিলেন না। তিনি মারা যাবার আগে, তাঁর উজির এবং বন্ধু রামিসেসকে মিশরের ফারাওয়ের দায়িত্ব অর্পন করে গিয়েছিলেন।

রামিসেস 'প্রথম রামিসেস' নামকরণ নিয়ে মিশরের ফারাও হয়েছিলেন। তাঁর নামেই উনিশতম রাজবংশের সবচেয়ে স্বর্ণযুগকে বলা হয়ে থাকে 'রামেসাইড' যুগ। 

প্রথম রামিসেস রাজকীয় রক্তের ছিলেন না। তিনি ছিলেন হোরেমহেবের উজির এবং বন্ধু এবং তাঁর পিতা ছিলেন সেটি, সেনাবাহিনীর একজন কমান্ডার। তিনি ফারাও হলেন, কিন্তু খুব বেশিদিন মিশর শাসন করতে পারলেন না, তাঁর বয়স হয়ে গিয়েছিল পঞ্চাশ বছরের মতো। তিনি সম্ভবত তিন বছরের মতো মিশর শাসন করেছিলেন। মৃত্যুর পর তাঁকে Valley of The Kings বা 'রাজাদের উপত্যকা'য় সমাহিত করা হয়েছিল। 

বেলযোনি ১৮১৭ সালে তাঁর সমাধিস্থান আবিষ্কার করেছিলেন, যদিও সেটা অনেক পূর্বেই সমাধি ডাকাতেরা লুটপাট করেছিলো। তবুও তাঁর সমাধিতে গ্রানাইট সারকোফাগাস, প্রায় সাড়ে ছ'ফুটের মতো লম্বা ফারাওয়ের দুটি কাঠের মূর্তি- যাতে পূর্বে একসময় স্বর্ণের প্রলেপ ছিল এবং বেশকিছু দেবতার ছোটো ছোটো কাঠের মূর্তি পাওয়া গিয়েছে, যেগুলোর মাথা ছিল অন্যরকম কিছু প্রাণীর। তবে ফারাওয়ের মূল সমাধিকক্ষটি অসম্পূর্ণ ছিল।


এই ফারাও কর্তৃক নির্মিত উল্লেখযোগ্য ভবন এবং স্মৃতিস্তম্ভ:

🔶কারনাক- আমুনের মন্দিরের (Temple of Amun) 

🔶হাইপোস্টাইল হল

🔶আবিদোস- প্রথম সেটির মন্দির,

🔶ওসিরিয়ন,

🔶প্রথম রামিসেসের মন্দির থেবস, 

🔶রাজাদের উপত্যকা- সমাধি KV-17, থেবস- শবাগার মন্দির

প্রথম সেটি মারা যাবার পূর্বেই তাঁর সন্তান রামিসেসকে মিশরের ফারাও হিসেবে প্রস্তুত করে গিয়েছিলেন। 

রামিসেসের বয়স যখন দশ বছর, তিনি 'বড় সন্তান' উপাধি গ্রহণ করেছিলেন এবং তখন থেকেই 'ক্রাউন প্রিন্স' হিসেবে নিজে গড়ে উঠছিলেন। 

তিনি যখন পনেরো বা ষোলো বছর বয়সের, তখন পিতা প্রথম সেটির সাথে সিরিয়া অভিযানে গিয়েছিলেন, তাঁর পিতার পাশে তাঁর চ্যারিয়টের চিত্র পাওয়া গিয়েছে। তিনি এরপর হিট্টিদের বিরুদ্ধে অভিযানেও ছিলেন। প্রথম থেকেই রামিসেস সামরিক অভিযানের সাথে পরিচিত হয়েছিলেন।

ইনি ছিলেন মিশরের সবথেকে শক্তিশালী ফারাও 'দ্য গ্রেট রামোসেস II' (c. 1279-c. 1213 BC)। 

এনার অনন্য সুন্দর সৃষ্টি দেখবার জন্য আমরা ভোরবেলায় Cruise থেকে নেমে একটি মিনি ভ্যানে করে সুন্দর রাস্তার মধ্যে দিয়ে আমরা এগিয়ে চললাম আবু সিম্বলের উদ্দেশ্যে। 

তখন চারপাশ বেশ অন্ধকার এবং বেশ ঠান্ডা। ঘন্টা দেড়েক চলার পর আমরা একটি মরুভূমির মধ্যে, ধাবার সামনে ব্রেক নিলাম... যেখানে চা, জলখাবার, শৌচালয় সবকিছুই ছিল আর সঙ্গে ছিল প্রচুর পরিমাণে ভিড়। 

এইখানেই মরুভূমির মধ্যে থেকে আমরা সূর্যোদয় দেখলাম। আমরা সাধারণত পাহাড় এবং সমুদ্র থেকে সূর্যোদয় দেখতে অভ্যস্ত, তাই মরুভূমির সূর্যোদয় বেশ অন্যরকম লাগলো। আধাঘন্টা থেকে ৪৫ মিনিট এখানে কাটিয়ে আমরা আবার এগিয়ে চললাম, মরুভূমির মধ্যে দিয়ে আবু সিম্বল এর উদ্দেশ্যে। ঘন্টা তিনেকের মধ্যে আমরা পৌঁছে গেলাম আবু সিম্বল। 


বলে রাখা ভালো যে, যত তাড়াতাড়ি এইখানে আসা যাবে, তত ভিড় এবং গরম এখানে কম হবে.... যত সময় যায় তত ভিড় এবং গরম বাড়তে থাকে। 

🟢আমাদের Normal (Non Egyptian and Arab) টিকিট কাটাই ছিল.. 

🔶Adult : 240 EGP

🔶Student : 120 EGP

🔶Guide charge : 15 EGP

🔶ছয় বছরের কমে প্রবেশ মূল্য ফ্রি। 

🟢Sun Alignment Ticket -(22.2 and 22.10)

🔶Adult : 500 EGP

🔶Student : 250 EGP

🟢মন্দিরটি খোলা থাকে 7am- 5pm

🟢Sun Alignment এর দিন খোলে 3am এ। 

আগেই বলেছি cruise থেকে গাইড আমাদের সঙ্গেই ছিল। ওর কাছেই সব টিকিট ছিল, সে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের নিয়ে ভেতরে ঢুকে গেল।

এবার শুধু অবাক হওয়ার পালা। অত সকালেও মন্দিরে ঢোকার লাইনটি বড়ই লম্বা। 

লাইনে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই, গাইড বলতে শুরু করলো... 

🟣দ্বিতীয় রামিসেস ক্ষমতায় এসে তাঁর রাজধানী পরিবর্তন করলেন। মিশরে তখন দুটি রাজধানী ছিল। 

থেবস ছিল ধর্মীয় রাজধানী। থেবসকে মিশরীয়রা বলতেন 'ওয়াসেট'। আধুনিক মিশরীয়রা থেবসকে বলেন লাক্সার।

আর ছিলো, মেমফিস - প্রশাসনিক রাজধানী। 


🟣রামোসেস রাজধানী মেমফিস থেকে ডেল্টাতে নিয়ে গেলেন, যা ছিল সামরিকভাবে সিরিয়া আক্রমণের জন্য অনুকূল। রামিসেস সবসময়ই সিরিয়া আক্রমণের কথা চিন্তা করেছেন। তাই তিনি ডেল্টাকেই বেছে নিয়েছিলেন রাজধানী হিসেবে।

🟣ডেল্টা আর্দ্র এলাকা। সেখানে খনন করাও খুব কঠিন কাজ। তবুও রামিসেসের প্রাসাদের কিছু অবশিষ্টাংশ সেখানে পাওয়া গিয়েছে। অসাধারণ ছিল সে প্রাসাদ- বিশাল বিশাল ব্লকে তৈরী হয়েছিল ডেল্টার প্রাসাদ। আরো ছিল অসংখ্য ওবেলিস্ক।

🟥🟥কাদেশ অভিযান:-

🟣দ্বিতীয় রামিসেস সব থেকে বড় যুদ্ধ অভিযান ছিল কাদেশ অভিযান (1274 BC)। চার ডিভিশন সৈন্য নিয়ে তিনি কাদেশে গিয়েছিলেন। 

প্রতিটি ডিভিশনের আলাদা নাম ছিল-একেকজন দেবতার নামে- আমুন, রা, টাহ্ এবং সেথ। 

প্রতিটি ডিভিশনে সৈন্য ছিল পাঁচ হাজার করে, রামিসেস সর্বমোট বিশ হাজার সৈন্য নিয়ে সিরিয়ার দিকে অগ্রসর হলেন, বেকুয়া উপত্যকা হয়ে। 

🟣সে ছিল এক বিশাল যাত্রা। গড়ে প্রতিদিন তাঁরা পনেরো মাইল পথ অতিক্রম করতেন। 

তিনি একটার পর একটা শহরে গিয়েছিলেন এবং শহরগুলো বিনা যুদ্ধে রামিসেসের বশ্যতা স্বীকার করে নিচ্ছিল, তাই রামেসিসের সেনাবাহিনীর কখনোই খাদ্য এবং জলের সমস্যা হয়নি। 

🟣এইসময় দু'জন হিট্টি (Hittit) দূত আসলেন রামিসেসের কাছে। তারা বললেন, তারা নাকি রামিসেসের বশ্যতা স্বীকার করতে চান। তাদের রাজা মুয়াতাল্লিস, রামিসেসের আসার কথা শুনে নাকি পালিয়ে গেছেন। 

🟣কিন্তু প্রকৃত ব্যাপার ছিল ভিন্ন এবং মিথ্যা। মুয়াতাল্লিস চল্লিশ হাজার সৈন্য নিয়ে রামিসেসের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, এবং আড়াই হাজার চ্যারিয়ট বনের ভিতর লুকিয়ে ছিল।

🟣এদের কথা বিশ্বাস করে, রামিসেস তার দুটি ডিভিশন সৈন্য নিয়ে আরো উত্তরে এগিয়ে গেলেন এবং একজায়গায় ক্যাম্প স্থাপন করলেন। সেই সময় রামসিসের সৈন্যরা হঠাৎ করে দুজন হিট্টি গুপ্তচর কে ধরে ফেললো এবং অত্যাচার করার পর মুয়াতাল্লিশের পরিকল্পনা তারা জানতে পারল। কিন্তু ততক্ষণে অনেকটা দেরি হয়ে গিয়েছিল। 

এই দুই ডিভিশনের উপর মুয়াতাল্লিশের সেনারা আক্রমণ করে, এই ভয়ানক আক্রমণে বিভ্রান্ত এবং ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে দ্বিতীয় রামেসিসের সৈন্যরা। হার নিশ্চিত ছিলো। 

🟣কিন্তু দ্বিতীয় রামেসিস হাল ছাড়লেন না। এই সময় রামেসিস স্মরণ করলেন থেবসের মন্দিরের দেবতা আমেন-রা কে। তার আশীর্বাদে ফারাওয়ের শক্তি হয়ে ওঠে দেবতাদের মতো। তিনি নিজে তার দুই ডিভিশনের বেঁচে থাকা সৈন্য নিয়ে এক ভয়ঙ্কর যুদ্ধে হিট্টিদের পরাস্ত করেন এবং পিছু হটতে বাধ্য করেন। 

🟣এরপরে তিনি মিশরে ফিরে আসেন, চারিদিকে তার জয়জয়কার পড়ে যায় এবং এই যুদ্ধ জয়কে স্মরণীয় করে রাখার জন্যই মিশরের দক্ষিণে তিনি আবু সিম্বলের মন্দির বানান। এই পুরো ঘটনাটি আবু সিম্বলের মন্দিরের মধ্যে দেওয়ালে আঁকা রয়েছে।

পরে, অবশেষে 1258 BC তে শান্তি চুক্তি হয়, মিশরীয় এবং হিট্টিদের মধ্যে, যা বিশ্বের প্রথম শান্তি চুক্তি হিসাবে গণ্য করা হয়। 

এরপরে আমরা আস্তে আস্তে ঢুকে পড়লাম মন্দিরের ভেতর। চারপাশে বিশাল উঁচু উঁচু মূর্তি এবং পুরো দেওয়ালে এবং ভেতরকার চেম্বারে অজস্র চিত্র এবং লেখা। 

আবু সিম্বলের মন্দির :-

🟠দ্বিতীয় রামিসেস আবু সিম্বলে মন্দির নির্মাণ করেন 1264-1244 BC, মতান্তরে 1244-1224 BC র মধ্যে।

🟠মিশরের দক্ষিণের সর্বশেষ সীমানা ছিল আসোয়ান। আবু সিম্বল ছিল আসোয়ানের পরে, নুবিয়াতে। রামিসেস মূলত নুবিয়াতে এ মন্দির নির্মাণ করেছিলেন এবং এটি ছিল এমন একটি মন্দির, যা মিশরে আগে কখনো হয়নি।

🟠পূর্বে মিশরে মন্দির নির্মাণ করা হত- ব্লকের পর ব্লক দিয়ে। এইবার প্রথম আবু সিম্বলে, রামিসেস মন্দির নির্মাণ করলেন পাহাড়ের গায়ে, পাথর কেটে। 

🟠মূল মন্দিরটি ছিল ৯৮ ফুট (30 m) লম্বা এবং ১১৫ ফুট (35 m) চওড়া। 

🟠মন্দিরের প্রবেশ পথে ছিল চারটি বিশাল মূর্তি- রামিসেসের মূর্তি, প্রতিটি ছিল ৬৭ ফুট (20 m) উঁচু। মাঝের দুটি মূর্তির পায়ের নিচ দিয়ে চলে গিয়েছিল মন্দিরে ঢোকার প্রবেশপথ। মূর্তির পায়ের কাছে ছিল ওনার স্ত্রী এবং সন্তানদের ছোট ছোট মূর্তি। 

🟠৬৭ ফুট দীর্ঘ রামিসেসের যে চারটি মূর্তি ছিল, তার একটির মাথা ভেঙ্গে নিচে পড়ে গিয়েছিল, রামিসেসের জীবদ্দশাতেই এক বিশাল ভূমিকম্পে। 

🟠মন্দিরের দেওয়ালে ছিলো রামিসেসের কাদেশ অভিযানের চিত্র। অন্যদিকে একদম ভিতরে, গর্ভগৃহে Holy of Holies এ ছিল আরো চারটি বিশাল মূর্তি- রা- হোরাখতি, টাহ্, আমুন এবং রামিসেসের নিজের মূর্তি। তিনি নিজেকে দেবতাই ঘোষণা করেছিলেন। 

🟠বছরের দুটি বিশেষ দিনে, ২২ ফেব্রুয়ারি এবং ২২ অক্টোবর, সূর্যের আলো এসে এই মূর্তিগুলোর উপরে পড়ে। 

🟠অনেকের মতে , মন্দিরের নির্মাণশৈলী এমনভাবে করা হয়েছিল, যাতে রামিসেসের জন্মদিনে এই সূর্যের আলো Holy of Holies-এ নির্মিত তাঁর মূর্তির উপর এসে পড়ে। 

🟠প্রকৃতপক্ষে আলো এসে পড়ত তিনটি মূর্তির উপর, চতুর্থ মূর্তি টাহ্-এর উপরে আলো আসতনা, কারণ টাহ্ ছিলেন মৃত্যুর (Realm of Dead) একজন দেবতা!

🟢এ মন্দিরের সামান্য ডান দিকেই তিনি আরেকটি মন্দির নির্মাণ করেছিলেন, যেটি আকারে একটু ছোট ছিল। 

🟢এটি নির্মাণ করেছিলেন তিনি তাঁর প্রিয় স্ত্রী নেফারতারির জন্য। 

🟢এর প্রবেশ পথে খোদাই করা ছিল, 'নেফারতারির জন্য, যার জন্য সূর্য আলো দেয়।' এ মন্দিরটির নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছিল রামিসেসের রাজত্বের তেইশ বছরে। এক বছর পরেই নেফারতারি মারা গিয়েছিলেন। 

🟢মৃত্যুর পূর্বে তিনি দেখে গিয়েছিলেন, তিনি তাঁর স্বামীর সাথে আছেন। 

যদিও মন্দিরের ভিতরে বেশ কয়েকটি ফ্যান আছে। তাও ভেতরটি বেশ গরম। কিন্তু ভেতরের চেম্বারগুলো আবার বেশ ঠান্ডা। 

যাই হোক আমরা দুটি মন্দির দেখে বেরিয়ে এলাম, তখনই আবার গাইড বলতে শুরু করলো... এই মন্দিরটি কিন্তু আসল মন্দিরটি নয়। এ দুটি মন্দিরই সরানো হয়েছিল, কারণ, সে সময় আসোয়ান বাঁধ তৈরীর কারণে আবু সিম্বল জলের নিচে তলিয়ে যাচ্ছিল। । 

১৯৬৪ সালে , ইউনেস্কোর তত্ত্বাবধানে ১১৩ টি দেশ মিলে এই দুটি মন্দির মূল জায়গা থেকে ব্লক ব্লক করে একটু উপরে সরিয়ে নিয়েছিল। 

প্রতিটি টুকরোর গায়ে নাম্বারিং করে, নাসের লেক থেকে ৬৫ মিটার উপরে আর ২০০ মিটার দূরে কংক্রিটের কাঠামো তৈরি করে, একটির পর একটি সাজানো পাথরের ব্লক দিয়ে এই মন্দির গুলোকে আবারও জোড়া লাগানো হয়। এটি সেই মন্দির যেটা আমরা এখন দেখতে পাই। 

বেশ কিছু গাইড এর মতে, এই নতুন মন্দির-শৈলির জন্য এখন ২২শে ফেব্রুয়ারি এবং ২২ শে অক্টোবরের জায়গায় একুশে ফেব্রুয়ারি এবং একুশে অক্টোবর আলোকিত হয়ে ওঠেন ৩ দেবতা।


🔵এই মন্দিরটিও খুঁজে পাওয়ার গল্পটিও অসাধারণ। আবু সিম্বল কিন্তু কোন জায়গার নাম নয়, এটি একটি ছেলের নাম.. যে কিনা প্রথম এই মন্দিরটি খুঁজে পেয়েছিল। তার নামেই এই জায়গাটির নাম দেওয়া হয়েছিল আবু সিম্বল।

🔵রামিসেসের রাজত্ব শেষ হবার পর, এই মন্দির আস্তে আস্তে কালের গর্ভে হারিয়ে যায়। বালি এবং কাদার মধ্যে পুরো মন্দিরটাই ডুবে যায়। 

এরপর ১৮১৩ সালে এক সুইস-জার্মান প্রত্নতত্ত্ববিদ জোহান বুর্কার্ড আবার এর খোঁজ পায়। 

🔵১৮১৩ সালের মার্চ মাসে বুর্কার্ড যখন ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন মিশরের দক্ষিণে। সেই সময় এক বছর দশেকের মেষপালকের কাছে একটা অদ্ভুত গল্প শোনেন... নীলনদের তীরে নাকি সে পাথরের তৈরি একটা মানুষের বিশাল বড়ো মাথা দেখতে পেয়েছে। 

🔵সেই ছেলেকে গাইড বানিয়েই ওই জায়গাতে গিয়ে পৌঁছোন বুর্কার্ড। দেখেন সত্যি মরুভূমির বালির মধ্যে জেগে আছে সেই পাথরের মূর্তি। মাথাটুকুই যা বাইরে। এই দশ বছরের ছেলেটির নামই ছিল আবু সিম্বল, যার থেকে এই জায়গাটির নামকরণ হয়।

🔵 শুরু হয় খোঁড়াখুঁড়ি। নেফারতারির মন্দিরটা বালি খুঁড়ে বের করতে সক্ষম হন বুর্কার্ড। তার থেকেই ওঁর ধারণা হয় যে নিশ্চয় আরেকটা মন্দির আছে । তবে তার পক্ষে একা এই কাজ করা সম্ভব ছিল না, তাকে এই কাজে সাহায্য করেন জিওভান্নি বেলজোনি। 

🔵তিনবারের চেষ্টার পরে ১৮১৭ সালের অগাস্ট মাসে বেলজোনি মন্দিরের দরজাটা খুঁজে পেলেন। ভেতরে ঢুকে, বেলজোনি বুঝতে পেরেছিলেন এমন কোনো মন্দির এর আগে কেউ কখনো খুঁজে পায়নি।

🔵গোটা মন্দিরটার শরীর থেকে বালি সরাতে লাগে আরও এক বছর। মন্দিরের ভেতরে যা ঐশ্বর্য বা যা কিছু ছিল সেগুলো ওনারাই ভাগ করে নিয়ে নিয়েছিলেন।

🔵এই জোহান বুর্কার্ডই পেট্রা শহরও আবিষ্কার করেছিলেন। ইনি এক অদ্ভুত মানুষ ছিলেন। ইনি চার বছর ধরে সিরিয়াতে থেকে আরবীতে পড়তে-লিখতে শেখেন, তারপরে শেখ ইব্রাহিম আবদুল্লাহ ছদ্মনাম নিয়ে ঘুরে বেড়ান জর্ডান, ইজিপ্টো। ইনি আবার প্রথম ইউরোপিয়ান যিনি মক্কা মদিনাতেও পা রাখেন। কিন্তু মাত্র বত্রিশ বছর বয়সে ডিসেন্ট্রিতে মারা যান এই সুইস-জার্মান প্রত্নতত্ত্ববিদ। 

 মন্দির থেকে বেরিয়েই একটা বড় রেস্টুরেন্ট-ক্যাফে-সুভিনিয়ার শপ এবং শৌচালয় রয়েছে। গরম তখন বেশ ভালো রকম, মাথার উপরে রোদ। খানিকক্ষণ সেখানে বসে রেস্ট নিয়ে আমরা এগিয়ে গেলাম পার্কিংয়ের দিকে। যাবার সময় দুদিকে প্রচুর ছোট ছোট দোকান রয়েছে এবং দর করলে ভালো জিনিস, শহরের থেকে কম দামে পাওয়া যায়।

গাড়িতে উঠে পড়লাম, চললাম আসোয়ানে আমাদের cruise এর দিকে। আবু সিম্বল থেকে টুরিস্ট গ্রুপ পৌঁছালে, তারপর ক্রুজ ছাড়বে। দুটোর মধ্যে আমরা পৌঁছে গেলাম ক্রুজে, সঙ্গে সঙ্গে চলে গেলাম লাঞ্চ করতে... লাঞ্চ সেরে ডেকে উঠতে না উঠতেই... নীল নদের মধ্যে দিয়ে ক্রুজ ছেড়ে দিল।

...(সমাপ্ত)...

Saturday, October 21, 2023

অশউইৎজ(Auschwitz )

অশউইৎজ

ডাঃ রণধী দাশ 

অশউইৎজ হচ্ছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নাৎসি জার্মানি কর্তৃক বানানো একটি Concentration-Extermination শিবির। 

পোল্যান্ডে অবস্থিত এই শিবিরটি ছিল নাৎসীদের তৈরি সবচেয়ে বড় Extermination শিবির। দশ লাখেরও বেশি মানুষ সেই সময় নিহত হয়েছিলেন, যাদের বড় অংশই ছিলেন ইহুদি সম্প্রদায়ের।

অশউইৎজে মোট ৪০টিরও বেশি ছোট-বড় ক্যাম্পে ছিল। এর মধ্যে প্রধান ছিল অশউইৎজ ১, অশউইৎজ ২ - বিরকিনাউ এবং অশউইৎজ ৩ নামে তিনটি ক্যাম্প।

অশউইৎজের প্রত্যেক বন্দীর নিজস্ব একটা ক্রমিক নম্বর ছিল। নম্বরগুলো সোভিয়েত সামরিক বন্দীদের ক্ষেত্রে বাঁ পাশের বুকের ওপর আর বেসামরিক বন্দীদের ক্ষেত্রে বাঁ বাহুর ওপর ঝুলানো থাকতো।

তাদের মধ্যে আবার বেশ কয়েকটা ক্যাটাগরি ছিল। ক্রমিক নম্বরের নিচে একটি ত্রিকোণ কাপড় দিয়ে তাদেরকে আলাদা করা হতো। 

রাজনৈতিক বন্দীদের (যাদের বেশিরভাগই ছিল পোলিশ) জন্য ছিল লাল কাপড়, অপরাধীদের জন্য ছিল সবুজ, আর কথিত অসামাজিকদের (যেমন ভবঘুরে, পতিতা) জন্য ছিল কালো কাপড়। জেহোভার সাক্ষীদের দেওয়া হতো বেগুনি, আর সমকামীদের জন্য গোলাপি কাপড়।

নাৎসি শাসন কালে ৫ থেকে ১৫ হাজার সমকামীকে আটক করা হয়েছিল বলে জানা যায়, যাদের মধ্যে অজানা একটা অংশকে অশউইৎজেও পাঠানো হয়েছিল। ইহুদিদের 'Star Of Devid' এর আকৃতির একটা হলুদ ব্যাজ পরতে হতো। নিজ দেশের নামের প্রথম অক্ষর পরনের কাপড়ের ওপর সেলাই করা থাকতো। বন্দীদের মধ্যে সবার ওপরে ছিল অ-ইহুদি জার্মানরা, তারপর অ-জার্মান অ-ইহুদি, আর সবচেয়ে নিচে অবস্থান করতো ইহুদিরা।

এই কুখ্যাত ক্যাম্প পরিদর্শন করার সময় গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে। 











নাৎসি জার্মানি হলোকাস্টের সময় গণহত্যার জন্য বিভিন্ন ধরণের গ্যাস চেম্বার ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছিল। 1939 সালের শুরুতে, গ্যাস চেম্বারগুলি Aktion T4 এর অংশ হিসাবে ব্যবহার করা হয়েছিল, একটি "অনিচ্ছাকৃত ইউথানেশিয়া" প্রোগ্রাম যার অধীনে নাৎসিরা শারীরিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের হত্যা করেছিল, যাদের নাৎসিরা "জীবনের অযোগ্য" বলে মনে করেছিল। 

পোল্যান্ডের দখলকৃত পোসেনে 1939 সালের অক্টোবরে রোগীদের গ্যাস করার পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। একটি ইম্প্রোভাইজড গ্যাস চেম্বারে কার্বন মনোক্সাইডের বিষক্রিয়ায় শত শত বন্দীকে হত্যা করা হয়েছিল। 1940 সালে জার্মানির ছয়টি হত্যা কেন্দ্রে বোতলজাত বিশুদ্ধ কার্বন মনোক্সাইড ব্যবহার করে গ্যাস চেম্বার স্থাপন করা হয়। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের ছাড়াও, এই কেন্দ্রগুলি জার্মানি, অস্ট্রিয়া এবং পোল্যান্ডের বন্দী শিবির থেকে স্থানান্তরিত বন্দীদের হত্যা করার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। 

1941 সালে ইউথানেশিয়া প্রোগ্রাম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হওয়ার পরেও কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের বন্দীদের হত্যা করা অব্যাহত ছিল।

1941 থেকে শুরু করে, পোল্যান্ডের নির্মূল শিবিরে গ্যাস চেম্বারগুলি ইহুদি, রোমা এবং হলোকাস্টের অন্যান্য শিকারদের গণহত্যার জন্য ব্যবহার করা হয়েছিল। 

চেলোমনো Extermination ক্যাম্পে গ্যাস ভ্যান ব্যবহার করা হয়েছিল। Bełżec, Sobibór, এবং Treblinka অপারেশন রেইনহার্ড Extermination ক্যাম্পে ডিজেল ইঞ্জিন থেকে নিষ্কাশন ধোঁয়া ব্যবহার করা হয়েছিল। 

আরও দক্ষ হত্যা পদ্ধতির সন্ধানে, নাৎসিরা আউশউইৎস কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে হাইড্রোজেন সায়ানাইড-ভিত্তিক ফিউমিগ্যান্ট জাইক্লন বি ব্যবহার করে পরীক্ষা করে। 

আউশউইৎস এবং মাজদানেক ক্যাম্পে গণহত্যার জন্য এই পদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছিল। Auschwitz এ প্রতিদিন 6,000 ভুক্তভোগীকে Zyklon B দিয়ে গ্যাস দেওয়া হয়েছিল। 

আউশভিৎজে এই ধ্বংসপ্রাপ্ত গ্যাস চেম্বার যুদ্ধের পরে একটি স্মৃতিস্তম্ভ আর জাদুঘর হিসাবে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল।

এখানে বিভিন্ন রকমের সাইট ট্যুর হয়.. 

General tour (2.5 hours)

General tour (3.5 hours)

One-day study tour (6 hours)

Opening hours :-

জাদুঘরটি 1 জানুয়ারী, 25 ডিসেম্বর এবং ইস্টারের প্রথম দিন ছাড়া, বছরের সমস্ত দিন পরিদর্শন করা যেতে পারে। 

নিম্নলিখিত সময়গুলিতে ট্যুর শুরু করা সম্ভব :

7:30 - 14:00 December

7:30 - 15:00 January, November

7:30 - 16:00 February

7:30 - 17:00 March, October

7:30 - 18:00 April, May, September

7:30 - 19:00 June, July, August

সকাল সকাল ট্যুর করে নেওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ।

...(সমাপ্ত)...

Saturday, April 15, 2023

The Crown Jewels 'Mountain of Light'

The Crown Jewels 'Mountain of Light'

ডাঃ রণধী দাশ

কোহিনূর হীরা সর্বাধিক জনপ্রিয় ও বহুল আলোচিত যেমন তেমন আবার বিশ্বের সবচেয়ে বিতর্কিত হীরাগুলোর মধ্যে একটি এই কোহিনূর। কয়েকশো বছরের একটি লম্বা ইতিহাস জড়িয়ে রয়েছে এই হীরার নামের সাথে।। কোহিনূর মানব ইতিহাসের অন্যতম বিখ্যাত হীরা হয়ে আছে। এর বিশাল আকার এবং আকার এটিকে সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত মূল্যবান পাথর হিসাবে তৈরি করে। 

বিখ্যাত কোহিনুর হীরা দ্বাদশ শতাব্দীতে ভারতের অন্ধপ্রদেশের গুন্টার জেলার হিন্দু অধ্যুষিত সন্তোষনগর অঞ্চলে কোল্লুর খনিতে খনন করে পাওয়া গেছিলো। একই সঙ্গে কোহিনূরের যমজ দরিয়ান-ই-নুর ও উত্তোলন করা হয়। লোক বিশ্বাস, অর্জুনের বাহুতে এই হীরাটি একসময় শোভা পেত।

কোহিনূর হীরাটি দিয়ে কাকাতীয় রাজবংশের রাজমন্দির, ওয়ারাঙ্গলের ভদ্রকালী মন্দিরে কুলদেবী দেবী ভদ্রকালীর মূর্তিটির বাম চক্ষুদান করা হয়। Koh-i-Noor, (যার persi ভাষায় মানে 'Mountain of Light'), একটি অন্যতম বিখ্যাত এবং অন্যতম শ্রেষ্ঠ, অভিশপ্ত হীরা.. যার এখনকার ওজন 105.6 carats (21.12 g) এবং যার আসল ওজন ছিলো 187 carats এর বেশী। এটি এখন Crown of Queen Elizabeth, The Queen Mother এ লাগানো আছে ,যেটা Tower Of London এ The Crown Jewels vault এ জনসাধারণের দেখার জন্য রাখা আছে আর এর রেপ্লিকা রাখা আছে Natural History Museum এ।পরবর্তীকালে আলাউদ্দিন খলজী এই হীরাটা ওয়ারাঙ্গলের ভদ্রকালী মন্দির থেকে অধিগ্রহণ করেন, যখন তিনি 14 শতকের শুরুতে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলি আক্রমণ করেছিলেন এবং কাকাতীয়দের কাছ থেকে এটি লুট করেছিলেন।

এটি পরবর্তীতে সালতানাতের উত্তরাধিকারী রাজবংশের কাছে চলে যায় এবং বাবর 1526 সালে পানিপথের যুদ্ধে দিল্লি এবং আগ্রা জয়ের সময় এই হীরাটি পেয়েছিলেন।

বাবরের থেকে এটি শাহজাহানের হাতে আসে, তখন শাহজাহানের ময়ূর সিংহাসন আলো করে থাকতো এই কোহীনুর। শাহজাহানের পর তার ছেলে আওরঙ্গজেবের হাতে এবং সেখান থেকে Nadir Shah র কাছে।তার মৃত্যুর পর কোহিনূর হাতে আসে তার নাতি Ahmed Shah Durrani র হাতে। সেখান থেকে তার নাতি Shuja Shah Durrani।এরপর যুদ্ধের কারণে শাহ সুজা লাহোরে পালিয়ে এসে রঞ্জিত সিংয়ের আশ্রয়ে থাকতে আরম্ভ করেন এবং রঞ্জিত সিং কে কোহিনুর উপহার দেন।মৃত্যুর আগে রঞ্জিত সিং এর শেষ ইচ্ছা ছিল যে কোহিনুর কে পুরী জগন্নাথ মন্দির রাখার জন্য, কিন্তু আভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য সেই কোহিনুর হস্তগত করেন জম্মু রাজ Gulab Singh।এরপর Nihal Singh, Sher Singh.. তারপর পাঁচ বছর বয়সী রাজা Duleep Singh এর অধীনে আসে এই কোহিনুর।

1854 সালে, যখন ভারত ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের অধীনে ছিল, তখন তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসি একটি 15 বছরের শিশুকে পাঞ্জাব থেকে ইংল্যান্ডে নির্বাসনের জন্য পাঠান। 

লর্ড ডালহৌসি বিশ্বাস করতেন যে শিশুটি ব্রিটিশদের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে , তাই তাকে মায়ের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ তিনি তাকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারেন। ইংল্যান্ডে, এই শিশুটি পরে খ্রিস্টান ধর্মে রূপান্তরিত হয়েছিল এবং রানী ভিক্টোরিয়ার পুত্র এডওয়ার্ড উইলিয়াম দ্বিতীয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠে। 

এই শিশুটি সাধারণ ছেলে ছিল না, তিনি ছিলেন প্রিন্স দুলীপ সিং, ভারতের শিখ সাম্রাজ্যের শেষ শাসক মহারাজা রঞ্জিত সিংয়ের পুত্র। মজার বিষয় হল, তাকে ইংল্যান্ডে পাঠানোর চার বছর আগে, 1849 সালে যখন ব্রিটিশরা অ্যাংলো-শিখ যুদ্ধে শিখদের পরাজিত করেছিল,  এই ছিল কোহিনূর হীরা।অবশেষে 29th মার্চ 1849 এ দ্বিতীয় Anglo-Sikh যুদ্ধ শেষে Last Treaty Of Lahore স্বাক্ষরিত হয় এবং শেষ মহারাজা দুলীপ সিং এর যাবতীয় ধন সম্পত্তি এবং কোহিনুর রানী ভিক্টোরিয়াকে দান করা হয়। শোনা যায়, লর্ড ডালহৌসিই 11 বছর বয়সী দুলীপ সিং কে রানী ভিক্টোরিয়ার কাছে একটি হীরা সমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সমর্পণনামায় লেখা ছিলো:

" The gem called the Koh-i-Noor, which was taken from Shah Sooja-ool-moolk by Maharajah Ranjeet Singh, shall be surrendered by the Maharajah of Lahore to the Queen of England. "

সে বছর এটি লন্ডনে একটি জাহাজে 6700 কিলোমিটার ভ্রমণ করেছিল। যাইহোক, এটি কখন বা কোথায় পাওয়া গেছে বা এটি ঠিক কার কার কাছে কিভাবে, একে অপরের কাছে হস্তান্তরিত হয়েছে.. সেগুলো সঠিকভাবে যাচাই করা অসম্ভব।

কোহিনূর হীরার সাথে অনেক কিংবদন্তি জড়িয়ে আছে, এটি যার কাছে থাকে তার জন্য এটি দুর্ভাগ্য বয়ে আনে বলে মনে করা হয়। এটি কোহিনূরের অভিশাপ। এটির মালিক প্রত্যেক ব্যক্তিকে রক্তপাত, সহিংসতা এবং বিশ্বাসঘাতকতায় পূর্ণ জীবনশূন্যতা অনুভব করতে হয়েছিল। 

লোককাহিনী অনুসারে, "যে এই হীরার মালিক হবেন সে যেমন বিশ্বের মালিক হবেন, তেমনই এর সমস্ত দুর্ভাগ্যও তাকে সর্বদা ঘিরে থাকবে। শুধুমাত্র ঈশ্বর বা মহিলারাই দায়মুক্তির সাথে এটি পরিধান করতে পারেন।"ইতিহাস জুড়ে, রত্নটি বিভিন্ন হিন্দু, মঙ্গোলিয়ান, পারস্য, আফগান এবং শিখ শাসকদের মধ্যে হস্তান্তরিত হয়েছে, যারা এটির মালিকানার জন্য তিক্ত এবং রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল। হীরার অধিকারী প্রত্যেক রাজা শেষ পর্যন্ত তার জীবন  নয়তো তার ক্ষমতা হারিয়েছিলো। 500 বছরেরও বেশি সময় ধরে পাথরটি ভয়ানক যুদ্ধ এবং দুষ্ট অভ্যুত্থানে হাত পরিবর্তন করে এসেছে।গোলকুন্ডা রাজ্য (বর্তমানে তেলেঙ্গানা রাজ্য), খিলজি সাম্রাজ্য, তুঘলক সাম্রাজ্য, লোধি সাম্রাজ্য, মুঘল সাম্রাজ্য, মারাঠা সাম্রাজ্য, পারস্য রাজ্য, দুররানি সাম্রাজ্য, আফগান খানাতে, শিখ সাম্রাজ্য কোহ-ই-নূর হীরার মালিক হওয়ার সময় সবাই একে অপরের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। 

এতটাই ভয়ানক অভিশপ্ত ছিলো, এটির জন্য ভাই ভাইকে, পিতা পুত্রকে, আবার পুত্র পিতাকে বহু ক্ষেত্রে যুদ্ধ - মৃত্যু ডেকে এনেছে। এই হীরার মালিক শাসকদের ইতিহাস এবং জীবন সহিংসতা, খুন, অঙ্গচ্ছেদ, নির্যাতন এবং বিশ্বাসঘাতকতায় ভরা।

ঐতিহাসিক নথিগুলি নির্দেশ করে যে হীরাটি 1849 সালে ব্রিটিশরা অধিগ্রহণ করেছিল এবং 1850 সালে রানী ভিক্টোরিয়াকে দেওয়া হয়েছিল। এর কিংবদন্তিটি শোনার জন্য, হীরাটি শুধুমাত্র মহিলারা পরতেন, যার মধ্যে ছিলেন ডেনমার্কের রানী আলেকজান্দ্রা, টেকের রানী মেরি এবং প্রয়াত রানী এলিজাবেথ। 1936 সালে, পাথরটি রাজা ষষ্ঠ জর্জ, রাণী এলিজাবেথের মুকুটে স্থাপন করা হয়েছিল। ব্রিটিশ রাজপরিবার স্পষ্টতই কোহ-ই-নুরের অভিশাপ সম্পর্কে সচেতন ছিল এবং রানী ভিক্টোরিয়ার শাসন কাল থেকে কোহিনূর হীরা সর্বদা ব্রিটিশ সিংহাসনে পুরুষ উত্তরাধিকারীর স্ত্রীর কাছে চলে গেছে।

বর্তমানে, এটি লন্ডন জুয়েল হাউসের টাওয়ারে রাখা ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের মুকুটের মধ্যে একটি রত্ন হিসাবে রাখা আছে ।দেখা যায় যে 1953 সাল থেকে London এ পরা দুটি মুকুটের একটিতেও রানী কোহ-ই-নূর পরেন না (সেন্ট এডওয়ার্ডের মুকুট যার সাথে তাকে তার রাজ্যাভিষেকের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে মুকুট পরানো হয়েছিল, বা ইম্পেরিয়াল স্টেট মুকুট, রাজ্যাভিষেকের পরে পরিধান করা হয় হয়।) পাথরটি রানী ভিক্টোরিয়া ব্রোচ এবং নেকলেসের অংশ হিসাবে পরিধান করতেন। তার মৃত্যুর পর, এটি রানী আলেকজান্দ্রার (এডওয়ার্ড সপ্তম এর স্ত্রী) মুকুটে ব্যবহার করা হয়েছিল। এরপর এটি পরবর্তী দুই রানীর প্রত্যেকের মুকুটে ছিলো.. কুইন মেরি, (জর্জ পঞ্চম-এর স্ত্রী) এবং তারপরে রানী এলিজাবেথ (জর্জ VI-এর স্ত্রী)। এটি রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ কখনও পরিধান করেননি। যেটা বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, সেটা হল ইম্পেরিয়াল স্টেট ক্রাউন.... এটাতে কোহিনুর নেই, আছে Cullinan II diamond সাথে St Edward’s Sapphire আর the Black Prince’s Ruby।

...(সমাপ্ত)...

Friday, January 13, 2023

Euro-Trip with Family : Switzerland(পরিবারের সাথে ইউরোপ ভ্রমণ : সুইজারল্যান্ড)


Euro-Trip with Family : Switzerland

ডাঃ রণধী দাশ 

𝒁𝒖̈𝒓𝒊𝒄𝒉 



আমাদের আজকের দিন শুরু হল খুব ভোরবেলায়, আজ আমরা যাবো প্যারিস থেকে Zürich, Switzerland। যদিও হোটেল থেকে স্টেশনের দূরত্ব হাঁটা পথে মাত্র 10 মিনিট তাও আমরা তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়লাম। আমাদের ট্রেন ছিল 7.22am এ Gare De Lyon থেকে। 



এটি একটি ইন্টারন্যাশনাল হাই স্পিড বুলেট ট্রেন.. TGV Lyria, টিকিটের দাম পরে 2nd ক্লাস €45-95 (পুরোটাই AC) , ক্রুজিং স্পিড ম্যাক্সিমাম 320 Km/hr। পুরোটাই ফ্রি Wi-Fi পাওয়া যায়। Paris থেকে Zurich HB (Hauptbahnhof) 488Km যেতে সময় নেয় 4hrs। এতে 1 piece hand baggage আর maximum 2 strolly, টোটাল 32 kg নেওয়া যায়। 

আমরা স্টেশনে পৌঁছে গেলাম.. সেখানে খানিকক্ষণ বসে একটু কফি খেতে খেতেই ট্রেনের অ্যানাউন্সমেন্ট হয়ে গেল। ১৫ মিনিট আগে আমরা গেটে টিকিট স্ক্যান করে প্লাটফর্মে পৌঁছে গেলাম। এবার ওই গন্ধমাদন লাগেজ তোলার ব্যাপার। 

এখানকার ট্রেনগুলোতে লাগেজটাগুলো কে বসার জায়গার বাইরে একতলাতে এবং দোতলাতে.. দুটো জায়গাতেই রাখা যায় । আমরা দোতলাতে বসবো বলে লাগেজ গুলো উপরে তুলে নির্দিষ্ট জায়গায় রাখলাম। বাকিরা সবাই রিজার্ভ সিটে বসে পড়ল। ট্রেন খুবই পরিষ্কার, মুখোমুখি আরামদায়ক সিট, মাঝখানে টেবিল এবং প্রত্যেকটা সিটে চার্জিং পয়েন্ট আছে। ট্রেনের মধ্যে প্যান্ট্রিও আছে (restaurant এর মতো সেখানে খাবার জায়গা আছে) ।

ট্রেন অত স্পিডে চললেও ভেতর থেকে কিছুই বোঝা যায় না। ট্রেন ছেড়ে দিল একেবারে ডট 7.22am এ।

খানিকক্ষণ এর মধ্যেই ট্রেন যখন সুইজারল্যান্ডের মধ্যে ঢুকে গেল আশেপাশের ল্যান্ডস্কেপ গুলো চেঞ্জ হতে থাকলো... আরো প্রাকৃতিক, আরো সবুজ এবং আরো সুন্দর। 





ট্রেনের মধ্যে গল্প করতে করতে সাড়ে এগারোটার মধ্যে আমরা পৌঁছে গেলাম জুরিখ HB। সুইজারল্যান্ডের সবকটা স্টেশনে ওয়াইফাই ফ্রি, যেকোন স্টেশনে একবার ফোন থেকে OTP র মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে রাখলে সব স্টেশনে অটোমেটিক কানেক্ট হয়ে যায়। জুরিখ, সুইজারল্যান্ডের বৃহত্তম শহর, Financial Capital of Switzerland.

ব্যাংকিং এবং অর্থের জন্য একটি বিশ্বব্যাপী কেন্দ্র, উত্তর সুইজারল্যান্ডের জুরিখ লেকের (Zürichsee) উত্তর প্রান্তে অবস্থিত। লিমাট নদীর দুপাশে কেন্দ্রীয় অল্টস্ট্যাড (ওল্ড টাউন) এর মনোরম গলিগুলি এর প্রাক-মধ্যযুগীয় ইতিহাসকে মনে করিয়ে দেয়।










Limmat ও Sihl নামে দুটি নদী শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে। দেশের 50টি বৃহত্তম কোম্পানির মধ্যে দশটির জুরিখে প্রধান কার্যালয় রয়েছে, তাদের মধ্যে ABB, UBS, Credit Suisse, Swiss Re and Zürich Financial Services আছে। বেশিরভাগ সুইস ব্যাংকের সদর দপ্তর জুরিখে এবং বৃহত্তর জুরিখ এলাকায় অসংখ্য বিদেশী ব্যাংক রয়েছে।


স্টেশন থেকে হোটেলের দূরত্ব গুগল ম্যাপে বলছিল ৬ মিনিট। এইসব জায়গায় গুগল ম্যাপ এত ভালোভাবে কাজ করে যে সেটা বলার কথা নয়... আমরা গুগল ম্যাপ দেখতে দেখতে হোটেলে পৌঁছে গেলাম। হোটেলে চেক ইন করে, ফ্রেশ হয়ে, আমরা নিচে আবার সবাই মিলে জড়ো হলাম।


এখানে ম্যান্ডেটরি টুরিস্ট ট্যাক্স CHF 2.5/ Head/Day, নেওয়া হয়, যেটা ডাইরেক্ট হোটেলে দিতে হয়।


এখন আমাদের যাবার কথা ছিল রাইন ফলস। আমরা হোটেল থেকে বেড়িয়ে, সামনের একটা দোকান থেকে কিছু খাবার টাবার তুলে স্টেশনে পৌঁছে গেলাম রাইন ফলস যাবার জন্যে ট্রেন ধরতে। রাইন ফলসের গল্প পরে বলবো। 

যাবার পথে ভালো ভালো স্পট দেখে বেশকিছু ছবি তোলা হল, তারপর স্টেশন.. ট্রেনে করে রাইনস ফলস। ওখানে ঘোরাঘুরি করে আসার পর আমরা বিকেল নাগাদ জুড়িখে ফিরে এলাম। 🇨🇭

সুইজারল্যান্ডের কমিউনিকেশন পৃথিবীর সবচেয়ে ভালো এবং ইজিলি এক্সসেবল, কিরকম সুবিধা সেটা এখানে না এলে বোঝার উপায় নেই। 😍

আমাদের Swiss Travel Pass ছিল যেটা সবকটা ট্রান্সপোর্ট এর জন্য ভ্যালিড - ট্রেন, ট্রাম, মেট্রো, ক্রুজ, এমনকি রোপ ওয়ে, Funiculaire, কিছু Cog wheel train। এছাড়া অনেক মিউজিয়ামে ফ্রি এন্ট্রি এবং মাউন্টেন এক্সকারসান কিছু ফ্রি আর কিছু ফিফটি পার্সেন্ট অফ। 😍

SBB CFF FFS Swiss Travel Pass , (6 days + Free 1 day) > 7days CHF 359, 16 yrs এর কম ফ্রি। Swiss Pass এ মাঝেমধ্যে অফার দেয়, কিছু কিছু ক্ষেত্রে দেখেছি ৫০% অফ অব্দি অফার থাকে। 

তাই আমাদের ট্রান্সপোর্টেশানের কোন ভাবনা ছিল না। আমরা যখন যাতে পারতাম উঠে পড়ে ঘুরে আসতাম। 😍

সেরকমই স্টেশন থেকে বেরিয়ে ট্রামে করে আমরা পৌঁছে গেলাম জুরিখের মেইন প্লাজা Bahnhofstrasse তে, এখানে প্রচুর সুবিখ্যাত ডিজাইনার দোকান এবং বিখ্যাত সুইস ব্যাংক রয়েছে।

সুইজারল্যান্ড অনন্যসুন্দর জায়গা হলেও বেশ এক্সপেন্সিভ। খাবার-দাবারের দাম, হোটেলের দাম সবই অন্যান্য ইউরোপিয়ান কান্ট্রি থেকে 15-20% বেশি। সব জায়গাতে সুইস ফ্রা ই চলে, কিন্তু একটু রিকোয়েস্ট করলে ওরা ইউরো,পাউন্ড অথবা ডলারও নেয়, এক্সচেঞ্জ রেট কিন্তু ভালো নয়।😏






এরপর হেঁটে হেঁটে 🪧St Peter Church, 🪧Paradeplaz, 🪧Munsterhoff Brunnen Fountain, 🪧Fraumunster Church, 🪧Mumsterbruke Bridge, 🪧Lindt Chocolate Mall, 🪧Zurich Lake এ ঘুরে বেড়ালাম।❤️❤️


অবশেষে ডিনার করে, ট্রামে চেপে হোটেলে ফিরে এলাম। প্রবল ঠান্ডা আর আমরা সেইরকম গরম জিনিসপত্র নিয়েও আসিনি। তার সঙ্গে আকাশ বেশ মেঘলা আর ভালই ঠান্ডা হাওয়া। হোটেলে ফিরে এসে হিটার চালিয়ে আমরা শুয়ে পড়লাম। ঘরগুলো বেশ ভালই.. কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুম এসে গেল।😴😴


এদেরও 7.30am এ সকাল হয়। আমি সাতটার সময় ঘুম থেকে উঠে, সকাল সকাল একটু শহর বেরোবো বলে বেরিয়ে গেলাম আর অবাক হয়ে দেখলাম, সব জায়গাতে লোকে লোকারণ্য, সবাই কাজে বেড়িয়ে পড়েছে। 🙄

বুঝতে পারলাম এদের দিন শুরু হয় অনেক আগে থেকে, সেই জন্যেই সন্ধ্যা ছটা - সাড়ে ছটার মধ্যে দোকানপাট সব বন্ধ হয়ে যায়, তারপর এরা বাড়ি ফিরে ফ্যামিলির সাথে টাইম কাটায় অথবা পাব এ বন্ধুদের সাথে এনজয় করে। বেশিরভাগ লোকেদেরই দেখি তিন চারটে করে বাচ্চা এবং দুটো করে পোষ্য।

এজন্যই এদের স্ট্রেস লেভেল এতটা কম এবং কোথাও তাড়াহুড়ো, ধাক্কাধাক্কি, হর্ন বাজানো, আগে যাওয়া, ওভারটেকিং এইসবের বালাই নেই। মানুষের সুবিধার জন্য যা যা করা উচিত সবই ওরা করে.. প্রত্যেকটা জায়গা, প্রত্যেকটা ট্রান্সপোর্ট ই হল হুইল চেয়ার এক্সেসিবল। সিনিয়র সিটিজেন, প্রেগন্যান্ট, বাচ্চা এবং হ্যান্ডিক্যাপড... এদের প্রায়োরিটি ওদের মন্ত্রীদেরও আগে।

ভুল করে সিগন্যাল হবার আগে জাস্ট পা টা রাস্তার উপর একবার বাড়িয়েছিলাম, অদ্ভুতভাবে দুদিকেরই গাড়িগুলো থেমে, হাসিমুখে হাত দিয়ে আমাদের ইশারা করলেন পার হয়ে যেতে, আমরা কতজন মিলে পার হলাম গাড়ি পরপর দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু কোন হর্ন বা কোন মুখের অভিব্যক্তি চেঞ্জ হলো না। লজ্জায় নেক্সট টাইম থেকে আমরা এই ভুল আর করিনি।😞 


এরা সবাই দেখি খুবই ধীর, স্থির এবং শান্ত। কেউ জোরে কথাও বলে না বা  আড্ডাও দেয় না। দেখা হলেই সবাই একটা মিষ্টি হাসি হেসে চলে যায়। বাস- ট্রামে ড্রাইভারদের লোকেরা গুড মর্নিং বলে ওঠে, আবার গুড ডে বলে নামে , এক অদ্ভুত কালচার। সব কাজের সম্মান আছে ওখানে। বেশিরভাগ গাড়ি ইলেকট্রিকের, তাই শব্দ চারপাশে খুবই কম। পুরো শহরটা চলে বিশ্বাসের উপরে। সব জায়গাতেই সেলফ সার্ভিস। 















ট্রামে করে দু একবার এই প্রান্ত থেকে ওই প্রান্তে গিয়ে ব্রেকফাস্ট এর জন্য আমি আবার হোটেলে ফিরে এলাম। 

ব্রেকফাস্ট করে ওপরে গিয়ে ব্যাগপত্র গুছিয়ে আমরা বেরিয়ে গেলাম স্টেশনের উদ্দেশ্যে। 

আজকে আমরা যাবো রাজধানী Bern হয়ে Interlaken। 

...(সমাপ্ত)...