1 / 7
2 / 7
3 / 7
4 / 7
5 / 7
6 / 7
7 / 7

Showing posts with label শঙ্খ চৌধুরী. Show all posts
Showing posts with label শঙ্খ চৌধুরী. Show all posts

Wednesday, October 21, 2020

বিষবৃক্ষ

 (ধারাবাহিক রহস্য কাহিনী )



ছবি : ইন্টারনেট

শঙ্খ চৌধুরী ও চিরঞ্জিত ঘোষ

আগে যা ঘটেছে : উত্তরবঙ্গের  চিলাপাতার জঙ্গলে পুলিশ একটি ক্ষতবিক্ষত লাশ পায়। ময়নাতদন্ত পর বেওয়ারিশ লাশটার সৎকার করে দেয় তারা। পরে খবর কাগজের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে যে কলকাতার  নামী হীরক ব্যাবসায়ী ‘সরকার এন্ড সন্স' পরিবারের  জৈষ্ঠ পুত্র শান্তনু সরকারের লাশ ওটি। কেসের তদন্ত ভার এসে পড়ে ইন্সপেক্টর রুদ্রর উপর। যেহেতু এটি হাই প্রোফাইল কেস তাই ইন্সপেক্টর রুদ্র পুলিশের বড় কর্তাদের আদেশ অসুসারে  দুজন শখের গোয়েন্দা হিমাংশু ও অর্ঘ্যর সাহায্য চায়। কথামতো তারা জঙ্গলের গভীরে ঘটনা স্থলে তদন্ত করতে যায়। সেখানে তারা ফরেস্ট অফিসারদের থেকে  জঙ্গলের কিছু পশুর অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর জানতে পারে। পশুগুলির দেহাবশেষগুলির ময়না তদন্তের কথা বলে তারা কলকাতা যাবে বলে মনস্থির করে।

          ফগহর্ন এর তীব্র আওয়াজ করে একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ এইসবে বালি ব্রীজের দিকে এগিয়ে গেলো। অর্ঘ অনেকক্ষন ধরে  সিগারেটের ধোঁয়ার রিং বানানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলো। কিন্তু আজ গঙ্গার যা হাওয়া! সে আর হিমাংশু এখন গঙ্গার ঘাটে বসে আছে। তারা হাসপাতালে সুপার সাহেবের হাতেপায়ে ধরে দিন দশেকের ছুটি বাগিয়েছে। কোলকাতায় এলে  তারা হিমাংশুর বালির বাড়িতে আস্তানা গাড়ে। গঙ্গার ধারে হিমাংশুদের পৈতৃক বাড়ি। তার বাবা এখানকার একজন নামকরা ডাক্তার। এখন অবশ্য বয়সের ভারে প্র্যাক্টিস ছেড়ে দিয়েছেন। অনেকদিন পর ছেলে বাড়ি ফিরেছে দেখে হিমাংশুর মায়ের সেকি আপ্যায়ন। আজ তারা দুপুরের ভুঁড়িভোজ সেরে গঙ্গার হওয়া খেতে বেরিয়ে পড়েছে। "এরপর কি করবে ভেবেছো?", অর্ঘর উদ্দেশে হিমাংশু জিজ্ঞেস করলো। "বিকেলে চা আর চিংড়ির চপ, আর রাতে মাটন। আহা গেলোবার জেঠিমার হাতের মাটন কষা এখনো আমার মুখে লেগে রোয়েছে" অর্ঘ্য বললো।"আরে ধুর, আমি কেসটার কোথা বলছি। ওর বিষয়ে কিছু এগোলে?" সিগারেটের শেষ অংশটা গঙ্গায় নিক্ষেপ করে হিমাংশু বললো।"ও তাই বলো!" আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতে অর্ঘ্য বলে চললো " রুদ্র ফোন করেছিল । ও জানালো যে আমাদের আসার খবর ও  পাকড়াশী কে দিয়ে দিয়েছে। কাল থেকে কাজে লেগে পড়তে হবে।" "সৌরভ পাকড়াশী? লালবাজার ক্রাইম ব্রাঞ্চ?" হিমাংশুর এই প্রশ্নের উত্তরে অর্ঘ্য শুধু "হু" বলে একটি রবীন্দ্রনাথের গানের কলি গুণগুন করতে লাগলো।

         পরদিন সকালে তারা পুলিশ জীপ করে সরকার বাড়ির উদ্দেশে রওনা হলো। সাথে ইন্সপেক্টর সৌরভ পাকড়াশী। আগের কটা জটিল কেসের সুবাদে ইন্সপেক্টর সৌরভ তাদের পূর্ব পরিচিত। সে কলকাতা ক্রাইম ব্রাঞ্চএর একজন ব্রিলিয়ান্ট অফিসার। পথে কিছু  সৌজন্যতামূলক কথার পর সে কেসের বিষয়ে কিছু তথ্য দিলো। যা জানা গেলো যে বিভিন্ন মহল থেকে পুলিশের ওপর খুব চাপ পড়ছে দ্রুত কেসটাকে কিনারা করার জন্য। কিন্তু এখনো খুব বেশি এগোতে পারেনি তারা। বাড়ির লোক আর মৃতক সান্তনুর বন্ধুবান্ধব ও ব্যবসার লোকজনদের জেরা করে খুব বেশি লাভ হয়নি। তবে ব্যবসায়িক ঈর্শাই যে এই অপমৃত্যুর কারণ তা পুলিশ প্রায় নিশ্চিত। এই কথা সেই কথা হতে হতে তারা পৌঁছে গেল সরকার ভিলা'। তোরণ যুক্ত প্রকান্ড ফাটক পেরিয়ে পুলিশ এর গাড়ি পৌঁছলো গাড়ি বারান্দার নীচে। বাড়ি তো নয়, এ যেন কলকাতার বুকে এক প্রাসাদ। বাড়িটা উঁচু প্রাচীর আর ফল ফুলের বড়ো বাগান দিয়ে ঘেরা। চতুর্দিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে অনেক গুলো  ছোট বড়ো ফোয়ারা আর শ্বেত পাথরের নারী মূর্তি।একটা সুইমিং পুলএর কিছুটা অংশ গাড়ি থেকেই দেখা যাচ্ছিল। যত্র তত্র লাগানো আছে অত্যাধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা আর  বাড়ির প্রাঙ্গনে বেশকতক সশস্ত্র প্রাইভেট সিকিউরিটি গার্ড। গাড়ি থামতেই বাড়ির থেকে তাদের দিকে এগিয়ে এলেন  এক ভদ্রলোক। তিনি ইন্সপেক্টর সৌরভএর সাথে করমর্দন সারলেন। সৌরভ হিমাংশু আর অর্ঘ্যর পরিচয় দিলো আর এখানে আসার অভিপ্রায় জানালো। আমরা ডাক্তার শুনে উনি খুব অবাক হলেন। সেটাই স্বাভাবিক। ইনি মিস্টার উমানাথ ঘোষাল, সরকারদের খাস ম্যানেজার। বয়স প্রায় ষাট। বয়েসের ছাপ পড়লেও চোখ দুটো যেন তার অফুরন্ত অভিজ্ঞতার কাহিনী বলছে। তিনি তাদের বেশ সহাস্য অবর্থনা করছেন বটে কিন্তু কীসের যেন এক চিন্তার বলিরেখা তার চেহারায় স্পষ্ট। বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে তো হিমাংশু আর অর্ঘ্যর চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল। যেখানে তাকায়ে সেখানেই প্রাচুর্য আর আভিজাত্যর ছাপ। দামি শ্বেত পাথরের ফরাস, ছাদে বিশাল ঝাড়বাতি, দামি সব আসবাবপত্র, আরো কত কি। এরা যে জাত ধনী তা ভালোই বোঝা যায়। ঘোষাল বাবু তাদের নিয়ে বৈঠকখানায় বসলেন। এই ঘরটা বেশ প্রসস্থ আর একই ভাবে সুসজ্জিত। ঘরের এক প্রান্তে মেঝে থেকে ছাদ পর্যন্ত বইয়ের থাকে সারি সারি বিভিন্ন ধরণের বই সাজানো। ' এই বইগুলো কে পড়ে? এ তো দেখছি বিভিন্ন বিষয়ের বই', হিমাংশু জিজ্ঞেস করলো। ' আগে এই বইয়ের বহর ছিলোনা এই ঘরে। এবাড়িতে বই পড়ার শখ বা সময় কারও নেই। এত বড় ব্যবসা সামলাতে গিয়েই সবাই আমরা হিমশিম খাই। তবে বই পড়ার শক বড় ম্যাডামের, মনে মিস্টার স্বপন সরকারের স্ত্রী। তিনিই এই বই এর সংগ্রহ তৈরি করেছেন। ওনার তো একটা আস্ত লাইব্রেরি আছে এই বাড়িতে, যেখানে এরচেও তিন-চার গুন বেশি বই আছে ' বলে চললেন ঘোষাল বাবু,'কিন্তু এখন একা হাতে ব্যবসার সব কাজ সামলে উনি আর নিজের প্রিয় লাইব্রেরীতে যাওয়ার সময় পাননা।' কথা হতে হতেই দুজন বেয়ারা চা আর জলখাবার দিয়ে গেল। 'সান্তুনু বাবুর মৃত্যুর বিষয়ে আপনার কি মত?',চায়ের পেয়ালা হাতে নিতেনিতে ঘোষাল বাবুকে প্রশ্ন করলো অর্ঘ্য। একটি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে ঘোষাল বাবু বললেন,' দেখুন আপনাদের থেকে কিছুই লুকোবনা। সন্তু মনে সান্তুনু কে ছোটবেলা থেকে কোলে পিঠে মানুষ করেছি, ব্যবসা শিখিয়েছি। নিজে সংসার করিনি তাই তাকে পুত্র স্নেহে দেখতাম। তার মা  মারা যাবার পর তার সব দায়িত্বই কর্তা মশাই আমাকে দিয়ে ব্যবসায় মন দিলেন।' 'তার মানে  ইন্দ্রানী দেবী স্বপন বাবুর দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রী?', ঘোষাল বাবুকে বাঁধা দিয়ে হিমাংশু জিজ্ঞেস করলো। 'হা তাই। ইন্দ্রানী ম্যাডামের সাথে স্যার এর পরিচয় হয় আমাদের গুজরাত এর মাইনিং ইনস্টিটিউটে। সেখানে ম্যাডাম বিদেশ থেকে গবেষণা শেষকরে এসে শিক্ষকতা করছিলেন। তাদের সন্তান রণধীর এখন দুন স্কুলের ছাত্র। এই ঝামেলা মধ্যে তাকে আর বাড়ি আনা হয়নি। শান্তনু  যেমন ভালো ছাত্র ছিল,তেমনি ছিল তার ভালো ব্যবহার। খুব তাড়াতাড়ি পারিবারিক ব্যবসাটাকে বুঝে ফেলেছিলো। কর্তার শরীরটাও ভালো যাচ্ছিলনা। তাই শান্তনু  একাই সব সামলাচ্ছিলো। তার পর কর্তার স্ট্রোক হলো। তখন থেকেই যেন কার নজর লাগলো এই পরিবারে।' এই বলে থামলেন ঘোষাল বাবু। অর্ঘ্য আর হিমাংশু একে অপরের দিকে আড় চোখে একবার তাকালো।


sankha.chowdhury799@gmail.com/
chiranjit.dr@gmail.com
কলকাতা 


Saturday, August 1, 2020

বিষবৃক্ষ



লেখকদের ব্যাক্তিগত কারণের জন্য বিষবৃক্ষ তৃতীয় সংখ্যা প্রকাশ করা গেলোনা ।আমরা আন্তরিক ভাবে দুঃখিত।
সম্পাদকমন্ডলী
'বইসই'

Friday, May 1, 2020

বিষবৃক্ষ

(ধারাবাহিক রহস্য কাহিনী )  


(দ্বিতীয় সংখ্যা )
                                                         
                                                                   .....শঙ্খ চৌধুরী ও চিরঞ্জিত ঘোষ 
             
                           ‘ করোনেশন ’  ব্রীজ পেরিয়ে আমরা চলেছি তরাই জঙ্গলের উদ্দেশে  । আমরা বলতে আমি হিমাংশু , অর্ঘ আর ইন্সপেক্টর রুদ্র । পুলিশের  এই জিপসী গাড়িটা রুদ্রই চালাচ্ছে । এই অঞ্চলের আঁকাবাঁকা পাহাড়ী পথঘাট  তার নখদর্পনে । এক দিকে পাহাড়ের গা ঘেঁসে রাস্তা আর অন্য দিকে গভীর খাদ যেখানে বয়ে চলেছে ভয়ংকর  তৃস্রোতা নদী যাকে তিস্তা নদী নামে আমরা সবাই জানি । রাস্তা সংকীর্ণ,  উল্টো দিক থেকে গাড়ি এলে খুব পটু হাতে রুদ্র পাস  কাটাচ্ছে। গিরিপথ পেরিয়ে আমরা পৌছালাম অরণ্যে ঘেরা পাহাড়ী উপত্যকায়  । গাড়ি যত এগিয়ে চলেছে ততই জঙ্গল যেন আর ঘনীভূত হয়ে চলেছে । শাল,  সেগুন আর শিমুলএর বিশাল গাছ তাদের বহু যুগের শাখা প্রশাখা মেলে ধরে যেন সূর্যকে ঢেকে দিয়েছে। তার ওপর জমে থাকা শীতের কুয়াশার হালকা প্রচ্ছাদন চারিদিকে  যেন এক মায়াময় আলো-আঁধারির  খেলা তৈরি করে রেখেছে।  অগুন্তি  লতানো আগাছা, ফার্ণ আর নিরন্তর পড়তে থাকা পাতা  যেন বন্য ভূমিপৃষ্ঠে কোনো ফাঁকা জমি অবশিষ্ট ছাড়েনি । জঙ্গলের এই নিরিবিলি ভঙ্গ করে একটানা আমাদের জিপসীটা এগিয়ে চলেছে । মাঝেমধেই চোখে পড়ছে ময়ূর, হর্ণবিল, টিয়াপাখির ঝাঁক  আর ম্যাকাও   বাঁদরের পাল ।

              আমি আর অর্ঘ গাড়ির জানলা দিয়ে অরণ্যের এই রুক্ষ অথচ রোমহর্ষক শোভা দেখছি  আর রুদ্রর সাথে টুকিটাকি কথা বলে চলেছি। রুদ্রর সেদিন চলে যাবার পর আমাদের কয়েকটা কাজ সেরে ফেলতে হয়েছে যেমন হাসপাতাল এর পেন্ডিং কেস গুলোকে সেরে ফেলা , আমাদের দিন কতকএর  ছুটির আর্জি অনুমোদন করানো, দুর্গম পাহাড়ী অঞ্চলে ঘোরাফেরার জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী গুছিয়ে নেওয়া ইত্যাদি। কিন্তু সবচেয়ে জরুরী কাজ ছিল কলকাতার ‘সরকার’  পরিবারের বিষয়ে কিছু তথ্য সংগ্রহ করা । এই বিষয়ে ইন্টারনেট আমাদের সহায় ছিল। সেখান থেকে জানা  গেলো যে ‘সরকার এণ্ড সন্স’  এই দেশের একটি নামজাদা হীরক ব্যবসায়ী সংস্থা । এরা প্রধানত  হীরে কাটিং আর প্রক্রিয়াকরণ করে বড়বড় অলংকার প্রস্তুতকারকদের রপ্তানি করে। এদের বেশ কিছু কারখানা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আছে । তাছাড়াও রয়েছে সংস্থার জনক শ্রী শ্যামা প্রসাদ সরকার এর নামে স্কুল আর কলেজ। আর আছে ভারতের ডায়মন্ড এর শহর গুজরাত এ অবস্থিত একটি নামকরা হীরে খনন , শোধন, আর প্রক্রিয়াকরণ বিষয়ক প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী  নেতা, মন্ত্রী, আমলা আর তারকারা এদের সুপরিচিত । তিনপুরুষের ব্যবসার বর্তমান কর্ণধার মিস্টার স্বপন সরকার । বছর দুয়েক আগে গুরুতর অসুস্থ হয়ে ষাঠ উর্দ্ধ  স্বপনবাবু পক্ষাঘাতগ্রস্ত হন ।পরিবারের বড় ছেলে শান্তনুর বিষয়ে খুব বেশি কিছু জানা গেল না। ওর ‘ সোশ্যাল মিডিয়া ’ অ্যাকাউন্ট   থেকে জানলাম যে লোকটির বয়স বছর পয়তাল্লিশ  ।  বোঝা গেলো  যে লোকটি বেশ বন্ধুবত্সল  আর ফূর্তিবাজ ।  আমরা ক্রমশই বুঝতে পারছিলাম যে কলকাতায় গিয়ে সরজমিনে তদন্ত না করলে আমরা যে তিমিরে আছি, সেই তিমিরেই থেকে যাব ।

                    আমরা আমাদের কোয়ার্টার থেকে আজ খুব ভোরে বেরিয়ে পড়েছিলাম । রাস্তায় একটা দোকানে গাড়ি দাঁড় করিয়ে আমরা চা আর ব্রেড-অমলেট সহযোগে প্রাতরাশ সারলাম। প্রথমে আমরা গেলাম লোকাল থানাতে যেখানে কেসটা রেজিস্টার করা । ওখানে আমি আর অর্ঘ পালা করে পুলিশ এর খাতায়  লেখা ‘পঞ্চনামা’ যাকে ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট বলে, সেটা খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়লাম । তার পর পুলিশের  তোলা লাশ এর ছবি গুলো ভাল ভাবে দেখলাম। রুদ্র বলেছিল বটে যে লাশের গায়ে জন্তুদের আঁচড় আর কামড়ের দাগ ছিল। কিন্তু ছবি দেখে বুঝলাম যে সেটা অনেকটাই।  এই যেমন  ঊরুর বেশ খানিকটা অংশ আর একটা চোখ নেই। আর পায়ের মাংস তো  এমন ভাবে খুবলেছে যে নিচের ফিমার আর টিবিয়া হাড় দেখা যাচ্ছে । এক হাতের  বাইসেপস্  প্রায় নেই বললেই চলে । পরনের পরিধান  সবই ছিন্নভিন্ন।  কিন্তু কোথাও রক্তক্ষরণ নেই .... তার মানে  এটা স্পষ্ট, যাও হয়েছে তা মৃত্যুর পরেই হয়েছে। আমি আমার মোবাইলে  ফটোগুলোর কটা….  ছবি তুলে নিলাম।  
রুদ্র এর পর আমাদের নিয়ে গেল ফরেস্ট রেঞ্জার এর অফিসে। অফিস বলতে সিমেন্ট এর পিলার  দিয়ে  মাটি থেকে কিছুটা উচ্চতায় তৈরি কাঠের মজবুত একটা বাড়ি।  রেঞ্জার সাহেব ছুটিতে । কিন্তু রুদ্র আগে থেকে আমাদের আসার খবর পাঠিয়ে রেখেছিল । তাই আমাদের জঙ্গলের ভেতর নিয়ে যাবার জন্য গাইড হিসেবে একজন ফরেস্ট এর কর্মী  আগে থেকেই ঠিক করা ছিল ।

               আমাদের গাইড চেতন তামাঙ্গ প্রায় ১২ বছর এই জঙ্গলের  দেখভাল এর দায়িত্বে আছে । ওর বাপ –ঠাকুরদারা অনেকদিন আগেই নেপাল থেকে ভারতে চলে এসেছিল । এখন সে রিশপ এর বাসিন্দা। বেটে খাটো কিন্তু পেটানো তাগড়াই চেহারা আর হাসিখুশি স্বভাব।  রুদ্র জানালো যে আগের একটা চোরা-শিকারীদের কেসে  তামাঙ্গ তাকে খুব সহয়তা করেছিল । জঙ্গলের আনাচ-কানাচ তার খুব ভালো ভাবে  জানা ।  জঙ্গলের কোন পশু-পাখির কি ডাক আর তার কি মানে, মাটিতে কোন পশুর পায়ের ছাপ কেমন, আর টুকিটাকি ভেষজ ওষুধের বিষয়ে জ্ঞান তাকে জঙ্গলে চলাফেরা করার উপযুক্ত সহচর বানিয়ে দিয়েছে । তার ওপর আছে প্রচন্ড সাহস আর বন্দুকের অসাধারন টিপ । তামাঙ্গ  দেখলাম ওর সাথে  একটা উইনচেস্টার রাইফেল নিয়ে এসেছে । তবে কি ও কোনো বিপদের আশঙ্কা করছে? আপাতত   আমাদের জিপসীর সারথী  সেই । গাড়ি এখন পিচ রাস্তা  ছেড়ে মোরাম ফেলা এবড়ো খেবড়ো রাস্তা  ধরেছে । আমাদের সামনে এখন শুধুই অরন্য ।
‘কেসটার বিষয়ে তোমাদের প্রাথমিক ধারণা কি?’. রুদ্র জিজ্ঞাসা  করল ।
 ‘আমার মতে মূল পান্ডা এক বা একাধিক হলেও তাদের অনুগামীরা অনেক’.. আমি বললাম  । 
‘না না হিমাংশু আমার মনে হয় তুমি ভুল করছো’ .. অর্ঘ বলে চলল .. ‘অনুগামী হয়ত অনেক হবে নইলে কারো একার  পক্ষে এতো  বড় একটা কার্য সিদ্ধি করা সম্ভব নয়।  কিন্তু মাথা একজনেরই । ভাবতো ..  এমন নিপুন ভাবে নরহত্যা করা যে পোস্টমর্টেম এর সময়ে একজন অভিজ্ঞ সিভিল সার্জনকে ও ধোঁকা  দিল আর ফরেনসিক ল্যাব টেস্টও  পার  করে গেল, এমন তীক্ষ্ণ বুদ্ধি কি সবার ঘটে ধরে ?’ রুদ্র সম্মতি সূচক একবার ঘাড় নেড়ে যে প্রশ্নটা করল সেটা আমাদেরও  প্রথম থেকেই মনে উঁকি মারছিল যে এতই যদি সুপরিকল্পিত খুন হয় তো বাবা লাশটাকে এমন ভাবে কেন ফেলল যে কদিনের মধেই তা কেউ না কেউ খুঁজে  পাবে?.. কারণ লাশ খুঁজে  না পাওয়া গেলে তো খুনীর মস্ত সুবিধে !উত্তরটা দিল রুদ্রর পাশে বসে থাকা তামাঙ্গ । ও এতক্ষণ গাড়ি চালাছিল  আর আমাদের আলোচনা মন দিয়ে শুনছিলো । হটাৎ ও বলল ‘ সাহেব জানেন কি সামসিং এর জঙ্গলের শেষে একটা খুব গভীর খাদ আছে । খাদটা আরও  ভয়ানক কারণ ওখানে জঙ্গল খুব গভীর আর একটি  নদিশাখা ওখানে তুমুল বেগে জলপ্রপাত হয়ে বয়ে চলেছে  । হিংস্র জন্তু জানোয়ার আর নর্থ- বেঙ্গল এর কুখ্যাত  কিং কোবরা জায়গাটাকে আরো দুর্ভেদ্য করে রেখেছে । একবার যদি কোনো লাশ ওখানে ফেলে দেয়া যায় তো কারো সাধ্যি নেই সেটা জানতে পারবে। যাবেটাই  বা কে ওখানে ?’ ‘কিন্তু তারা  সেটা করল নাই বা কেন?’.. রুদ্রর আবার প্রশ্ন । আমরা এটুকু বুঝছিলাম যে রুদ্র তার কেস টাকে বেশ আঁটোসাটো   করে গোছাতে চাইছে যাতে রুগ্ন ‘সারকামটেন্সিয়াল এভিডেন্স ’ বলে কোর্ট এ বাদী  পক্ষের উকিল তার খিল্লি না করে ।  ‘হয়েতো কোনো বড় বাঁধা  পড়েছিল’.. রুদ্র র প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অর্ঘ নিজেই নিজেকে যেন প্রশ্ন করল .. ‘কিন্তু বাঁধাটা কি ছিল যে এত প্রফেশনাল ক্রিমিনাল দেরও কাজ অসমাপ্ত রাখতে বাধ্য করল?’ ‘হাতি সাহেব হাতি’ তামাঙ্গ আবার গাড়ি চালাতে চালাতে বলতে লাগলো .. ‘পাগলা দাঁতাল হাতিদের দল যখন অন্ধকার রাতে এই গভীর জঙ্গলের  ভিতর থেকে তেড়ে আসে আর তাদের সে ভয়ানক চিৎকার .. সাহেব যেকোনো মানুষ যতই সাহসী হোক না কেনো তার প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলবে  । মরার ভয় তো সবারই আছে’ । 
                   
                       এখন আমরা জঙ্গলের অনেকটা ভেতরে চলে এসেছি। আর একটু এগোতেই বুঝলাম যে রাস্তাটা হটাৎ খাড়াই  হয়ে গেছে। এখানে গাড়ি চালানো খুব কষ্টকর। আর কিছুটা যাবার পর তামাঙ্গ বলল যে এর বেশি গাড়ি যাবেনা  । অগত্যা গাড়ি থেকে নেবে ট্রেকিং শুরু করতে হল। ভাগ্য ভাল যে আমরা হান্টার শুজ পরে রয়েছি । নইলে এরম রুক্ষ জায়গায়  হাঁটা  প্রায় অসম্ভব হতো । সবার সামনে তামাঙ্গ আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেছে। বেশ খানিকটা চড়াই ওঠার পর রুদ্র আমাদের কে একটা জায়গা দেখালো  যেখানে লাশটা ফেলা হয়েছিল । কিন্তু বহু খুঁজেও আমরা  ওখানে নতুন কোনো ক্লূ পেলাম না । তার ওপর  পুলিশ আগেই জায়গাটাকে এত আনকোরাদের মতো খানাতল্লাশি করেছে যে কিছু প্রমাণ থাকলেও তা আর অবশিষ্ট নেই। এর পর তামাঙ্গ আমাদের আরো প্রায় আধ কিলোমিটার মত এগিয়ে নিয়ে গেল । জায়গাটা এত গভীর যে পথ প্রায় চলাই যাচ্ছে না । যত এগোচ্ছি ততোই একটা ঝর্ণার আওয়াজ ক্রমশ তীব্র হয়ে উটছে । সব  শেষে আমরা পৌছোলাম একটি খাদের কিনারায় । গভীর অরণ্য আর পাহাড় থেকে গড়িয়ে পড়া বড়ো বড়ো পাথর সম্পূর্ণ ভাবে এই খাদের তলদেশকে  ঢেকে রেখেছে । একপাশ দিয়ে একটা ঝর্ণা নিচে পড়ছে আর খাদের অনন্ত গভীরতায়  কোথায়  যেন বিলীন হয়ে যাচ্ছে । পুরো দৃশ্যেটা খুব সুন্দর। হটাৎ আমার ভাবনায়  ছেদ পড়ল অর্ঘর  কথাতে ..‘ তামাঙ্গ এর অনুমান মনে হয় ঠিক বুঝলে । লাশ এখানেই ফেলার উদ্দেশ্য  ছিল বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস । ভাবতো  কত সুন্দর প্রমাণ লোপাটের জায়গা এটা’। বুঝলাম যে মরা পচা লাশেদের সাথে থাকতে থাকতে অর্ঘর সৌন্দর্য প্রীতির মতো সুক্ষ অনুভূতিগুলো লোপ পেয়েছে । আমরা আবার সাবধানে নিচে নেবে গাড়িতে বসলাম আর ফিরতি রাস্তা ধরলাম। কিন্তু কিছুটা এগোতেই তামাঙ্গ এর কোমোরে বাধা ওয়াকি-টকিটা আওয়াজ করে উঠল । ও পাস থেকে ফরেষ্টেরই কোনো লোক তামাঙ্গ কে একটি জরুরী খবর জানালো যে জঙ্গলে আমাদের  বর্তমার অবস্থান থেকে দু-তিন  কিলোমিটার দূরে  একটা মৃত লেপার্ড পাওয়া গেছে । সে যাতে একবার জায়গা টা রেকি করে আসে। অগত্যা তাকে গাড়ির অভিমুখ ঘোরাতে  হল । হটাৎ রুদ্র তামাঙ্গ কে জিজ্ঞেস করল ‘ এই নিয়ে কটা মরলো?’ আমি আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করলাম ‘কি ব্যাপার? জঙ্গলে পশুদের কি হটাৎ কোনো মহামারী হয়েছে যাতে আকস্মিক  অনেক মৃত্যু ঘটছে?’ তামাঙ্গ গাড়ি চালাতে চালাতে গম্ভীর ভাবে বলতে লাগলো ‘ সাহেব আমি এই জঙ্গল কে আমার প্রাণের চাইতেও  বেশি ভালোবাসি । যখনই জঙ্গলে কোনো জন্তুর অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়, সে পোচার এর   এর গুলিতে হোক বা জঙ্গলে আগুন লাগার ফলে, আমার মনটা ভেঙে যায় বাবু । এইতো  কদিন আগে অনথ্রাক্স এ কটা গন্ডার মরলো । আবার এই কিছু দিন হলো না জানি কি রোগ শুরু হয়েছে , প্রতিদিনই কিছু না কিছু মরছে । ফরেস্ট এর রেঞ্জার সাহেব আর ভেটেরিনারী ডাক্তার বাবুরা কিছুই বুঝতে পারছেন না । নমুনা সংগ্রহ করে কলকাতায় পাঠানো হয়েছে, কিন্তু এখনও কোনো সঠিক কিনারা করা যায়নি । কথা হতে হতে আমরা এমন একটা জায়গায়  এসে পৌছালাম যেখানে আগে থাকতেই দুটো ফরেস্ট ডিপার্টমেন্ট এর জীপ  দাঁড়িয়ে ছিলো । তামাঙ্গ কে দেখে দুজন লোক এগিয়ে এলো । আমরা সবাই গাড়ি থেকে নেমে জঙ্গলের আরো কিছুটা ভেতরে এগিয়ে গেলাম । একটা পচা দুর্গন্ধ ক্রমশ প্রবল হয়ে চলেছে ।  অকুস্থলে  পৌঁছে যা দেখলাম তাতে তামাঙ্গ কেন আমাদের সবারই মন টা ভারী হয়ে গেলো । একটা বেশ ঘন ঝোপের আড়ালে একটি মাদা লেপার্ড এর শব আর তার পাশেই একটা ফুট- খানেক গভীর গর্তে কয়েকটা নিষ্প্রাণ লেপার্ড শাবক পড়ে আছে । পাশে দাঁড়ানো  তামাঙ্গ বলে উঠল ‘ মা টা আগেই মরেছে আর  বাচ্চাগুলো মায়ের দুধ না পেয়ে  খিদেতে মরেছে’। আমরা এই সব কথা বলছি আর এই ফাঁকে কখন জানি অর্ঘ মরা লেপার্ডটার কাছে চলে গেছে আর হাঁটু গেড়ে তার ম্যাগনিফায়িং গ্লাস দিয়ে  কি যেনো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখছে ।  আমিও তার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম ।একটা অদ্ভুত জিনিস চোখে পড়লো । লেপার্ডটার সারা শরীরে বিভিন্ন জায়গায় যেন খুবলে খুবলে কেউ লোম তুলে নিয়েছে। পরে অর্ঘ হ্যান্ড লেন্স দিয়ে দেখালো যে জায়গাগুলোতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রক্তক্ষরণ এর দাগ যাকে আমরা বলি পিন পয়েন্ট ব্লিডিং। হটাৎ তামাঙ্গ এর দিকে অর্ঘ একটা প্রশ্ন ছুড়ে দিলো ‘ আগের লাশ গুলো কই ?’.... ‘সেতো পুঁতে  ফেলা হয়েছে .... এই তো  কাল দুটো  ওয়াইল্ড ক্যাট পুঁতলাম’। .. ‘ বিশেষ কিছু লক্ষ করেছিলে , এই যেমন তাদের লোম?’ কিছুক্ষণ ভেবে তামাঙ্গ বলল ‘ সাহেব এখনও পর্যন্ত যত গুলো কেস দেখেছি সবকটাতেই অদ্ভুত ভাবে লাসগুলোর লোম জায়গায় জায়গায় ঝরে পড়েছিল । ডাক্তার বাবু নিজের রিপোর্ট এ এটা লিখেছিলেন’ । বলতে বলতেই একটা জিপসী  গাড়ি  কিছুটা দূরে এসে থামল । তামাঙ্গ দৌড়ে গিয়ে একজন আমাদের বয়সী ভদ্রলোক কে সাথে নিয়ে এলো । পরিচয় হতে জানলাম যে ইনি এই ফরেস্ট রেঞ্জের সিনিয়র ভেটেরিনারিয়ান ডক্টর কুণাল দাস । বেশ মজাদার লোক , তার ওপর আমাদের সমবয়েশি । ওনার মোবাইলে  জন্তুদের লাশের কিছু ছবি আর ইনভেস্টিগেশন রিপোর্ট দেখলাম। সব শেষে অর্ঘ রুদ্র কে গতকালের শেই ওয়াইল্ড ক্যাট এর মৃতদেহ গুলো মাটি খুড়ে  বার করে স্টেট ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি এ পাঠাতে বলল । ।ওর নাকি ওখানে কোন সিনিয়র ফরেনসিক এক্সপার্ট চেনা আছে ।          
                                 
               আমরা আবার ফেরার পথ ধরলাম । গাড়িতে   আমরা সবাই  গম্ভীর আলোচনাতে মগ্ন এমন সময়ে  ফাঁকা রাস্তায় দ্রুত গতিতে চলমান আমাদের গাড়ি হটাৎ জোরে ব্রেক কষে দাঁড়িয়ে পড়ল আর  তার ঝাঁকুনিতে আমরা সবাই  সামনের  দিকে হড়কে  গেলাম । বিরক্ত মেশানো দৃষ্টিতে অর্ঘ আর  রুদ্র তামাঙ্গ এর দিকে তাকাল । কিন্তু তামাঙ্গ এর দৃষ্টি সামনের জঙ্গলের দিকে স্থির হয়ে রয়েছে।  আমি, অর্ঘ ও রুদ্র   তার দৃষ্টি অনুসরণ করে জঙ্গলের দিকে তাকালাম। কিন্তু কই কিছুই তো  নেই। অর্ঘ কিছু বলতে যাবে কি তামাঙ্গ  ইশারায়  তাকে চুপ করতে বলল। প্রথমে সব নিশ্চুপ, তার কিছুক্ষণের মধেই জঙ্গলের মাটিতে পরে থাকা শুকনো পাতার ফসফসানি আর শাল আর শিমুল গাছের  আড়ালে কি যেন কালো কালো ছায়ামূর্তি। ক্ষণিকের মধ্যে জঙ্গলের মাটি কাঁপিয়ে আমাদের গাড়ির থেকে কয়েক হাত দূর থেকে লাফিয়ে  বেরিয়ে এল বিশালকৃতি এক বাইসন । বাইসনটি  মাঝ রাস্তায়  এসে স্থির দাঁড়িয়ে রইল আর রাগত দৃষ্টিতে আমাদের গাড়ির  দিকে তাকিয়ে থাকলো যেন বলছে যে এটা আমার পরিধী  আর এখানে ‘ট্রেস্পাসেরস আর নট এলাউড’  ।  বাইসন যাকে ‘ইন্ডিয়ান গউর’ ও বলা হয় এখানকার জঙ্গল দাঁপিয়ে বেড়ায়  । এমনিতে এরা নির্বিবাদি কিন্তু খেপে গিয়ে যদি একবার তেড়ে  আসে তো  ৬০০ -৭০০ কেজির  এই দৈত্য  তার শিং  দিয়ে অনায়াসেই আমাদের জিপসী গাড়ি উল্টে দিতে পারে ।  আর খুব জোরে গাড়ি রিভার্স করলেও গতিতে আমরা এর সাথে পেরে উঠবনা । সবাই পাথরের মতো   গাড়িতে বসে রইলাম। এই শীতেও যেন আমার ঘাম দিচ্ছে । কতক্ষন এভাবে চললো  জানিনা । কিন্তু শেষমেষ শুধু ভয় দেখিয়েই বাইসন বাবাজি রাস্তা পার  করে , ও পারের জঙ্গলের গভীরে উধাও হয়ে গেলেন। ‘যাক বাঁচা গেলো’ ভেবে দম নিয়ে আমরা আবার এগোতে থাকলাম।“মরার ভয় তো সবারই আছে”.. তামাঙ্গ এর শেষের  কথা গুলো হটাৎ মনে পড়ে গেল ।   বুঝতে পারলাম যে অ্যাডভেঞ্চার তো  এই সবে শুরু .... সামনে আরো অনেক পথ বাকি ।...(ক্রমশ)

sankha.chowdhury799@gmail.com/
chiranjit.dr@gmail.com
কলকাতা 

Wednesday, January 1, 2020

বিষবৃক্ষ

(ধারাবাহিক রহস্য কাহিনী )                                                                   
            
                                                                  ...শঙ্খ চৌধুরী ও চিরঞ্জিত ঘোষ
         আজ অমাবস্যা । তারওপর জমে থাকা ঘন কুয়াশা যেন জঙ্গলের এই রাতটা কে আরো অন্ধকারময় করে তুলেছে । এই অনন্ত অন্ধকার কে ভেদ করে একটা জিপ গাড়ি জঙ্গলের  এবড়ো খেবড়ো বনপ্রান্তর দিয়ে এগিয়ে চলেছে । জঙ্গলের এক জায়গায় এসে গাড়িটা থামল, কারণ এর বেশি গাড়ি আর যাবে না । গাড়ি থেকে চার জন লোক নীরবে নেমে এলো আর গাড়ির পেছন থেকে হেঁচড়ে একটা ভারী কিছু বার করলো । এক  জন কে গাড়ির কাছে রেখে বাকি তিন  জন সেই ভারী বস্তুটিকে নিয়ে জঙ্গলের আরো গভীরে এগিয়ে চললো । গন্তব্য তাদের জানা, জঙ্গলের শেষে একটা গভীর খাদ আর তাতেই ওই বস্তুটিকে নিক্ষেপ করতে পারলে কার্য সিদ্ধি এবং মোটা পারিশ্রমিক । বাকি কাজটা করে দেবে জঙ্গলের হিংস্র জানোয়ারেরা । মানুষ এর মাংস যে তাদের বিশেষ উপাদেয় । লোকগুলোর মুখে কোন কথা নেই যেন অনেকটা যন্ত্রের মত এগিয়ে চলেছে তারা । কিন্তু হঠাৎ অন্ধকারের নিস্তব্ধতাকে চুরমার করে বজ্রের  মত যা গর্জে উঠলো তা হলো এক পাল বুনো হাতির হিংস্র চিৎকার । জায়গাটা যে ‘elephant corridor’ । এ আওয়াজ এমন ভয়ঙ্কর যে, যেকোনো কঠোর অপরাধীর শিরদাঁড়াতেও হিমস্রোত  প্রবাহিত করতে পারে । চিৎকার গুলো এত কাছ থেকে এলো যে লোকগুলো প্রথমে কিংকর্তব্ববিমুরের মতো একে অপরের দিকে চেয়ে রইলো আর তার পরক্ষনেই হাতের ভারী বস্তুটিকে ওখানেই ফেলে গাড়ির দিকে ছুটলো ।  তরাই জঙ্গলের এই বন্য হাতির পালকে যেখানে বড় থেকে বড় আর  হিংস্র থেকে হিংস্র জানোয়ারেরাও সমঝে চলে সেখানে মানুষ তো কোন ছাড় । গাড়ির আওয়াজটা সময়ের সাথে সাথে ক্ষীণ হতে থাকলো আর পেছনে পড়ে রইলো শুধু নিস্তব্ধতা, অন্ধকার আর একটা নাম না জানা  মানুষের মরদেহ ।
          “কাঁচা রক্তের সাথে বেটাডিন মেশানো গন্ধটা বার বার ডাক্তারি করার ইচ্ছেটা বাড়িয়ে দেয়” - এ কথা বলে হিমাংশু একটা সিগারেট ধরালো আর ভালো করে সুখটান দিয়ে সিগারেট টা কাউন্টারের জন্য অর্ঘর দিকে এগিয়ে  দিল। অর্ঘও  একটা সুখটান দিয়ে বললো “ যা বলেছ ভায়া, কিন্তু সবাইকে কি বাঁচানো সম্ভব ?”, বলতে বলতে অর্ঘর  মোবাইলটা  বেজে উঠলো । হিমাংশু উঠে একটা কফি নিতে গেল।...অর্ঘ একটু চাপা স্বরে হিমাংশুকে বললো, “আজ রাতে  আমার কোয়ার্টারে একটু বসতে হবে” ।
শুনেই হিমাংশু আনন্দে বলে উঠলো “নতুন কেস নাকি?” 
অর্ঘ  অল্পতে উত্তর দিল, “ইন্সপেক্টর রুদ্র আসছে”...
 এইটুকু বলে কফিতে চুমুক দিতে লাগলো ।
            অর্ঘ  মানে ডা:অর্ঘ চৌধুরী আর হিমাংশু মানে ডা:হিমাংশু ঘোষ কর্মসুত্রে কয়েক বছর হল উত্তরবঙ্গের এই ডিস্ট্রিক্ট হসপিটালে কর্মরত।ডা:হিমাংশু পেশায় শল্য চিকিৎসক আর ডা:অর্ঘ পেশায় ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ যে এই হাসপাতালের  ফরেনসিক বিভাগ ও পুলিস মর্গের দায়িত্বে আছে।এই অল্প বয়েসেই অর্ঘ ফরেনসিক মেডিসিনের অনেক  দেশি ও বিদেশী নামী জার্নালে তার বেশ কয়েকটা পেপার পাবলিশ করে সাড়া ফেলেছে । হিমাংশুর  বাড়ি হাওড়ার বালি শহরে । ডাক্তারি ছাড়াও তার খেলাধুলা আর  সাহিত্য চর্চায় বিশেষ ঝোঁক । আর অর্ঘর বাড়ি মেদিনীপুর । তার আবার শরীর চর্চায় বিশেষ ন্যাক ।  কিন্তু দুজনেরই যাকে বলে  ভয়ংকর অ্যাডভেঞ্চার প্রীতি ও ট্রেকিং এর শখ  এবং  এই অ্যাডভেঞ্চারের নেশা থেকেই  শখের সত্যান্বেষণ। তাই যদিও পেশায় এরা ডাক্তার কিন্তু এরা দুজনেই  শখের ডিটেকটিভ । আর ভাগ্যটাও  এমন যে বিগত তিন বছরে এই দুই অ্যামেচার ডিটেকটিভ নিজেদের বুদ্ধির বলে বেশ কতক জটিল খুন এবং রাহাজানি কেসের সুরাহা করে পুলিশকেও তাক লাগিয়ে দিয়েছে।
            জায়গাটা  এমনিতেই  জঙ্গল এলাকা, তার ওপর শীতের সন্ধ্যে, অনবরত  ঝিঝির ডাক আর মাঝে মাঝে শিয়ালের হুক্কা হুয়া পরিবেশটাকে  আরো বেশি ভয়ঙ্কর করে তুলেছে । হিমাংশু আর অর্ঘর  কোয়ার্টারের দুরত্ব বেশি নয়, তাও  আধ মাইল মতো । কোয়ার্টার বলতে একতলা বাড়ি, জঙ্গলের সান্নিধ্যে । কোয়ার্টারের পিছন দিক দিয়ে বয়ে চলেছে হলং নদীর কোনো এক উপশাখা । অর্ঘর সঙ্গে  থাকে  একজন কেয়ার টেকার কাম বাবুর্চি কাম চাকর শম্ভু । অর্ঘকে  অনেক  বার বলা হয়েছে সে যেন হাসপাতালের মেইন কাম্পাস কোয়ার্টারে এসে থাকে কিন্তু ওই ওর এক গোঁ, “একা আলাদা থাকবো”, তাতে ওর পড়াশোনা ও চিন্তা করতে সুবিধা ।  আসলে সবাই আড়ালে বলে - মরা পচার সাথে সারাদিন থাকতে থাকতে  নিজেই মরা হয়ে গেছে।এই সব ভাবতে ভাবতে হিমাংশু অর্ঘর  কোয়ার্টারের  দরজায়  এসে কলিংবেল টিপলো , দুবার বেল বাজানোর পর অর্ঘর  চাকর শম্ভু এসে দরজা খুলল, বৈঠকখানায় ঢুকে হিমাংশু   দেখে  অর্ঘ  ইজি চেয়ারে  শুয়ে একটা ফরেনসিক জার্নাল পড়ছে । সামনে টিভিতে ক্রিকেট খেলা চলছে । ওর পিছনে বইয়ের থাকে  সারি দিয়ে সাজানো দেশি বিদেশী ডিটেক্টিভ ম্যাগাজিন ও মেডিক্যাল বই  ।  সামনে টেবিলে তিনটে গ্লাস ও সিঙ্গেল মল্ট হুইস্কি রাখা ।
           হিমাংশুকে দেখে অর্ঘ একটা গ্লাসে কিছুটা পানীয়  ঢেলে বললো – “বস শুরু করো”।
... “না না , আগে বল কি কেস ? তারপর হুইস্কি” হিমাংশু বললো।“আগে ইন্সপেক্টর
 রুদ্রকেতো  আসতে দাও”। অর্ঘ বললো ।বলতে না বলতে  একটা জিপ গাড়ির আওয়াজ কোয়ার্টারের  দরজায় এসে থামলো।কিছু বিরতির পর দরজাতে  কলিংবেলের আওয়াজ। শম্ভু দরজা খুলতে ইন্সপেক্টার রুদ্রর প্রবেশ। প্রায় ৬ ফুটের ওপরে উচ্চতা, সুঠাম শরীর ও  বুদ্ধিদীপ্ত  চেহারা, একটু শ্যামলা গায়ের রং ,বয়স অর্ঘ -হিমাংশুর মতন । লোকাল থানাতে পোস্টিং এই বছর দুয়েক ,কয়েকটা কেসের সান্নিধ্যে যতটুকু জানা  কোন গুরুত্তপূর্ণ কেস ছাড়া  ইন্সপেক্টর রুদ্র  ডিসেম্বরের এই ঠান্ডার  সন্ধ্যে বেলা  এই চালচুলোহীন ব্যাচেলার্স ডেনে আসবে না। 
            খাওয়ার টেবিলে সাজিয়ে রাখা বুনো মুরগির ঝোল,ফুলকপির তরকারী আর ডাল সহযোগে  গরম- গরম ভাত দিয়ে  নৈশ ভোজ সেরে ওরা  আবার ফিরে এলো   অর্ঘর বৈঠকখানায় , হাতে সিঙ্গেল মল্ট আর ঠোঁটে সিগারেট নিয়ে । প্রাথমিক কিছু আলাপ-চারিতার  পর ইন্সপেক্টর রুদ্র তার স্বভাব মত এ হেন আগমনের কারণ বলা শুরু করলো । প্রথমে ও ওর ব্লেজারের পকেট থেকে একটি খবরের  কাগজের কাটিং টেবিলের ওপর রাখলো, হিমাংশু আর অর্ঘ  দুজনেই  ঝুঁকে পড়ে পেপার  কাটিংটা পড়তে লাগলো ,  যা কিছুটা এই প্রকারের-  ‘ কলকাতা শহরের বিশিষ্ট হীরক ব্যাবসায়ী পরিবার, সরকার এন্ড সন্স ,এর  জৈষ্ঠ পুত্রের আকস্মিক অন্তর্ধান,এবং রহস্যজনক মৃত্যু ' খবরটি দিনপাঁচেক আগে প্রকাশিত হয়েছে বলে রুদ্রর থেকে জানাগেল । সিগারেটে একটা লম্বা টান আর সিঙ্গেল মল্ট এ একটা ছোট্ট চুমুক দিয়ে  ইন্সপেক্টর রুদ্র আসল ঘটনাবলী  বলতে আরম্ভ করলো-
“ মাস দুয়েক আগের কথা”, রুদ্র বলে চললো , "আমি তখন কালিঙপং এ একটি অন্য  কেস নিয়ে ব্যস্ত  । খবর পেলাম চিলাপাতার   জঙ্গলে কিছু কাঠকুরুনি একটা ক্ষতবিক্ষত লাশ দেখেছে।খবর পেয়ে আমি দুজন কনস্টেবল নিয়ে অকুস্থলে যাই । জঙ্গলের একটি আপেক্ষিক গভীর জায়গায়ে বছর চল্লিশের এক পুরুষের লাশ । পরনের বেশ-ভূসা ও চেহারা  দেখে অবস্থাপন্ন মনে হলো। লাশের সর্বাঙ্গে অজস্র খোবলানোর  দাগ দেখে বুঝতে  অসুবিধা  হলনা যে এগুলি  জঙ্গলের হিংস্র জন্তুদের কাজ। লাশের থেকে বেরোনো পচা গন্ধ আর ক্ষতস্থানে  থাকা ম্যাগট দেখে লোকটির মৃত্যু আনুমানিক দিন চার পাঁচেক আগে হয়েছে বলে   মনে হলো । এও বুঝলাম  যে লোকটিকে অন্য কোথাও মেরে লাশ এখানে ফেলা হয়েছে কারণ জায়গাটিতে  ভালোভাবে খুঁজেও স্ট্রাগেলের বা ধস্তাধস্তির কোন চিহ্ন পেলাম না । এটাও বুঝলাম  চুরি বা ডাকাতি এ খুনের প্রধান উদ্দেশ্য নয় কারণ খুন করে লাশ এভাবে গুম না করে ঘটনাস্থল থেকে কেটে পরাটাই চোর বা ডাকাতের স্বভাব । লোকটি আত্মহত্যা করেছে  বা  তার এক্সিডেন্ট হয়েছে এটা ভাবাও নিছক পাগলামি বলে বোধ করলাম। নিয়ম মেনে লাশটিকে নর্থ-বেঙ্গল মেডিকেল কলেজের পুলিস মর্গে পোস্ট-মর্টেমের জন্য পাঠালাম।
           দিন দুয়েক পর পাওয়া পোস্ট-মর্টেম রিপোর্টে আশ্চর্যজনক ভাবে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা গেলনা ।   রিপোর্টএ  মৃতুর কারণ হার্টএটাক বলা হলো ।   শরীরে থাকা ক্ষতচিন্হ্ন গুলোও পোস্ট- মর্টেম ইনজুরি অর্থাৎ মৃত্যুর পরে বলে জানা গেল। স্থানীয় খবরের কাগজে লাশের ছবি দিয়ে  সনাক্তকরণের বিজ্ঞাপন দেওয়া হলো যার কোন ফল পাওয়া গেলনা । যা আমাদের দেশে হয়ে  থাকে - প্রমান, লোকবল আর চেষ্টার অভাবে  নেগেটিভ অটোপসি আর আনক্লেমড লাশ বলে কেস ক্লোজ করে লাশ সৎকার করে  দেওয়া হলো।
           এই ঘটনার আরো দিন দশেক পর হঠাৎ একদিন বাড়িতে বসে খবরের কাগজ পড়তে গিয়ে একটি সন্ধান চাই বিজ্ঞাপনে দেওয়া ছবি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করলো । বিজ্ঞাপনটি দিয়েছেন কলকাতা  শহরের এই নামী হীরক ব্যাবসায়ী ‘সরকার এন্ড সন্স’ পরিবার। ছবিটির সাথে দিন দশেক আগে দাহ করা সেই আনক্লেমড লাশের  খুব মিল মনে হতে আমি থানাতে গিয়ে বিজ্ঞাপনে দেয়া ছবিটির সাথে কেস ফাইলে রাখা মৃতকের ছবি মিলিয়ে দেখলাম।সাথে সাথে কলকাতায় সরকার এন্ড সন্স-এ ফোন।পরে ওদের কিছু পরিবারের লোক থানায় এসে মৃতকের জিনিসপত্র দেখে তাদের জৈষ্ঠ পুত্র শান্তনু সরকার বলে সনাক্ত করলো। হঠাৎ এদেরমধ্যে থেকে একজন বলে উঠলেন - " কিন্তু দাদার আংটি কই ?"। জানলাম যে  মৃতকের অনামিকাতে একটি বহুমুল্য হীরার আংটি ছিল । আমিও লক্ষ করে ছিলাম যে লাশের ডান হাতের আঙ্গুলে একটি অনেকদিন পরে থাকা আংটির  সাদা দাগ  । তাহলে কি এটা লুটের কেস ? কিন্তু লজিক মানলোনা ।
           আসল মুশকিল শুরু হলো এর  দুদিন পর। কলকাতার এহেন ধনী পরিবারের ছেলের 
এইরকমপরিনতি না মেনে নিতে পেরে পরিবারের লোকজনেরা মন্ত্রী-সন্ত্রী এবং পুলিসের বড় কর্তাদের বড়ই বিড়ম্বনাতে ফেললেন।যার একটি বড় অংশীদার ফার্ষ্ট ইনভেসটিগেটিং অফিসার হওয়ার দরুন এখন আমাকেও পোহাতে হচ্ছে” । এই বলে রুদ্র একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে আবার শুরু করলো “এবার বুঝলে অর্ঘদা, লাশ নাই, প্রমান নাই,পোস্ট -মর্টেম রিপোর্টের নির্দিষ্ট কোন পরিনাম নাই, আর তার ওপর উপর মহলের চাপ।এই কেসটিতে তোমরাই আমার শেষ ভরসা "।
          একে ওদের এত ঘনিষ্ঠ, তার ওপর পূর্বের বহু কেসে ওর থেকে  পাওয়া প্রচুর সাহায্যের কথা ভেবেই হয়ত  অর্ঘ আর হিমাংশু   কেসটা হাতে নেব বলে রুদ্রকে আশ্বাস দিল। আস্বস্ত্য হয়ে রুদ্র সে রাতের মত তার জিপ নিয়ে ফিরে গেল আর রাস্তায় হিমাংশুকে ওর  কোয়ার্টারে নামিয়ে দিল।
কোয়ার্টারে ফিরে হিমাংশু ওর  আগামীকাল রাখা দুটি বড় অপারেশনের কথা চিন্তা করার ফাঁকে হঠাৎ ভাবতে লাগলো যে গত তিন বছরে অর্জন করা ক্রাইম সলভিং অভিজ্ঞতাগুলো কি এই জটিল ও হাইপ্রোফাইল  হোমিসাইড কেসের জট ছাড়াতে পারবে!?...(ক্রমশ)


sankha.chowdhury799@gmail.com/
chiranjit.dr@gmail.com
কলকাতা