1 / 7
2 / 7
3 / 7
4 / 7
5 / 7
6 / 7
7 / 7

Showing posts with label শৌনক ঠাকুর. Show all posts
Showing posts with label শৌনক ঠাকুর. Show all posts

Wednesday, October 2, 2024

নিশাচর

ছবি : ইন্টারনেট

 নিশাচর

শৌনক ঠাকুর

শেষ রাতের ঘন অন্ধকার টপকে

কামিনীর ডালে

চকচক করছে ঝিনুকের মতো সাদা সাদা ভোর।


সন্ধ্যায়

পার্কের বেঞ্চে শুয়ে থাকা অলস রোদে

তোমার শরীরের গন্ধ

খোলা চুলে ঢাকা অন্ধকার পিঠে নেমে আসা রাত

অফুন্ত করে দেয়

আমার না ফুরানো রাতকে।

...(সমাপ্ত)...





Monday, July 24, 2023

পুড়ে যাওয়া গ্রামখানি

ছবি : ইন্টারনেট

পুড়ে যাওয়া গ্রামখানি

শৌনক ঠাকুর 

পুড়ে যাওয়া কোন এক গ্রামের শেষ ছাই -এ 

বসে আছি

একটু ছাই সরাতেই দেখতে পেলাম --

মায়ের আঁচল ধরে চলা শিশুর ছোট ছোট পা,

গাছের ছায়ায় জটলা, 

অস্ফুট প্রেম,  হাতে হাত রাখা 

ঘামে ভেজা কাস্তে, রং মাখা তুলি, মাটির পুতুল....

সবাইকে তো দেখতে পাচ্ছি কিন্তু যারা আগুন লাগানো তাঁরা কই ? 

হঠাৎ 

বিশ্বাস করুন  হঠাৎ 

একটা আধপোড়া গাছ যেন বলে উঠল

ওরা পাশের গ্রামে গেছে বারুদের সন্ধানে।

...(সমাপ্ত)...

Saturday, April 15, 2023

অভিমানী ছেলেটি

ছবি  : ইন্টারনেট 

অভিমানী ছেলেটি

শৌনক ঠাকুর 

    কানটা মুলে দিয়ে মা বললো, "সকাল থেকেই মাটি নিয়ে খেলা। পড়াশোনা নেই। তোর দ্বারা কিছু হবে না। স্কুলে যাওয়ার জন্য জামা প্যান্ট পড়িয়ে দিলাম আর ও ..."

কাদা মাখা হাতটাকে ধরে হিড়হিড় করেন টানতে টানতে কলতলায় নিয়ে এসে মা আবার চিৎকার করে উঠল ,--- "হাড়ে কালি দিয়ে দিলে। এত লোকের মরণ হয় তোর হয় না । দুর হ ।" --

    ছেলেটি চোখ মুছতে মুছতে বলে, "যাচ্ছি, আর কোনদিন ফিরে আসবে না।" এই বলে স্কুল ব্যাগটি নিয়ে গেল আট বছরের ঈশান। 

   ঈশান দাস গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে পড়ে। মা প্রতিমা। বাবাকে সে দেখে নি। শুনেছে কলকাতায় ঢাক বাজাতে গিয়ে আর ফিরে আসে নি। মা অবশ্য এখনও সিঁদুর পড়ে। মা বেটার সংসার। 

    ঈশান রাস্তায় যেতে যেতে ভাবে, "বাবা ফিরলে সব বলে দেবে। " বাবার কথায় কান্না পায়। রাস্তা ঝাপসা হয়ে আসে। হোঁচট খায়।

    চোখে জল আসে মায়েরও। ভাবে "আহা, জন্মদিনেই  কু'কথা বলে ফেললাম। যাক দুপুরে

ফিরলে ভাত খেয়ে নিজের হাতেই খাইয়ে দেবে। একটু দই আনবো। দই যে ওর খুব প্রিয়।"

  বিধানদের ঘরের বাসি কাজ সেরে  পুকুরে একটা ডুব দিয়ে ঘরে ফেরে প্রতিমা। কাপড় ছেড়ে ছোট আয়না নিয়ে সিঁদুর পড়তে থাকে। মনে পড়ে যায় সেই সব দিনের কথা। ঈশানের বাবার কথা। কত সুখী ছিল ওরা। প্রতিমায় তাকে জোর করে কলকাতায় পাঠিয়েছিল।

    হঠাৎ একটা চিৎকার চেঁচামেচি শুনে দেখে জানলায় চোখ রাখে প্রতিমা। লোকজন ছুটাছুটি করছে। মণিদিকে দেখে জিজ্ঞেস করে , "কি হলো গো...?" 

ছুটন্ত মণিদি বলে, " আয়... আয়... ইস্কুলের মাঠের প্রাচীর ... ঘাড়ে ... ওখা  ..."

    বাকিটা শুনতে পেল না । ভাবলে , "যাই একবার ওদিকে। দইটাও কিনে একবারে খোকাকে নিয়ে ফিরবে।"

  স্কুলের মাঠে তখন জনসমুদ্র। পুলিশ এসে গেছে।মায়ের মন তো কেবল কু ডাকে। ছুটে যায় সে। ভিড় ঠেলে ভিতরে ঢুকতে চেষ্টা করে। কিন্তু পারে না। হঠাৎ দেখে কয়েকজন একটি অচৈতন্য ছেলেকে নিয়ে একদল লোক আসছে। বুকের রক্ত ছলকে ওঠে প্রতিমার। ছুটে যায় সে। মুখটা দেখার চেষ্টা করে। ধাক্কা খেয়ে পড়ে যায়। কোন রকমে উঠে পড়ে ভিড়ের পিছু নয়। ছেলেটির মুখটা দেখে। না এটা তো তার খোকা নয়। তাহলে খোকা কতই ?  কোথায় গেল? পাগলের মত খুঁজতে থাকে। হঠাৎ পুকুরের ধারে পুলিশের জটলা। চোখের জলে তখন সব অষ্পষ্ট। ছুটতে থাকে। পড়ে যায়। ভিড় ঠেলে দেখে  ভিজে স্কুল ড্রেসে থাকা ছেলেটিকে জল খাওয়াচ্ছে একজন সিভিক পুলিশ। এবার নির্ভুল। ছেলেটিকে জড়িয়ে ধরে তাকে চুমু খেতে থাকে। সারা গায়ে হাত পা বোলাতে থাকে। পুলিশটি বলে, আপনার ছেলে তো হিরো। 

ছেলেকে কোলে নিয়ে মাথায় হাত বোলাতে থাকে। পুলিশটির কাছ থেকে প্রতিমা জানতে পারে স্কুলের ভাঙা প্রাচীরটা ভেঙে পড়ার উপক্রম হলে ওই ছেলেগুলো ছুটে পালাতে চেষ্টা করে। কিন্তু একটা ছেলে হঠাৎ জলে পড়ে যায়। আপনার ছেলে ওকে বাঁচাতে  জলে দেয়। এবং ছেলেটিকে উদ্ধার করে।

...(সমাপ্ত)...

Sunday, September 25, 2022

বিস্কুট

ছবি : ইন্টারনেট

বিস্কুট

শৌনক ঠাকুর

   স্কুলের টেনশন কাটিয়ে একটু ফ্রেশ হতে গান্ধী ঘাটে গেলাম। এক ভাঁড় চায়ে গলা ভেজানো আর কি। মুর্শিদাবাদের ফারাক্কার এটা একটা জনপ্রিয় স্থান। অবিভক্ত গঙ্গার বাঁধের উপর সারি সারি চা এর দোকান। দূরে দেখা যায় ফারাক্কার বিখ্যাত ব্যারেজ। আর ব্যারেজের উপর শত শত গাড়ির সারি। মাঝে মাঝে কর্কশ শব্দ করে দু'একটা ট্রেন চলে যাচ্ছে গন্তব্যে। চা যে এখানকার মানুষের কত প্রিয়, তা দোকানে ভিড় দেখলেই বোঝা যায়।

   যাক,একটা দোকানের বেঞ্চে বসলাম। ছোট্ট বেঞ্চ। আমাকে নিয়ে চার জন কোনরকমে এঁটে গেল। ফুরফুরে হাওয়া। ঠান্ডা। মনোরঞ্জক। মাঝে মাঝে অবশ্য মরা পোড়ানোর গন্ধ আসছে। একটু দূরেই যে শ্মশান। চা দিতে বললাম। সঙ্গে একটা বিস্কুট।

   বিস্কুটাতে একটা কামড় দিতে যাবো অমনি "শৌনকবাবু" বলে একটা ডাক শুনতে পেলাম। চেনা কন্ঠ। আমারই সহকর্মী। "আরে, ...আসুন... আসুন...বসুন... বসুন। চা খান ? ", আমি বললাম। উনি সামনের বেঞ্চে বসলেন। তার জন্য চা বললাম। শুরু হলো চর্বিত-চর্বণ। মানে স্কুলের কচকচানি। বিরক্তিকর মনে হলেও আগ্রহী অভিনয়ে শুনতে শুরু করলাম।

   বিস্কুটের একটা কামড় দিয়ে হাতটা পিছনে রাখলাম। বাধ্য ছেলের মতো অতীত ইতিহাস শুনছি। হঠাৎ মনে হল বিস্কুটটা কিসে যেন আটকে গেছে। থমকে গেলাম। ভাবলাম বিস্কুট তো কাপড়ের টুকরা নয় যে বেঞ্চের পেরেক আটকাবে। না। না। 

   আবার ভুরু কুঁচকে চিন্তা করলাম, কেউ ইয়াকি করছে না তো ? না না । সেরকম তো কেউ নেই এখানে। তাছাড়া সামান্য বিস্কুট নিয়ে ...

   তাহলে ভুত-টুত নয় তো ? যে মরাটি পুড়ছিল সে হয়তো অভুক্ত অবস্থায় মারা গেছে। স্বর্গে যাওয়ার পথে বোধ হয় তার ক্ষিধে পেয়েছে। অথচ পিছনে তাকাতে পারছি না। সামনে বসা আমার সহকর্মী তখন পুরোদমে গল্প বলে যাচ্ছে । ও কি ভাববে ?

  কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলাম। মনে কৌতূহল হচ্ছে। যা ভাবে ভাবুক । আড় চোখে তাকালাম। খুব অবাক হলাম। ও বাবা ! এ যে একটা ছাগলের বাচ্চা। বিষ্কুটে ভাগ বসানোর চেষ্টা করছে।

...(সমাপ্ত)...